নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প হঠাৎ বিয়ে

#হঠাৎ বিয়ে
লেখকঃ কি জাদু তুর মুখে
পর্বঃ১

কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে ছাডেন বলছি (মিতু)

দেখেন ম্যাডাম আমাদের উপর ওডার আছে আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্লীজ চোপ করুন (অচেনা একটি ছেলে)

ছাডেন বলছি
আমার মুখটা বেধে পেলে আমাকে নিয়ে আসছে একটা কাজী অফিসের সামনে।
আমি একটা বেঞ্চে বসে আছি কথা গুলো ভাবছি। এমন সময় টেবিলে থাপ্পড় মারল একটা ছেলে।যারা আমাকে তুলে এনেছে তারা চারপাশে দাঁডিয়ে আছে। আর আমার সামনে যে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে দেখতে পুরো হিরোর মতো।
লম্বা ৬পিট সিক্স প্যাক বডি একটা কালো সোট পরা কালো সানগ্লাস চোল গুলো স্টাইল করা পুরো ক্রাশ।
আমিতো ক্রাশ খেয়ে ফেলছি।
কি ভাবছি এগুলো আমাকে কেন তুলে আনছে এই ছেলে সেটা জানতে হবে(মিতু)

হঠাৎ তুরি বাজানোর শব্দে বাস্তবে আসলাম।

কি হলো হ্যা করে তাকিয়ে আছো কেন হুম কি ভাবছো এত (ছেলেটি)

আপনি আমাকে এখানে কেন তুলে আনছেন (আমি)
বিয়ে করার জন্য(ছেলে টি)

কিইইইইইইইইই
ফাজলামো পাইছেন আপনি বিয়ে করবেন
 আমাকে তুলে আনছেন কেন বিয়ে করেন
আর আপনি কে বলুন তো???

আমি মাহিন।
মাহিন চৌধুরী বাকিটা বিয়ের পর জেনে নিও এই নাও (গম্ভীর গলায় একটা কাগজ এগিয়ে দিয়ে)

এটা কিসের কাগজ আমি কি করবো??

সাইন করো এটা আমাদের বিয়ের কাবিন কাগজ।

কিইইই
এইবার মাতা গরম হয়ে গেলো তাই কাগজটা টানদিয়ে ছিরে পেল লাম আর রাগে বললাম ফাজলামো পাইছেন হ্যা আমি আপনাকে কেন বিয়ে করবো।

না আমি আপনাকে চিনি না জানি কেন আপনাকে হঠাৎ বিয়ে করবো কেন আমাকে তুলে আনছেন আপনি????

দেখো ভালো ভাল বলছি সাইন করো না হলে তোমার আব্বুর অনেক বড ক্ষতি হয়ে যাবে
বলেই হাতে একটা ফোন নিয়ে আমাকে একটা ভিডিও দেখালো
যেটাতে আব্বুকে দেখা যাচ্ছে।

আব্বু অফিস থেকে বের হচ্ছে তার পিছনে একটা লোক যার হাতে রিভারবার।

আমি ভয় পেয়ে গেলাম কারণ আমার আব্বু ছাড়া আপন বলতে কেউ নাই।
আম্মু মারা গেছেন আরো ৪বছর আগে
তাই বললাম
প্লীজ আমার আব্বুর কিছু করবেন না বলেন কোথায় সাইন করতে হবে(কান্না করতে করতে)

ওকে গোড গার্ল (মাহিন)
তারপর আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো।
আমি কান্না করছি চেনা নাই জানা নাই একটা ছেলে কে বিয়ে করে ফেললাম।
কি হচ্ছে আমার সাথে এগুলো।
আম্মু তুমি কেন আমাকে ছেড়ে চলে গেলা।

এতদিন ওই ডাইনি রাক্ষসি মহিলার জন্য শান্তিতে তাকতে পারতাম না আজ যখন বাসা থেকে চলে আসলাম তখন এই ছেলে তুলে এনে বিয়ে করলো কি হচ্ছে আমার সাথে এগুলো 😌😌😌😌
কেন হচ্ছে এমন 😌😌
বিয়ে করবো না বলে বাসা থেকে চলে আসলাম আর এখন কি হলো।
আম্মু কেন তুমি আমাকে নিয়ে গেলা না কান্না করছি আর মনে মনে ভাবছি 😥😥😥😥😥

চলবে

(বি: দ্র: ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন)
Share:

গল্প💖ডেজ্ঞারাস খালাতো_বোন পার্ট_৮

গল্প💖ডেজ্ঞারাস খালাতো_বোন
লেখক💖ইরফাত হোসেন  ইমন।
#পার্ট_৮

আমাকে বলে ছিলি তোর সাথে দুই মাস সংসার করলে তোর প্রেমে পড়বো? দেখলি আমি তোর প্রেমে পড়িনি বরং তোকে সবার সামনে খারাপ ছেলে হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। আমাকে থাপ্পড় দেওয়ার পরিনাম কি হয় আজ তাহলে বুঝতে পারছিস? (মীম)

আমি:- তোমাকে তো আমি একটা থাপ্পড় দিয়েছি এমন সময় হবে যা এই থাপ্পড়টা আবার ফিরে পাবে এক সাথে অনেক গুলা। যাক তুমি যা করেছো তা ভালোই করেছো আমি চলে যেতেছি।

মীম:- হ্যা তা তো তোর যেতে হবেই। আর তুই থাকতে চাইলেও আজকে তোকে থাকতে দিবে না।

আমি:- আমার থাকার ইচ্ছে নেই তোমার সাথে কারন আমি তোমার মত মেয়েকে জীবন সাথী হিসাবে চাইনা।

মীম:- আর তোর মত ছেলে কে আমি আমার বর হিসাবে চাইনা। তুই এখুনি আমাদের বাসা ছেড়ে চলে যা বলছি।

আমি:- হ্যা যাচ্ছি, দেখি সরো মীমকে ধাক্কা দিয়ে আমি দরজা খুলে বেরিয়ে আসবো এমনি পেছন থেকে আমার ব্যাগ টেনে ধরছে চেয়ে দেখি খালাম্মা।

খালাম্মা:- দাড়া আমার কিছু কথা আছে তোর সাথে তারপর তুই যাবি।

মীম:- আম্মু তুমি ওকে যেতে দাও ওর সাথে কোন কথা বলতে হবে না।

খালম্মা:- মীম তুই চুপ থাক আমার ইমনের  সাথে কিছু কথা আছে। আয় ইমন বলে আমার হাত ধরে টেনে রুমে নিয়ে এসে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে ভীতরে আম্মু ছিলো আগে।

আম্মু:- তুই সত্যি করে বলতো কাহিনি কি?

আমি:- কাহিনি কিছুনা আমি মীমের সাথে সংসার করতে পারবো না।

খালাম্মা:- তুই আমার গা ছুয়ে বল যে তুই মীমকে ভালোবাসিস না। যদি বলতে পারিস তাহলে কালকে তোদের ডির্ভোসের এপলিকেশন করিয়ে দিব।

আমি:- মুখে বললে হয়না এখানে গা ছুয়ার কি আছে?

আম্মু:- তোর তো খালাম্মা হয় মিথ্যা কথা বললে ওনার ক্ষতি হবে তাতে তোর কি বল গা ছুয়ে।

আমি:- একার পক্ষে কারো সাথে সংসার করা যায়না তাই বলিকি আম্মু এখানে সমাপ্তি দাও আমাদের দুজনের বিবাহ জীবন।

খালাম্মা:- আমাদের যেইটা বুঝার ছিলো আমরা দুই বোন সেইটা বুঝে গেছি। এখন তোর ইচ্ছা তুই আমাদের দু বোনের স্বপ্ন পুরুণ করবি নাকী ভেঙে দিবি। ইমন এখানে একটা খাম তোদের হানিমুনের টিকিট  রাখা আছে। আমি চাই মীম তোর সাথে সারা জীবন সংসার করুক।

আমি:- কিন্তু খালামনি মীম কি রাজি হবে এত কিছুর পর?

খালাম্মা:- রাজি করাবার দ্বায়িত্ব আমার তুই শুধু একবার আমার সামনে মীমকে সরি বলে দিবি।

আমি:- (সরি বলবো আমি কোন দোষ না করে ঠিক আছে এখন সময়টা ওর যা খুসি করে নেক। আমার সময়টা আসুক তখন সব কিছুর প্রতিশুধ ভালো করে নেব।) ঠিক আছে তাই হবে।

আম্মু:- আমাকে ক্ষমা করে দিস বাবা আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। আমরা তিনজন রুম থেকে বের হয়েছি সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। মীম তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি কাছে গিয়ে মীমকে সরি বলেছি মীম আমার ভূল হয়েছে আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ।

মীম:- তোকে আমি ক্ষমা করবো না।

খালাম্মা:- দেখ মীম ও যেহেতু ভূল বুঝতে পারছে তাহলে ওকে ক্ষমা করে দেওয়া ভালো হবে। আর আজ রাতে তো আমাদের বিবাহ বার্ষিকী তাই এখন কথা কম বলে সব কিছুর আয়োজন করতে হবে।

মীম:- কিন্তু আম্মু?

খালাম্মা:- কোন কিন্তু নয়,ইমন মীমকে নিয়ে রুমে যা।

আমি:- জ্বি খালামনি বলে মীমের হাত ধরে সোজা রুমে নিয়ে এসেছি।

মীম:- তোর সাহোস দেখে বাচিনা ছাড় বলছি আমার হাত। মীম এক টান মেরে আমার হাতটা ছারিয়ে নিয়ে আমাকে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলে এর পর যদি কোন দিন আমার হাত ধরিস তাহলে তোর খবর আছে বলে দিলাম।

আমি:- এই তুই আমার কি খবর করবি বলে আমিও মীমকে একটা ঠাসসস করে থাপ্পড় দিয়েছি। মীম গালে হাত দিয়ে খাটের উপর শুয়ে পড়েছে। এই শুন তুই আমার প্রেমে পড়বি মাত্র ৪৫ দিনে সবার সামনে রাস্থায় দাঁড়িয়ে দু হাত জোর করে আমার কাছে ক্ষমা চাইবি তোকে আমার জীবনে নেওয়ার জন্য। তখন আমি ভেবে দেখবো যে তোকে আমার জীবন সাথী হিসাবে নিব কিনা?

মীম:- আর আমি যদি তোর প্রেমে না পড়ি তাহলে তুই আমার পায়ে হাত দিয়ে ধরে সবার সামনে ডির্ভোসের কাগজে সাইন করে ক্ষমা চেয়ে যাবি।

আমি:- ঠিক আছে আমি রাজি আছি মনে থাকে যেন?

মীম:- হ্যা মনে তো থাকবেই।

আমি:- ভালো করে রেখো, এই কথা বলে আমি ফ্রেস হতে চলে গেছি কিছুক্ষণ পর রুমে এসে দেখি মীম শুয়ে আছে তবে ওর ঠোট কেটে রক্ত পড়তেছে। আমি কাছে গিয়ে ড্রয়ার থেকে তুলা আর কিছু মেডিসিন নিয়ে ওর পাশে বসেছি। ও চোখ বুঝে শুয়ে আছে আমি কাছে গিয়ে যখনি ওর রক্ত মুছে দিতেছি তখনি,,,

মীম:- খবরদার আমার গায়ে টাচ্ করবি না।

আমি:- ৪৫দিন টাচ্ করবো কারন এই কিছুদিন আমরা স্বামি স্ত্রী।

মীম:- ভালো হবে না কিন্তু বলে দিলাম।

আমি:- তুমি একটু চুপ করে বসো তাহলে কাজটা করতে আমার জন্য সুবিদার হবে। মীম আমাকে দিবেইনা করতে।

মীম:- বুঝতে পারছি আমাকে কেয়ার করা হচ্ছে যাতে করে তোর প্রেমে পড়ি। কোন লাভ হবে না কোন দিন তোর প্রেমে পড়বোনা।

আমি:- কথা কম বলবে নাকী খালামনিকে ডাক দিবো?

মীম:- দে আমি ভয় পায় নাকী?

আমি:- ঠিক আছে দিতেছি খালাম্মা বলে ডাক দিয়েছি তখনি মীম আমার মুখ চেপে ধরেছে আর আমি মীমের হাত ধরে কত গুলা কিস করে দিয়েছি। মীমম হাত টান দিয়ে নিয়ে গেছে। কি মেডিসিন লাগাতে দিবে নাকী?

মীম:- বুঝতে পারছি ব্লাক মেইল করছো?

আমি:- মনে করো তাই,
 মীম বসে আছে আমি মীমের ঠোটে মেডিসিন লাগিয়ে দিয়েছি। মীম চেয়ে আছে আমার দিকে তবে আজকে প্রথম মীমের চাওয়াটা একটু ভালোবাসার চাওয়া মনে হলো। সরি আপু!

মীম:- সরি কেন?

আমি:- ঐ থাপ্পড়টা দেওয়ার জন্য। তখনি মীম বলে,,,

মীম:- আমি আজকে রাজিবকে আর আমাদের অফিস কলিকদের দাওয়াত দিয়েছি। আম্মু যদি কিছু জিগেস করে তাহলে তুমি বলো যে ওরা তোমার পরিচিত।

আমি:- ঠিক আছে তাই হবে, চলো এখন বাহিরে যাই আচ্ছা একটা কথা বলি?

মীম:- কি কথা?
এখন থেকে নিয়মিত গল্প পাবেন।সবাই ফলোয়িন করে সাথে থাকবেন।
আমি:- রাজীবকে কি আপনি অনেক ভালোবাসেন?

মীম:- হ্যা অনেক ভালোবাসি যা তোমাকে বলে বুঝাতে পারবো না। আমি রাজীবের যায়গাটা কাওকে দিতে পারবো না।

আমি:- মীম দেখ তুমি একদিন তোমার স্বপ্ন পুরুণ করতে পারবে। আর তোমার সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষের কাছে। আচ্ছা এখন চলো সবাই অপেক্ষা করতেছে। আমি মীমকে নিয়ে বাহিরে এসেছি।

খালু:- সব কিছুর ব্যাবস্থা হয়ে গেছে আর রাতে অনুষ্টান তাই কিছু অতিথি আসবে। অনুষ্টান হবে কমিউনিটি সেন্টারে সবাই রেডি হয়ে নাও গিয়ে। আমরা কিছুক্ষণ পর ঐ খানে চলে যাবো। আর একটা কথা?

আব্বু:- কি কথা?

খালু:- আজকে সবাই পাঞ্জাবি পড়বে আর মেয়েরা শাড়ি পড়ে আসবে। তাই আমাদের বাসার সবাই কিন্তু শাড়ি পড়ে যাইবে।

মীম:- কিন্তু আমি তো শাড়ি পড়তে পারিনা।

আম্মু:- আমি পড়িয়ে দিতাম তবে আমার কাজ আছে।

খালাম্মা:- হ্যা তোর নিজের সাজগুজ করবি কখন আবার মীমকে শাড়ি পড়াবি।
এই চলেন সবাই যার যেমনে চলে গেছে আমি দাঁড়িয়ে আছি তখনি মীম বলে,,,

মীম:- আইডিয়া আমি পার্লারে ফোন করে একজনকে ডেকে আনি তাহলে তো হবে।

আমি:- (এত কষ্ট করার কি আছে আমাকে বললে হয় আমি পড়িয়ে দেয়। মনে মনে বললাম)
ঠিক আছে তাহলে তাই করো আমি একটু নিচ থেকে ঘুরে আসি। মীম চলে গেছে আমি সোজা নিচে এসে বসে আছি। প্রায় ২০ মিনিট পড় দেখে রিক্সায় করে একটা মেয়ে এসেছে।

মেয়ে:- ভাইয়া এই ফ্লাটে কি মীম নামে কোন মেয়ে থাকে?

আমি:- কেন কার কাছে এসেছেন?

মেয়ে:- আমি এসেছি বিউটি পার্লার থেকে ওনাকে শাড়ি পড়াতে।

আমি:- ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন!

