নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

নতুন ভুতের গল্প নিশির_ডাক পার্ট ২

নতুন ভুতের গল্প
হরর_গল্প
নিশির_ডাক
-রায়হান আলিফ


দুই.
"কীরে তোর আবার কি হলো দাঁড়িয়ে গেলি কেন?" কানাই তপুকে ধাক্কা দিতে লাগলো।
ধাক্কার কারণে তপু বাস্তবে ফিরে আসে।
তপু জিজ্ঞাস করলো,"পারুল চাচী কি সত্যিই মারা গেছে?"
"আরে হ্যা রে বাবা হ্যা, তাতে এতো অবাক হবার কী আছে?"
"প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে কেন রে?" তপু জিজ্ঞাস করলো।
কানাই বললো,"জানিনে রে, আগে তো এমন হয়নি।"
তারা নদীতে গোসল করার পর যে যার মতো বাড়িতে চলে গেলো।
তপু বাসায় এসে কাপড় বদলে টেবিলে এসে বসলো। সে নিজে নিজেকেই প্রশ্ন করলো, আমি কি ভুল দেখেছি? পারুল চাচী আমার সাথে আজ সকালে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলেছিল। আমি কোথায় যাচ্ছি তাও জিজ্ঞাস করেছিল আর তাকে নাকি আজ সকালবেলায় দাফন করা হয়েছে। কানাইয়ের কথা তপুর বিশ্বাস হলো না। তপু দোকানে গেলো ঘরের জন্য খাবার কিনতে।

