নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

মিষ্টি ভাবির দুষ্ট বোন যখন বউ পর্বঃ ১

মিষ্টি ভাবির দুষ্ট বোন যখন বউ
আবেগি ছেলে চঞল
 পর্বঃ  ১ 


বিছানায় সুয়ে, বুকের একপাশে মোবাইলটা রেখে...আমার প্রিয় লালন সংগীত শুনছি। হঠাৎ গানটা বন্ধ হয়ে রিংটোন বাজা শুরু করলো।আমি ফোনটা রিসিভ করেই বললাম, কেমন আছেন বড় ভাই???
--হুুম ভালো, তুমি কেমন আছো??
---হুুম ভালো।
--- বাড়ির সবাই কেমন আছে??
--- হুুম ভালো...আপনার বাড়ির সবাই কেমন আছে??
---- হ্যা ভালো।আচ্ছা তুমি এক কাজ করো...আজকে তোমার খালার  বাসায় এসে পরো...কালকে একসাথে পাত্রী দেখতে যাবো।
--- তাই নাকি, তা কার জন্য পাত্রী দেখবেন??
তোমার খালাতো  ভাই সজিবের জন্য...।
---তাই নাকি,বিয়ে করতে রাজি হয়েছে???ক্যামনে সম্ভব??
-- হুুম সম্ভব হয়ছে,আমি আছি না???আচ্ছা তুমি তাড়াতাড়ি আসো, আসলেই কথা হবে।
 ---অবশ্যই আমি আসতেছি..সজিব ভাইয়ের জন্য পাত্রী দেখা হবে আর আমি সেখানে থাকবো না এটা কেমনে..হয়। আচ্ছা বড় ভাই আমি ১ ঘন্টার মধ্যেই রওনা দিচ্ছি।
---আচ্ছা আসো তাহলে ফোন রাখি...দেখেশুনে এসো।
-- ঠিক আছে বড় ভাই।
আমি চাদঁ অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পরতেছি, এতোক্ষন যার সাথে কথা বললাম সে হচ্ছে আমার খালাতো বোন সোনিয়া আপুর হাসবেন্ড । আমি তাকে বড় ভাই বলেই ডাকি। আর যার জন্য পাত্রী দেখা হবে সে হচ্ছে আমার খালাতো ভাই সজিব।প্রেম করে ছ্যাকা খাইছিলো তাই বিয়ে করতে চায়ছিলো না। এখন রাজী, হয়তো সোনিয়া আপুর হাজবেন্ড মানে বড় ভাই রাজী করাইছে। সে আমাদের চ্যালেন্জ করেছিলো সে রাজী করিয়েই ছাড়বে। বলতেই হবে লোকটার কথায় অনেক পাওয়ার আছে,তানাহলে সজিব ভাইয়ের মতো লোককেও বিয়েতে রাজী করাতে পারে।যাইহোক এতসব ভাবার সময় নেই,তাড়াতাড়ি রেডী হয়ে খালার বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হলাম..।খালার বাসায় পৌছাতে পৌছাতে....রাত ৭টা বেজে গেলো। রাত অনেক মনে হচ্ছে কিন্তুু সময় দেখে মনে হচ্ছে রাত কেবল শুরু হলো।খালা খালুর সাথে কথা বলে,  সজিব ভাইয়ের রুমে গেলাম,গিয়ে দেখি....সজিব ভাই, বড় ভাই, আর,সজিব ভাইয়ের চাচাতো ভাই সুমন ভাই...কার্ড নিয়ে বসে আছে।আমাকে দেখা মাত্রই বড়ভাই বললো কাপড় চেন্জ করে, তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে আসো।আমি বললাম কেনো বড়ভাই, কি হয়েছে এত তাড়াতাড়ি কেনো??