মেয়ে:- আসলে তারা হুরা করতে গিয়ে মোবাইলটা ভূলে ফেলে চলে আসছি। আর ১৯ নাকী ২৯ নাম্বার বাড়ী বলছে ঠিক মনে নেই।

আমি:- ও বুঝতে পারছি আসলে এখানে মীম নামে কেও থাকেনা আর এইটা তো ১৯ নাম্বার বাড়ী মনে হয় ২৯ হবে।

মেয়ে:- ধন্যবাদ আপনাকে।

আমি:- স্বাগতম বলে সোজা এক দৌরে বাসায় চলে এসেছি। আমি রুমে গিয়ে দেখি মীম অনেক গুলা শাড়ি নিয়ে বসে আছে। আর মেয়েটিকে ফোন করতেছে আর ওর গুস্টি ওদ্দার করছে। আমার মনে যা আনন্দ লাগছে তা বলে বুঝাতে পারবো না। আমি মীমের কান্ড গুলা দেখে যাচ্ছি চুপ করে। এমনি খালু আমাদের রুমে এসেছে,,

খালু:- কিরে তুই এখনো রেডি হসনি দেরি হয়ে যাচ্ছে তো? এমনি খালাম্মা সহ সবাই রুমে এসেছে। আচ্ছা বাবা ইমন  তুমি মীমকে নিয়ে পড়ে এসো আমরা কমিনিউটি সেন্টারে যাই। তানা হলে সব মেহমানরা খারাপ মনে করবে।

আমি:- ঠিক আছে আমি মীমকে নিয়ে আসতেছি খালাম্মারা সবাই চলে গেছে তখনি মীম আমাকে বলে,,

মীম:- ইমন রাজীব সহ সবাই যদি আমাকে অনুষ্টানে না দেখে তাহলে সব গন্ডগোল হয়ে যাবে। আব্বু আম্মুকে যদি রাজীব কিছু বলে দেয় তাহলে আমার তো বারোটা বাজাবে আম্মু। প্লিজ তুমি আমাকে শাড়িটা পড়িয়ে দিবে?

আমি:- হ্যা দিতে পারি তবে আমার কিছু শর্ত আছে। যদি তুমি সেই শর্ত গুলা মেনে নাও তাহলে পড়িয়ে দিতে পারি।

মীম:- আগে শুনি কি তোমার শর্ত?

আমি:- তাহলে শুনো আমার শর্ত গুলি,,,,,

চলবে,,,,,,,
আগের অংশ পড়তে..... আমার আইডিতে যেতে পারেন
Share:

Story::দুষ্টু মেয়ে ও ফাজিল ছেলের ভালোবাসা part::১০

Story::দুষ্টু মেয়ে ও ফাজিল ছেলের ভালোবাসা
part::১০
writing by::#Tarek Ahmed Munna
-----❤💘
আমি::ওকে ডান্স করছি।
সুমি::খেলাতো এখনও শেষ হয়নি জান ৩।
আমি::মানে।
সুমি::আর হ্যা তারেকের সাথে পার্টনার হয়ে আসবে নিতু।
আমি::ওই কি করলা এইটা।ও কি ডান্স পারে নাকি তাও জানিনা আর আমার আর ওর ডান্স কি মিলবে কখনও।
সুমি::কেন?দেখো জান কেমন লাগে আমাকে আর শাওনকে দিয়ে যা করাইলা আমিও তোমাদের দিয়ে তাই করালাম।
আমি::তাই বলে এইটা।
সুমি::হা হা হা হিহিহি
শয়তানি মার্কা হাসি দিয়ে চলে যাচ্ছিলো শাওনের হাত ধরে...
হঠাৎ ঘুরে এসে পাপ্পি দিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেলো।
আমি মাথা নিচু করে আছি ভাবছি মনে হয় অপমানিত হোলাম আজকে সবার কাছে।
হঠাৎ একটা হাত আমার হাত ধরলো।
আমি অবাক হয়ে মাথা উঁচু করে তাকালাম একি এটাতো নিতু।
নিতু::কি হলো সবাই অপেক্ষা করছে চলুন শুরু করি।
আমি::নিতু এটা মজা করার সময় না ডান্স করা লাগবে বুঝলা আর ডান্স সহজ নয় যে মজা করে বললা আর হয়ে গেলো।
নিতু::আমি জানি।চলুন শুরু করি।
আমি::নিতু মজা করোনাতো দাও মাইক্রোফোনটা দাও আমি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নি।
নিতু::মাইক্রোফোন নিয়ে বললো..সুমি আপু আপনি একটু মঞ্চে আসবেন প্লিজ।
সুমি মঞ্চে আসলো।নিতু সুমিকে একটা পাপ্পি দিয়ে বললো..
নিতু::আসলে আমি খুশি হয়ে উনাকে পাপ্পি দিলাম।আমি তারেকের অনেক ডান্স দেখেছি।আর আমার ওর ডান্স খুব ভালো লাগে আমার ও ইচ্ছে ছিলো তারেকের সঙ্গে ডান্স করার।আজকে সুমি আপুর জন্য সেই ইচ্ছেটাও পূর্ণ হচ্ছে।তারপর আরেকটা পাপ্পি দিলো সুমিকে।
আমি ভাবছি এই মেয়ে কি করতে চাচ্ছে।
হঠাৎ নিতু বললো
নিতু::আমি আজকে তারেকের প্রিয় গান কিনা জানিনা তবে আমার প্রিয় গান (পাগলী তোরে রাখবো বড় আদরে)। এই গানে ডান্স করতে চাই।
সবাই আনন্দ শুরু করলো আর চিল্লাচিল্লি শুরু করলো।
আমি শুধু শুনছি আর ভাবছি ও কি করবে আজকে।
নিতু::কি হলো গানটা বাজান।
আমি::হুম বলে অংকুশ এর (ইডিয়ট)মুভির গান :{পাগলী তোরে রাখবো বড় আদরে} গানটি ফাইল থেকে বের করলাম।আর ইমন কে ডাকলাম।
ইমন::হুম বল?
আমি::যা গানটি প্রথম থেকে দিয়ে আয়।
ইমন::ওকে বলে গেলো গান দিতে।
আমি এদিকে ভাবছি কি হবে।
নিতু::কি ভাবছেন পারবোনা।না না পারবো আপনার জন্যে সব পারবো আপনার ফোনে নিউ ফোল্ডারের ভেতর পারসোনাল বলে একটা ফাইল আছে তার মধ্যে আবার ডান্স বলে একটা ফাইল আছে আর সেই ফাইল এর ১৮ নাম্বার গান এটা।
...
আমিতো অবাক হয়ে যাচ্ছি ও সব জানছে কেমন করে..
নিতু::ভাবা পরে এখন আসেন শুরু করি।
আমি::হুম।
গান শুরু হলো আমরা ডান্স করছি।আমি নিতুর ডান্স দেখছি আর অবাক হচ্ছি যে ও হুবুহু ডান্স করছে।আমরা ডান্স করছি সবাই আনন্দ করছে।ডান্স শেষ হলো সবাই করোতালি দিলো আর সবাই বলছে খুব সুন্দর হয়েছে।
আমি::ধন্যবাদ নিতু।
নিতু::কেন ধন্যবাদ কেন?
আমি::আমার সম্মান রক্ষার জন্য।
নিতু::কি যে বলেন এইটা আমার কর্তব্য আপনার সম্মান রক্ষা করার জন্য আমি সব করতে পারি।
আমি::ওকে।আচ্ছা আমি গেলাম।
নিতু::দাঁড়ান।
আমি::বলো।
নিতু::আমাকে পাপ্পি দিলো একটা সবার সামনে।
সবাই হাসাহাসি করতে লাগলো আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে চলে আসলাম আর ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
সব গেষ্ট প্রায় চলে গেছে শুধু আমার বন্ধুরা আর কয়েকজন আছে।
হঠাৎ আম্মু এসে বললো..
আম্মু::তারেক একটা কথা বলি বাবা।
আমি::হুম মা বলো।
আম্মু::শোননা বলছিলাম যে আজকে তো অনেকে আছে তোর আপুরাও আছে আর ভিডিও ক্যামেরাও আছে। তাই আমি বলছিলাম কি আজকে সবাইকে নিয়ে একটু ঘুড়ে আয় আর ভিডিও করে রাখ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
আমি::বুঝেছি। তা এতো ঘুড়িয়ে পেঁচিয়ে না বললেও হতো।
আম্মু::যাও তাহলে ওদেরকে নিয়ে।
আমি::তুমিও চলো আম্মু।
আম্মু::না আমি বাসায় থাকি তোমার আব্বু আসছে তো।
আমি::ওহ্ আচ্ছা আমরা যায় তুমি আর আমার আব্বাজান একটু টাংকি মারো আর প্রেম আলাপ করো।
আম্মু::দাঁড়া ঝাঁড়ু টা আগে আনি হারামি।
আমি::হাহাহা আমি আর নায়(দৌড়ে বাইরে আসলাম)
আমি::শরীফ ভাই চলেন ভিডিও করবেন আজকে সবাই হালকা ঘুইরা আসি।
শরীফ ভাই::আচ্ছা।
মেহেদীকে ফোন দিলাম..
আমি::ওই শালা কুত্তা হারামি ইঁন্দুর বাদুঁড় গাঁধা বলদ কোই তুই।
মেহেদী::তোর বাসার বাইরে মিমকে রেখে আসি।
আমি::না থাকুক ওরে নিয়ে চলে আসো।
মেহেদী::কেন?
আমি::সবাই একসাথে ঘুরতে যাবো শালা বলদা।
মেহেদী::ওকে আসছি।
ওরা আসলো।
আমি::চলো সবাই ঘুরে আসি আর আসার সময় ফুসকা খাবো।
সবাই::ওকে।
আমি::চলো যাওয়া যাক।
আমি,ইমন,মেহেদী,জিম,শিমুল,টুটুল,আর শরীফ ভাই শাওন এই আটজন ছেলে
আর মেয়েরা মনে হয় ১০ জন মতো। যাওয়ার জন্য বের হলাম।
আমি::সবাই কি হেঁটে যাবা নাকি গাড়ি নিবো।
নিতু::সবাই গাড়িতে আটবোনা চলুন হাঁটি সবথেকে ভালো হবে।তাইনা সানজিদা আপু।
সানজিদা আপু::হুম তারেক চল হেঁটে যাই।
আমি::ওকে আপু।
সবাই হাঁটা শুরু করলাম।
নিতু::এই শোনো।
আমি::হুম বলো।
নিতু::মেঘলা আর জিমকে একটু গল্প করার সুযোগ দাও না ওদের ও তো মন আছে তাই না।
আমি::তো আমি কি ওদের মনে তালা লাগাই রাখছি।
নিতু::তা নয় তবে জিম হয়তো ভয় পাচ্ছে।
আমি::কেন?
নিতু::তুমি যদি ওকে রাগ করো আর বকো।
আমি::আরে নাহ্ যাও বলো ওদের কিন্তু দেখবা লিমিট যেন ক্রস না করে।
নিতু::ওকে গো।
আমি::হুম।
জিম আর মেঘলা টাংকি মারতে মারতে যাচ্ছে আর ইমন ও রিতু আর মেহেদী আর শারমিন ও টাংকি মারছে।শুধু আমি দেখছি সবাই কি করে।হঠাৎ নিতু এলো আর আমার হাতটা ধরলো।আমি হাত ছাড়িয়ে দিলাম।
নিতু::কি হলো হাত ছাড়ালে কেন?
আমি::রাস্তার মধ্যে ওসব ফান ভালো লাগেনা।
নিতু::কি বলো ফান করছি না তো ওরা সবাই যে যার মতো প্রেম করছে আর আমরা দেখছি।
আমি::তো কি করবো?
নিতু::চলো আমরাও প্রেম করি।
আমি::সময় নাই সইরা পড়ো আর দূরে গিয়া মরো।
নিতু::কেনো।
আমি::আমার ভালো লাগেনা তাই।
নিতু::আমি কি দেখতে অনেক খারাপ যে আমাকে তোমার ভালো লাগেনা।
আমি::হুম হইছে।
নিতু::আচ্ছা ভালো।তা আমার মধ্যে কি নেই যে তুমি আমাকে ভালোবাসোনা।
আমি::অনেক কিছু নেই বুঝলা অনেক কিছু।(চিৎকার করে বললাম)
সানজিদা আপু::তারেক তুই কি শুরু করলি এইটা রাস্তা তোর বাসা না বুঝলি এটা পাবলিক প্লেস।
আমি::ওহ স্যরি।
আমরা বাইপাসে গেলাম আর অনেক ঘুরলাম তারপর ফুসকা খেয়ে বাসায় চলে আসছি।
হঠাৎ নিতু আবার বললো
নিতু::তারেক সত্যি অনেক ভালোবাসি।
আমি::বললাম তো আমার তোমাকে ভালো লাগেনা।
নিতু::আচ্ছা। তুমি জানো আমার জন্য কতো ছেলে পাগল।
আমি::না জানিনা আর জানার দরকার নেই।
নিতু::দেখবা প্রমাণ করে দিচ্ছি।
আমি::তোমার ইচ্ছা।কেও তাকাবেইনা তোমার দিকে।
হঠাৎ এক বন্ধু ডাকলো আমাকে।
রাফি::কিরে চায়না কি খবর তোর।
আমি::ওই শালা চায়না তো বেশিদিন যায় না।
রাফি:::হাহাহা।
আসলে স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড তো আর সবাই আমাকে চায়না বলে ডাকতো আর রাফি কে মেম্বার বলে ডাকতো।
আমি::ওকে কি খবর তোর।
রাফি::ভালো।এখন কি কাজ করিস তুই।
আমি::এইতো আব্বুর ব্যবসা দেখছি রে।
তোর সানিলিওন এর কি খবর রে
হঠাৎ জিম আসলো দৌড়ে আর বললো...
জিম::এই ভাই নিতু।
আমি::নিতু কি বল।এতো হাপাচ্ছিস কেন?
জিম::নিতু রাস্তার মধ্যে আরগিট আর ওর বন্ধুরা ছিলো তখন গিয়ে প্রোপজ করেছে।তারপর একটু হেসে কথা বলেছে।এখন রাস্তার মধ্যে ওরা নিতুর হাত ধরে টানাটানি করছে।ইমন আর মেহেদী বাঁধা দেওয়াই ওদের কে মেরেছে আর সানজিদা আপুকে ধাক্কা মেরেছে।
আমি::ওই রাফি চলতো(রেগ
ে বললাম)।
আমি আর রাফি দৌড়ে গেলাম।গিয়ে দেখলাম আরাফ নিতুর হাত ধরেছে আর সবাই হাসাহাসি করছে।আর সুমি ও মিমকে দিস্টাব করছে বাকিরা।সানজিদা আপু পরে গেছে হয়তো তাই কপাল কেঁটে গেছে।
আমি::ওই শালা কুত্তারবাচ্চারা।
সবাই থেমে গেলো।আমি আর রাফি গিয়ে ওদেরকে বকলাম আর ইমন ও মেহেদী উঠলো উঠেই বললো আরাফ নিতুর সাথে জোর জবরদস্তি করছিলো আপু বাঁধা দেওয়াই আরমান আপুকে ধাক্কা দিছে।
আমি::ওই শালা বলে থাপ্পর দিলাম আর গলা চেপে ধরলাম।
আরমানের জিহ্বা বের হয়ে গেছে সবাই ভয় পেয়ে গেছে।আপু আমাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।
সানজিদা আপু::তারেক ছার ওকে ভাই।তারেক ও মরে যাবে।প্লিজ ছাড় ওকে।
আমি::চুপ। ওই শালা তুই আমার বোনকে ধাক্কা মারছিস তোরে আজ আমি এক ধাক্কায় উওরে পাঠাই দিবো আমার বোনের রক্ত ঝরাইছিস তুই।
আপু আর সবাই মিলে টানা টানি করে ওকে ছাড়াইলো ও কাশতাছে আর গলা ধরে বসে পড়লো।
আমার রাগ হয়ে আছে আরাফকে থাপ্পড় দিলাম আর বললাম..
আমি::এই শালা তোকে অনেক কিছু দিয়েছিলাম আর অনেকের সাথে পরিচয় করায়ছিলাম। আর তুই ক্ষমতার জন্য আমাকেই এমন দূর করে দিছিস। ওই শালা তুই জানিস তোদের গ্রুপ লিডার কে আমার সাথে লড়তে হলে হাজার বার জন্ম নিতে হবে।এই যে কমিশনার কে দেখে সবাই চুপ তোরা আর এই কমিশনার রাফি আমার বন্ধু। আর ওর থেকে জেনে দেখ আমি কতোটা ডেন্জারাস।
রাফি::ওই চায়না থাম তুই।
আমি::শালা বাদ দে আর পুলিশকে ফোন কর ওদের কে আমি না হলে শেষ করে ফেলবো আজকে।
রাফি::ওই তারেক থাম।
আমি::ওকে।এই শোন ইমন আর মেহেদী কে মারলো তোদের।(ইমন আর মেহেদীকে বললাম)
ওরা::এই দুজন আর আরাফ।
আমি::মার ওই শালারে।
রাস্তার পাশে একটা গাছ ছিলো আমি গাছের ডাল ভেঙ্গে দিলাম আর বললাম মার।
ইমন আর মেহেদী ওদের মারছে।
আমি::শোন আরাফ তোর মতো ছেলেদের আমি ইচ্ছে করলে জায়গাই বসে এই ক্ষমতার বড়াই শেষ করে দিতে পারি।মনে আছে আমাকে মারার প্লান করেছিলি আমি বাসা থেকে বের হতে পারতাম না।তোরা কি ভেবছিলি ভয়ে বের হতাম না। না সব ভুল আমার ভাই জেনে গেছিলো।আর মোয়াজ্জেম ভাই বকেছিলো আর ঝামেলা করতে নিশেধ করেছিলো তাই কিছুই বলি নি।আর তুই সেই ভাইয়ের বোনকে ধাক্কা দিছিস তুই কি জানিস মোয়াজ্জেম ভাই একবার জানলে তোর কি হাল হবে তার শালা বাবু তো ১৪ নং এর মাস্তান বর্তমানে টপ লিডার তাকে বলবে আর তুই রাতের ভোরে হারায় যাবি।
আর যদি আমাকে বল তাহলে তোরে আমি একদম বলে ওর গলা ধরে উঁচু করে ফেলেছি আর ও ছটফট করছে আর গোংগাচ্ছে।
আপু::তারেক ওকে ছাড়।
আমি কোনো কথা শুনছিনা।সবাই মিলে জোর করে ওকে ছাড়ালো।ও পড়ে গেলো নিচে আর কাঁশি দিচ্ছে।
আপু::তারেক এখান থেকে চল।
আমি::এই রাফি যা বাসায় যা কিছু মনে করিস না।
আপু আমাকে নিয়ে যাচ্ছে।
আরাফ::কাজটা ঠিক হলোনা।
আমি শুনে দৌড়ে এসে মারলাম এক লাথি আর বললাম
আমি::ওই কুত্তা কি ঠিক করেছি আর কি না করেছি দেখবি।(কলার ধরে)বলে এক ঝাকি মেরে দিয়ে চলে আসলাম।
বাসায় আসার সময় নিতুর হাত ধরে টানতে টানতে আসলাম।সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আপু বারবার বলছে তারেক নিতুর হাতে লাগছে ছাড়।আমি কোনো কথা না শুনে বাসার মধ্যে ঢুকলাম আর ঢুকেই।
আমি::ঠাস্ ঠাস্।
আম্মু আর আব্বু চলে আসলো ড্রইং রুমে আপুর চিৎকার শুনে।
আম্মু::তারেক থাম ওকে চর মারছিস কেন।
আমি::আবার ঠাস্ (কোনো কথা না শুনে)
আম্মু::তারেক(চিৎকার করে)।
আমি::ওই চুপ সবাই একদম চুপ।(রেগে বললাম)
সবাই আমাকে এরকম দেখে থেমে গেলো।
আমি::ওই কি ভাবিস তুই নিজেকে ওই তোর জন্য  আজকে আমার আপুর মাথা কেঁটে গেছে।তোর জন্য এই মেয়েগুলোর সাথে বাজে ছেলেরা ধস্তাধস্তি করেছে, তোর জন্যে আমার বন্ধুদের মার খেতে হয়ছে।আর তোরর এতো ভালোবাসা লাগবে তো ওদের কাছে একা যা আমার আপুদের সামনে বলেছিস কেন এখন চলে যা আর বল ওদের যে আমার ভালোবাসা লাগবে ভালোবাসা দাও তোমরা।
আম্মু তারেক বলে আমাকে থাপ্পড় দিলো আর বললো..
আম্মু::ছি তুই এতোটা নিকৃষ্ট কথা বলতে পারিস।
আমি::হ্যা পারি।তুমি জানো আজ ওর জন্যে আমার আপুর মাথায় রক্ত ঝরেছে।
আপু:তারেক থাম আমি কিছু মনে করিনি।
নিতু::স্যরি তারেক আমি বুঝতে পারিনি এমন হবে।
আমি::কিসের স্যরি এই কিসের স্যরি।তুই ভাবলি কি করে এতো কিছুর পর ও তোকে আমি ভালোবাসবো।তোকে ভালোবাসা তো দূরের কথা তোর মুখ দেখাও পাপ।
ইমন::তারেক থামবি তুই।
আমি::চুপ করতে বলেছিনা তোদপর তার ওপর কেনো কথা বলছিস তুই একদম চুপ থাক।
ইমন::তোরে কি কেও মেরেছে আমাদের মেরেছে আমরা কিছু বলছিনা তাহলে তুই কেন এমন করছিস।
আমি::ওই চুপ একদম চুপ আমার অনেক কিছু আমার আপুর লেগেছে আমার গাঁয়ে তো লাগবেই তুই কথা বলবিনা।
ইমন::হুম বুঝেছি আমাদের কি আমরা তো আর কেও না।চল মেহেদী আমরা চলে যায় এখানে থেকে কি করবো।
মেহেদী::হুম চল।আর থাকবোই না।
আমি::হুম যা যা।
মেহেদী আর ইমন চলে গেল।সাথে শাওন সুমি আর বাকিরাও।
আমি::কিরে তুই কেন আছিস এখনও তোর মুখ দেখতে ঘৃণা করছে আমার।(নিতুকে বললাম)
নিতু::হুম ঠিকি বলেছো আমার মুখ দেখাও পাপ।তোমাকে ভালোবাসি তাই তো আমি পাপি।তোমাকে পাওয়ার জন্য এতোকিছু করেছি তাইতো পাপি।তোমার জন্য সব ছেড়ে এখানে চলে এসেছি তাই আমি পাপী।তোমাকে খুব ভালোবাসি তুমি তখন বলেছিলা আমাকে কেও ভালোবাসবেনা তাই আমি এমন করেছিলাম আর এজন্যই এতোকিছু হয়েছে।হুম এ জন্যও আমি পাপী। তুমি যখন বলেছো এই মুখ দেখাও পাপ ওকে আমি চলে যাচ্ছি এই মুখ আর তোমাকে দেখাবোনা চলে যাচ্ছি আমি।(কাঁদতে কাঁদতে রুমে গেলো আর ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে চলে আসলো বাইরে)
আম্মু::তারেক ওকে আটকা বাবা।
আমি::পারবোনা বলে চলে আসলাম আমার রুমে।
কাওকে কিছু না বলে রুম বন্ধ করে ঘুমিয়ে গেলাম।
চলবে....
 waiting for next...
Share:

ভিলেন_বর Part_10

#ভিলেন_বর
#Writer_Sinthiya_Simthi
#Part_10

ইশরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে। তারপর সবার পছন্দ অনুযায়ী ব্রেকফাস্ট তৈরি করতে লাগলো।
এতো সকালে ইশরাকে দেখে অবাক হয়ে যায় আদ্রর আম্মু।

আদ্রর আম্মুঃ-তুই এতো সকালে কি করছিস.?

ইশরাঃ-তেমন কিছুই না আম্মু।

আদ্রর আম্মুঃ-কিছু তো একটা করছিস.?

ইশরাঃ-সকালের নাস্তা তৈরি করছিলাম।

আদ্রর আম্মুঃ-তুই সর তোর করা লাগবে না আমি নিজেই করে নিবো।

ইশরাঃ- না আজ আমি করবো।

আদ্রর আম্মুঃ-আচ্ছা কর কিন্তু ময়না তোকে হেল্প করবে।

চলে গেল আদ্রর আম্মু।
ইশরা আদ্রর আব্বু-আম্মুর জন্য চা ময়নাকে(কাজের মেয়ে)দিয়ে পাঠিয়ে দিলো তাদের রুমে।
.
.
নাস্তা তৈরি শেষে ইশরা ফ্রেশ + অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হতে রুমে চলে গেল।
গিয়ে দেখে আদ্র এখনো ঘুমে মগ্ন।
আদ্রকে অনেক বার ডাকলো কিন্তু আদ্র কোনো সাড়াশব্দ করলো না।
তাই বাধ্য হয়ে কয়েকবার ইশরা আদ্রকে হালকা ধাক্কা দিলো।কিন্তু ফলাফল শূন্য।
এবার ইশরা আদ্রকে জোরে ধাক্কা দিবে পরিকল্পনা করে যেই ধাক্কা দিবে তার আগেই ইশরার হাত ধরে টান দিয়ে আদ্রর পাশে শুইয়ে দিলো ইশরাকে।

ইশরা অবাক চোখে আদ্রকে দেখছে।হঠাৎ করেই আদ্র ইশরাকে কোলবালিশের মতো জড়িয়ে ধরলো। এক পা ইশরা গায়ের ওপর আর একটা হাত পেটের ওপর।

ইশরাঃ- আম্মম্মম্মু গোওও

ইশরার চিৎকার শুনে ধড়ফড় করে উঠে যায় আদ্র।

আদ্রঃ-কি হয়েছে তুমি এভাবে চিৎকার দিলে কেনো.?

ইশরাঃ-একটা মস্ত বড় হাতি আমার ওপর পড়েছিল।

আদ্রঃ-হাতি এই রুমে.?তুমি কি আমার সাথে মজা করছো.?

ইশরাঃ-আজ্ঞে না জাহাপনা আমি আপনার সাথে মজা করছি না।

আদ্রঃ-তবে.?

ইশরাঃ-অনুগ্রহ করে যদি আপনি আপনার চরণ আমার ওপর থেকে প্রস্থান করিতেন তাহলে আমি খুবই উপকৃত হইতাম জাহাপনা।

আদ্র এতোক্ষণে খেয়াল করলো যে ওর পা ইশরার ওপরে।সাথে সাথে সরিয়ে নিলো।

আদ্রঃ-তা মহারানী আপনি যে আমার পায়ের ওজনটুকু সহ্য করতে পারেন না আমাকে করবেন কিভাবে.?

ইশরাঃ-কি যাতা বলছেন.?

আদ্রঃ-আমি বললেই যাতা হয়ে যায়.?আর তুমি বললে.?

ইশরাঃ-আমি কি বলেছি.?

আদ্রঃ-একটু আগে মনে নেই.?

ইশরাঃ-আমি কখন বাজে কথা বললাম.?

আদ্রঃ-মস্ত বড় হাতি এটা নিশ্চয়ই ভালো কথা না.?

ইশরাঃ-দেখুন আপনি কিন্তু আমার কথাগুলোকে বাজে বলতে পারেন না?তাছাড়া হাতি বলেছি এটা কি কোনো বাজে কথা.?

আদ্রঃ-সকাল সকাল দেখাবে।নট বেড আমি রাজি দেখতে।

ইশরাঃ-দূর আপনার সাথে কথা বলাই বেকার।

বিরক্ত নিয়ে ইশরা চলে গেল ফ্রেশ হতে।

আদ্রঃ-আজ হোক বা কাল তুমি দেখাবে আর আমি দেখবো।(জোরে জোরে)

ইশরাঃ-সেগুড়ে বালি।ঐ উদ্ভট কল্পনা বাদ দিন।(ওয়াশরুম থেকে চেঁচিয়ে)

আদ্রঃ-____কল্পনা বাস্তবের অভাব পূরন করে।
উদ্ভট কল্পনায় মন ক্যাঙ্গারুর মতো লাফিয়ে লাফিয়ে চলে।
________(আব্দুর রহমান শাদাব)
.
.
ওরা সবাই মিলে ব্রেকফাস্ট করছে তার মধ্য থেকে আদ্রতা বলে উঠলো

আদ্রতাঃ-ভাবি ভাইয়া তোমাকে কি গিফট দিয়েছে?

ইশরা খাচ্ছিল ওর কথা শুনে খাওয়া বন্ধ করে আদ্রর দিকে তাকালো।আদ্র পানি খাচ্ছিল আদ্রতার কথা শুনে মুখের সবটুকু পানি ইশরার গায়ে ফেলল।
আজ ইচ্ছে করে পানি ফেলে নি।আসলে ইশরা আর আদ্র পাশাপাশি বসেছিল।আদ্র মুখে পানি নিয়ে ইশরার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে ছিলো তখনি আদ্রতা এই কথা বলেছিল।ব্যাস হয়ে গেল।

ইশরাঃ-আমি চেঞ্জ করে আসছি।(বলেই চলে গেল)

আদ্রর আম্মুঃ-দিলি তো মেয়েটাকে  খাওয়া থেকে উঠিয়ে। এখন আর খাবে না।আবার কখন খাবে কে জানে.?

আদ্রতাঃ-কি রে ভাইয়া বল না

আদ্রঃ-শাড়ি!  হ্যাঁ একটা শাড়ি দিয়েছিলাম।

আদ্রতাঃ-তুই কি রে.?বউকে কেউ প্রথম শাড়ি দেয়.?

আদ্রঃ-তুই তোর জামাইকে শাড়ি দিস.?যত্তসব দূর
(মিথ্যে রাগ দেখিয়ে চলে গেল।)

আদ্রতাঃ-ঐ তোর মাথা ঠিক আছে.?ছেলেরা কি শাড়ি পড়ে নাকি যে আমার জামাই শাড়ি পড়বো.?আর আমি দিবো.?

আদ্র শুনতে পেল না চলে গেছে.

আদ্রর আব্বুঃ-কিসের শাড়ির কথা বলছে আদ্র.?

আদ্রতাঃ-আরে আব্বু ঐদিন ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কি দিয়েছে.?কিন্তু ভাইয়া বলে নি।বলবে কি করে ভাইয়া তো ভাবিকে তখন কিছু দেয় নি।কিন্তু পরে ভাইয়াকে দেখলাম একটা গিফট বক্স নিয়ে যাচ্ছে।তাই জিজ্ঞাসা করলাম আর তোমার হনু ছেলেটা বললো শাড়ি দিয়েছে।আমার মনে হয় কি ভাইয়া ভাবিকে অন্য কিছু দিয়েছে কিন্তু আমাদের কাছে বললো না লুকিয়ে গেলো।

আদ্রর আব্বুঃ-স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার আমাদের না ঢুকাই ভালো।

আদ্রর আম্মুঃ-অবশেষে ওদের সম্পর্কটা ঠিক হলো।
_____________________________________________
আদ্র গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ইশরার জন্য অপেক্ষা করছে।

অনেকক্ষণ পরে ইশরা এলো।

আদ্রঃ-কতোক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি জানো.?যাও গিয়ে  গাড়িতে বসো.?

ইশরাঃ- আমি আপনার সাথে যাবো না।

আদ্রঃ- চুপচাপ  গিয়ে গাড়িতে বসো।

ইশরা কিছু না বলে আদ্রর পাশ কাটিয়ে রিকশা দিয়ে চলে যায়।

আদ্রঃ-বলেছিলাম আমার সাথে চলো। কিন্তু তুমি তো শুনলেই না। শুনবে আমার সব কথা শুনবে ওয়েট.?

ইশরাঃ- কালকে আব্বু বলেছিল আমাকে নিয়ে যেতে কিন্তু আপনি নেন নি।তাই আমি আর কোনোদিন আপনার সাথে যাবো না।(মনে মনে)

%%%%%%%%

ইশরা অফিসে গিয়ে জেসিয়ার সাথে অনেকক্ষণ কথা বললো। তারপর নিজের কেবিনে গিয়ে বসতে না বসতেই আদ্র ফোন দিয়ে বললো ওর কেবিনে যেতে।

ইশরা ভদ্র মেয়ের মতো আদ্রর কেবিনে চলে গেল।

আদ্রঃ-বসের কেবিনে আসতে হলে অনুমতি লাগে এটা নিশ্চয়ই আপনাকে মনে করিয়ে দিতে হবে না।

ইশরাঃ-সরি স্যার

আদ্রঃ-সরি বললেই সব ঠিক হয়ে যায় না মিস ইশরা.?

ইশরাঃ-কি করতে হবে এখন আমাকে.?

আদ্রঃ-অনুমতি নিয়ে আবার আসতে হবে.?

ইশরা রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে।গতকালও তো এসেছে কই তখন কিছু তো বলে নি যত্তসব। মনে মনে আদ্রর চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করছে।

ইশরাঃ- মে আই কাম ইন স্যার

আদ্রঃ-কাম ইন

ইশরাঃ-বলুন স্যার আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি.?

আদ্রঃ- জনসেবার সার্ভিস দিচ্ছেন নাকি.?

ইশরা কোনো কথা বললো না।

আদ্রঃ-আচ্ছা শোনো এই চেয়ারটা দেখছো.?

ইশরাঃ-হুম দেখেছি।আর এটা রোজ দেখি আপনি ঐ চেয়ারটাতে বসেন।

আদ্রঃ-হুম ওটা তোমার বসের চেয়ার। এখন তোমাকে একটা কাজ করতে হবে.?

