নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

😍অহংকারী মেয়ে😍

😍অহংকারী মেয়ে😍

 💙💚⬇️
পার্ট : ০১
Rifat Hossen
আজকে কলেজের প্রথম দিন।মানে হাই স্কুল জীবন শেষ করে কলেজ জীবন শুরু করতে যাচ্ছি যেহেতু নতুন কলেজে যাবো সেহেতু মনের মধ্যে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছে।সকাল সকাল আম্মু রান্না করেছে আমি সবাই আগে খেয়ে দেয়ে বেড়িয়ে গেলাম।
সাথে আমার হাইস্কুল লাইফের সেই পুরোনো সাইকেলটা।আব্বু বলেছিলো বাইকের কথা,কিন্ত্ আমার আবার অইসব দিকে তেমন আর্কষন নেই।
আমি আব্বুকে বলেছিলাম আব্বু আমার এখন বাইকে লাগবে না,,তুমি বরং সেই টাকা দিয়ে অন্যকোনো কাজ করো,আমি সাইকেল নিয়েই খুব ভালোভাবে কলেজ করতে পারবো,আসলে সাইকেলের সাথে আমার প্রেম হয়ে গেছে এতোদিনের পুরোনো বন্ধু ছাড়তে ইচ্ছা করে না।
তাই সাইকেল নিয়েই কলেজ করবো ঠিক করি।
কলেজের উদেশ্যে বেড়িয়ে গেলাম।
বাসা থেকে কলেজে যেতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।একাই যাচ্ছিলাম সাথে কেও নেই।
কলেজ গেইট দিয়ে যখন ধুকবো ঠিক তখনি পেছন থেকে একটা গাড়ির হর্ন এর শব্দ আমি যথেষ্ট সাইড দিয়েছি,কিন্তু এরপরেও হর্নএর শব্দ যা খুব বিরক্তিকর লাগছিলো।আমি সাইড না দিয়ে আবার রাস্তার মাঝখানে চলে গেলাম তারপর যা হলো গাড়িটে গিয়ে একটা গাছের সাথে ধাক্কা খেলো।
গাড়ি থেকে একটা মেয়ে নামলো
মেয়েটা নেমে আমাকে উদেশ্যে করে বললো আরে অই ছোটলোকের বাচ্ছা তোর জন্য আমার এতো দামি গাড়ির কি অবস্থা হলো তুই দেখেছিস??
আমি মেয়েটির কথা শুনে থামলাম।বিনা অপরাধে মেয়েটা আমাকে এইভাবে গালি গালাজ করতে পারে না।
আমি নেমে মেয়েটির কাছে চলে গেলাম তারপর
আমিঃআচ্ছা আপনি কি আমাকে উদেশ্যে করে কিছু বলেছেন??
মেয়েঃতোকে উদেশ্যে করে বলি নাই চান্দু অই চাঁদ দেখছিসে সেটা বলেছি
আমিঃদিনের বেলায় চাঁদ আসবে কোথা থেকে??
মেয়েঃতো এখানে তুই ছাড়া আর কে আছে শুনি,আমি তোকেই বলেছি(রেগে গিয়ে)
আমিঃআচ্ছা আমি কি করেছি শুনি একটু??
মেয়েঃকি করিস নাই সেটা বল,,ফকিরের বাচ্চা দেখ জন্য আমার নতুন গাড়ির কি অবস্থা হলো...
আমিঃদেখুন আপনি আমাকে গালি দিচ্ছেন সেটা ঠিক আছে,,কিন্তু আপনি আমার আব্বু আম্মুকে তুলে গালি দিচ্ছেন কেনো??
মেয়েঃইচ্ছা হয়েছে তাই দিচ্ছি তুই কি করবি তুই শুনি??
আমিঃআমি আপনার কি করবো?আর শুনুন আমি তো আপনার কোনো ক্ষতি করি নাই,আপনি ভালোভাবে ড্রাইভ করতে পারেন না তাই এমন হয়েছে।
মেয়েঃঅই চুপ তুই কি আমাকে ড্রাইভ করা শিখাবি নাকি শুনি?আমি বেশ ভালোভাবে গাড়ি চালাতে পারি,,কিন্ত তোর জন্য এতো কিছু
আমিঃদেখুন আমার জন্য কিছু হয়নি ওকে,,আপনি হর্ন দিচ্ছিলেন আমি সাইড দিয়েছিলাম কিন্ত আপনি তারপরেও সামনে না গিয়ে হর্ন বাজিয়েই যাচ্ছিলেন তাইতো আমি আবার রাস্তার মাঝখানে চলে আসি।
মেয়েঃচুপ থাক ফকির কোথাকা একদক কথা বলবি না।
আমিঃদেখুন আপনি কিন্তু আমাকে শুধু শুধু অপমান করে যাচ্ছেনন আমি তো কোনো দোষ করি নাই
মেয়েঃচুপ বড় গলায় আবার কথা বলে আমি কোনো দোষ করি নাই।
আমিঃআচ্ছা আমি কি দোষ করেছি সেটা বলেন তো??
