নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্পঃ অবহেলিত জীবন 【সিজন 2】 লেখকঃ মেহেদী হাসান পর্বঃ 8

গল্পঃ অবহেলিত জীবন 【সিজন 2】

লেখকঃ মেহেদী হাসান

পর্বঃ 8

তুই আমাকে কি বলেছিলি রাস্তার কুকুর তাই না ৷ এখন নিজের কাছে প্রশ্ন কর  রাস্তার কুকুর কে ৷  তোর সাথে কথা বলতেও আমার ঘৃনা হচ্ছে ৷  এর থেকে তুই  পতিতালয়ে যা  তোর যা রুপ তা দিয়ে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবি  ৷  তুই একটা পতিতা  আর কোন পতিতা আমাকে  স্পর্শ করতে পারেনা ৷  আর আমার সামনে কোনদিন আসবি না  ৷ আর কোনদিন আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করবি না  ৷ 【রেগে চিৎকার করে】

তাই বলে  সেখান থেকে চলে আসলাম ৷ আর মিম সেখানে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে ৷

কিছুদুর আসার পর 

রিমি তুমি একটু এখানে দাড়াও আমি আসছি ৷ তাই বলে আবার মিমের দিকে আসতে লাগলাম ৷  মিম আমার আসা দেখে  চোখ থেকে পানি মুছে নিল ৷  আমি মিমের কাছে এসে  কোন কথা না বলে ৷

ঠাসসসসসসসসসসয,  ঠাসসসসসসসসসসসসস

শরীরের  সব শক্তি দিয়ে দুই টা চড় মারলাম ৷ আর মিম মাটিতে পড়ে গেল ৷ তারপর আমি ওখানে থেকে চলে আসলাম  রিমি কে নিয়ে  ৷

পরের দুইটা চড় মারলাম  মিমের উপর প্রচুর রাগের কারনে ৷ কারন সে ছেলেদের মন নিয়ে খেলা করে ৷ তাদের টাকার জন্য তাদের যাথে প্রেমের অভিনয় করে পরে চাহিদা মিটে গেলে তাকে ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে  নিয়ে খেলা করে ৷

দুজন রিক্সাই বসে আছি রিমি আমার হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে কোন কথা বলছেনা ৷ চুপ করে আমার হাত ধরে আছে  আর রিমির মুখে ভয়ের ছাপ দেখতে পারছি ৷

আমিঃ এই পাগলি বৌ আমার কথা বলছনা  কেন ৷ হঠাং করে চুপ হয়ে গেলে কেন ৷

রিমিঃ না এমনি কোন কারন নেই চল বাসাই যাব ৷

আমিঃ আরে কিহয়েছে বলবে তো  আমাকে ৷

রিমিঃ আমি মনে হয় তোমাকে হারিয়ে ফেলব  খুব ভয় করছে আমার ৷  তুমি যদি আবার মিমের মিষ্টি কথাই ভুলে যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাও  ৷【 আমার কাছে এসে মলিন সুরে বলল】

আমিঃ পাগলি একটা  এত ভালবাস কেন আমাকে ৷ তোমার ভালবাসা ছেড়ে কোথাও যাব না পাগলি  ৷ কারন তোমাকেও যে আমি অনেক ভালবাসি ৷ আর কেউ ধোকা দিলে কেমন কষ্ট হয় তা আমি জানি ৷ তাই জেনে শুনে কাউকে কষ্ট দিই কীভাবে বল ৷

তারপর আমরা দুজনে  বাসাই চলে আসলাম  ৷  রিমির এখনো মন খারাফ ৷ কি নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকছে ৷  রাতের খাবারের সময় এমন মন খারাফ করে  খাবার খেয়েছে ৷ কারো সাথে কোন কথা বলিনি ৷

আসলে কেউ যদি আপনাকে সত্যিকারের ভালবাসে  তাকে হারানোর ভয় সবসময় পাই ৷ যদি কোন ছোট ভুলের কারনে তার প্রিয় মানুষ কে হারিয়ে ফেলে  তাই সবসময় চিন্তা আর ভয় ডুকে থাকে মনে ৷

এখন রিমি কে আমার ভয় ভাঙাতে হবে ৷ আর মন থেকে চিন্তা টা সরাতে হবে ৷ আমি খাবার খেয়ে সোজা রুমে চলে আসলাম ৷  এসে দেখি রুমের লাইট অফ ৷ আমি লাইট জালালাম ৷ দেখি পাগলি মন খারাফ করে বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় বসে আছে ৷