আরে কিছুই হয়নি টুইন্টি নাইন খেলবো...দেখোনা কার্ড নিয়ে বসে আছি। ও.....আচ্ছা আমি এখনি আসছি.,আমি নতুন টুইন্টি নাইন খেলা শিখছি...,বড় ভাই শিখাইছে....।তাই....খেলাটার প্রতি আমার একটু বেশিই আগ্রহ।তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে আসার পরেই সজিব ভাই..একটা খাবারের প্লেট আমার হাতে ধরিয়ে বললো নে.. তাড়াতাড়ি খেয়ে নে..। আমি বললাম নাহ,  এখন খাবো না,কিন্তু বড় ভাই বললো খেয়ে নাও, আজকে প্রায় সারা রাত টুইন্টি নাইন খেলবো....পরে আবার খাওয়ার সময় পাবে না।তাই তাড়াতাড়ি খেয়ে খেলা শুরু করলাম...রাত ১২ টা বাজে...আমার ঘুম ঘুম আসছে তার ওপর আবার কার্ড ভালো পরতেছে না।আর কার্ড ভালো না পরলে আমার এমনিই খেলতে ইচ্ছে হয় না।তাই বললাম রাত অনেক হয়েছে আর খেলবো না...সজিব ভাই ও সায় দিলো...।তারপর বড় ভাই বললো ঠিক আছে ঘুমিয়ে পরো তাহলে।সকালে সজিব ভাইয়ের ডাকে ঘুম থেকে উঠলাম,  কিরে...তুই যাবি না ??
হুম যাবো তো...।
তাহলে রেডি হস না কেনো,  তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে কিছু খেয়ে রেডী হ...।
এরই মাঝে বড় ভাই এসে বললো নাহ, তুমি এত অলস আগে জানতাম না।
আমি বড় ভাইকে বললাম ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেন আমি, গোসল করে,খেয়ে..... রেডী হচ্ছি। ১৫ মিনিটের জায়গায় ৩০ মিনিট লাগলো আমার রেডী হতে।এতো তাড়াতাড়ি কেউ রেডী হতে পারে। তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে পরে বুজতে  পারলাম প্যান্ট পরছি কিন্তু বেল পরি নায় যার ফলে একটু পর পর প্যান্ট এর সাথে আমাকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ১ ঘন্টা পর সি.এন.জি. থেকে নেমে প্যান্টটা একটু ওপর দিকে টান দিয়ে ওঠিয়ে পাত্রীর বাড়ি গেলাম। খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ করে পাত্রী দেখার পর্ব শুরু করলাম.....পাত্রীর ঘোমটা সরানোর পরে দেখলাম অসম্ভব সুন্দর পাত্রী। আমাদের সকলের পাত্রী পছন্দ হয়েছে.....মুরুব্বীরা আগেই দেখা দেখির কাজ শেষ করেছে। আমরা ৩ জনই বাদ ছিলাম তাই আজকে দেখে নিলাম।
--- বড় ভাই: চাদঁ পাত্রী কেমন দেখলে???
--- আমি: ভাই আমার হেব্বী পছন্দ হয়েছে, সজিব ভাই যদি বিয়া না করে তাহলে আমি বিয়া করবো।
--- বড় ভাই: কিন্তু তোমার সেই চান্স নাই সজিবেরও পছন্দ হয়েছে আর বিয়েও ফাইনাল করা হবে।তবে তোমার জন্য সুখবর আছে।
--- আমি: তা ভাই সুখবর টা কি???
--- বড় ভাই: শুনলে না তোমার ভাবীর একটা ছোট বোন আছে।ঐ টা তোমার জন্য।হাহাহা.....
