নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্পঃ অবহেলিত জীবন 2 পর্ব

গল্পঃ অবহেলিত জীবন

লেখকঃ মেহেদী হাসান

2 পর্ব

আর আমার পুরানো কথা মনে পড়ে গেল ৷ আর চোখ দিয়ে অঝর ধারাই পানি পড়তে লাগল ৷
কি দোষ করেছিলাম আমি যে আমাকে এত বড় শাস্তি দিল ৷ মা বাবার কাছে আমি একজন অভীশপ্ত ছেলে ছিলাম ৷

যাকোনদিন মা বাবার ভালবাসা পায়নি ৷ শুধু অবহেলা পেয়েছি ৷ শুধু ছোট পিচ্চি বোন টা আমাকে পাগলের মত ভালবাসত ৷ ছোট থেকে মা বাবার অবহেলা নিয়ে বড় হয়েছি ৷ এসব কথা ভাবছি আর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে ৷

নিজের থেকেও যাকে ভালবাসতাম সেও আমাকে অবহেলা করে কষ্ট দিত ৷ খুব খারাফ লাগত সেই সময় ৷

খুব কষ্ট হয় এসব কথা মনে পড়লে ৷ এই 11 বছর যে পরিমান কষ্ট হয়েছে তা শুধু আমি যানি ৷ প্রতি রাতে মা বাবার কথা মনে পড়লে খুব কান্না আসতো ৷

এভাবে পুরানো কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি নিজেই জানিনা ৷

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে চলে আসলাম অফিসে ৷ আমি নিজের ডেক্সে বসে আছি ৷ তখনি দেখি আমার পিচ্চি বোন টি ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকছে ৷

রিয়াঃ ভাইয়া তুমি আজ কলেজের সামনে আসোনি কেন  ৷ তুমি জাননা তোমাকে না দেখলে আমার কত কষ্ট হয় ৷ তুমি তা বুঝবে কেন আমি তোমার কি হই ৷ 【 হালকা কান্না করে】

আমিঃ ওরে আমার পিচ্চি টা বুঝি রাগ করেছে তার ভাইয়ার উপর ৷ আচ্ছা আর ভুল হবে না এখন থেকে প্রতিদিন দাড়িয়ে থাকব ৷

রিয়াঃ হুমমম চল আমাকে কলেজে নামিয়ে
 দিয়ে আসো ৷

আমিঃ হুমমমম চল ৷

আমিঃ আচ্ছা একটা কথা বলব  ৷ 【 বাইকে কলেজ যেতে যেতে】

রিয়াঃ হুমমমম বল এতে অনুমিতি চাইছো কেন ৷

আমিঃ  কাল দেখলাম তোদের কলেজে রিমি দাড়িয়ে ছিল শাড়ি পড়ে কিন্তু ওর তো কলেজ লাইফ শেষ তাহলে কি করছে ৷

রিয়াঃ তুমি ওই ফালতু মেয়ের কথা একদম বলবেনা ৷ ওই মেয়ের জন্য আমি আমার ভাইকে 11 বছর দূড়ে রেখেছে ৷

আমিঃ আচ্ছা  আর বলবনা এখন তো বল রিমি তোদের কলেজে কি করে ৷

রিয়াঃ রিমি আমাদের কলেজে লেকচারার  ৷ কিন্তু  আমি কোনদিন তার সাথে কথা বলিনি ৷ কিন্তু ভাইয়া তুমি জান প্রায় প্রতিদিন   আমার সাথে কথা বলতে আসে ৷   প্রতিদিন তোমার কথা জিজ্ঞাসা করত ৷ কিন্ত আমি কোন উত্তর দিতাম না ৷ কারন ওই মেয়ের জন্য আমি আমার ভাইয়া কে হারিয়ে ফেলেছিলাম ৷ তাই রিমি কে দেখলে আমার ভীষন রাগ হয় ৷ রিমি ক্লাসে ক্লাস নিতে আসলে আমি বাইরে চলে আসি ৷

আমিঃ হুমমমম ভাল করেছিস ওই মেয়ের জন্য আমারো অনেক কষ্ট  সহ্য করতে হয়েছে ৷ আর ওই মেয়ের জন্য আমার কলিজার বোনের কাছ থেকে এতদিন দূড়ে ছিলাম  ৷

আচ্ছা তোদের রিমি ম্যাডাম  এখোনো বিয়ে করেনি ৷

রিয়াঃ না এখনো বিয়ে করেনি কেন বলোতো ৷

আমিঃ না এমনি কিছুনা চল তোকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে আমি একটু কাজে যাব  ৷

