নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

সবার প্রিয় গল্প

নির্জনার একটি মেইল এসেছে,

স্যার, ষোলোশহর একটি ছেলের লাশ পাওয়া গেছে৷ তার একটি অন্ডকোষ নেই৷ আমি এখন কোথায়? প্লিজ জানাবেন?

ইমেইল পড়ে সবাই কিছু মুহুর্তের জন্য নিশ্চুপ৷ অপ্রত্যাশিত সংবাদে মাুনষ কখনো কখনে স্তব্ধ হয়ে যায়৷কখনে কখনো দিশেহারা হয়ে।

ডি.নির্জনা কোন বিপদে রয়েছে৷
মেয়েটাকে অনুসরণ করে ও ষোলোশহরের দিকেই যাচ্ছিলো৷ গভীর রাত।
রাস্তার উপর ফ্লাইওভার। চারিদিকে স্ট্রিট লাইটের সোনালী আলো৷ সমবয়সী বিভিন্ন গ্রুপের আড্ডা চলে বিভিন্ন পয়েন্টে৷
এসময় এদিকে খুব বেশি মানুষের আনাগোনা না থাকলেও গোয়েন্দা নারীকে অপহরণ করার মত শুনশান নীরব জায়গা নয়৷

সে বিপদে থাকলেও অপহরণের স্বীকার হয়নি৷ কোন মেয়ে জীবন মৃত্যর সন্ধিক্ষণে আটকে গিয়ে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মেইল করবে না৷

একটি প্রশ্ন জানার ছিলো,মৃত্যপথে কোন নারীর কার কথা বেশি  মনে পড়ে,তার স্বামী?তার সন্তান?তার বাবা মা?
প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে বের করতে হবে৷

ইমেইলটাতে মৃত্যুপথ যাত্রীর অসহায়ত্ব ফুটে উঠতো । কিন্তু এমনটা হয়নি।

কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তারিককে কাজে লাগতে হবে৷ খুব ভোরে সে বের হবে৷ আজ তারিনের জন্মদিন। মেয়েটা ঘুমুচ্ছে৷ ঘুমন্ত অবস্থায় সব মেয়েদের নিষ্পাপ মনে হয়৷ ঘুমন্ত অবস্থায় নারীদের দিকে তাকাতে নেই মায়ার বাঁধনে আটকে যাবে৷ মায়া থেকে ধীরে ধীরে প্রেমে পরে যাবে৷ তারিক তাকাতেই পারে সে তার স্ত্রী। আজ তারিনের জন্মদিনটা পালন করতে পারলে সে খুব খুশি হত৷ ভালোবাসার গভীরতা বাড়তো৷ কিন্তু এখনি তাকে বের হতে হবে
যাওয়ার আগে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিরকুট লিখে রাখা  যেতেই পারে৷

প্রিও,

প্রথমেই দুঃখ প্রকাশ করে নিচ্ছি৷ আমি তোমায় কোন কষ্ট দিতে চাই নি৷
আমি দুঃখিত তোমর  রাগ ভাঙিতে  আমি তোমায় আনতে যাইনি৷
পৃথিবী বড়ই রহস্যময় তার চেয়ে রহস্যময় মানুষের সম্পর্কগুলো। মা -সন্তান,বাবা-সন্তান, ভাই-বোন,স্বামী -স্ত্রী,বন্ধুত্ব, প্রতিটি সম্পর্কেই ভালোবাসা থাকে তবে এ ভালোবাসা সম্পর্কভেদে ভিন্ন।তোমার প্রতি আমার  যে ভালোবাসা তা আমার বন্ধুর প্রতি আমার ভালোবাসা থেকে ভিন্ন৷ আমার বন্ধুর প্রতি আমার যে ভালোবাসা তা আমার ভাইয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা থেকে ভিন্ন৷আমরা তখনই স্বর্গসুখে থাকি যখন সব সম্পর্কের ভালোবাসাগুলো অটুট থাকে৷
আমি শুধু তোমায় নিয়ে সুখে থাকতে পারতাম না, যদি না আমার বন্ধু থাকতো৷ আমি শুধু আমার বন্ধু নিয়ে সুখে থাকতে পারতাম না, যদি না আমার কোন তারিন না থাকতো৷

পৃথিবীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত বস্তু হলো সিগারেট, যে কখনোই বিশ্বাসঘাতকতা করে না। তার মানুষ বন্ধুটির জন্য সে নিজের সব কিছু উজার করে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বন্ধুর সাথে পুড়তে পুড়তে ধোঁয়ার রুপে পাখি হয়ে উড়ে হারিয়ে যায় বাতাসে।
পৃথিবীর এই একমাত্র বস্তু যে কিনা মানুষের জন্য নিজের স্বল্প আয়ুর জীবনকে উৎসর্গ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, কখনোই বিদ্রোহ করে না।
(সিগারেটের অংশটুকু সংগৃহীত)
আর এ সিগারেটের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা রয়েছে৷

