নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্পের নাম মায়ের_আচল

মায়ের_আচল

#লেখায়ঃঅনন্য_মি: রানা ।।

-কিরে বাবা কই যাচ্ছিস?(মা)
-মা এইতো একটু বাইরে
-আচ্ছা বেশি দূর যাস নাহ।সন্ধ্যার আগে ফিরে আসিস।(মা)
-আচ্ছা মা। এখন আমি তাহলে যাই।

কি মনে হচ্ছে মা তার ক্লাস ফাইভে পড়ুয়া ছেলের সাথে কথা বলছে? আসলে নাহ। আমি একজন অনার্স ফার্স্ট ইয়ার পড়ুয়া ছাত্র। নাম আমার অনন্য জয়। আমাদের পরিবারে আমি আর আমার মা।বাবা এক এক্সিডেন্টে মারা যায়।আমি তখন ছোট। চাইলে মা আমাকে কোন এক ইয়াতিমখানায় রেখে  আবার নতুন করে নিজের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারতেন।কিন্তু মেয়েরা মা জাতি হিসেবে খুব অদ্ভুত। মেয়েরা প্রেমিকা হিসেবে কালনাগীন হতে পারে,শাশুড়ি/বউ হিসেবে দজ্জাল। কিন্তু মা,মা হিসেবে মহান।আমি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে মার শিক্ষায় বড় হয়েছি।প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায়,পরীক্ষার খাতায়।আর মায়ের শিক্ষা পুরো জীবনের অধ্যায়। আমার মা বলে ভালো মা বা বাবা হতে হলে আগে নিজেকে ভাল মেয়ে বা ছেলে হতে হবে। আমার দুনিয়া বলতে আমার মা।মায়ের কথা শুনে কখন আমার খারাপ হয়নি,উল্টো নাহ শুনলে বিপদে পড়তাম।মায়ের একটা চিন্তা সমাজ ও যুগ খারাপ হয়েছে।তাদের চক্করে পরে আমি আবার যেনো খারাপ নাহ হই।আর আমিও মায়ের বাধ্য সন্তান। তবুও একটা ক্ষেত্রে অবাধ্য হয়ে গেছি।একটা মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেছি। আর এখন তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।মা সব জানে যদিও আমি বলিনি।

-এতক্ষন লাগে আসতে।মেয়ে হয়ে কতক্ষণ অপেক্ষা করছি তোমার জন্য।(শিফ)
- আম্মুকে বলে আসতে তো একটু দেরি হয়েছে
-হায়ে মায়ের লক্ষী ছেলে।এখনো তুমি মায়ের থেকে অনুমতি নিয়ে বের হও হাহাহা(শিফা)
-এমন করে হাসো কেন? মা চিন্তা করবে তাই বলে আসি।
- আচ্ছা তুমি কি  জ্যাল দিতে পারো নাহ তেল কেনো দাও।আর তুমি কি কোন ইন্টারভিউ দিতে আসো নাকি প্রেম করতে আসো। এমন আদিম যুগের জামা কাপড় পড় কেন? তোমাকে নিয়ে কোথাও যাইতে পারি নাহ।কেন যে তোমাকে ভালোবাসছি?(শিফা)
-আম্মু বলছে জ্যাল দিলে চুল নষ্ট হবে আর খাড়া করলে, ছিড়া প্যান্ট শার্ট পড়লে বখাটে দেখা যাবে তখন কেউ স্নেহ করবে নাহ ভালোবাসবে নাহ তাই।আর তুমি বোরকা ছাড়া এত গাঢ় লিপষ্টিক লাগিয়েছো কেনো?  লোকে খারাপ নজড়ে দেখবে।আর তুমি মেয়ে হয়ে শার্ট প্যান্ট পরছো কেনো?  খুলে ফেলো। সরি আজকের পর এগুলো পড়বা নাহ।
-অই তোর সমস্যা কিরে।তুই নিজে একটা খেত আমাকেও তোর মত   খেত বানাতে চাস।আচ্ছা আজ বলেছো ক্ষমা করলাম। আর কোনোদিন বলবে না। চলো এখন আমরা ফুচকা খাবো। তারপর সন্ধ্যার সময় নৌকায় করে ঘুরবো। তারপর শপিং এ যাবো। (শিফা)
-অই সন্ধ্যার আগে আম্মু বাসায় যেতে বলছে। কাজ ছাড়া যারা পড়ালেখা করে তাদের সন্ধ্যার পর থাকতে নেই।বাজে ছেলেরা সন্ধ্যার পর আড্ডা দে।
-অই আবার ছাগলের মত মা মা শুরু করছো কে।যাও মায়ের আঁচলের তলায় লুকিয়ে থাকো।জান একবার মার আঁচলের তলায় থেকে বেড়িয়ে আসো দেখো জীবন কত রঙিন। প্লিজ জান এত বছর মায়ের কথা শুনেছো আজ থেকে আমার কথা শুনে দেখো। দেখবা জীবন কত রঙিন। (শিফা)
-অই মায়ের কথা না শুনলে মা কষ্ট পাবে।
-অই যাও আমার কথা নাহ শুনলে ব্রেকাপ। আমার সাথে আর কখনো দেখা করবা নাহ।মায়ের আঁচলের তলায় বসে থাকো যাও।(শিফা)
- অই তুমি রাগ করলে আমার অনেক কষ্ট হয়।থাক কয়দিন তোমার কথা নাহয় শুনি।