ইশরাঃ- বলুন

আদ্রঃ-চেয়ারটাতে অনেক ধূলো জমেছে ওটা পরিষ্কার করো।

ইশরাঃ-আচ্ছা আমি করিয়ে দিচ্ছি (ইশরা চলে যেতে নিলো)

আদ্রঃ-করিয়ে দিচ্ছি বললে হবে না।তোমাকে করে দিতে হবে।

ইশরাঃ-আ,,,,আমাকে(অবাক হয়ে)

আদ্রঃ-জ্বি তোমাকে।তুমি অবাক হচ্ছো কেনো.?একটা সামান্য চেয়ারই তো।একজন এমপ্লয়ি হয়ে বসের জন্য এটা করতে পারবে না?

ইশরাঃ-আমি পারবো না।

আদ্রঃ-ভেবে বলছো?

ইশরাঃ-হুম

ইশরা তাকিয়ে দেখছে আদ্র ওর দিকে এগিয়ে আসছে।আদ্রকে এগিয়ে আসতে দেখেই ইশরা জোরে বলে উঠলো।

ইশরাঃ- স্টপ আমি করে দিচ্ছি।
জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ছে ইশরা।

আদ্রঃ-কুল ডাউন ইশরা।এমন করতে থাকলে তো তোমার এই বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হবে।

ইশরা কোনো কথা না বলে আদ্রর চেয়ারের ধূলো পরিষ্কার করতে লাগলো।

পরিষ্কার করা শেষ করেই ইশরা চলে যেতে নিলো।আদ্র ইশরার হাত ধরলো।

ইশরাঃ-বস হয়ে এমপ্লয়ির হাত ধরা ঠিক না।আমি তো সাধারণ এমপ্লয়ি তাই বসের উচিত আমাকে আদেশ দেয়া হাত ধরা না।

আদ্র ইশরার হাতে একটা ফাইল দিয়ে বলল,,,

আদ্রঃ-বসের উচিত তার এমপ্লয়িদের হাত ধরে শেখানো।আর আমি তোমাকে ফাইল দেয়ার জন্য হাত ধরেছি কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে না।তাই এই উদ্ভট কথা বন্ধ করো।

ইশরাঃ- ওহ
চলে যাচ্ছিল ইশরা পিছন থেকে আদ্র বলে উঠলো।

আদ্রঃ- দু ঘন্টার মাঝে ফাইলটা আমার চাই।

ইশরাঃ- এতো কম সময়ে আমি কিভাবে আপনাকে ফাইল ব্যাক করবো?

আদ্রঃ-আই ডোন্ট নো।

ইশরা রাগে দুঃখে আদ্রর কেবিন থেকে নিজের কেবিনে চলে গেল।

আদ্র মুচকি হাসি দিয়ে কাজে মনোযোগ দিলো।
.
.
দুইঘন্টা পর আদ্র ইশরার কেবিনে গেল। গিয়ে দেখলো ইশরা ফাইলের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে।

আদ্রঃ-উফফ এই মেয়েটা এতো ঘুমায় কেনো.?

আদ্র ইশরার মাথার নিচ থেকে ফাইলটা নিয়ে চলে যায়।
ফাইলটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
.

ইশরা ঘুম ভেঙ্গে যায়।

ইশরাঃ- ও নো ৩:৫৬ তারমানে পুরো চার ঘন্টা ঘুমিয়েছি।না জানি স্যার ফাইলের জন্য কি বলবে.?
অফিস ছুটির সময় হয়ে গিয়েছে।আমাকে বাসায় যেতে হবে আর আকাশটাও মেঘলা।মনে হচ্ছে এখুনি বৃষ্টি হবে।ছাতাটাই তো নেই এখন আমি যাবো কি করে.?

এসব ভাবতে ভাবতে ইশরা আদ্রর কেবিনের সামনে এলো।

ইশরাঃ- মে আই কাম ইন স্যার.?

কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ইশরা আবার বললো

ইশরাঃ-মে আই কাম ইন স্যার.?

কিন্তু এবারও সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না।
ইশরা কেবিনে ঢুকে অবাক হয়ে যায়।
কারণ আদ্র কোথাও নেই।

ইশরাঃ-তুই একটা বুদ্ধু কেউ নেই তবুও দু দুবার মে আই কাম ইন স্যার বলছিস(নিজের মাথায় নিজের বাড়ি দেয়)

কেবিন থেকে বেড়িয়েই ইশরারা মাথাটা গরম হয়ে যায়।
আদ্র এনির সাথে কথা বলছে আর এনি হেঁসে হেঁসে উত্তর দিচ্ছে।মাঝে মাঝে এমন হেসে কুটিকুটি হচ্ছে যে  আদ্রর গায়ের ওপর ঢলে পরে যায়।

আদ্রঃ-ইয়াহ এনি ইউ আর রাইট। এটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।

এনিঃ-আমার  সাথে থাকলে আরও অনেক অজানা অচেনা কিছু জানতে এবং চিনতে পারবেন।

আদ্রঃ-কথা ভুল বলো নি।

ইশরা নিজের রাগ সামলে চলে যেতে নিলে আদ্র বলল,,,,,

আদ্রঃ-আরে ইশরা এখনো বাসায় যাও নি.?

ইশরাঃ-আমি তো বাসায় যাচ্ছি আপনি যাবেন না(দাঁতে দাঁত চেপে)

আদ্রঃ-আরো পরে যাবো তুমি যাও।

ইশরাঃ-কেনো.?

আদ্রঃ- নান ওফ ইউর বিজনেস

ইশরার মাথা গরম হয়ে গেল জোরে হেঁটে অফিস থেকে বেড়িয়ে গেলো।

ইশরাঃ-আই উইশ আমি গাড়ি/রিকশা পাওয়ার পর যেন এই বৃষ্টি নামে।

আল্লাহ ওর উইশ পূরণ করলেন না।কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বৃষ্টি এসে গেল।

হঠাৎ কে যেন ইশরার মাথায় ছাতা ধরলো।ইশরা ভাবলো হয়তো আদ্র কিন্তু

ইশরাঃ- তু,,,,,,,,,,,,,,,

Be continue,,,,,,,,,,,,,,,
Share:

Story Name:Sad Love Story

Story Name:Sad Love Story
Writer:Mim Khan
ফোনটা ভাইব্রেট করেই চলেছে । স্ক্রিনের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি । হাত কাঁপছে । এত দিন,এতবছর পর আবার সেই নাম্বার থেকে ফোন এসেছে বিশ্বাস হচ্ছে না । আজও নাম্বারটা দেখে হৃদস্পন্দন কয়েকগুণ বেড়ে যায় । মনের মাঝে প্রবল ঝড় বয়ে যায় । শেষপর্যন্ত রিসিভ করে ফেল্লাম । ওপাশ থেকে ভেসে এল সেই পরিচিত কন্ঠস্বর । এতবছর পরও একটুও বদলায়নি। সেই আগের মতই আছে ….
:হ্যালো ……..
…………… …………… …
কি হল? কিছু বলছ না যে?
:না আসলে পাঁচ বছর পর এই নাম্বার থেকে ফোন আশা করিনি । তাই বুঝতে পারছিনা যে কি বলব ।
:কয়েকদিন থেকেই তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল । কিন্তু ফোন করার ঠিক সাহস পাচ্ছিলাম না । কাল থেকে তোমার কন্ঠ শোনার খুব ইচ্ছে করছিল । তাই আজ সাহস করে ফোনটা দিয়েই দিলাম । কেমন আছ তুমি ?
:মানুষ বদলে যায় কিন্তু তাদের কন্ঠ বদলায়না । হুম আছি নিজের মত করে । নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত আছি ।
:জিঞ্জেস করবেনা আমি কেমন আছি ?
:উহু,প্রয়োজন নেই । কিছু কিছু মানুষ আছে যারা সবসময় ভাল থাকে । তুমি হচ্ছ তাদের একজন ।
:(ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা…….) আমার কথা মনে পড়েনি তোমার ?
:হ্যা পড়েছে । অনেক মনে পড়েছে । যথন দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতাম তখন মনে পড়ত “তুমি ঠিকমত খাচ্ছ তো?” যখন রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে,কেঁদে কেঁদে অসুস্থ হয়ে পড়তাম তখন মনে পড়ত “তুমি সুস্থ আছ তো?” যখন কোন আনন্দোত্সবে সবাই হইচই আর আনন্দে মেতে উঠত আর আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে অন্ধকারে বসে থাকতাম তখন মনে পড়ত “তুমি সবারসাথে খুশি আর আনন্দে মেতে উঠছ তো?” যখন আয়নায় নিজের অযত্ন অবহেলায় শুকিয়ে যাওয়া চেহারাটার দিকে তাকাতাম তখন মনে পড়ত “তুমি নিশ্চই আরো সুন্দর হয়ে গেছ ।” একসময় অনেক মনে পড়েছে । এখন আর পড়ে না । এখন এত সময় কই এগুলো মনে পড়ার?
:(ওপাশে আবার নিরবতা ……) আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না?
:ক্ষমা তো আমি তোমাকে পাঁচ বছর আগেই করে দিয়েছিলাম । তোমায় ক্ষমা না করলে আমার মনে তোমার দেয়া কষ্টগুলোর ক্ষত কোনভাবেই শুকাত না । আচ্ছা এখন তাহলে রাখি । এখন আমার আকাশ দেখার সময় । প্রতিদিন রাতে এইসময় আমিআকাশ দেখি । আকাশের সাথে কথা বলি । আকাশ কখনো আমার সাথে ছলনা করেনা । প্রতিরাতে সে তারার ঝুলি নিয়ে আমার সামনে হাজির হয় । আমি কথা বলি সে চুপচাপ শোনে । একটুও বিরক্ত হয়না ।
:……একরাত আকাশের সাথে কথা না বল্লে হয় না?আমাদের কথা থেকে আকাশের কথা কি খুব বেশি জরুরী?
:আপাতত তাই । আমার চরম অসহায়ত্ব আর একাকিত্বের সময় এই আকাশ আমায় সঙ্গ দিয়েছে । যে পাঁচ বছর আমায় দূরে সরিয়ে রেখেছিল তার জন্য আমি আমার পাঁচ বছরের পাশে থাকা সঙ্গীকে দূরে সরিয়েরাখতে পারবনা ।
আচ্ছা আমি এখন যাব । রাতের আকাশ আমার জন্য অপেক্ষা করছে । আজ খুব সুন্দর একটা চাঁদও উঠেছে আকাশে । আজ চাঁদের সাথেও কথা বলব ……
ফোনটা কেটে দিলাম । বারান্দায় এসে দাড়ালাম । আকাশের বুকে গোল একটা চাঁদ উঠেছে । তাকিয়ে আছি । খুব কষ্ট হচ্ছে । সেই পাঁচবছর আগের মত কষ্ট যখন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে । কি দোষ ছিল আমার?কেন চলে গিয়েছিলে?আজ ও তা আমি জানিনা । তারপরও অটুট বিশ্বাস,আশা ধরে রেখেছিলাম একদিন তুমি আসবে । আমি অপেক্ষা করব । করেছি,অনেক অপেক্ষা করেছি। ভেবেছিলাম যেদিন তোমার ফোন আসবে খুশিতে চিত্কার দেব । তোমার পানে ছুটে চলে যাব । দিন যায়,মাস যায়,বছর যায় কিন্তু তুমি আসনা । ভার্সিটি পাশ করার দু বছর হয়ে গেল । বাবা আমার আমাকে অনেক ভালবাসে । সেই বাবাকে পর্যন্ত বলে দিলাম বিয়ে করবনা । বাবার দীর্ঘঃশ্বাস,দুঃ ­খভরাক্রান্ত মন সবই উপেক্ষা করতাম । ঠিক পাঁচমাস আগে বাবা অনেক অসুস্থ হয়ে গেল । ডাক্তার বল্লেন মাইনর এট্যাক । এই বয়সে এত টেনশন ওনার সাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর । বাবার অসুস্থতার জন্য কোন না কোন ভাবে আমি দায়ী । কারণ বাবার সব টেনশন ছিল আমাকে নিয়ে । সারাদিন বাবার হাত ধরে বসে থাকতাম । বেশ কয়েকদিন পর বাবা একটু সুস্থ হয়ে উঠলেন । আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বল্লেন,”মা,আমার জীবনের মনে হয় আর খুব বেশি দিন বাকি নেই । আমি সবসময় থেকে তোমাকে সুখী রাখতে চেয়েছি । মৃত্যুর আগেও আমি তোমাকে সুখী দেখে যেতে চাই । এটাই এখন আমার শেষ ইচ্ছা । একজন বাবা হিসেবে এর বেশি আর কিইবা চাওয়ার থাকতে পারে?মা,তুমি একবার ভেবে দেখ । ছেলেটা অনেক ভাল । তোমাকে অনেক সুখে রাখবে আমার বিশ্বাস । কোন তাড়াহুড়ো নেই । ছেলেটারসাথে দেখা কর । তাকে বুঝার,চেনার চেষ্টা কর । তোমার পছন্দ না হলে কোন অসুবিধা নেই । শুধু তার সাথে দেখা করে,কথা বলে দেখ ।” না,পারলামনা আর বাবার কথা অমান্য করতে । তার আকুতি ভরা দৃষ্টি উপেক্ষাকরতে । বাবার পছন্দের ছেলেটার সাথে প্রথম দেখা করলাম দেড় মাস আগে । ইঞ্জিনিয়ার । কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই । খুব সাধাসিধে ছা পোষা ধরণের মানুষ । কথার মারপ্যাঁচ ধরতে পারেন না । লোকটার মা নেই । ওনার মনেঅনেক কষ্ট । একদিন ভয়ে ভয়ে বল্লেন,”একটা কথা বলি?আপনার মাঝে কোথায় যেন আমার মায়ের ছায়া আছে । মাকে চোখের সামনে দেখতে পাই নি কিন্তু অনুভব করেছি । সরি আপনি রাগ করলেন না তো আমার কথায়?” বলে লোকটা চোখের পানি লুকোতে চেষ্টা করত । ব্যর্থ চেষ্টা । বাবাকে অনেক সম্মান করেন । প্রায় প্রতিদিন সময় করেবাবাকে দেখতে আসেন । ওষুধ ঠিকমত খাচ্ছেন কিনা,নিজেরশরীরের যত্ন নিচ্ছেন কিনাআরো কত কি । একদিন বাবার সাথে দেখা করতে এসে আমাকে বেশ লাজুক স্বরে বল্লেন,”ইয়ে মানে আপনার জন্য একটা জিনিষ এনেছিলাম। আমি নিজে রান্না করেছি । অনেক আগে থেকেই রান্না করতে করতে এখন মোটামুটি ভালো রান্না করতে পারি । বিয়ের পর আপনার কোন সমস্যা হবে না …….ওহ সরি আই মিন যদি বিয়ে হয় । কই মাছের পাতুরি রান্না করেছি । অনেক কষ্ট এটা রান্না করা । আশা করি আপনার ভালো লাগবে ।”
“আমি কই মাছ খাইনা” বেশ নির্লিপ্ত সুরে বললাম । উনি আহত স্বরে বল্লেন “ওহ সরি সরি । আমারি ভুল হয়ে গেছে । আমার আসলে আপনাকে জিঞ্জেস করা উচিত ছিল আপনার কি খেতে ভাল লাগে ।”
বড্ড দেরি করে ফেলেছ তুমি । গতকাল বাবাকে বলে দিয়েছি যে বিয়েতে আমি রাজি । বাবার চোখে যে খুশি আমি দেখেছি সেটা আজ তোমার কাছে ফিরে (চলবে)
(তারপর থেকে)
গিয়ে নষ্ট করে দিতে পারতাম । হ্যা পারতাম বাবাকে যেয়ে বলতে যে এই বিয়ে আমি করবনা । পারতাম বাবাকে সেই লোকটার সামনে ছোট করে দিতে । কিন্তু না,পারলাম না আমার বাবার মনে কষ্ট দিতে । পারলামনা তাকে ছোট করতে । তুমি যখন আমাকে কুকুর-বিড়ালের চাইতেও বেশি অবহেলা করতে তখন এই মানুষটা আমাকে রাজকুমারীর মত রাখত । আমার খেয়াল রাখত । বল আজ কিভাবে পারি তোমার জন্য তাকে কষ্ট দিতে?পারতাম তোমার ভালবাসাকে বুকে জড়িয়ে সেই সাধাসিধে লোকটাকে বলে দিতে যে,”সরি আপনাকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব না ।” পারতাম সেই মা হারা একাকী লোকটার স্বপ্ন ভেঙে দিতে । হ্যা বলার পর থেকে লোকটা এক ঘন্টা পরপর ফোন দিয়ে জিঞ্জেস করছে,”ইয়ে মানে বিয়ের শাড়ী আপনি কবে কিনতে যাবেন?আপনাকে নিয়ে যাব । আমি আবার এগুলো একদম বুঝি না । আমি কিনলে সিওর আপনার পছন্দ হবে না ।”
“না মানে আবার ফোন করলাম জানার জন্য যে আপনার আগের কালের ডিজাইনের গহনা পছন্দ কিনা । আসলে আমার মার দুটো বালা আমি আপনাকে দিতে চাচ্ছিলাম । অনেক পুরোনো ডিজাইন । আজকালকারমেয়ে আপনি । তাই ভাবলাম একবার জিঞ্জেস করে নেই যে আপনার পছন্দ হবে কিনা …।” পারতাম লোকটার এত আকাঙ্খাআর উচ্ছ্বাস ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে । কিন্তু না,পারলামনা এত স্বার্থপরহতে । তুমি তো অনেক স্বার্থপর হতে পেরেছিলে,তাই তো আমার এত কষ্ট আর ভালবাসাকে উপেক্ষা করে চলে গিয়েছিলে শুধু একটু মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করতে। কিন্তু আমি পারিনা,পারবনা এত স্বার্থপর হতে । পারবনা নিজের ভালবাসার জন্য এই দুইজন মানুষের ভালবাসা আরস্বপ্নকে ধুলিস্যাত্ করতে । হয়তো আজ তুমি ভাবছ আমি প্রতিশোধ নিয়েছি । তাই সই । তোমার চোখে অপরাধী হয়ে আমি যদি এইদুইজন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারি তাহলে তাই সই । যদি তুমি আরেকটু আগে আসতে তাহলে তোমার ভালবাসাকে আপন করে নিতাম,যা এখন আর সম্ভব নয় । অনেক দেরি হয়ে গেছে । এখন আর নিজের ভালবাসা নয়,তাদের ভালবাসার প্রতিদান দেবার পালা যারাআমাকে তোমার চেয়ে অনেক বেশী ভালবাসে ।
আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি । চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসছে । দু ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল চোখ দিয়ে । মনে মনে বললাম,
“ভালবাসা,তোমায় দিলাম ছুটি
Share:

গল্পঃ ইমু আইডি বিড়ম্বনা

কিছুটা লজ্জা ও সংকোচ নিয়ে ছাত্রীর (আশা মনি) বাসার কলিং বেল চাপলাম। বুকের মধ্যেও ঢিপঢিপ করছে। কিছুক্ষণ আগে ছাত্রী ফোন করে পড়াতে আসতে বলেছে।  তাদের বাসায় নাকি মেহমান গিজগিজ করছে। তার বড় ফুপিমা ১০ বছর পর পুরো পরিবার নিয়ে মালয়শিয়া থেকে দেশে বেড়াতে এসেছেন। তারা সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা।

আগেও ছাত্রীর মুখে ফুপিমার পরিবার সম্পর্কে শুনেছি।  আজ সেই পুরো পরিবারকে দেখতে পাবো। ভাবতেই মনের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা কাজ করছিলো। যদিও ছাত্রীর মুখে শুনেছি যে, তার ফুপিমা আমাকে টিউটর হিসেবে পছন্দ করেন না। অবশ্য কারণটা আমি কখনোই জানতে চাইনি।

৩য় বার কলিং বেল চাপার পর আনুমানিক অষ্টাদশী এক রমণী দরজা খুলে দিলো। আমি অপলক দৃষ্টিতে অপরিচিতা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। ''আপনি আমার আপুনীর (ফুফাতো বোন) দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন কেন?'' ছাত্রীর এমন চিৎকারে আমার ঘোর কাটলো। আমার থতমত অবস্থা দেখে রুমের সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। লজ্জায় মাথা নিচু করে ছাত্রীকে পড়ানোর রুমে চলে গেলাম।

১০ মিনিট পরে ছাত্রীর ফুপিমা রুমে প্রবেশ করলেন। আলাপচারিতার শেষে তিনি আমাকে বললেন,

>তোমাকে টিউটর হিসেবে খুবই পছন্দ হয়েছে। আসলে ভাবীর (ছাত্রীর মা) কাছে শুনেছি তোমার কোনো 'Imo Account' নেই। যা এ যুগের ছেলেদের সাথে যায় না। তুমি তো স্মার্ট, মার্জিত ও আধুনিকমনা। ফলে তোমার উপর আমি কিছুটা নাখোশ।

আসলে আমার ইমু আইডি আছে। কিন্তু ছাত্রীর বেশিরভাগ রিলেটিভ বিদেশে থাকেন বলে আন্টিকে ইমু আইডির কথা বলিনি।

১ ঘন্টা পড়ানো শেষে ছাত্রীর ফুফা রুমে প্রবেশ করলেন। আমার যথেষ্ট প্রশংসা করে তিনিও আমাকে ইমু আইডি খোলার বিষয়ে জোর তাগাদা দিলেন।

পড়ানোর শেষ পর্যায়ে সেই অষ্টাদশী খালি ট্রে হাতে নিয়ে পড়ানোর রুমে প্রবেশ করলো। আমাকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রীকে বললো,

>তোমার শিক্ষকের ইমু আইডি নেই। ক্ষ্যাত কোথাকার। তোমার টিউটর সনাতন ভাবধারা থেকে বের হতে পারেননি। তাই আজকের রাজকীয় নাস্তা আমরাই কাজিনরা মিলে সাবাড় করে ফেলেছি। এটাই তার শাস্তি।

পুরো বিষয়টির মধ্যে আমি 'Something Something' এর গন্ধ পেলাম। এ সুযোগ যেন হাত ছাড়া করার উপায় নেই। 'আমি যে তোমারই প্রেমেতে পড়েছি' শাকিব খান-সাহারার গানটি গুনগুনিয়ে গাইলাম। আসলে হবু শ্বাশুড়ি মা (সরি ফুপুমা) যে আমাকে তার হবু জামাই হিসেবে পছন্দ করে রেখেছেন তা আমার বুঝতে কষ্ট হয়নি। নিজেকে মালয়েশিয়ার নাগরিক মনে হচ্ছে। "অবশেষে আমি যে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেলাম" এমন ভাবনায় "মনের মঞ্চে" লুঙ্গি ড্যান্সও করে ফেললাম।

সাদা কাগজে ইমু আইডির নাম্বার লিখে ছাত্রীর মাধ্যমে অষ্টাদশীর হাতে পৌঁছালাম। নিজেকে অষ্টাদশীর হবু বর ভাবতে ভাবতে লজ্জায় মাথা নিচু করে বাসায় ফিরলাম।

১ মাস পরের কথা। অষ্টাদশীর পরিবার মালয়েশিয়া চলে গেলো। যাওয়ার দু'দিন পর ফুপিমা আমাকে ইমুতে ভিডিও কল করলেন। তখন ছাত্রীকে পড়াচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম অষ্টাদশীই হবে। তাই চিরুনি দিয়ে মাথা গুছিয়ে নিলাম। কল রিসিভ করতেই ফুপু বললেনঃ

>দেখো বাবা, ভাবীর (ছাত্রীর মা) ফোনে বেশিরভাগ সময় এমবি থাকে না। তুমি তো আশাকে দু'ঘন্টা পড়াও।  এই দু'ঘন্টায় মাঝে মাঝে মায়ের (ছাত্রীর দাদী) সাথে কথা বলতে পারবো। তাই তোমার ইমু নাম্বারটা এনেছি। কিছু মনে করো না।

আমি কিছু মনে করিনি। প্রতিদিনই পড়ানোর সময় ফুপু কল করেন। আমি রিসিভ করে আন্টিকে দেই। আজ পর্যন্ত ভিডিও কলে অষ্টাদশীর ছায়াও দেখলাম না। বরং আমার টাকা, এমবি, মোবাইল ও ব্যাটারীর আয়ু কমে যাচ্ছে। ইদানীং অন্য রিলেটিভরাও কল করেন। দু'ঘন্টার জায়গায় মোবাইল হাতে পেতে চার ঘন্টা সময়ও লাগে। আন্টি নাস্তা দিতেও ভুলে গেছেন। ভাবছি টিউশনিটা ছেড়ে দিবো। নাহলে অদূর ভবিষ্যতে আমাকে গুলিস্তানের মোড়ে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করতে হবে। তাছাড়া এতো বড় সুযোগ পেয়েও নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে থেকে যাওয়াটাই হবে জ্বলন্ত দেশপ্রেমের উদাহরণ। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। মালয়েশিয়ার গুষ্ঠি কিলাই। যদিও নিন্দুকেরা বলবেন, 'আঙ্গুর ফল টক'!

গল্পঃ ইমু আইডি বিড়ম্বনা

# Anik Ahamed
Share:

অপ্রকাশিত_ভালোবাসা গল্প

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
#পর্ব:২
#অনিকেত
--আপু বাচাও,,আমাকে নিয়ে গেলো,,(তাসফিয়া)
আমি তাসফিয়াকে খুজতে শুরু করলাম কিন্তু কোথাও তাকে খুজে পাচ্ছিলাম না ।আমার এখন মনে হচ্ছে তাসফিয়াকে এখানে নিয়ে আসা ই ভুল হয়েছে ।এখানে তো কাউকে চিনি ই না কার কাছে যাবো এখন ।তাসফিয়াকে তো খুজে ই পাচ্ছি না ।আমার মাথায় রাগ এখন চরম পর্যায়ে ।মনে হচ্ছে সব কিছু উল্টা পাল্টা করে ফেলি কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয় ।আমি যেদিকে পারছি সেদিকে ই খুজে চলেছি ।হঠাৎ দেখলাম তাসফিয়া দৌড়ে আসছে ।আমি কোনো কিছু না ভেবেই তার কাছে গেলাম ।তাসফিয়া কান্না করছে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ।আমি কিছু বলবো তার আগেই বলতে শুরু করলো,,
--চলো আপু আমরা এখান থেকে চলে যাই ।আর কখনই আসবো না এখানে ,,
--কেনো ?আর তোমার গালে কে চড় দিয়েছে বলো ?আমি তাকে দেখো কি করি ?বলো কে মেরেছে,,
--কেউ না বাসায় চলো আমি এখানে থাকবো না প্লিজ আপু,,
আমি আর কথা বাড়াই নি চলে আসলাম বাসায় ।তাসফিয়াকে এমন ভাবে চড় টা দিয়েছে মনে হচ্ছে এখন ই রক্ত বের হবে ।আমি বুঝতে পারছি তার অনেক ব্যাথা করছে কিন্তু বলছে না আমাকে ।আমি কিছু ই বলিনি ।তাসফিয়া কান্না করছে ।এভাবেই রাত হলো আমার বাসার সবার কথা মনে পড়তে লাগলো কিন্তু বাসা থেকে যে বেড়িয়ে এলাম কেউ একটা কল পর্যন্ত দেয় নি কেনো ?আমি কি করেছি ?এদিকে তাসফিয়ার মন আনেক খারাপ ।রাতে তাসফিয়াকে পাশে নিয়েই ঘুমালাম ।হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো উঠে দেখি পাশে তাসফিয়া নেই ।উঠে বসে ডানে তাকাতেই দেখি তাসফিয়া টেবিলে কান্না করছে আর কি যেনো লিখছে ।কোনো কথা না বলে আস্তে আস্তে তার পিছনে গিয়ে দাড়ালাম ।সে অনবরত লিখে চলেছে ,,
 "আম্মু ভালো না ,আম্মু ভালো না "
সারাটা কাগজে এক ই লেখা ।আমি যে তার পিছনে দাড়িয়েছি সে এটা টের পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো ।আমি তাকে বুঝানোর মতো কোনো কথা ই পাচ্ছিলাম না ।আমি কোনো রকম কান্না থামানোর পরে বললাম ,,
--কে তোমাকে মেরেছে ?সত্যি কথা বলবে কিন্তু ?
--মামা মেরেছে ?
--কিহ তোমার মামা কেনো ?
--আম্মুকে দেখতে গেছি তাই,,আর যদি কখনো ওইখানে আম্মুর সাথে দেখা করতে যাই তাহলে আম্মু বলেছে আমার সাথে কথা বলবে না আর মামা মা কে দেখতে দিবে না ।তাই তো চলে আসলাম ,,,
--এই জন্য তোমার মতো একটা পিচ্চি মেয়েকে মারলো ?
--কালকে না আসলে মামা মা কেও মারতো আর আমার এতো কিছু দরকার নেই আমি দূর থেকে দেখেই চলে আসবো আম্মুকে ।
 এই কথা বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো ।হঠাৎ তাসফিয়া আমাকে ছেড়ে দিলো ।আমি বুঝলাম যে তাসফিয়া ঙ্গান হারিয়েছে ।কোনো কিছু না ভেবেই এই অপরিচিত জায়গায় এই রাতে ই ছুটে চললাম হাসপাতাল এর উদ্দেশ্যে ।এতো রাতে ভেবেছিলাম কোনো কিছু ই পাবো না হাসপাতাল এ যাওয়ার মতো কিন্তু রাতেও পাওয়া গেছে ।আমি তারতারি তাসফিয়াকে নিয়ে হাসপাতাল এ আসলাম ।সরকারি হাসপাতাল যতোটা নাজেহাল ভেবেছিলাম তার থেকে বেশি উন্নত এটা ।ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতাল এ দীর্ঘ দুই দিন তাসফিয়াকে নিয়ে ছিলাম ।বুঝা ই যায় নি কিভাবে দিন কেটে গেলো কারন তাসফিয়া এর পর থেকে হাসি খুশি থাকে সব সময় ।তাসফিয়ার তেমন কোনো সমস্যা নেই ,তার গালের দাগ টাও একদম চলে গেছে। সেই ফুলের মতো চেহারাটা আবার দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লাগলো ।ডাক্তার দের সাথে কত মিল তার ।তাসফিয়া সবার সাথে এমন আচরন করছে সবাই যেনো ওর বাসার সদস্য ।আমার এখনো মনে আছে ,ডাক্তার যেদিন তাসফিয়াকে রাতে দেখতে এসে বললো,,
--মেয়েটা তো অনেক সুন্দর,,
তাসফিয়া ধুপ করে এটাও বলে ফেললো,,
--এই যে আমার আম্মু উনি ও তো সুন্দর তাই আমিও সুন্দর ,,
--তা মামুনির বাবা কোথায় আসেনি ?
--না পাপা তো ঢাকা থাকে ।তাই আসে নি ,,
আমাকে তাসফিয়া কেনো আম্মু ডেকে ছিলো বলছিলাম তাকে কিন্তু সে বলেছিলো এমনি ই ।আমিও কিছু ই বলিনি ।কারন এই তাসফিয়া ছাড়া আমার আর কেউ নেই ।হাসপাতাল এর পাশের বেড এ তার সমবয়সী তার বান্ধুবিও জুটিয়েছে ।আমি জীবনেও সরকারি হাসপাতাল পছন্দ করিনা কারন এ হাসপাতাল গুলোর পরিবেশ এতো নোংরা থাকে ।কিন্তু এ ময়মনসিংহ হাসপাতাল অনেক উন্নত ।তাসফিয়ার একটা ডাক্তার বান্ধুবি আছে সে তার সাথে ই গল্প করে ।মানে ডাক্তার ইন্টার্নি করে,,।ভালো হয়ে উঠলো তাসফিয়া ।সব কিছু রেখে যখন আবার ফিরে আসবো সবার মুখ ই মলিন বুঝা ই যাচ্ছিলো ।তবুও ফিরে আসলাম ।এসে যে হোটেল এ থাকি সে হোটেল এর টাকা দিবো এমন সময় ম্যানেজার বললো,,
--আপনার বিল দেওয়া হয়ে গেছে ।আপনি আরও দশ দিন থাকতে পারবেন ।
--কে দিয়েছে ?
--জানি না ম্যাডাম ।আজকে সকাল এ অফিস খুলতেই একটা কাগজ এ আপনার নাম এ বিল এর টাকা দেওয়া ছিলো ।
--ওহহ,,
আবারও চিন্তায় ফেলে দিলো আমাকে ,,।কে দিলো এসব ?তাসফিয়া দেখি মুচকি মুচকি হাসছে ,,।তখন বললাম,,
--হাসছো কেনো এভাবে ?
--এমনি ই,,
--বলো বলছি,,
--তোমার বিএফ দিয়েছে মনে হয় ,,
--বিএফ বিএফ বলবা না তাহলে মাইর দিবো ।
 তাসফিয়া একদম চুপ ।তারপর কোনো কথা না বলেই দরজা খুলতেই আমি অবাক ।সারা ঘর হাজানো ।দেয়ালে বড় করে লিখা ,"শুভ জন্মদিন প্রীতি" ।আরে আমি আমার নিজের জন্মদিন ই ভুলে গেছি ।টেবিলে একটা কেক ,আর বিছানায় একটা খাম ।খাম খুলে দেখলাম প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা ।রাতে ভাবছি কে করলো এসব ?হোটেল এর কেউ জানে না।আমি জানালায় দিয়ে বাইরে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি ।তাসফিয়া তখন বললো,,
--চলো কেক কাটবে ,,
এক প্রকার জোড় করে কেক কাটালো ।তাকে খাইয়ে দিলাম ,আমাকে সে খাইয়ে দিলো ।আমি টিভি দেখি আর ও আমার মোবাই চালায় ।এক সময় বললো,,
--আপু ,চলো কালকে ঘুরতে যাই ,,
--কোথায় ?
--সিলভার কেসেল ,,,এখানের সুন্দর একটা রিসোর্ট ।
--ঠিক আছে,,
আমি ভাবছি এসব কিছু হচ্ছে কি করে ?সব কিছু ই উল্টা পাল্টা লাগছে ।তখন ই খেয়াল করলাম জানালার একটা কোনে রক্তের ছাপ ।স্পষ্ট হাত দিয়ে ছুয়া গেলো তার মানে কেউ এসেছিলো কিন্তু কে ?
তাসফিয়া তখন বলে উঠলো,,
--আপু দেখে যাও,,মামা,,
আমি এক দৌড় এ গেলাম ভাবলাম তার মামা হয় তো আবার এসেছে ।তাই গেলাম যেয়ে দেখি,,টিভি তে তাসফিয়ার মামা কে দেখাচ্ছে ।হ্যা সত্যি ই তো এটা তো তাসফিয়ার মামা ।খবর এ আরো বলছে বিয়ে বাড়ি থেকে কনে ও উধাও ।তাসফিয়ার মামার মৃত্যুর কথা শুনে সে একটুও বিচলিত হয়নি বরং তার মা নেই এটা ভেবেই সে কান্না শুরু করলো ।তার মামারও সেই একই রকম মৃত্যু ।চোখ এর মনি নেই ।তাসফিয়াকে বাসায় কোনো ভাবেই রাখা যাচ্ছে না সে বার বার চলে যেতে চাইছে তার মায়ের কাছে ।সেদিন রাতে হোটেল বয় দরজা কড়া নারে খাবার এর জন্য ।কিন্তু। সে আমাকে দেখে অদ্ভুত হাসি দেয় ।আমি উরনা পড়া ছিলাম না বলে এভাবে হাসবে ?হাজার বার নিজেকে বকেছি ।আসলেই কিছু মানুষ এমন ই হয় ।আমি সব ঘটনা মিলানোর চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না ।এরপরের দিন হোটেল বয় খুন তারও চোখ নেই ।সারা বাড়ি পুলিশ এ ঘেরাও ।যখন পুলিশ এর অফিসার আমাকে দেখলো তখন বললো থানায় যেতে আমি কোনো ভাবেই যাইনি সেদিন ।সারা হোটেল পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করা ।এমন কি আমার দরজার সামনে ও ।সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি তাসফিয়া হাসছে আর বলছে,,
--আপু ,আম্মুর কিছু ই হয়নি আম্মু ভালো আছে ।আর ওই ছায়া মানুষটা বলেছে আম্মু ফিরে আসবে ,,
--ছায়া মানুষ মানে ?
--কালকে রাতে এসেছিলো ।সে বলে গেছে এমন কি আম্মুর সাথেও কথা বলিয়ে দিয়েছে ।কিন্তু তাকে দেখি নাই তাই ছায়া মনে হলো,,
আমি একটা বড় ধরনের ধাক্কা খেলাম ।তারাতারি জানলা খুলে দেখলাম চারদিকে পুলিশ আর পুলিশ ।তাহলে সে আসলো কি করে ?সব কিছু আমাকে ই বের করতে হবে ।রাতে খাচ্ছি আর ভাবছি আমার সাথে যে ই খারাপ করবে সে ই মারা যাবে ।
 এটা কি তাহলে কোনো মানুষ নাকি তাসফিয়ার বলা সে কোনো অদৃশ্য ছায়া ,,,,
চলবে,,,
Share:

গল্পঃপথযাত্রী

ঘুম থেকে উঠতে লেট হইছে।  তাড়াতাড়ি করে বের হলাম। আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম এক সাপ্তাহ ছুটি কাটিয়েছি। আজকে যাও অফিস যাইতেছি তাও লেট। বস কি বলবে আল্লাহ যানে।আবল তাবল ভাবতে ভাবতে কখন যে আসলাম বুজলামই না। যাক চলে যখন আসলাম তাহলে বসের সাথে দেখা করে আসি। বসের সামনে যেতেই
বসঃ এখন কয়টা বাজে? 
আমিঃ জ্বি বস ১১ টা।
বসঃ আপনার অফিস কয়টায়?
আমিঃ ১০ টা।
বসঃ আমার লেট করা মোটেও পছন্দ না........
আমিঃ বস সামনে থেকে আর হবে না।
বসঃ আপনি নিজ থেকে রুমে আসায় কষ্ট করে আসতে বলতে হয় নি।
আমিঃ জ্বি বস বলেন.....
বসঃ আপনাকে আগামী ১৩ তারিখে চট্টগ্রাম কাজে যেতে হবে।
আমিঃ (লে হালুয়া! এমনিতে জানুয়ারি মাস সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারি না আর এখন কাজের দৌড়াদৌড়ি।.....মনে মনে বললাম)  কি আর করার চাকরি বাচাতে হ্যা বলে দিলাম! বসঃ ১৩ তারিখ লেট যাতে না হয়।
আমিঃ বস শীতকাল তো তাই একটু..........
বসঃ আজকে হয়েছে সামনে যাতে আর না হয়।
আমিঃ জ্বি।
যাক বাবা বাচলাম ঝাড়ি থেকে কিন্তু সালা টিক একটা কাজ ধরায় দিলো।
ও আপনাদেরতো পরিচয় দেওয়া হলো না আমি শিহাব। পড়াশোনা শেষ করে ছোটখাটো একটা চাকুরি করি। শীতকাল ঘুম থেকে উঠতে পারি না।  বউ ও নাই যে ডেকে দিবে। হতভাগা কপাল।
,
,
,
দেখতে দেখতে ১৩ তারিখ হাজির। সকালে উঠে বাস এ উঠলাম ঢাকা টু চিটাগং। জানালার পাশে বসলাম সাথে কানে হেডফোন গুঁজে দিলাম।
একটু পর দেখলাম রুপবতী এক কন্যা উঠলো বাসে। একবার তাকিয়ে চোখ অন্য দিকে নিলাম। আর মনে মনে ভাবলাম না তাকানোই বেটার। 
একটুপর...............
অতিথিঃ এই যে শুনুন, এইটা আমার সিট উঠুন,,,,,,,,,,,,
আমিঃ ( অতিথির গলা ভারি মিস্টি তবে কথাটার মাঝেএকটু হুংকার আছে। মেজাজি স্বভাবের একটু বুঝা যায়। একটু ভদ্র গলায় বললে কি হতো কে জানে। সুন্দরী মেয়েগুলা আসলে বদ মেজাজি হয়।) মনে মনে বলালাম।  কিছু না বলে টিকেট দেখলাম। নাহ পাশের সিটটা আমার।
অতিথিঃ উঠছেন না কেন? ( একটু রাগি লুক নিয়ে।)
আমিঃ জ্বি।  আপনি বসেন!
সিটটা ছেড়ে পাশেরটায় মানে আমারটায় বসলাম।  বাস চলতেছে তার আপন গতিতে। দু একবার অতিথির দিকে তাকালাম বুজতে পারলাম কিছুটা অতিথি রাগি হলেও প্রকৃতি প্রেমি।
বাহিরের দিকে তাকিয়ে প্রকৃতি দেখছে।
একটুপর অতিথি নিজ থেকে,,,

অতিথিঃ আজকের দিনটা খুব সুন্দর তাই না? 
আমিঃ কাঁপা কাঁপা গলায়,,,,, জ্বি অনেক সু্ন্দর। 
ভাবনার জগতে চলে গেলাম যে মেয়ে একটু আগে রাগি লুক নিয়া কথা বলতেছিলো সে এখন এতো মিস্টি গলায়। বুজলাম না কিছু,,,,,,,, বুজলাম মেয়েটা খুব মিশুক। একটা কালো সুয়েটার পরছে ভারি মানিয়েছে,,,,,,
অতিথিঃএখন অনেক শীত তাই না.?
আমিঃ অতিথির ডাকে ঘোর কাটলো,,,,,,,,,, জ্বি অনেক শীত। কুয়াশাটাও কম না! আপনার শীতকাল ভালো লাগে?
অতিথিঃ হ্যা। শীতকালে পড়ে পড়ে ঘুমানো যায়,,,,,,, বলেই ফিক করে হেসে ফেললো একটু।

আমি যেনে হাসির মাঝে হারিয়ে গেলাম। তার হাসিটা ছিল অপূর্ব। দেখলাম গালে একটা টোল পড়ে। তা যেনো আমাকে তাকে নিয়ে ভাবনার জগতে নিয়ে গেল,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

চলবে,,,,,,,,,,,,
#গল্পঃপথযাত্রী
পর্বঃ-১
লেখাঃ শিহাব

বিদ্রঃভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ভালো লাগলে মতামত জানাবেন।তাহলে পরের পর্ব গুলো দিতে উৎসাহ পাবো।
Share:

নতুন গল্প মানে আনন্দ

কয়েক শো কোটি চেহারা বাছাই করার পর যে চেহারার সাথে আমাদের সম্পর্ক তৈরি হয়, সে মানুষটি কক্ষনো এই কথা ভেবে বিচলিত হয়না যে, কেন বা তাকেই একজন মানুষ পছন্দ করলো। পৃথিবীর এক কোণায় বসে ভিন্ন কোণার কোনো একটা মানুষের সাথে প্রেম করাটা সাংঘাতিক কোনো ব্যাপার না। যে প্রেম সাদা কালো ভেদাভেদ করেনা, সে প্রেম আজকাল বিলুপ্তির পথে হলেও কিছু কিছু মানুষের মনে আজও সেই প্রেম বিশাল একটা জায়গা নিয়ে অবস্থান করছে।
.
প্রেমের টানে ব্রাজিলের কন্না বাংলাদেশে আসার সংবাদটা পত্রিকায় খুব বড় করে ছাপানো দেখে বিচলিত হয়েছিলাম। কীভাবে সম্ভব?
বাংলাদেশ থেকে দেওয়া কিসের ইমুটা আমাজান জঙ্গলের পাশে অবস্থানরত কোনো এক মেয়ের বুকের কম্পনটা বাড়িয়ে দেয়া কী সাংঘাতিক মনে হয়না?
.
সাত সমুদ্র তেরো নদী উপেক্ষা করে নীড় খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশকে সিলেক্ট করাটা বিদঘুটে ব্যাপার না হলেও, প্রেমের টানে স্বামী সন্তান ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশের একটা কালো ছেলেকে বিয়ে করা কিন্তু অদ্ভুদ এক ব্যাপার স্যাপার। কী আছে এমন প্রেমে।
.
আমি যে আর্জেন্টিনার মেয়েকে জানতাম তার নাম ছিল  ট্রাস্কি ইন্দ্রালা। মেয়েটা তেমন একটা ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ বুঝতো না বলে স্টিকারের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হত। তখন একটা খুব করে ট্রান্সলেট বুঝতাম না। স্টিকারের মাধ্যমে কতদূর এগিয়ে গেছিলাম তারও সঠিক অনুমান নেই। তবে এটা জানতাম মেয়েটা একসময় আমাকে পছন্দ করা শুরু করেছিলো।
প্রায় তিনমাস তার সাথে আমার কথা হয়। এই তিনমাসে আমি বুঝে নিছিলাম তার মনেও প্রেম নামের কিছু আছে। মেয়েটা মদ খেত, নাইট পার্টিতে যেত। আমি একদিন ওকে বলেছিলাম মদ খাওয়া নাইট পার্টিতে যাওয়া তোমার জন্য সুন্দর দেখায় না। ট্রাস্কি বুঝে নিছিলো আসলে ব্যাপারটা আমার পছন্দ না। সেদিন থেকে নাইট ক্লাবে যাওয়া বন্ধ করলেও মদ খাওয়া বন্ধ করেনি।
.
কয়েক শো কোটি মনের পরিবর্তে যে মনটা আমার সাথে মিলেছিল সে ক্যামন ছিল এই ব্যাপারটা তাকে আমি খুব করে জিজ্ঞাসা করিনি। আগে কী করত, কোথায় থাকত এসব প্রশ্ন করে তাকে বিমুখ করিনি কখনো। সত্যি কথা বলতে আমি যে মেয়েকে খুব করে পছন্দ করতাম, তার চেহারা রিলেশনের দুই মাস পর দেখতে পেরেছিলাম। প্রেম হয়ে গলে মানুষ কতটা পাগল হতে পারে, এ হিসাবটুকু আজও আমার অজানার তালিকায় রয়ে গেল। তবে ওর চেহারা মোবাইলের ডিসপ্লেতে ভাসতেই কয়শত চুমু যে খেয়েছিলাম তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বে-হিসাব।
.
প্রেম হয়। তবে অজান্তে। একদম নিরিবিলি পরিবেশে।
সবার অগোচরে। একদম একাকী ভাবে।
প্রেম হয়ে গেলে নিরবতা বেশ ভালো লাগে।
রোমান্টিক মুহূর্ত খুঁজা। রোমান্টিক পিকচার খুঁজা। এসব পছন্দের তালিকায় বেশ বড়সড় একটা জায়গা দখল করে রাখে।
.
১৬ কোটির জনতার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে খুব একটা সহজ ভাবে খুঁজে  বের করা যায়না। তবে ১৬ কোটির মধ্যে যে কারোর প্রতি আপনার প্রেম জাগতে পারে। এটার মধ্যে কোনো নিয়ম টিয়ম কাজ করেনা।
.
প্রেম জাগবে। প্রেম আসবে। তবে সবার সামনে যে নিজের প্রেমকে প্রকাশ করতে হবে, ব্যাপারটা আসলে এমন না। আমরা আসলে ভুল তখনি করি, যখন নিজের অজান্তেই ভুল একটা মানুষের সামনে প্রেমকে প্রকাশ করে বসি। প্রেম সস্তা কাঁচামাল না যে, এখানে ৫ টাকার মাল ৩ টাকা বলা যাবে। প্রেম একদম ঔষধের ফার্মেসির মত এখানে কোনো দাম দর চলেনা।
প্রেম পুষে রাখার জিনিস। সস্তা ভাবে বের করার জিনিস নয়।
.
সবার মনে প্রেম থাকে। তবে কারো কারো মনে প্রেমের সাথে লোভ থাকে। প্রেম তাকেই দিন যে দু হাত ভরে প্রেম কুড়ানোর পরও আরো প্রেম পাওয়ার জন্য লোভ না করে। কোনো জিনিসেই অতিরিক্ত লোভ ভালো না।
.
প্রেম পুষে রাখুন নিজ দায়িত্বে, একান্ত নিজের ভাবে, নিজের মনের মত করে। সময় আপনাকে ঠিকই আপনার সঠিক মানুষ চিনিয়ে দিবে, যে আপনার পুষে রাখা প্রেমের যোগ্য। থাকুন না একটু অপেক্ষায়! সঠিক মানুষ চিহ্নিত করার তরে।
.
লেখা,,,দুষ্টু ছেলে আরিয়ান
Share:

গল্প:মিস্টি ভালবাসা

গল্প:মিস্টি ভালবাসা
লেখক:মেঘ
___সময় থাকলে গল্পটি পড়বেন না হলে,,সময় নষ্ট করে আমার গল্পটি পড়ার অনুরোধ করব না‌......