মেয়েঃতোর দোষ তুই আমার গাড়ির সামনে দিয়ে সাইকেল কেনো চালাচ্ছিলি
আমিঃদেখুন এটা রাস্তা আর আমি খুব ভালো করে জানি এইসব রাস্তা দিয়ে সবাই চলাফেরা করতে পারে।
আর রাস্তাটা তো আপনার বাবার না,,,যে আপনি আসবেন বলে কেও সেখানে দিয়ে যেতে পারবে না।

মেয়েটি আমার কথা শুনে রেগে গিয়ে আমার কাছে এসে চড় মেরে দিলো।
আমিঃএই আপনি আমাকে মারলেন কেনো??
মেয়েঃতোর সাহস হয় কি করে?আমাকে বাবাকে নিয়ে কথা বলার শুনি??
আমিঃদেখুন আপনি কিন্তু অন্যায়ের পর অন্যায় করেই যাচ্ছেন।আমি কিন্তু সব সহ্য করবো না।
মেয়েঃকি করবি তুই শুনি তোর কি করার ক্ষমতা আছে একটু দেখি?
আমিঃআপনি মেয়ে বলে এতোক্ষন আপনাকে সম্মান দিয়ে কথা বলছি,,অভদ্র একটা মেয়ে
মেয়েঃএই তুই কি বললি আমি অভদ্র দাড়া দেখাচ্ছি মজা এই বলে মেয়েটা আবার আমাকে চড় দিতে যাবে ঠিক তখনি আমি মেয়েটার হাত ধরে ফেলি।
মেয়েঃঅই ফকির তুই আমাকে টাচ করলি কোনো সাহসে ছাড় বলছি ছাড় আমায়।
আমিঃছাড়বো না তোকে কি করবি শুনি?এতোক্ষন তো সহ্য করলাম,, কি ভেবেছিলি কিছু বলছিলা বলে আমি সবসময় চুপ করে থাকবো নাকি,,তোর মত মেয়েদের মাথায় উঠতে দিতে নেই।ফাজিল মেয়ে কোথাকার
মেয়েঃদেখ আমাকে একদম অপমান করবি না,,এরফল কিন্তু একদম ভালো হবে না।
আমিঃখারাপের কি আছে শুনি,,আমিও দেখতে চাই এর ফল কি হয়,,এই বলে আমি মেয়েটার হাত ছেড়ে দিলাম,অন্যদিকে মেয়েটাতো রেগে একদম আগুন
আমি চলে গেলাম মেয়েটার সামনে থেকে ফাজিল অভদ্র মেয়ে কোথাকার......
কলেজে গিয়ে আমি আমার ক্লাস খুঁজে ক্লাসে চলে গেলাম।
কিছুক্ষণ পর দেখি মেয়েটাও আমাদের ক্লাসের
ধুর মেজাজ আবার খারাপ হয়ে গেলো।
মেয়েটা আমাকে দেখে মনে হয় আবার রেগে গেছে।
মেয়েটা দাত কটরমটর করতে করতে সিটে বসে পড়লো।
আমি আর মেয়েটার দিকে লক্ষ্য না করে কিছু নতুন ফ্রেন্ড বানিয়ে নিলাম।
কিছুক্ষণ পর স্যার আসলো ক্লাসে।
সবাই দাঁড়িয়ে স্যারকে সালাম দিলাম তারপর
স্যার আমাদের সবাইকে বসতে বললো বসে পড়লাম।
স্যারঃতা আজকে তো তোমাদের কলেজ লাইফের প্রথম দিন কেমন লাগছে সবার
সবাইঃজি স্যার অনেক ভালো লাগছে
স্যার'আজকে তো তোমাদের ক্লাস নিবো না,সবার সাথে পরিচিত হবে এক এক করে সবাই পরিচয় দাও।
আগে আমরা মানে ছেলেরা সবাই পরিচয় দিলাম।তারপর মেয়েদের পালা।
একসময় সেই মেয়েটি নিজের পরিচয় দিলো
মেয়েটির নাম  তিশা
বাহ বেশ সুন্দর নাম।
কিন্তু নামের সাথে মেয়েটির কামের কোনো মিল নেই।
একটা বদমেজাজি মেয়ে।
মেয়েদের এতো মেজাজ থাকা ভালো নাহ।
আর মেয়েটা তখন আমাকে চড় মেরেছিলো সেই যায়গাটা এখনো ব্যাথায় টনটন করছে
এতো শক্তি বাবা।
ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম নতুন বন্ধুদের সাথে
খুব ভালো লাগছিলো একদিনেই সবাই কেমন আপন করে নিয়েছে,আমি আমাদের বাসায় চলে গেলাম
বাসায় যাবার পর কলিংবেল চাপতেই আম্মু দরজা খুলে দিলো।আমি সরাসরি আমার রুমে চলে গেলাম।আসলে আমি আম্মুর কাছ থেকে লুকাতে চাইছিলাম যে আমার গালে কারো হাতের ছাপ আছে সেটা আম্মু দেখুক।কিছুক্ষণ পর আম্মু আমার রুমে আসলো
তারপর বললো রিফাত তোর গালে তখন কিসের দাগ দেখলাম বলতো
আমিঃনাহ আম্মু তুমি কিসের দাগ দেখবে?