তারপর ওর সাথে ঘুরলাম। এটা সেটা কিনলাম।সত্যি জীবনটা অনেক রঙিন মনে হয়।রাত ১১ টায় বাসায় গেলাম।আম্মু বার বার ফোন দিচ্ছিল। ওর শিখিয়ে দেওয়া কথায় বললাম।এক বন্ধুর বাসায় গ্রুপ স্টাডি করছি।

-অনন্য বাবা এত দেড়ি হলো কেন? আচ্ছা আয় খাবি তোর জন্য আমিও খাই নাই।(মা)
-আসলে আম্মু ওদের বাসা থেকে খেয়ে আসছি।তুমি খেয়ে নাও।

এই বলে রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিলাম।আমি মিথ্যা বলি নাহ।আজ বললাম তাও মাকে।জানি মা আজ রাতে খাবে নাহ।হয়তো জীবনের একমাত্র অবলম্বনকে পরিবর্তন হতে দেখে কাদবে।

সকালে শিফা কল দিলো ভার্সিটি যেতে হবে।কাল ও পছন্দ করে যা কিনে দিয়েছে তা পরে যেতে বলছে। আর জ্যাল দিয়ে চুল স্টাইল করতে বলেছে।আজ ওর সব ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে যে আমি ওর প্রেমিক।এতদিন খেত ছিলাম মায়ের আঁচলের তলায় ছিলাম তাই পরিচয় করায়নি।ওর অনেক ছেলে বন্ধু,মেয়ে বন্ধু কয়েকজন।নায়ক নায়িকার মত কোলাকুলি করছে।আর আমার খুব খারাপ লাগছে।আমি সবাই কে সালাম দিলাম।ও আমার পায়ে পারা দিয়ে রাগান্বিত হয়ে বলল,মিলাদ পড়তে আসছো যে সালাম দিচ্ছো।তারপর  ক্লাশ নাহ করে ঘুরতে গেলাম।তারপর বাসায় এসে চেঞ্জ করলাম খেয়ে ঘুমালাম তারপর সন্ধ্যায় পড়তে বসলাম।৯টার দিকে শিফার কল একটা পার্টিতে যেতে হবে।বন্ধুর জন্মদিন বলে আম্মুর থেকে অনুমতি নিয়ে গেলাম। তারপর সেখানে নাচানাচি, ড্রিংক করা।আম্মু অনেক ফোন দিচ্ছিলো ধরি নাই।  এভাবে অনেকদিন চলতে থাকে আমার তো খুব ভালো লাগছে।জীবনটা উপভোগ করতে পারছি মায়ের আচল থেকে বের হয়ে।