দোকানি রমিজ মিয়া, "কি লাগবে তপু তোমার?"
"আমাকে ঐ খাবার গুলো দিন। আচ্ছা চাচা পারুল চাচীকে যে দেখছিনা, তিনি কোথাও গিয়েছেন নাকী?" তপু জিজ্ঞেস করলো।
"সে কিরে তুই জানিস না, ওনি তো মারা গিয়েছেন।
"খুব ভালো মানুষ ছিলেন চাচী, টাকাটা লিখে রাখেন বলেই তপু চলে আসলো।
বাসায় এসে তপু ভাবতে লাগলো, যে মানুষকে সকালে কবর দেওয়া হয়েছিল, তার সাথে কি করে দেখা হলো তার।
আর কাল রাতে কে তার দরজায় টোকা দিয়েছিল? তপুর মাথার মধ্যে একটা বড় রকমের গিট লেগে যায়।
ঘরের কাজকর্ম শেষ করে নয়টার মধ্যেই তপু ঘুমিয়ে পড়ে।
"তপু বাবা ওঠ, ওঠ বাবা"
কে?
"আমি, আমি তোর পারুল চাচী।"
"পারুল চাচী! তুমি তো মৃত।"
"হ্যা বাবা, এই গ্রামের সকলকে ও শেষ করে দিবে।"
"কে? কে শেষ করে দিবে?!
"লুৎফরের বউ, তুই লুৎফরকে খুঁজে বের কর।"
তপু আর কিছুই বলতে পারলো না, তার আগেই ঘুম ভেঙে যায়। সেইদিন, তপুর সারারাত কাটে নির্বিঘ্নে।
রাস্তা থেকে ছেলের দলের কলরব ভেসে আসছে। কি হয়েছে তা দেখার জন্য তপু রাস্তায় যায়।
একটি পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে তাড়া করছে ছেলের দল। হঠাৎ একজন ছেলে একটা ঢিল ছুঁড়ে মারে যা লোকটার কপাল স্পর্শ করে চলে যায়। দুই হাত দিয়ে কপাল চেপে ধরে লোকটা। রক্ত দেখে পালিয়ে যায় ডানপিটে ছেলের দল।
তপু বিদ্যুৎ বেগে লোকটার কাছে যায় এবং লোকটাকে নিয়ে আসে তাদের বাংলা ঘরে। লোকটাকে দেখে তপুর মনে হচ্ছে বেশ নিরীহ। যেন অনেক দিন ধরে কিছু খায়নি। তপু একটা কাঁপড় আর বাড়ির পাশ থেকে আনা লতাপাতা দিয়ে লোকটার মাথায় বেন্ডেজ বেঁধে দেয়।
খাবার দেখে লোকটা এরকম শুরু করলো, যেনো কেউ তার খাবারে ভাগ বসাবে। কিন্তু ঘরে আর কাউকে দেখতে না পেয়ে লোকটা একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।
তপু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লোকটার কান্ড দেখছে। খাওয়া শেষে লোকটা বড় একটা নিশ্বাস ফেলল।
"আচ্ছা আপনি কে?'' তপু জিজ্ঞেস করলো।
আমি কে?
"আপনি কে তা তো আপনিই ভালো জানেন। আর ছেলেরা কেনই বা আপনাকে ঢিল মেরেছিল?"
লোকটার চোখে পানির বিন্দু জমতে দেখা গেল। আমি এক অভাগা, বলেই লোকটা থেমে গেল।
তপু আর কিছু জিজ্ঞেস না করে লোকটাকে বিশ্রাম নিতে বললো।
লোকটা ঘুমিয়ে পড়লো, এমনভাবে ঘুমাচ্ছে যে কয়েক মাস ধরে খাটই স্পর্শ করেনি।
সেদিন আর তপুর লাইব্রেরীতে যাওয়া হলো না।
সারা সকাল বাসায় বসেই কাটিয়ে দিলো। দুপুরবেলা লোকটা চোখ খুললো। তপু টেবিলেই বসেছিল।
"আপনার কি কিছু লাগবে"? তপু জিজ্ঞেস করলো।
"না, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।"
"আচ্ছা এবার বলুন কেন ছেলেরা আপনাকে তাড়া করেছিল? আপনার নামই বা কি?"
"আমার নাম লুৎফর। আমি পাগল তাই ছেলেরা আমাকে তাড়া করেছে।"
"লুৎফর! আপনার নাম!
"কেন তোমার কোনো সন্দেহ আছে? লুৎফর গোয়েন্দার মতো ভঙ্গি করে বললো।"
"না, তা থাকবে কেন? আপনি তো পাগল নন। পাগল ভালো মানুষের মতো কথা বলতে পারে না।"
"তা তুমি ঠিকই বলেছ। শোন, এই গ্রামের উত্তরে আমার বাড়ি। স্ত্রী ছাড়া আমার আর কেউ ছিল না। কিন্তু একদিন সে জল আনতে যেয়ে মারা যায়। আমি একা হয়ে পড়ি। তার লাশ দাফন না করে আমি তা ঘরে রেখে দেই, তাই আমাকে পাগল বলে।"
"আপনার স্ত্রী এর দেহ কি এখনো আছে বাড়িতে?"
"না, তার দেহ আমি তেঁতুল গাছের নিচে লুকিয়ে রেখেছি।"
লুৎফর আর তপু আসে লুৎফরের বাড়িতে। কোথায় ঘর, কোথায় বাড়ি। শুধু ভিটেটা পড়ে রয়েছে।
"আমাকে নিয়ে চলুন গাছের কাছে",তপু বলল।
লুৎফর তপুকে নিয়ে যায় তেঁতুল গাছের নিচে। তেঁতুল গাছে কাছে যাওয়ার পরই তপুর হাতে যন্ত্রনা শুরু হয় সেখানে, হাতের যেখানে তপুর একটা তাবিজ বাধা ছিল।
তপু তেঁতুল গাছের নিচ থেকে চলে আসে। কোথায় যন্ত্রনা, ব্যথা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।
তপু আবারও যায় তেঁতুল গাছের নিচে, আগের মতোই আবার যন্ত্রনা শুরু হয় তার হাতে।
তারা ফের তপুর বাড়ির পথ ধরে। রাস্তায় তপু আসতে আসতে ভাবতে লাগলো। কী এমন আছে ঐ তেঁতুল গাছের কাছে, যে আমি যাওয়ার সাথে সাথেই আমার হাতে যন্ত্রনা শুরু হয়েছিল। আবার চলে আসার পর ঠিক হয়ে গেল, কোনো যন্ত্রনাই ছিল না হাতে।
তপুর মনে পড়লো ঐ তাবিজটা তাকে একজন হুজুর দিয়েছে।
সেইদিন লুৎফর তপুর সাথেই ছিল তপুদের বাড়িতে।
পরের দিন সকালে তারা ঐ হুজুরের বাড়িতে যায়। যে তপুকে তাবিজটা দিয়েছিল।
হুজুর যা বলল তা অবিশ্বাস করার মতো।
Continue...
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label