আমি রিমির কাছে গেলাম ৷ রিমির হাতদুটো আমার হাতের মধ্যে শক্ত করে ধরলাম ৷ এই পাগলি আমার চোখের দিকে তাকাও  ৷  দেখ তোমার  জন্য কত ভালবাসা আমার চোখে ৷ তুমি জাননা রিমি নামে একটা পাগলিকে আমি অনেক ভালবাসি ৷ আর আমি এইটাও জানি ৷ আমার এই পাগলি টাকে ছেড়ে কোথাও যাব না ৷ শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তোমাকে ভালবেসে যাব ৷তুমি শুধু আমাকে বিশ্বাস করবে ৷ আর ভালবাসবে কথা দিচ্ছি কোনদিন কষ্ট দেবনা তোমাকে ৷

রিমি এবার আমাকে জড়িয়ে ধরল আর কান্না করে দিল ৷  আমি ও তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবনা ৷  তুমি এভাবে সারাজীবন এভাবে ভালবাসবে তো ৷

আমিঃ না  তোমাকে সবসময় এত ভালবাসতে পারবনা ৷ আমি আর একজন কেউ ভালবাসব ৷

রিমিঃ কাকে ভালবাসবে 【মুখে হতাশার ছাপ মুখটা মলিন করে বলল】

আমিঃ জিনাত নামে একটা মেয়েকে খুব ভালবাসবো  ৷ তোমার থেকে বেশি ভালবাসবো ৷ 【শয়তানি হাসি দিয়ে】

রিমিঃ  কিহহহহহ জিনাত আবার কে ৷ তুমি শুধু আমাকে ভালবাসবে ৷ আমি তোমার ভাগ কারো দিতে পারবনা ৷ আর যদি অন্যকাউকে ভালবাসতে চাও তাহলে আগে আমাকে নিজের হাতে খুন করে অন্য মেয়েকে ভালবাসবে ৷ 【ছলছল চোখে বলল】

আমিঃ আরে পাগলি জিনাত হল  আমাদের মেয়ের নাম ৷ আমাদের মেয়ে হলে  তার নাম জিনাত রাখবো ৷ তো তখন তাকে ভালবাসব না ৷

রিমিঃ শয়তান ছেলে দাড়া আমাকে কষ্ট দিতে খুব মজা পাও তাই না  ৷ কুত্তা হনুমান, বান্দর, সাদা হনুমান, হাতি, বন বিড়াল,

আমিঃ বাবাহহহহহহ এত গালি হজম করতে পারব তো ৷ তোমাকে কিন্ত এই  অবস্থায় একদম ভাল লাগছেনা ৷  তোমাকে সবসময় হাসিখুশি মুখে ভাল লাগে ৷

রিমিঃ তুমি মন খারাফ করেছো এখন তুমি আমার মন ভাল করবে ৷

আমিঃ ওকে মহারানী তোমার কথায় ধার্য করা হবে ৷

আমি রিমি কে কাছে টেনে নিয়ে আস্তে বললাম  চল আমরা দুজন মিলে জিনাত কে পৃথিবীতে আনার ব্যবস্থা করি ৷ 

যা দুষ্টু  আমার বুঝি লজ্জা করেনা ৷  সবসময় ফাজলামি না ৷

রিমি কে আর কোন কথা বলতে নাদিয়ে রিমির ঠোটের সাথে আমার ঠোট মিশিয়ে দিলাম ৷  তারপর রিমি কে নিচে ফেলে  তার মাথাটা শক্ত করে ধরে তার ঠোট চুষে যাচ্ছি ৷ আর রিমি আমার মাথার চুল শক্ত করে ধরে আছে ৷

আরে ভাই পরের পার্সোনাল জিনিস শুনতে নেই ৷  আপনার একটু  চোখ টা বন্ধ করেন  ৷  আমরা জিনাত আনার মিশনে  নেমেছি  ৷ 

সকালে  ঘুম ভাঙল কানে  প্রচন্ড  ব্যথা অনুভবে ৷ চোখে মেলে দেখি রিমি আমার শরীরের উপর শুয়ে আমার সাথে দুষ্টামি করছে ৷ আমার কান  কামড়ে ধরেছে ৷  এবার আমি রিমি কে নিচে ফেলে রিমির উপরে উঠলাম ৷