আমারা প্রতিনিয়ত ভালোবাসার অগ্নিপরীক্ষা দেই৷
কখনো কোন ভালোবাসা তথা কোন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অন্য কোন ভালোবাসা বিসর্জন দিতে হয়৷ এভাবে একটি  ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে
অন্য ভালোবাসাকে চ্যালেন্জ করা প্রকৃত ভালোবাসা নয়৷
যে ভালোবাসে সে শুধু ভুল মানুষকে নয় ভুলকেও ভালোবাসে।
আমি তোমায় ভালোবাসি তারিন, তোমার ভুলগুলোও ভালোবাসি৷
আশাকরি আমার সিগারেটের প্রতিও তোমার ভালোবাসা থাকবে৷
শুভ জন্মদিন৷

ইতি
তারিক
তোমার প্রিয়া।

গতকালের মিটিংএ নতুন কিছু নিরুত্তর প্রশ্ন এসেছে এগুলো খুঁজে বের করতে হবে৷ কাজটা কঠিন তবে সহজ।
১) হৃদিতা মেডিকেল হলের পূর্ব-পশ্চিম সব তথ্যের খুঁজ নেয়া৷
২)  ষোলশহরের আশেপাশের ব্যাংকগুলোতে খুঁজ নেয়া অল্পবয়সী কোন মহিলা ডলার ভাঙাতে এসেছিলো কিনা৷
৩)আশেপাশের কোন হসপিটাল এ সে গিয়েছিলো কিনা।

ডিটেকটিভ তারিক,

সকাল সাতটায় বাসা থেকে বের হলো৷ কখন ফিরবে তা অনুমান করা তথ্য খুঁজে বের করার চেয়ে কঠিন৷ হৃদিতা মেডিকেল হলে তাকে যেতে হবে৷
তবে ঔষধ কিনতে নিয়৷ বিক্রি করতে। ঔষধ কম্পানির এস.আর এর সাথে সখ্য গড়ে তুলে তার মাধ্যমে তথ্য বের করা সহজ হবে৷
অথবা তাকে কিছু মেও দিলেও সে কিছু তথ্য দিবে৷
এস আর যদি বিবাহিত হয় তাহলে মেও এ কাজ হবে আর অবিবাহিত হলে কাজ হওয়ার সম্ভবনা কম৷
বিবাহিত পুরুষের চাহিদা বেশি থাকে এদের সহজেই উৎকোচ প্রদান করা যায়৷

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে তারিকের বেশ ভালো খাতির। মেয়েটি বিদেশ থেকে এসে থাকলে অব্যশই সে কোথাও না কোথাও ডলার ভাঙাতে যাবেই৷
তারিক খবর পাঠিয়ে দিয়েছে সন্ধ্যার মধ্যে খবর চলে আসবে৷
আপাতত হসপিটালে খুঁজ নেয়া উচিত৷ কোন ডাক্তার দেখিয়ে থাকলে অব্যশই খুঁজে বের করা যাবে৷ সে গতকাল রাতে ফার্মেসীতে গিয়েছিল।
তাহলে হাসপাতালে গতকালের তথ্য অনুসন্ধান করলেই সবকিছু জলের মত পরিষ্কার হয়ে যাবে৷

ডি.রবিন আজ সবগুলো দৈনিক পত্রিকা রেখেছে৷ অন্ডকোষ বিহীন লাশের খবর কোন না কোন পত্রিকায় থাকা উচিত৷
সবগুলো পত্রিকায় কেবল ক্যাসিনোতে RAB এর ক্রমাগত অভিযান নিয়ে লিখা।
কোথাও শিরোনামে এসেছে ৫০০ প্যারাকমান্ডো মার্কিন সেনা সৌদি তেল সম্পদ নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।
অবশেষে একটি চোখে পড়লো অন্ডকোষ বিহীন লাশের খবর।