---- আমি: হুম শুনলামতো কিন্তু দেখলাম নাতো। যদি...ভাবির মতো সুন্দর না হয়।
---- বড় ভাই:দ্যাখবা ক্যামনা মেয়েটি টাংগাইল কুমুদিনী কলেজে ছাত্রীনিবাসে থাকে, তার...টেস্ট পরীক্ষা চলতেছে তাই আসতে পারে নি। আর তোমার ভাবী যেহেতু সুন্দর তার ছোট বোনও সুন্দর হবে।
---- আমি: এটা আপনার ভুল ধারনা, দেখলেন না ভাবীর বাপে কত কালা.....যদি বড় মেয়েটি মায়ের মতো আর ছোট মেয়েটি বাবার মতো হয় তাহলে কেমন হবে...।

----বড় ভাই:হা হা হা...তুমি তো দেখছি দার্শনিকদের মতো যুক্তি দেখাচ্ছ। আচ্ছা যাই হোক ঐটা পরে দেখা যাবে।
--- আমি: হুম আপনি ঠিক বলেছেন ঐ টা পরে দেখা যাবে।
তারকিছু দিন পরেই সজিব ভাইয়ের বিয়ার দিন তারিখ পরলো।
অবশেষে আসলো সেই মহেন্দ্র ক্ষন সময়....বিয়ের বরযাত্রী হিসেবে রওনা দিচ্ছি। সজিব ভাইয়ের মুল টারগেট......ভাবি রে আনা আর আমার মুল টারগেট ভাবির বোনকে দেখা...এসব ভাবতেছি আর একা একাই হাসতেছি।অবশেষে বিয়ে বাড়িতে এসে পরলাম, বাহ কি সুন্দর করে বিয়ের গেট সাজিয়েছে!গেটের কাছে সব সুন্দরী মেয়েরা দাড়িয়ে আছে, আসলে ময়দা মাখানোর যুগ তো....তাছাড়া বিউটি পার্লারের সহোযোগিতায়...সব মেয়েদের নায়িকা নায়িকা লাগে।হঠাৎ করে এই নায়িকাদের মাঝে অসম্ভব সুন্দরী এক পরী এসে বলতেছে এই, ১০ হাজার টাকার এক পয়শাও কমে কেউ গেট ছারবি না।আমি তো সুন্দরী ঐ পরীটাকে দেখায় ব্যস্ত, এরই মধ্যে বড় ভাই আমাকে ফিসফিসিয়ে বলল এদেরকে সামলাওতো দেখি কি রকম বুদ্ধি তোমার??আমি বড় ভাইকে বললাম আচ্ছা ঠিক আছে দেখেন তাহলে....
আচ্ছা আপনাদের কত টাকা দিতে হবে??
পরীটি বলতে লাগলো কেনো শুনতে পান নি ১০ হাজার টাকা...।আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম এ তো আস্ত এক ডাকাতনি..পরীর দেশে ডাকাতি করে এখন মানব সম্রাজ্যে এসে ডাকাতি করতে চাচ্ছে।আমি বললাম কিছু কম নেওয়া যায় না???পরীটি বললো না এক টাকাও কম নেওয়া যাবে না...।
তাহলে আর কি করার,--- একটা ৫০ টাকার বান্ডেল পরীর হাতে দিয়া দিলাম।বাহ!কি নরম হাত রে.....ইচ্ছে ছিল আর কিছুক্ষন ধরে রাখি। কিন্তু সব ইচ্ছায় পুরন করতে নেই।তাই হাতটি ছেড়ে দিয়ে বললাম এখন গেট ছাড়েন।পরী বললো না আগে টাকা গুনে নেই তারপর।কিন্তু ঐ পাস থেকে এক চাচা এসে বললো হইছে এখন গেট ছেড়ে দে তোরা, মেহমানরা অনেক পথ পাড়ি দিয়া আসছে ওনাদেরকে একটু বিশ্রাম নিতে হবে।এই এই মাত্র ৫ হাজার টাকা দিছে.....এটা হবে না...এভাবে মৃদু আন্দোলন শুরু হলো কিন্তু ততক্ষনে আমরা বাড়ির ভিতরে এসে পরেছি।আমি আবার পরীটার কাছে গিয়ে বললাম এভাবে আন্দোলন করলে হবে নাতো, ১৯৫২ সালের আন্দোলনের মতো করতে হবে ৫,৭জনকে মরতে হবে...