এবার কোথায় যাবে হুমমমম তুমি আমার কান কামড়ে ধরছো ৷ তোমার শাস্তি হিসাবে তিন মিনিট তোমার ঠোট কামড়ে ধরব ৷

রিমি কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে  আবার ঠোট চুষতে লাগলাম  ৷  তারপর রিমি কে ছেড়ে দিলাম ৷

এই রিমি  আমার শরীরে জামা কাপড় কই গেল ৷  একি তোমার শরীরে ও তো কোন কাপড় নেই ৷ 

রিমিঃ  কাল রাতে যা করছো  আমাদের কাপড় গুলো মোমবাতি জ্বালিয়ে খুজতে হবে  ৷ 

আমিঃ তাই তাহলে  এখনো  আর একটা ম্যাচ হয়ে যাক ৷

রিমিঃ যা ফাজিল বর আমার  অনেক বেলা হয়ে গেছে  ৷ এখন ফ্রেশ হতে যাব ৷ তারপর রিমি ওয়াশরুমে চলে গেল ৷ তারপর আমি ফ্রেশ হয়ে নিচে নাস্তা করতে গেলাম  ৷

নাস্তা করে  অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি  তখন রিমি আসলো আর আমাকে টাই পড়িয়ে দিতে লাগলো ৷ আর আমি রিমির কোমার জড়িয়ে আমার কাছে টেনে নিলাম ৷

আমিঃ আজ আমার আসতে মনে হয় একটু দেড়ি হতে পারে ৷

রিমিঃ কেন দেড়ি হবে কেন ৷

আমিঃ অফিস করে একটু উকিলের  কাছে যাব  আমার আর মিমের ডিভোর্সের ব্যাপারে ৷ আমি কোন রিক্স নিতে চাই না ৷ যত তাড়াতাড়ি পারি ওই ফালতু মেয়েকে সরিয়ে দিতে হবে ৷ নইলে পরে ঝামেলা করতে পারে ৷

ঠিক আছে দেখেশুনে যাবে আর অফসে গিয়ে ফোন দিবে ৷ লাস্ন টাইমে ফোন দিবে ৷ যদি একটু উল্টা পাল্টা হয় তাহলে  তোমার খবর আছে বলে দিলাম ৷ আর কোন মেয়ের দিকে তাকাবেনা খবর দার ৷

ঠিক আছে  মিষ্টি বৌ আমার  তোমার কথাই রইল ৷ তাই বলে অফিসে চলে আসলাম  আর নিজের কাজ করতে লাগলাম ৷ দুপুরে রিমি কে ফোন দিয়ে খাবার খেয়ে নিতে বললাম  ৷

অফিস শেষে  চলে গেলাম উকিলের কাছে ৷ ডিভোর্সের কাগজ বের হতে  এক সপ্তাহ লাগবে ৷ তারপর  রিমির জন্য ফুসকা আর আইসক্রিম নিলাম ৷ পাগলি এসব পেয়ে খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরে একটা পাপ্পি দিছে ৷ 

তারপর রাতে খাবার খেয়ে পাগলিটাকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম ৷

এভাবে  দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ পার হয়ে গেল ৷ আমি ডিভোর্সে পেপার সাইন করে  মিমদের বাসাই কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দিছি ৷ 

রিমিঃ ডিভোর্স পেপা পাঠিয়ে দিছো  ৷

আমিঃ হুমমমম সাইন করে  পাঠিয়ে দিছি ৷ এর পর থেকে আমাদের মাঝে আর কেউ আসতে পারবেনা ৷

রিমিঃ  হুমমম  এখন ঘুমাও  কাল সকালে আবার অফিস রয়েছে তোমার ৷ 

তারপর রিমির কপালে  একটা কিস করে বুকে জড়িয়ে  ঘুমিয়ে পড়লাম ৷ সকালে  ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে গেলাম ৷

সবাই নাস্তার টেবিলে বসে আছি আর তখনি কলিং বেল বেজে উঠল ৷  মা গিয়ে দড়জা খুলে দিল ৷

আর যারা এসেছে তাদের দেখে  আমার নাস্তা খাওয়া বন্ধ হয় গেল  ৷ বেশ অবাক হলাম  তাদের দেখে ৷

.....................চলবে .................
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label