শিরোনামঃ মৃত্যুর ৮৬ বছর পর  হিটলারের আগমন।

এইজন্যই এতক্ষণ সংবাদটি চোখে পরেনি৷ পত্রিকাগুলো প্রায় সংবাদগুলো অতিরঞ্জিত করে ফেলে৷ হিটলারের একটি অন্ডকোষ ছিলো৷অবশ্য একটি দিয়ে যে পৃথিবী কাঁপাতে পারে তার দুটোর প্রয়োজন নেই৷
আজকের এই লাশেরও একটি অন্ডকোষ।অন্যটি গায়েব৷এমনি এমনি গায়েব না কেউ একজন করেছে৷ নিঃসন্দেহে বলা যায় তীব্র ঘৃণা থেকে কেউ এমনটা করেছে৷ মানুষের মনে যখন এক বিন্দু ভালোবাসা জন্মায় একদিন দুদিন একমাস দুমাস এভাবে কয়েকবছর পর তা তীব্র ভালোবাসায় রূপ নেয়৷ কারো মনে এক বিন্দু ঘৃণা বা প্রতিশোধের লিপ্সাও সময়ের বিবর্তনে তীব্র আকার ধারণ করে৷ আর তীব্র ঘৃণা তাকে হিংস্র করে তোলে।

সে যইহোক প্রতিবেদনটি,

নিজস্ব প্রতিবেদক,

গতাকল রাত ১.৩৯ মিনিট । ৯৯৯ এ কল পেয়ে ষোলোশহর যান সাব ইন্সপেক্টর রাফির নেতৃত্বে একটি টিম৷
হাইওয়ে থানা পুলিশ৷ সেখানে গিয়ে দেখতে পান মধ্যবয়সী একজন যুবকের নিথর দেহ পড়ে আছে৷ পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চমেকে নিয়ে আসেন৷
ঘটনাসূত্রে জানা গেছে তার একটি অন্ডকোষ ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে৷
এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান,
লাশের modus operandi দেখে মনে হচ্ছে এটা একটি প্রতিশোধমূলক হত্যাকান্ড৷ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর হত্যার খুঁটিনাটি জানা যাবে৷
তিনি আরো বলেন ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে  একজন মাঝ বয়সী আহত নারীকে উদ্ধার করা হয়৷ তার সাথে হত্যাকান্ডের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ সে জানিয়েছে তার নাম নির্জনা।
আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে আশাকরি অতিশিঘ্রহ আমরা অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেফতারে সক্ষম হব৷

ডি.রবিন... চিন্তিত মনে একটু রহস্যময়ী হাসি দিলো৷
সুখে  থাকতে হাসির বিকল্প নেই।মেকি হলেও শব্দ করে হাসতে পারলে অদ্ভুত সুখ পাওয়া যায়।

আপাতত অন্ডকোষবিহীন হিটলারী লাশের কথা স্থগিত রাখা যায়৷
নির্জনা দেখতে হাসপাতালে যাওয়া উচিত।
ডি.তারিকের তথ্য অনুসন্ধান শেষ কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আসবে।

এই সুযোগে Alice laplante এর  A circle of wives মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও রহস্যময়ী উপন্যাসটা পড়া যায়৷ বেশ ভালো লিখেছেন লেখনশৈলী চমৎকার গল্পের শব্দচয়ন ও কাহিনি দুটোই চমৎকার।

তারিকের আগমন।
মানুষের অভিব্যক্তিতে তার সফলতা  ফুটে উঠে।
আজকে তারিক খুব সফল।

স্যার, মেয়েটি কিছু  বেশ কিছু রাশিয়ন রুবল ভাঙিয়েছে৷ তবে আসল কথাটা হচ্ছে সে কিছু ব্রিটিশ পাউন্ডও ভাঙিয়েছে।

আর স্যার, আশেপাশের কোন হসপিটালে তিনি যাননি৷ সবার সাথে কথা হয়েছে৷ হৃদিতা মেডিকেল হলের সম্পূর্ণ তথ্য এখনো বের করতে পারিনি৷

কোন ব্যাপার না। সে কোন কত ব্রিটিশ পাউন্ড ভাঙিয়েছে।

-অল্প কিছু হবে।

আর রাশিয়ান?

অনেক স্যার, ব্রিটিশ পাউন্ড থেকে বেশি৷

-সে আসলে রাশিায়ার সাথে সম্পর্কিত তারিক৷

সচরাচর বিমান রাশিয়া থেকে লন্ডন হয়ে বাংলাদেশে আসে৷ তাই হয়তো অল্প কিছু ব্রিটিশ পাউন্ড সাথে এনেছন।

তারিক টিভি অন করলো৷ হিটলারী লাশ সম্পর্কে টেলিভিশনে নিউজ চলছে৷ হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থলে থকে খানিকটা দূরে সিসিটিভি ফুটেজে একজন নারীকে দ্রুত হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে।
উনিই আপাতত পুলিশের প্রাইম সাসপেক্ট।

পুনঃপ্রবাহ
Jahadul islam apu
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label