আম্মুঃমিথ্যা বলবি না,আমি দেখেছি আর এখনো তোর গালে দাগ গুলো খুব ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে, কিসের দাগ বল আমায়।
আমিঃনা মানে আম্মু আমি সাইকের চালাচ্ছিলাম তখন একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেয়েছিলাম তাই মেয়েটা আমাকে চড় মেরেছিলো(কিছুটা সত্যি কিছুটা মিথ্যা,,পুরোটা সত্যি বলে দিলে এটা ওটা জিজ্ঞাস করে কান ঝালাপালা করে দিবে।
আম্মুঃসেটা তো একটা দুঘটনা মাত্র তার জন্য কেও এইভাবে মারে??
আমিঃআম্মু বাদ দাও তো যা হবার হয়ে গেছে আমার খুব খিদে পেয়েছে আমাকে তাড়াতাড়ি খেতে দাও।আমাকে আবার খেলতে যেতে হবো
আম্মুঃআচ্ছা আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি তুই তাড়াতাড়ি খেতে চলে আয়,,
তারপর খেতে গেলাম
খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি খেলতে মাঠে চলে গেলাম।ক্রিকেট খেলছিলাম
মাথের অপর প্রান্ত দিয়ে একটা মেয়ে হেটে যাচ্ছিলো
বল করলো আর আমি ব্যাট সজোরে চালিয়ে দিলাম ব্যাস যা হবার তাই হলো বল সোজা গিয়ে মেয়ের গায়ে লাগলো মেয়ে তো রেগে একেবারে আগুন হয়ে গেছে,, মেয়েটা বল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেও মেয়েটার কাছে যেতেই সাহস পাচ্ছে নাহ।সবাই আমাকে জোর করে ধরে পাঠিয়ে দিলো যেহেতু বল আমি মেরেছি আমি মেয়েটার কাছে যেতেই আরো অবাক আরে এই তো সকালেই সেই মেয়েটা।
আমি গেছি এইবার আমি শেষ
তবুও বুক ভরা সাহস নিয়ে আমি মেয়েটার কাছে গিয়ে বললাম
এই যে তিশা আপু বলটা যদি দিতেন তাহলে খুব ভালো হতো...
তিশাঃঅই তুই আমাকে আপু বললি কেনো আমি কি তোর আপুর মত নাকি??
তিশাঃসরি ভুল হয়ে গেছে  খালাআম্মা এইবার দয়া করে বল দিন।আমাদের দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।
তিশাঃইসসিরে আগের তাইই ভালো ছিলো আর শুন তুই বল পাবি না যা ভাগ।
আমিঃপ্লিজ বল দিন
তিশাঃবললাম না তুই বল পাবি না,তবুও ঘ্যানর ঘ্যানর করছিসে কেনো??
আমিঃএমন ভাবে বলবেন না প্লিজ বল দিন
তিশাঃআচ্ছা দিবো তবে তোকে কানে ধরতে হবে বল তুই রাজি??