একসপ্তাহ এভাবে চলার পর রাতে বের হওয়ায় সময়  আম্মু বলল,
- কিরে কি হচ্ছে খুব বড় হয়ে গেছিস।তোর এত পরিবর্তন হলো কিভাবে? প্রতিদিন এত টাকা লাগছে।প্রতিদিন তোর বন্ধুদের জন্মদিন।কি শুরু করছিস।আজ থেকে সন্ধ্যার পর তোর বাসা থেকে বের হওয়া নিষেধ। যা এখন ঘরে যা।(মা)

আমার বুঝের পর এই প্রথম মা আমাকে বকলেন।আমারো শিফার দেখানো জীবন ভালো লাগছিলো। মায়ের আচলের তলায় থেকে বের হয়ে জীবনটা রঙিন লাগছিলো। আমিও সেদিন প্রথম মায়ের মুখের উপর কথা বললাম,
-নাহ আমি আজ তোমার কথা শুনতে পারবো নাহ।আমি এখন বড় হয়েছি।আমার স্বাধীনতা আছে।এখন আর তোমার আঁচলের তলায় থাকতে পারবো নাহ।তোমার এই আঁচলের তলায় থেকে সুন্দর রঙিন পৃথিবী দেখতে পারছি নাহ।

এই বলে বের হয়ে আসলাম সেদিন অনেক ড্রিংক করলাম।এই প্রথম মায়ের মুখের উপর কথা বললাম। মা এখনো হয়তো কাদছেন। শিফা বলল যা বলেছো ঠিক বলেছো এর জন্য এত কষ্ট পাওয়ার কি আছে।প্লিজ আর ড্রিংক করে নাহ।আমি অনেক ড্রিংক করলাম পরে শিফা ও তার এক ছেলে বন্ধু আমাকে বাসায় দিয়ে আসে।

এখন মায়ের সাথে কথা হয় নাহ।আমারও মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে।সেদিন মাতাল হয়ে শিফার সাথে অন্য এক নোংরা নেশায় ডুবেছিলাম।এর আগে ও বলেছিল আমি নাহ করতাম।ও বলতো কিছু হবে নাহ।এখন আনন্দ নাহ করলে কবে করবো।কিন্তু অনন্য এখন জঘন্য হয়েছে মায়ের আচলের তলায় থেকে বের হয়ে।

সেদিন অনেক রাত্র করে বাসায় ফিরছিলাম এমন সময় ছিনতাইকারী এসে সব কেড়ে নেয়।
আরেকদিন শিফার সাথে রাত্র করে আসছিলাম। পুলিশ আটকায় পরে পুলিশের সাথে মারামারি হয় শিফাকে নিয়ে বাজে কমেন্ট করলে  পরে থানায় নিয়ে গেলে ঘুষ দিয়ে বের হয়ে আসি।

সেদিন আমি আর শিফা এক ক্লাবে ছিলাম। শিফার একফ্রেন্ড এসে আমাকে তার ব্যাগ দিয়ে বলে গেলো আজ আমার কাছে রাখতে কালকে নিয়ে যাবে।শিফা ওই ছেলের সাথে বাসায় চলে যায়। আমি বাসায় যাচ্ছিলাম এমন সময় পুলিশ আটকায়।তারপর সার্চ করে। তারপর ব্যাগ থেকে কিছু মাদকদ্রব্য পায়।পড়ে আমাকে থানায় নিয়ে যায়।আমি বারবার বলি এই ব্যাগ আমার নাহ।আর শিফার ওই ফ্রেন্ডকেও আমি চিনি নাহ।পরে শিফাকে ফোন করে নিয়ে আসা হয় সত্যতা যাচাই করার জন্য।