তারপর আমি রিয়া কে কলেজে নামাতে যেই বাইক থামালাম  তখন দেখি রিমি আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ রিমি হয়ত আমাকে কিছুটা চিনতে পারছে ৷ রিন্তু সাহস করে কাউকে বলতে পারছেনা ৷

 আমি রিয়া কে নামিয়ে দিয়ে আমার কাজে চলে আসলাম ৷  তারপর কাজ শেষ করে আমি দুপুরে আবার রিয়ার কলেজে চলে আসলাম ৷ এসে দেখি রিয়া কলেজের গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে ৷

আমিঃ আপু চল আমরা ক্যান্টিনে গিয়ে বসি ৷

রিয়াঃ হুমমম চল ভাইয়া ৷

আমরা দুই ভাইবোন ক্যান্টিনে একটা টেবিলে বসলাম ৷ কিছু খাবার অর্ডার  করলাম  ৷ কিছুক্ষন পর দেখি রিমি ক্যন্টিনে আসছে ৷  আর আমাদের সামনের টেবিলে বসে পড়ল ৷

আমি রিমি কে দেখে খাবার না খেয়ে রিয়ার হাত ধরে টানতে টানতে  কলেজের বাইরে চলে আসলাম ৷ তারপর রিয়া বাইকে উঠিয়ে চলে আসলাম আমাদের গ্রামে ৷

আমার মাথায় হেলমেট ছিল সে কারনে হয়ত আমাকে কেউ চিনতে পারিনি ৷ আমি রিয়া কে আমাদের বাসার পাশে নামিয়ে দিয়ে চলে আসলাম ৷

রাস্তায় আবার রিমির সাথে দেখা আমরা যেহেতু সবাই একই এলাকাই থাকি তাই আমাদের যাওয়া আসার রাস্তা টা সব এক ৷

আমি রিমির পাশ কাটিয়ে চলে আসলাম ৷ দেখি রিমি আমারদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ যতদূড় আমাকে দেখতে পাইছে ততক্ষন তাকিয়ে  থাকে ৷ 

এভাবে সারাদিন কেটে গেল বিকালে আমি শাকিল আমার বন্ধুকে ফোন করে থানায় আসতে বললাম ৷

আমিঃ আচ্ছা দোস্ত রিমির ভাই সোহেল এখন কি করে ৷

শাকিলঃ সোহেল তো আর দেশে থাকেনা তুই চলে যাওয়ার কিছুদিন পর সেও বিদেশে চলে যায় ৷ আর কোনদিন আসেনি দেশে ৷

তারপর শাকিলের সাথে আরো কিছু কথা বলে  শাকিল কে বাসাই চলে যেতে বললাম  ৷ তারপর আমার কাজ শেষ করে আমি আমার কোয়াটারে চলে আসলাম ৷

হঠাং করে আমার ফোন বেজে উঠল ৷ ফোন হাতে নিয়ে দেখি শাকিল ফোন দিছে ৷

আমিঃ হুমমম দোস্ত বল কি কারনে ফোন দিলি ৷

শাকিলঃ একটা ঝামেলা হয়ে গেছে দোস্ত প্লিজ আমাকে মাপ করে দে ৷ আমি বলতে চাইনি কিন্তু এমন ভাবে কান্না কাটি করল আর জোর করল না বলে থাকতে পারলাম না ৷

আমিঃ আচ্ছা কি হয়েছে বলবিতো ৷

শাকিলঃ আমি তোর সাথে কথা বলে আসছিলাম ৷ তখন রিমি তাদের বাসার সামনে থেকে আমাকে ধরল ৷ আর বলল সেদিন তোর যাথে বাইকে একটা ছেলেকে দেখলাম আবার প্রতিদিন রিয়ার সাথে দেখি কে ওই ছেলেটা ৷

শাকিলঃ না আমি চিনিনা তাকে এমনি আমার বন্ধু হয় ৷

রিমিঃ না তুমি মিথ্যা বলছিস ওর চেহারা টা খুব পরিচিত মনে হয় ৷ কিন্তু ঠিক ভাবে চিনতে পারছিনা ৷

তারপর আত্তহত্যা করার হুমকি দেয় ৷ তাই বলে দিয়েছি যে ওটা মেহেদী ৷

শাকিলঃ প্লিজ দোস্ত আমাকে মাপ করে দে তোর কথা আমি রাখতে পারলাম না ৷

আমিঃ আরে ধুড় শালা মাপ চাচ্ছিস কেন কোন একদিন তো জেনেই যাবে ৷ কিন্তু একটু আগে চিনল সমস্যা নেই ৷

