নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প_অবুঝ_মনের_ভালোবাসা

#গল্প_অবুঝ_মনের_ভালোবাসা
লেখক:-Joshim Ahmed(জ্বলন্ত প্রতিভা)
(#পর্ব_১)

তরু মাঝরাতে ক্লান্ত শরীরে ওয়াশরুমের দিকে যাচ্ছে। পেছন ফিরে একবার তার স্বামীর দিকে তাকালো। সামির ক্লান্ত হয়ে ঘুমুচ্ছে উপর হয়ে। সামীর তরুকে শুধু ব্যবহার করার জন্যই বিয়ে করেছে এটা তার বুঝতে বাকি রইলো না বিয়ের প্রথম রাত থেকেই। বিয়ের প্রথম রাত থেকেই সামির শুধু তার অধিকার খাটায়। তরু প্রচন্ড রকমের শারীরিক কষ্ট সহ্য করে মুখ বুঝে কারণ সামির বিত্তবান আর সে যে মিডিল ক্লাস ফ্যামিলির । তরু মিডিল ক্লাস ফ্যামিলির মেয়ে। সামির বিত্তবান ফ্যামিলির ছেলে। তরুর মিডিল ক্লাস বাবা সামিরের মতো বিত্তবানের সাথে তরুর বিয়ের প্রস্তাব তৎক্ষনাৎ মেনে নিলো। তরুকে সামিরের প্রয়োজন নেই, শুধু ফিজিক্যাল রিলেশনের বেলায় প্রয়োজন হয়। তরু মিডিলক্লাস ফ্যামিলির মেয়ে, যাদের একটু বড় হলেই বিয়ে দিয়ে পার করা হয়।তাইতো তরু কখনো কাউকে ভালোবাসার সাহস দেখায়নি। তরুর ভালোবাসা আর সৌন্দর্য শুধু স্বামীর জন্যই যত্নে রেখেছিলো। আর সেই স্বামী কিনা বিয়ের দিন থেকে তরুর সৌন্দর্য উপলব্ধি না করেই তরুকে বানিয়েছে লালসার স্বীকার। তরুর লালিত ভালোবাসার কথা জানতেও চেষ্টা করলনা সামির। শুধু তরুর উপর নিজের অধিকার খাটালো। তরুকে এক রাশ কামনা,লালসার বস্তু বানালো সামির। সামির কেনো এমন করছে কে জানে।তরু মিডিল ফ্যামিলির মেয়ে বলেই এমন করছে সামির হয়তবা। তরু শাওয়ার করলো প্রায় দুই ঘন্টা। শাওয়ার করার সময় তরু খুব কাদঁলো। তরুর পুরো শরীর ব্যথায় পরিপূর্ণ।
এদিকে সামির তৃপ্তির নিঃশ্বাসে ঘুমুচ্ছে।তরু শাড়ি পড়ে চুল টাওয়াল দিয়ে মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। তরু সামিরকে একবার দেখলো। সামির হাত দিয়ে ঘুমের ঘোরে কাউকে খুজঁছে। তরুর আার বুঝতে বাকি রইল না সামির তরুকে খুজঁছে। তরু কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো কারণ সামির কোনো কাজ অসপূর্ণ পছন্দ করেনা। তরুকে সামির এই বিষয়টা অনেক বার বলেছে। তরুর বয়স সবে মাত্র ১৭ হয়েছে। ছোট তরু এসব সহ্য করতে পারেনা। খুব খুব কষ্ট হয় তার আর সামির এসব বুঝতেও পারেনা। তরু ভয়ে ভয়ে সামিরের কাছে গেলো আবার। সামির তৎক্ষনাৎ তরুকে নিজের বাহুডোরে বেধে আবদ্ধ করলো।
.
.
তরুদের কাজের মেয়ে এসে বলল...কি ভাবছেন আপামনি?
তরু রান্নাঘরে ভাজি নাড়ছিল।
_না কিছুনা, তাড়াতাড়ি রুটি বানাও, তোমার সাহেবের অফিস যাওয়ার সময় হয়ে এলো।
কাজের মেয়ে মিনা বলল...আপনার শরীরে এগুলো কিসের আচর?
তরু চমকে তাকালো মিনার দিকে।
মিনা চোখ নামিয়ে রুটি বানানোর জন্য ব্যাস্ত হয়ে উঠলো।
সামির শাওয়ার করে টাওয়াল পড়ে শার্ট খুজঁছে বিরক্ত হয়ে।
তরুদের রুম থেকে একটা বিকট আওয়াজ এলো।
তরু দৌড়ে রুমে গেলো।
তরু দেখলো পুরো ডেস্কটা প্রায় ভেঙে ফেলেছে সামির শার্ট খুজতে।
সামির তরুকে দেখে বলল...ইউ ব্লাডি মিডিল ক্লাস গার্ল.আমার নীল শার্টটা কোথায়?
তরু ভয়ে চমকে চমকে উঠলো...
তরু চুপ করে আছে বলে সামির আবারও ধমক দিলো।
সামির -তোমার মিডিল ক্লাস বাবা মা কি তোমাকে এই শিক্ষা দিয়েছে চুপ করে থাকার জরুরি প্রয়োজনে?
তোমাদের মতো মেয়েদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায়না।
তরু তাড়াতাড়ি করে শার্ট খোঁজার জন্য ব্যাস্ত হয়ে পড়লো।
আলমারি থেকে তরু শার্ট বের করে দিলো।
শার্ট হাতে নিয়ে সামির আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ালো।
সামির অত্যন্ত সুপুরুষ। যেমন হাইট তার তেমন বডি। যে কোন মেয়েকে আকৃষ্ট করে এমন সুপুরুষ।
সামির -এখানে দাড়িয়ে আমাকে না দেখে নিজের কাজ করো গিয়ে। পোষাক পড়তে দাও আমাকে।
তরু এক দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
তরু মনে মনে বলল... এমনিতে তো আমার সামনেই শরীর থেকে পোষাক খুলো ফেলেন আর এখন আমার সামনে পাল্টাতে গেলেই লজ্জা করে। যত্তসব আদিক্ষেতা।
তরু আর মিনা তাড়াতাড়ি সকল খাবার সার্ভ করে দিলো টেবিলে।
সামির নিচে নেমেই হন হন করে মেইন ডোরে চলে যেতে নিলো।
সামির না খেয়েই অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
তরুর মনটা খারাপ হয়ে গেলো। এতো কষ্ট করে যত্ন নিয়ে সামিরের জন্য ব্রেকফাস্ট বানালো আর সামির একবারও দেখলো না পর্যন্ত খেয়ে দেখা দূরে থাক।
তরুর খুব ইচ্ছে করে সামির অফিসে যাওয়ার আগে তরুর কপালে একটা ভালোবাসার পরশ দিয়ে যাক।
কিন্তু প্রতিবারই সামির তরুকে নিরাশ করে।
তরুর অবুঝ মন তখন নিরবে কাঁদে।
একদিন সামির ড্রাইভিং সিটে বসে তরুকে ডেকেছিলো..
সামির -তরু এদিকে এসো।
তরু নিজের বিশ্বাস হলো না সামির তার নাম ধরে ডাকছে।
তরু দৌড়ে সামিরের কাছে গেলো। তরুর পায়ে শাড়ি বেধে একবার পড়েও গেলো তরু। তরু এসব ব্যথা তুচ্ছ করে দৌড়ে গেলো সামিরের সামনে।
সামির-তুমি দয়া করে এসব বাঙালি ব্রেকফাস্ট তৈরি করোনা। এগুলো দেখলে আমার মেজাজ খারাপ হয়। এর ফলে অফিসে ভালো করে কাজ করতে পারিনা।
মিডিল ক্লাস ফ্যামিলির মেয়ে তুমি তাই এসব বাজে রাস্তার খাবার খেয়ে অভ্যাস।
আমি তো তোমার স্ট্যান্ডার্ড এর নয় তাই এসব অখাদ্য খাবার খাইনা। মাথায় রেখো মাইন্ড ইট..
.
.
.