ওহ স্যরি এখানে মরা যাবে না, তো...প্রেমে পড়া যাবে তাই প্রেমে পরতে হবে।তবেইতো আপনাদের আন্দোলন সফলতা পাবে। এই বলেই আমি চলে আসলাম পিছনে তাকিয়ে দেখি আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর রাগে শুধু কটমট করতেছে পারলে আমাকে আস্ত গিলে ফেলবে।আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম যাক বিয়ে বাড়িতে ভালই মজা করা যাবে।তবে পরীটি যদি ভাবীর বোন হতো তাহলে আরো মজা করা যাবে।
খাওয়া, দাওয়ার পর্ব শেষ করে অনেক্ষন যাবত বসে আছি। তবুও ভাবীর বোনকে দেখা হলো না, অবশেষে বড় ভাইকে বললাম চলেন বড় ভাই, ভাবীকে একটু দেখে আছি আর এর সাথে ভাবীর বোনদের সাথেও পরিচিত হয়ে আছি।
বড় ভাই: ওহ তোমারতো আবার ভাবীর বোনকে দেখা অতিবো জরুরী।তাই না??আচ্ছা চলো যাই দেখি পরিচিত হওয়া যায় কিনা??
আমি:আপনি যে কি বলেন না....
ভাবীকে দেখতে গেলাম সেখানেও যে পরীকে দেখা যাচ্ছে....আমরা যাওয়া মাত্রই পরীটি বলে ওঠলো এখানে আপনারা কেনো??
আমি: নাহ! এমনি আসলাম আপনাদের সাথে দেখা করতে...আর তাছাড়া আপনাদের সাথে পরিচিতও হতে আসছি...।
পুরী: ওহ...তাই বুজি???
আমি: হুুম, আমি চাদঁ সজিব ভাইয়ের একমাত্র খালাতো ভাই।আর উনি হচ্ছে আমার আর সজিব ভাইয়ের একমাত্র দোলাভাই।
পরী: ওহ আমি সাথী আপনাদের ভাবীর একমাত্র বোন আর এরা হচ্ছে আমাদের পিচ্চি চাচাতো বোন।
আমার মনতো খুশিতে লুঙ্গিডেন্স দিতেছে কিন্তু তা প্রকাশ না করে ভাবীর কয়েকটা পিক তুললাম, ইচ্ছে ছিলো ভাবীর বোনেরও পিক তুলবো কিন্তু ভাবীর বোন খুবই সেয়ানা ভাবীর সাথে দাড়ালোও না আর আমার পিক তুলাও হলো না।  তারপর ওখান থেকে বিদায় নিয়ে আমরা চলে এলাম এবং বড় ভাই দেখি বলতেছে কি বলছিলাম না.....তোমার ভাবীর বোন তোমার ভাবীর থেকেও সুন্দর হবে, কি...তাই হলোতো।
আমি: তা তো হলো কিন্তু বড় ভাই,মেয়েটির সাথে আমি প্রেম করতে চাই..এবং অবশেষে বিয়েও করতে চাই আপনি কিন্তু হেল্প করবেন।
বড় ভাই: তা তো করা যাবে কিন্তু মেয়েটি যদি অন্য কারো সাথে প্রেম করে...সুন্দরী মেয়েতো বলা যায় না।
আমি: তাই তো ভাই এটাতো আমি ভাবি নি...?
বড় ভাই: তবে যাই বলো মেয়েটিকে দেখে মনে হয় না প্রেম করে।তাছাড়া আমার মন বলছে মেয়েটি প্রেম করে না।
আমি: তাই যেনো হয় বড় ভাই, আপনির কথা যেনো বরাবরের মতো সত্যি হয়।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,চলবে,,,,,,,,,,,,,
গল্পটা কেমন লাগছে জানাবেন যদি ভালো লাগে তাহলে ২ য় পর্ব দিবো,,
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label