-মিস শিফা উনি কি আপনার প্রেমিক।উনি বলছেন উনার কাছে যে ব্যাগ ছিলো সেটা আপনার বন্ধুর। আর সে ব্যাগে আমরা মাদকদ্রব্য পাই।যদি সেটা আপনার বন্ধুর হয় তাহলে উনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে আপনার সে বন্ধুকে ধরা হবে সাথে আপনাকেও থাকতে হবে কিছু জিজ্ঞাসা বাদের জন্য যদি আপনি সেটার সাথে সম্পৃক্ত থাকেন।(পুলিশ)
-জান বল সে কে উনারা খুব মেরেছে। আমি কখনো মার খাই নাই। তুমি সব সত্য বল। নাহয়  ওরা আমাকে আরও মারবে।
-ওরা আপনাকে মেরে ফেলুক। মাদকাসক্ত সমাজের বিশ এদের মেরা ফেলা উচিত আর উনি কে আমি তো চিনি নাহ। আর আমার কোনো মাদকাসক্ত বন্ধু নাই।আর আপনার কেমন আমি ভদ্র ঘরের মেয়ে। আমাকে এত রাত্রে থানায় ডেকেছেন এক মাদকাসক্তের কথা শুনে।(শিফা)

আমি নিরব হয়ে তাকিয়ে রইলাম।নিজের উপর নিজের রাগ হচ্ছিলো। মায়ের আঁচলের তলায় নিরাপদ ছিলাম।কালনাগীনীর মোহে পরে রঙিন দুনিয়া দেখিয়ে বিষ ছোবল দিলো। পরে মা আসে উকিল নিয়ে। মা আমার দিকে তাকিয়ে চলে যায়।জানি মা সব বুঝতে পেরেছে। একজন মায়ের থেকে তার সন্তানকে ভালো করে কে বেশি চিনে। মা চলে যাবার এক ঘন্টার পর আমাকে ছাড়ে উকিল আন্টি বাসায় পৌছিয়ে দেয়।সারারাস্তায় আমাকে বুঝায় আমার মা আমার জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে।তিনি আবার আমার মায়ের বান্ধুবী।

রাত তিনটা। মা তার রুমে আলো নিভিয়ে শুয়ে আছে। জানি তিনি ঘুমাননি। আমি তার পা ধরে কান্না শুরু করি। তিনিও  কাধছেন
-আম্মু তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।বিশ্বাস কর আমাকে ফাসানো হয়েছে। আমি দুনিয়ার মোহে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে ক্ষমা করো।মায়ের আচলের তলায় সন্তান নিরাপদ। এর বাইরে শুধু বিপদ।

তারপর মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।

-আমি জানি তুই এমন ভুল করতে পারিস নাহ।তুই আমার কলিজা। তোর খারাপ আমি চাই নাহ।তোকে সেটাই করতে দিবো যাতে তোর ক্ষতি হবে নাহ।মায়ের আচল কি? তুই বুঝবি নাহ।মায়ের কাছে সন্তান কি।তুই যতই বড় হও তুই তো আমার কাছে সেই ছোট্ট খোকা।তুই আমার একমাত্র অবলম্বন। তোর থেকে আমাকে কখনো আলাদা করিস নাহ।

কয়েকদিন পর সেই পুরনো বেশে ভার্সিটিতে যাই। সেখান শিফার সাথে দেখা হয়।আমাকে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে।
-জান আমার ভুল হয়েছে।সেদিন ভয়ে কিছু বলতে পারিনি।তুমি ক্ষমা কর আমায়।(শিফা)

নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ওরে একটা কষিয়ে থাপ্পড় দেই।

-আপনাকে তো আমি চিনি নাহ।আপনি কে? পরপুরুষকে জড়িয়ে ধরেন কেনো?আর আমি আমার মায়ের আচলের তলায় লুকিয়ে থাকা ছেলে।সেখানে নিরাপদ আছি। সেখানে থাকতে দেন।
(সমাপ্ত)

#মায়ের_আচল
!
#লেখায়ঃঅনন্য_মি: রানা ।।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label