শাকিলঃ তুই সাবধানে থাকিস কিন্তু  রিমি কে আমার একটু বিশ্বাস হয় না আবার কি মিথ্যা বলে তোকে ফাসিয়ে দিবে ৷

আমিঃ চিন্তা করিস না দোস্ত আমাকে আর কিছু করতে পারবেনা ৷ যা করার এখন থেকে আমি করব ৷

তারপর ফোন  রেখে দিলাম আর ভাবতে থাকলাম কাল সকালে কি হতে চলেছে ৷

আমি কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইক নিয়ে  চলে আসলাম রিয়ার কলেজে সামনে ৷

কিছুক্ষন পর  রিয়া আসলো  ৷

রিয়াঃ ভাইয়া জান কাল কি হয়েছে ৷ কাল রিমি  আমাদের এলাকায় এসেছিল  ৷ আর আমার সাথে দেখা করেছিল ৷

আমিঃ হুমমম তারপর কি বলল রিমি ৷

রিয়াঃ তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিল ৷ বলেছিল প্রতিদিন তোকে বাড়ি নামিয়ে দিয়ে যাই কে ওই ছেলেটা ৷

আমিঃ তুই কি বললি ৷

রিয়াঃ আমি কিছু বলিনি অপমান করে তাড়িয়ে দিছি ৷ আর রিমি কান্না করতে করতে  চলে গিয়েছিল ৷   

আমিঃ রিমি আমার ব্যপারে সব জেনে গেছে ৷ শাকিল সব বলে দিয়েছে ৷ 

তখন হঠাং করে  পিছন থেকে টান দিয়ে কেউ আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে  ৷

আমি নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছি কিন্তু পারছিনা ৷  তারপর জোর করে ছাড়িয়ে দেখি রিমি কান্না করছে আর আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে ৷

কি ব্যাপার আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন কেন  ৷ আর কে আপনি যে কোন কথা নাই বলা নাই সোজা এসে জড়িয়ে ধরেছেন ৷ 

রিমিঃ মেহেদী তুমি আমাকে চিনতে পারছোনা ৷ আমি রিমি তোমার রিমি ৷ যাকে তুমি দেখার জন্য প্রতিদিন আমাদের বাড়ির সামনে দাড়িয়ে থাকতে ৷ যাকে তুমি পাগলের মত ভালবাসতে ৷ আমি তোমার সেই রিমি ৷ কোথাই ছিলে তুমি এতদিন ৷ তুমি জান তোমাকে আমি কত খুজেছি ৷ আমিও যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি ৷ 【চিৎকার করে কান্না করে বলল】

আমিঃ আমি কোন রিমি কে চিনিনা ৷ আর আপনি যে মেহেদী কে চিনতেন সে আর নেই ৷ সে মারা গেছে আজ 11 বছর আগে ৷ আর কি বললেন প্রতিদিন দাড়িয়ে থাকতাম আপনাকে দেখার জন্য ৷

হুমমমমম দাড়িয়ে থাকতাম আমার প্রিয় মানুষ টাকে একনজর দেখার জন্য ৷ কিন্তু তার মন টা খুব খারাফ ছিল ৷ সে শুধু টাকাপয়সা চিনতো ৷ গরিব বড়লোকোর মধ্যে ভেদাভেদ রাখতো ৷ আর আমি তো একটা ছোটলোক লুইচ্চা ক্ষ্যাত আপনি আমাকে কেন জড়িয়ে ধরেছেন ৷

রিমিঃ প্লিজ মেহেদী আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও তুমি চলে যাওযার পর প্রতিটা রাত আমার নির্ঘুমে কাটিয়েছি ৷ প্রতিটা রাত কান্না করে বালিশ ভিজাইছি ৷ তুমি চলে যাওযার পর তোমাকে অনেক খুজেছি তুমি বিশ্বাস কর ৷ আজো তোমার জন্য আমি অপেক্ষা করছি ৷ 【কান্না করে বলল】

রিয়াঃ এই আপনার সমস্যা কি হুমমম দেখছেন না আমার ভাইয়া আগের সবকিছু ভুলে গেছে ৷ আর আপনার জন্যা আমি আমার ভাইয়াকে 11 বছর দূরে ছিল ৷ আপনি আবার কি করতে আসছেন আমাদের মাঝে  ৷ আমার ভাইকে আবার আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে আসছেন ৷ আর কোনদিন যেন আমার ভাইয়ার আশে পাশে না দেখি ৷ যত্তসব ফালতু মেয়ে ৷

তারপর রিয়া  আমার হাত ধরে টানতে টানতে ওখান থেকে নিয়ে চলে আসলো

......................চলবে................
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label