আমি আর কোনো উপায় না পেয়ে কানে ধরলাম
তারপর তিশা বললো এইবারের মত অল্পতেই ছেড়ে দিলাম যদি আবার আমার সাথে পাঙা নিতে আসিস তাহলে তোর খবর আছে এই বলে তিশা আমাকে দিকে বল ছুরে মেরে চলে গেলো।
আমি মনে মনে বললাম সবার সামনে আমাকে অপমান করার শোধ আমি তুলে নিবো।
বল নিয়ে চলে গেলাম আবার খেলা শুরু খেলা শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম তখন হঠাৎ করেই বৃষ্টি নামলো কি করবো কি করবো হ্যা একটা যাত্রী ছাউনি আছে আপাতত সেইখানেই আশ্রয় নেওয়া শ্রেয় হবে।
আমি যাত্রী ছাউনির নিচে আশ্রয় নিলাম।বৃষ্টি শেষ আমি বাসায় ফিরছিলাম তখন দেখি তিশা আসছে
মাথায় দুষ্টুমি বুদ্ধি ভর করলো
তিশা আমাকে দেখে আমার কাছ দিয়েই আসছিলো আমি আমার পা টা একটু বাড়িয়ে দিলাম
তারপর ধপাস হাহহায়া তিশা পরে গেছে
তিশাঃআরে অই ফাজিল ছোটলোক তুই এটা কি করলি??
আমিঃকি করেছি আমি?
তিশাঃতুই আমাকে লেঙ মারলি কেনো?
আমি কোথায় তোমামে লেঙ মাড়লাম তুমি নিজেই তো আমার পায়ের সাথে****
তিশাঃচুপ একদম চুপ ফাজিল পোলা
আমি গেলাম তুমি এইভাবেই বসে থাকো কেমন.....
তিশাঃপ্লিজ আমাকে একটু উঠিয়ে দেনা।
আমিঃসেটা আমি পারবো না,মেয়ে মানুষেয় গায়ে আমি হাত দিতে পারবো না
তিশাঃপ্লিজ একটু ধরে তুলে দে
আমি পারবো না আমি গেলাম এই বলে আমি সেখান থেকে চলে আসলাম।
পরদিন কলেজে স্যার ক্লাস করাচ্ছে
হঠাৎ তিশা চিৎকার দিয়ে উঠে বললো স্যার এটা কি ক্লাসরুম নাকি প্রেম করার যায়গা।
স্যারঃকেনো তুমি এমন কথা কেনো বললে??
তিশাঃস্যার দেখুন কে যেনো আমাকে প্রেম পত্র ছুড়ে মেরেছে।
স্যারঃকই দেখি দেখি
তিশাঃএই নিন স্যার দেখুন
স্যারঃএমন কাজ কে করতে পারে
তিশা প্রথমে সবার দিকে তাকালো তারপর আমাকে দেখিয়ে বললো স্যার অই যে অই ছেলেটা অই ছেলেটাই মেরেছে((আমাকে দেখিয়ে))
স্যার তখন আমাকে ডার করালেন বললেন এই তুমি এই কাজ করেছো??
আমিঃস্যার আমি তো এইসবের কিছুই জানিনা
তিশাঃস্যার অই শয়তান ছেলে মিথ্যা কথা বলছে অইই আমাকে প্রেম পত্র দিয়েছে
আমিঃস্যার বিশ্বাস করুন আমি দেই নাই(যে দিয়েছিলো সেটা আমি জানি কিন্তু বলছি না ঝামেলা হতে পারে।আমি চাইছি ব্যাপার টা অল্পতেই মিটে জাক।
স্যারঃতোমার কোনো কথা আমি শুনতে চাইনা,এই প্রথম দেখে তোমাকে ছোট খাট শাস্তি দিবো
আমিঃকি শাস্তি স্যার??
স্যারঃকানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকো...
আমিঃকিন্তু স্যার...
স্যারঃকি এই শাস্তি ভালো লাগে নাই,, তাহলে চলো তোমাকে নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে যাই।
আমিঃনাহ স্যার ঠিক আছে আমি কানে ধরছি
আর কিছু করার নেই যার জন্য কানে ধরলাম সে আমার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিলো যাক শত্রু তো বাড়ালাম না।যার জন্য কানে ধরলাম সে আমার বন্ধু হবেই।
আমি কানে ধরেছি আর তিশা মিটিমিটি হাসছে
সেটা দেখে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে।....
গল্প পড়তে ভালো লাগলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়ে পাশে থাকবেন।।।
 সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ গল্পটি পড়ার জন্য ।
next পার্ট আগামীকাল দিব....
.......... চলবে........
গল্পটা কেমন হয়েছে জানাতে ভুলবেন না যেন
to be continue......
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label