তরুকে কিছু বলা দূরে থাক
প্রকান্ড বাড়িতে শুধু একটা দাড়োয়ান আর মিনা নামের কাজের মেয়ে।মিনার বাড়ি পাশে থাকায় মিনা তরুকে তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বলে। মিনা কিছু করেই সামিরের যাওয়ার সাথে সাথেই নিজ বাড়ি চলে যায়। দাড়োয়ানটাও একই কাজ করে। সামির চলে যাওয়ার পরেই হাড়িয়ে যায় আর সামিরের আসার আগে উদয় হয়। মিডিল ক্লাস ফ্যামিলির মেয়ে বলে তাকে দাড়োয়ান আর কাজের লোকেরাও মূল্য দেয়না। তরুর প্রচন্ড ভয় করে এমন বাড়িতে থাকতে।
.
তরু সামিরকে ফোন করে ভয় পেয়ে। সামির ফোন ধরেনা।
একসময় ফোন রিসিভ হয়। তখন এক মিষ্টি কন্ঠের মেয়ে কথা বলে... স্যার এখন বিজি। তিনি কারও সাথে কথা বলতে পারবেন না সরি।
একটু পর পর সামিরকে আবারও ফোন দেয়।
সামির মাঝে মাঝে ফোন নিজে রিসিভ করে।
সামির তরু কেনো ফোন করেছে সেটা একদিনও জিজ্ঞেস করেনা বরং অহেতুক ফোন দেওয়ার কারণে সামির তরুকে গালাগালি করে।
তরু ফোন করায় সামির প্রচন্ড রেগে যায় আর বার বার মানা করে ফোন করতে।
তবুও তরুর অবুঝ মন মানেনা। তরু সামিরকে মনের অজান্তে ফোন করে বসে বার বার অপমানিত হওয়ার পরেও।
.
.

তরুর যখন ভয় করে প্রকান্ড বাড়িতে তখন গুটিসুটি হয়ে বেড সাইডে বসে বসে কাঁদে আর সামিরের নাম নেয় বার বার। তরুর ফর্সা শরীর ভয়ে আর সামিরের উপর অভিমানে তখন লাল হয়ে যায়।
সামির খেয়ে যায়নি। তরুর টেনশন লাগছে। স্বামী যেমন হোক বাঙালি মেয়ে শুধু স্বামীকেই ভালোবাসে।স্বামীর জন্যই মন কাদে, চিন্তা হয়।
আচ্ছা সামির কি একবার তরুর কথা ভাবে। সামিরের কি জানতে ইচ্ছে করেনা তরু সারাদিন বাড়িতে কি করে। তরুর মতো ১৭ বছরের কিশোরী একা এতো বড় প্রকান্ড নির্জন বাড়িতে কিভাবে সময় কাটায় এই কথা কি সামিরকে একবারও ভাবায়না। তরু কি কি সামিরের চোখে শুধু রাতের শয্যাসাথী ?
তরু খুব ক্ষিধে পেয়েছে তবুও তরু সামিরের জন্য না খেয়ে বসে আছে। তরুর মতো ছোট মেয়ের পক্ষে এতোকিছু সহ্য করার কথা না তবুও তরু কিভাবে এতোকিছু সহ্য করে...#অবুঝ_মনের_ভালোবাসা_এই_গল্পের_২পর্ব_আমার_টাইম_লাইনে_দেওয়া_আছে)
.
.
চলবে.....
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label