>> তোমাকে না কতো বার বলেছি
যে আমার আগে রিক্সায় উঠবানা!!
(মেয়ে)
>> কেনো ?? আবার কি করলাম??
(আমি)
>> তুমি আগে উঠলে আমার আর
জায়গা থাকে না বসার!! (মেয়ে)
>> (চুপ করে আছি)
>> পেচার মতো মুখ করে রেখেছো
ক্যানো?? (মেয়ে)
>> অপমান করলা আমারে?????? (আমি)
>> তুমি এখনো বুঝতে পারো নাই????
(মেয়ে)
>> দেখো ইরা,শুধু শুধু নিজের ক্রেডিট
আমারে দিবা না (আমি)
>> কি বল্লা?????? (ইরা)
>> শুনতে পাওনাই??? (আমি)
>> তুমি আমাকে !! তুমি আমাকে!!!
(ইরা)
>> মটকি বলেছি!!!!!
>> :’( তুমি এত্তোগুলা পচা!!
>> ভালো ছিলাম কবে??
>> আজ বাসায় চলো তারপর বুঝাচ্ছি!!
>> আম্মারে কইয়া দিবা নাকি???
নিজের ঢোল নিজেই পিটাবা??
>> তোমার খবর আছে কিন্তু!!
>> মাইক লাগলে বলিও,ভাড়া কইরা
আইনা দিমু
>> চুপ করবা নাকি আমি নেমে
যাবো???????
>> অক্কে চুপ।
.
সেই যে ইরা চুপ করতে বলে নিজেও
চুপ হয়ে গেলো সারা রাস্তায় আর
একটিও কথা বললো না।
.
বাসায় এসে ফ্রেশ হতেই মায়ের
ফোন বাজতে শুনলাম! কার সাথে
যেনো ফোনে কথা বলেই যাচ্ছে
মা,
আর এই দিকে ফ্রেস হইয়ে খাবার
টেবিলে বসে আছে আছি।
.
একটু পর মা খাবার দিতে আসলো !!
মায়ের মুখ থমে থমে!
নিশ্চয় আমার কপালে শনি আছে আর
ঐ কল নিশ্চয় ইরার ছিলো!!
.
মা>> কিরে বউমারে কি কইচিস??
(ওমা কয় কি? বউমা কই থেকে আইলো)
>> ও তোমার বউমা হইলো কবে
থেকে??
>> যেই দিন প্রথম ফোনে কথা কইতে
দিলি,
সে দিন মনে ছিলো না এ কথা???
>> যাই হোক, কি বলেছে??????
>> তুই নাকি রাস্তার মাঝে ওরে
অপমান করেছিস??
>> এহ কোণ ফকিন্নি কইলো?????
>> দেখ আমার সামনেই কিন্তু তুই
অপমান করছিস?? মাইর খাবি কিন্তু!!
>> আচ্ছা আগে এই খাবার গুলো শেষ
করি, এরপর খাব।
>> কথা কম বলে বল ইরা কে কি
বলেছিস??????
>> কিচ্ছু না, শুধু বেশি খায় বলেছি!!
>> না, তুই মোটকি বলেছিস নাকি???
>> তাইলে আবার জিগাইলা ক্যান???
>> খারা আমি একটু রান্না ঘড় থাইকা
আইতাচি, তই ভালো কইরা খাইয়া
নে!!
.
>> (মায়ের এই মুহুর্তে রান্না ঘরে
যাওয়া মানে আমাকে ধাবরানোর
জন্য এইয়া বড় লাঠি নিয়া আসা)
একটু পর দেখি ভাবনা আমার সত্য!!
দে দৌড়!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
.
পিছন থেকে শুনতে পাইলাম >> ইরা
যদি তোরে মাফ কইরা আমারে
ফোন দেয় তাইলে বাসায় ঢুকতে
পারবি!!
.
শালার আমারে অপমান করলো
সেটা কিছু না আর আমি একটা কথাই
কইলাম সেটাই বিলা হইয়া গেলো??
বিয়ার আগেই মা বউ মিল্লা
আমারে নাস্তানুবুদ!!
বিয়ার পর দুই বউ শাশুড়ি এক বাড়িত
হইলে আমার জায়গা নিশ্চয় বাড়ির
সামনের ল্যাম্পপষ্টে!!!
.
হাটতে হাটতে ইরার বাসার
সামনে!!
আর ইরা কে ফোন দিচ্ছি কিন্তু ধরে
না!
.
>> মনে মনে (ফোন ধর নাইলে
আইজ আমি শেষ!!)
.
একটু পর ফোন রিসিভ হইলো
.
>> আমারে ফোন দিচ্ছো ক্যান??
>>জানুউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউ
ভালো আছো??
>> এত্তোগুলা ভালো আছি!!
>> আম্মারে ফোন দিয়া কউ প্লিজ
তুমি আমারে ক্ষমা করেছো!!
>> ক্যান আবারো কি ঝাটা পিটা
খাইচো??
>> তুমি এভাবে কইতে পারলা??
>> নাগো জানু আমি কিচ্চু বলবো না
>> অক্কে একটু বেলকনিতে আসো!
>> কেনো?
>> তোমার বাসার নিচে আমি।
>> সত্যি?? তাইলে দৌড়ানি
খাইচো????? হিহিহিহি
>> কথা কম হবে নাইলে.........
>> নাইলে কি হুম?
>> কিচ্চু না তারাতারি আসো!
>> হিহিহি আসতেছি।
.
কিছুক্ষন পর ইরা বেলকনিতে
দাঁড়িয়ে রুদ্র নামের বিচিত্র
প্রানিটাকে তার বাসার সামনে
দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো!
.
>> আমি বাসা থেকে বের হয়ে
আসছি!! (আমি)
>> আহারে তাই নাকি?? (ইরা)
>> আমি সুইসাইড করতে যাচ্ছি!
(আমি)
>> দেরি করছো কেনো?? (ইরা)
>> (চুপ করে আছি)
>> পেচা পেচা হিহিহি দাঁড়িয়ে
আছো কেন? (ইরা)
>> I love U (আমি)
>> কবে থেকে?? (ইরা)
>> ফাজলামু করতেছো? আচ্ছা থাকো
আমি গেলাম!! (আমি)
>> এই শোনো (ইরা)
>> কি?? (আমি)
>> I love u TOO (ইরা)
>> এই কথার এখন দরকার নাই!! আম্মারে
ফোন দাও!! (আমি)
>> এই কথা এখন দরকার নাই মানে?
আম্মুরে কিন্তু এইটাও ফোন করে বলে
দিমু। (ইরা)
.
(এই কেমন মেয়েরে বাবা,নিজের
হবু বর এর নামে এই ভাবে কেউ
নালিস করে?)
.
>> আমি ত ফান করে বল্লাম সোনা,,
আমি ত তোমাকে এত্তত্তত্তত্তত
গুলো ভালবাসি আর ভালবাসি ,, আর
তুমি আমাকে এর দিগুণ ভালবাসো।
(পামের বস্তা মারলাম)
>> হইছে হইছে আর বুঝাতে হবে না
শেষ মেশ হার ত মারলা ইরা কাছে,,
হিহিহিহি।।
শুনো আর কোনো সময় আমার সাথে
খারাপ ব্যবহার করলে তোমার খবর
আছে। এই বার এর মত মাফ করে
দিলাম। যাও বাসায় যাও আমি আম্মু
কে ফোন করে দিচ্ছি। (ইরা)
.
এইভাবেই চলতে থাকে রুদ্র আর ইরার
রাগা রাগি বড়া মিস্টি
ভালবাসা।
.
এরপর দুইজনের ফ্যামিলি ঠিক করে
ইরা আর রুদ্রের বিয়ে দেওয়ার কথা,,,
তারপর বেশ কিছু দিন পর ওদের বিয়ে
হইয়ে যায়।।
.
তবে এখন আর রুদ্র ছেলেটা ইরার
সাথে জগরা করে না। কেন জানি
আর জগরা করার ইচ্ছাও করে না।
ইরাও নিজের মত করে রুদ্র কে ঠিক
করে তুলছে,,
.
সাথে সাথে ওদের ভালবাসাও
আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিয়ের কিছু
দিন পর।
.
-- রুদ্র?
-- হুম।
-- অনেক তো বেলা হলো, উঠো না।।
প্রায় ৯টা বাজে।
--হুম
--কি হুম হুম করছো? উঠো বলছি, না
হলে কিন্তু পানি ডেলে দিব।
-- হুম হুম হুম,, উঠে গেছি সোনা
শীতের মধ্যে প্লিজ পানি ছিটাইও
না
--আচ্ছা যাও ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি
রান্না করতে যাচ্ছি।
-- অকে।
.
ইরা মেয়েটি যেন বিয়ের পর আরো
বেশি মিস্টি মেয়ে হয়ে যাচ্ছে।
ওর দিকে আমি যত বার তাকাই তত
বারই নতুন করে তার প্রেমে পিছেল
খাই।
.
মেয়েটির ভাল দিক যেমন বলেও
শেষ করতে পারি না তেমনি
পাগলামি, দুষ্টুমি গুলো ও বলে শেষ
করা যায় না।
মেয়েটি যখন হাসে গালে টোল
পড়ে। যখন রাগ করে তখন ছোট্ট ছোট্ট
চোখে তাকিয়ে থাকে। সবচেয়ে
প্রিয় জিনিসটি হলো ওর টানা
টানা চোখ জোড়া! কিছুসময় নিয়ে
তাকালে অনুভব করি নিজের চোখ
থেকে বিন্দু বিন্দু জল বের হচ্ছে।
তবুও দু-চোখের পাতা যেনো বন্ধ
হতেই চায় না।
.
মেয়েটিকে সাধারন সাজেই ভাল
মানায়। কখনো কখনো সাধারন
সাজে বেশ অসাধারন লাগে তখন
চোখের তৃষ্ণাগুলো মেটাতে অসম্ভব
হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে সবুজ শাড়ি
পড়লে বেশ মানায়
যেনো মহান আল্লাহ তায়ালা
এইমাত্র সৃষ্টিকরে জীবনদান করে
পৃথীবিতে পাঠিয়েছেন।
.
মাঝে মাঝে মনে হয় স্বর্গ থেকে
পরী এই মাত্র নেমে এসেছে। পথ
ভূলে যাওয়ার জন্য পুনরায় স্বর্গে
হয়তবা ফিরে যেতে পারছে না।
.
-রুদ্র?
-হু?
-নাস্তা তৈরী করা আছে
তাড়াতাড়ি খেতে আসো?
-হুম চলো।
-ইহ্ তুমি তো এখনো দাত পর্যন্ত ব্রাশ
করো নি। যাও তাড়াতাড়ি ব্রাশ
করে নাও। আচ্ছা আমি পেষ্ট
লাগিয়ে দিচ্ছি।
.
এই বলে ইরা চলে গেলো! ভেজা
চুলে তাকে খুব ভাল লাগে।
হয়তোবা এখন স্নান করেছে তাই
হয়তো চুলগুচ্ছ ভেজা। গায়ে লেগে
থাকা হালকা পানিতে ভেজা
শাড়িতে তাকে ভালোই মানায়।
.
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে দূর থেকে
হ্যাচকা টানে এই বুকটায় টেনে
ভেজা চুলে পূর্ণ মাথায় নিজের
হাত বুলিয়ে দিতে। কিন্তু কেনো
যেনো পারি না।
.
-নাস্তা রেডী! চলে আসো। (ইরা)
-ধূর এই গুলা কি? (আমি)
-কেনো পিঠা!
-এগুলো আমি খেতে পারি নাকি?
-এখন প্লিজ খেয়ে নাও।
-না ভাল লাগছে না।
-আচ্ছা আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
.
ভাল লাগে যখন মেয়েটি তার উষ্ণ
নরম হাতে আমাকে খাইয়ে দেয়।
মুহূর্তের মধ্যে ভূলে যাই কি খাচ্ছি!
কিন্তু স্বরণে একটা বাক্য
প্রতিধ্বনিত হয়, মেয়েটির উষ্ণ
হাতের ছোঁয়ায় পিঠা গুলো স্বাদে
পরিণত হয়ে গেছে। হয়তবা আমার
জিহ্বা তার নিজের ক্ষমতার কাছে
হেরে গিয়ে খেয়ে নিচ্ছে।
.
রাত দশটা,
.
বাইরে থেকে বাসায় ফিরলাম।
বাসার দরজায় ধাক্কা দিতেই খুলে
গেলো। তাকিয়ে দেখি সে আর
কেউ নয়, মহারাণী।
.
-রুদ্র ভাত খাবে চলো? (ইরা)
-না ভাল লাগছে না যাও।
-ভাত বেড়ে রেখেছি
তাড়াতাড়ি আসো।
-ওই তোমাকে খাবত না বলেছিলাম
না? জোর করো কেনো?
উত্তরে ইরা কিছুই বলে নি। একগাল
হেসে রুম থেকে বেরিয়ে
গিয়েছিলো।
.
রাত বারোটা,
.
হঠাৎ করে মনে হলো রুমে কারো
উপস্থিতি নেই। সারা ঘর খুজলাম
কিন্তু খুজে পেলাম না। ছাদে
গিয়ে দেখিষজিনিটা দাড়িয়ে
আছে।
জিনিস টা কেউ নয় স্বয়ং ইরা।
চাদেঁর আলোয় তারা রূপকে আরো
মায়াবতী করে তুলেছে। ততক্ষনে
উপলদ্ধি করলাম কিছুক্ষন আগে এই
মায়াবতীর সাথে কঠোর আচরন
করেছিলাম।
.
পেছন থেকে আলতো করে
মায়াবতীটাকে জড়িয়ে ধরলাম।
.
-ইরা?
-হু।
-রাগ করেছো আমার সাথে?
-না।
-তুমি ডিনার করেছো?
-না।
-সেকি কেনো?
-ভাল লাগছে না।
.
বুঝে নিলাম আমার সাথে অভিমান
করে এই অবস্থা। নিজের দুগালে
দুইটা চড় দিলাম। তারপর
মায়াবতীটাকে কোলে তুলে
নিয়ে গেলাম।
.
বসে আছি একটা বড় টেবিলের উপর।
সেখানে বসে আমি আর ইরা।
মাঝরাতে ইরাকে খাইয়ে দিচ্ছি
আর পাগলীটা কাদঁছে।
পাগলীটা কাদঁছে কেনো সেটাই
না জানা রয়ে গেলো। কাদঁছে
কাদুঁক আমি বাধা দিবো কেনো?
.
মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলতে
ইচ্ছে করে ভালবাসিরে তোকে
পাগলী। খুব ভালবাসি। তোকে
ছাড়া সত্যিই আমি অচল।
প্লিজ কখনো ছেড়ে যাস নে আমায়।
.
"সমাপ্ত''
Share:

new bangla golpo 2020

কয়েক শো কোটি চেহারা বাছাই করার পর যে চেহারার সাথে আমাদের সম্পর্ক তৈরি হয়, সে মানুষটি কক্ষনো এই কথা ভেবে বিচলিত হয়না যে, কেন বা তাকেই একজন মানুষ পছন্দ করলো। পৃথিবীর এক কোণায় বসে ভিন্ন কোণার কোনো একটা মানুষের সাথে প্রেম করাটা সাংঘাতিক কোনো ব্যাপার না। যে প্রেম সাদা কালো ভেদাভেদ করেনা, সে প্রেম আজকাল বিলুপ্তির পথে হলেও কিছু কিছু মানুষের মনে আজও সেই প্রেম বিশাল একটা জায়গা নিয়ে অবস্থান করছে।
.
প্রেমের টানে ব্রাজিলের কন্না বাংলাদেশে আসার সংবাদটা পত্রিকায় খুব বড় করে ছাপানো দেখে বিচলিত হয়েছিলাম। কীভাবে সম্ভব?
বাংলাদেশ থেকে দেওয়া কিসের ইমুটা আমাজান জঙ্গলের পাশে অবস্থানরত কোনো এক মেয়ের বুকের কম্পনটা বাড়িয়ে দেয়া কী সাংঘাতিক মনে হয়না?
.
সাত সমুদ্র তেরো নদী উপেক্ষা করে নীড় খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশকে সিলেক্ট করাটা বিদঘুটে ব্যাপার না হলেও, প্রেমের টানে স্বামী সন্তান ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশের একটা কালো ছেলেকে বিয়ে করা কিন্তু অদ্ভুদ এক ব্যাপার স্যাপার। কী আছে এমন প্রেমে।
.
আমি যে আর্জেন্টিনার মেয়েকে জানতাম তার নাম ছিল  ট্রাস্কি ইন্দ্রালা। মেয়েটা তেমন একটা ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ বুঝতো না বলে স্টিকারের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হত। তখন একটা খুব করে ট্রান্সলেট বুঝতাম না। স্টিকারের মাধ্যমে কতদূর এগিয়ে গেছিলাম তারও সঠিক অনুমান নেই। তবে এটা জানতাম মেয়েটা একসময় আমাকে পছন্দ করা শুরু করেছিলো।
প্রায় তিনমাস তার সাথে আমার কথা হয়। এই তিনমাসে আমি বুঝে নিছিলাম তার মনেও প্রেম নামের কিছু আছে। মেয়েটা মদ খেত, নাইট পার্টিতে যেত। আমি একদিন ওকে বলেছিলাম মদ খাওয়া নাইট পার্টিতে যাওয়া তোমার জন্য সুন্দর দেখায় না। ট্রাস্কি বুঝে নিছিলো আসলে ব্যাপারটা আমার পছন্দ না। সেদিন থেকে নাইট ক্লাবে যাওয়া বন্ধ করলেও মদ খাওয়া বন্ধ করেনি।
.
কয়েক শো কোটি মনের পরিবর্তে যে মনটা আমার সাথে মিলেছিল সে ক্যামন ছিল এই ব্যাপারটা তাকে আমি খুব করে জিজ্ঞাসা করিনি। আগে কী করত, কোথায় থাকত এসব প্রশ্ন করে তাকে বিমুখ করিনি কখনো। সত্যি কথা বলতে আমি যে মেয়েকে খুব করে পছন্দ করতাম, তার চেহারা রিলেশনের দুই মাস পর দেখতে পেরেছিলাম। প্রেম হয়ে গলে মানুষ কতটা পাগল হতে পারে, এ হিসাবটুকু আজও আমার অজানার তালিকায় রয়ে গেল। তবে ওর চেহারা মোবাইলের ডিসপ্লেতে ভাসতেই কয়শত চুমু যে খেয়েছিলাম তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বে-হিসাব।
.
প্রেম হয়। তবে অজান্তে। একদম নিরিবিলি পরিবেশে।
সবার অগোচরে। একদম একাকী ভাবে।
প্রেম হয়ে গেলে নিরবতা বেশ ভালো লাগে।
রোমান্টিক মুহূর্ত খুঁজা। রোমান্টিক পিকচার খুঁজা। এসব পছন্দের তালিকায় বেশ বড়সড় একটা জায়গা দখল করে রাখে।
.
১৬ কোটির জনতার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে খুব একটা সহজ ভাবে খুঁজে  বের করা যায়না। তবে ১৬ কোটির মধ্যে যে কারোর প্রতি আপনার প্রেম জাগতে পারে। এটার মধ্যে কোনো নিয়ম টিয়ম কাজ করেনা।
.
প্রেম জাগবে। প্রেম আসবে। তবে সবার সামনে যে নিজের প্রেমকে প্রকাশ করতে হবে, ব্যাপারটা আসলে এমন না। আমরা আসলে ভুল তখনি করি, যখন নিজের অজান্তেই ভুল একটা মানুষের সামনে প্রেমকে প্রকাশ করে বসি। প্রেম সস্তা কাঁচামাল না যে, এখানে ৫ টাকার মাল ৩ টাকা বলা যাবে। প্রেম একদম ঔষধের ফার্মেসির মত এখানে কোনো দাম দর চলেনা।
প্রেম পুষে রাখার জিনিস। সস্তা ভাবে বের করার জিনিস নয়।
.
সবার মনে প্রেম থাকে। তবে কারো কারো মনে প্রেমের সাথে লোভ থাকে। প্রেম তাকেই দিন যে দু হাত ভরে প্রেম কুড়ানোর পরও আরো প্রেম পাওয়ার জন্য লোভ না করে। কোনো জিনিসেই অতিরিক্ত লোভ ভালো না।
.
প্রেম পুষে রাখুন নিজ দায়িত্বে, একান্ত নিজের ভাবে, নিজের মনের মত করে। সময় আপনাকে ঠিকই আপনার সঠিক মানুষ চিনিয়ে দিবে, যে আপনার পুষে রাখা প্রেমের যোগ্য। থাকুন না একটু অপেক্ষায়! সঠিক মানুষ চিহ্নিত করার তরে।
.
লেখা,,,দুষ্টু ছেলে আরিয়ান
Share:

নতুন পথচলা গল্প

"নতুন পথচলা "
সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় ফিরলাম, এসেই দেখি কয়েকজন লোক বসে আছে সোফায়। আমাকে দেখা মাত্র সবাই হাস্যউজ্জল চোখে তাকালো আমার দিকে। কিন্তু কাউকেই তেমন চিনতে পারলাম না বলে আমিও হাসির ভঙ্গিতে তাকিয়ে রুমে চলে গেলাম। হঠাৎ মনে পড়লো কাল মা বলেছিলেন তারা নাকি আমাকে ফাসিতে ঝুলাবার জন্য কোন মেয়ে দেখেছে, তাদেরও নাকি আসার কথা। এখন বুঝলাম যে এরা তাহলে কারা! ফাসি বলেছি কারন বিয়েটা ছেলেদের কাছে একরকম ফাসির মতোই। স্বাধীন ভাবে চলার পথে যদি কোনো মেয়ে সঙ্গী হয় তাহলে আর মনের মতো চলা যায় না। তার জন্য অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সামনে আগাতে হয়, অনেকদিক থেকে উপদেশও আসে আমি আর একা নই। আগে ছিলাম দু'পা এখন হয়েছি চার'পা তাই বুঝে শুনে চলতে হবে। এরকম অনেক দেখতাম মামাতো,খালাতো,ফুফাতো আর চাচাতো ভাইদের সাথে ঘটেছে। তখন অবশ্য আমিও তাদের উপদেশ দিতাম। এখন সেই সবকিছু ঘটবে আমার সাথে, ভাবতেই কেমন যেনো লাগছে আমার।
-
-
মা এসে বললেন তাদের সাথে দেখা করতে। আমিও এখন তাকে কিছু বলতে পারছি না কারন অনেক ঘ্যানঘ্যান শুনে বলেছিলাম আমি রাজি কারন বেশি ঘ্যানঘ্যান সহ্য হয় না আমার। তাই চুপচাপ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালাম। ব্যাবসা ক্ষেত্রে কত মানুষের সাথে কথা বলি বৈঠক করি তার হিসেব নেই কিন্তু আজ এখন তাদের সামনে যেতে আমার অস্বস্থী লাগছে। কি পরে যাব কি বলবো কিছুই বুঝতেছি না, নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে। সাতপাঁচ না ভেবে চলে গেলাম যেমম আছি তেমন ভাবেই। বলাবাহুল্য আমি রুমে এসে শুধু ফ্রেশ হয়েছি কাপড় বদলাইনি, শার্ট আর প্যান্ট পরা ছিলাম শুধু টাই খুলেছি। আমি কি বলবো কিছুই মাথায় আসে না, তবে এতটুকু ভেবে শান্ত যে আমার আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে হবে না, তারা হয়তো আমার ব্যাবসা নিয়ে নয়তো অন্যকিছু নিয়ে জানতে চাইবে। অতঃপর গেলাম,
-
বাবাঃ মারুফ আয় বস।
আমিঃ আস-সালামুয়ালাইকুম, জ্বী আব্বু(সালাম জানিয়ে বসলাম)।
বাবাঃ মারুফ এই হিচ্ছে জনাব, মোঃ হাবিবুর রহমান আর এই হচ্ছে তার অমুক তমুক(ইত্যাদি সবার নাম বলে পরিচয় করিয়ে দিলেন বাবা)
আমিঃ সবাইকে সাদুবাদ জানিয়ে হাসির ভঙ্গিতে তাকলাম আর সবার সাথে হাত মিলিয়ে নিলাম।(আমি জানতামও না যে মা যেই মেয়ে দেখেছে তার নাম কি! তবে বাবা যাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন তিনি নিশ্চয়ই মেয়ে বাবা।)
মেয়ের বাবাঃ তা বাবা কেমন আছেন আপনি?
আমিঃ আল-হামদুলিল্লাহ এইতো ভালই আছি আংকেল আপনি?
মেয়ের বাবাঃ আল-হামদুলিল্লাহ। দিন কাল কেমন চলছে?
আমিঃ ভালই চলছে আংকেল। আপনার?
মেয়ের বাবাঃ হ্যা এই চলছে, বুড়ো হয়ে গেলাম যে। তা ব্যাবসা কেমন চলছে বাবা?
আমিঃ আল্লাহর রহমতে ভালই চলছে আংকেল।
-
-
এভাবে উপস্থিত সবাই টুকটাক প্রশ্ন করে সাক্ষাৎকার হলো। নাশতা শেষে আরও কথা হলো সবার সাথে, পরিশেষে তারা চলে গেলেন। আমিও হাফ ছেড়ে বাচলাম! মনে হচ্ছিলো যেন আজই আমার বিয়ে। রুমে গিয়ে কাপড় বদলে নিয়ে বসতেই মা এলেন,
-
মাঃ তোরে সেদিন বললাম রাতে বাসায় জলদি আসতে যাতে মেয়েটার ব্যাপারে বলতে পারি আর তুই সেদিন রাতে এলিই না?
আমিঃ মা আমি কিভাবে আসবো তোমাকে তো বললাম কুয়কাটায় নতুন হোটেল চালু হচ্ছে আমাদের, তাই রাতে ওইখানে থেকে গেছিলাম তাও এটা নিয়ে কথা বলছো?
মাঃ ওইটা তোর বাহানা। নয়তো বাসায় এসেও এইকদিন আমার সাথে কথা বললি না কি ব্যাস্ততা দেখাচ্ছিস এতো?
আমিঃ আরে না এমন কিছু নাহ।(যদি বলি বিয়ে থেকে বাচার জন্য দূরে দূরে থাকি তাইলে শেষ)
মাঃ এই নে মেয়ের ফোন নাম্বার, ওর নাম হিয়া। কাল দেখা করিস কোথাও। তোরা কেউ কাউকে দেখিসনি তাই এই ব্যাবস্থা করা হয়েছে। তাদের তোকে আর আমাদের হিয়াকে বেশ পছন্দ হয়েছে যা এইবার তোরা দেখা করলেই ঠিক করে ফেলবো।
আমিঃ ঠিক করে ফেলবা মানে? কি ঠিক করবা? রাজি হইতে পারলাম না এর মধ্যেই ঠিক!!
মাঃ তাইলে কি করবো? অমন ভাল নামাজী, পর্দাশীল মেয়েটা হাত ছাড়া করবো? তুইও তো এমনই চাইছিলি।
আমিঃ যা হোক আমি দেখা করতে পারবো না ওই মেয়ের যদি দেখার ইচ্ছে থাকে তাইলে আমার ছবি দিয়ে দিও। আমার অনেক কাজ আছে।
মাঃ তোর আগেই সে অসম্মতি জানিয়েছেন দেখা করায়। মেয়ে পর্দাশীল কিনা তাই। তোর যদি পরে কোনো কথা থাকে তাই এইটা আমি বলেছিলাম। তুই ও যদি না চাও তাইলে তো আর কোনো কথা নেই।
আমিঃ (মায়ের কথা শুনে কিছুটা চুপ হলাম, মেয়েটা তাইলে ভালই হবে যেহেতু দেখা করতেও তার অপরাগতা আছে।) আচ্ছা যা করার করেন।
-
-
শুনেই মা আমার কপালে চুমু দিয়ে হাসি মুখে রুম প্রস্থান করলেন। বোঝাই যাচ্ছে অনেক খুশি হয়েছে সে, অনেকদিন পরে তার মুখে এই হাসি দেখলাম। হয়তো ভাবছে তার পছন্দই আমি না দেখে সম্মতি দিয়ে দিয়েছি, আসলে ব্যাপারটা সেরকমই। আমি মায়ের পছন্দ খুব কম সময়ই গ্রহণ করেছি আর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম জীবনের সব চেয়ে বড় সঙ্গী তার পছন্দেই আসবে। তাই করলাম যার জন্য প্রশান্তিও পাচ্ছি বেশ। ওর নামটা মনে উকি দিচ্ছে বার বার, আমার নাম ভেঙে ওর নাম বানানো যাবে মনে হচ্ছে।হ্যা ঠিক তাই, কিন্তু মিলল কিভবে এমন!অতঃপর দিনক্ষণ দেখে আমাদের বিয়ের দিন ঠিক হলো, বিয়ের দিন ওদের বাড়ি যাওয়ার পূর্বে মা বলে ছিলেন তার পরেই আমার জীবনে আমার অর্ধাঙ্গিনীর স্থান। সুতরাং আমি যেন হিয়াকে কখনো কোনো ভাবে তুচ্ছ না ভাবি। মাকে যেমন ভালবাসছি ওরেও তেমন ভালবাসা দিতে বললেন। আমি কোনো কথা বলিনি শুধু শুনেছি আর মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালাম। আমার বোন বলেছেন তোর বউর কাছে যেন কোনো অভিযোগ শুনতে না পাই! বাবারতো কথাই নেই। পৃথিবীতে ভয় পাই এই একটা মানুষকে, আজ পর্যন্ত কখনো চোখ তুলে কথা বলিনি, সে আসার আগে যাই করি বাসায় একবার তার প্রবেশের খবর পেলে আমি সব চেয়ে ভদ্র বনে যাই তখন শুধু আপু আমাকে খোচাতো! বাবাও বললেন বউ জানি কষ্ট না পায় সহজে। আমি আমার পরিবারের আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হয়ে আছি, বিয়ে না করলে হয়তো জানাই হতো না এসব। যেখানে আজকাল বোনেরা বলে বিয়ে করে বউয়ের খুটি ধরিস না সেখানে আমার পরিবার কতটা আলাদা। খুব ভাল লাগছে, আসলে এদের জন্যই মানুষ কিছু করতে পাতে কিছু করতে চায় যারা সবাইকে আপন ভাবে। আপনি যদি নিজের ভাইয়ের বউকে পর ভাবেন আর ভাইয়ের সাথে তা বলেন তখন আপনার ভাই যতই আপন থাকুক তার মন ভাল থাকবে না আপনাকেও সে পরের চোখে দেখতে শুরু করবে। হাসি দিলেও সেটা দেখানো হাসি হবে। তারপর তাদের দাম্পত্য জীবনেও সমস্যা হবে কারন আপনিতো আগেই ভাইয়ের মনে বিষ ঢেলে দিয়েছেন। এমনটা যে শুধু বোনরা করে তা নয় বাবা-মা আর ভাইও অনেক সময় এই ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। তবে সব পরিবার যে এমন তা নয়। গুটিকয়েক এমন হলেই সমাজটা নষ্ট করতে যথেষ্ট।
-
-
যাহোক পরিবারের এহেন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য চুপচাপ শুনে সবাইকে নিয়ে চলে গেলাম ওদের বাড়িতে(মা বাদে)। বিয়ে করে বউ নিয়ে আসতে আসতে ধকলের যেন শেষ নেই। একটার পর একটা পর্ব লেগেই থাকে। অবশেষে বাসর ঘরে ঢুকবো, ভাবছি এইবার হয়তো সব পর্ব শেষ কিন্তু তাতেও রেহাই নেই।  রুমের সামনেই একদল ছোট ভাই বোনেরা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাদের বাসর সাজানোর পারিশ্রমিকের জন্য।
-
আমিঃ কি ব্যাপার ভাই বোনেরা আপনারা এখানে কেন?
ওরাঃ ভাইয়া টাকা দাও ৫হাজার তারপর ঘরে ঢুকবে তুমি।
আমিঃ আসলে হয়েছি কি! আমি আমার ওয়ালেট ঘরেই রেখেছি তোরা দাড়া আমি আনছি।
ওরাঃ এই বুদ্ধি অনেক পুরনো হয়ে গেছে ভাইয়া তুমি টাকা না দিয়ে ভিতরে যেতে পারবে না।
আমিঃ তাইলে এককাজ কর তোরা ভিতরে যা নয়তো এখানেই থাক আমি আজ অন্য ঘরে ঘুমাই নয়তো ছাদে গিয়ে হাওয়া খাই।
ওরাঃ এই না তুমি যেখানে যাও টাকা দিয়ে যাও।
আমিঃ আমি ঘরে ঢুকতে চাইনা।
ওরাঃ আচ্ছা তাহলে কত দিবা?
আমিঃ এইবার আসছিস লাইনে। আরে ভাই দানের টাকার কি কোনো হিসেব হয়? এইনে পকেটে হাত দিলাম যা উঠবে সব তোদের।
ওরাঃ না না কদু আজাদগিরী চলবে না তোমার ৩হাজার তো দিতেই হবে।
আমিঃ এইতো যা আছে তাই দিচ্ছি(বলে পকেট থেকে টাকা বের করে দিলাম। আমি নিশ্চিত ছিলাম ওইখানে ২হাজার এর বেশি ছিল তাই ওরা আর কিছু না বলে গেলো)।
-
-
অতঃপর ভিতরে ঢুকতেই ভাবিদের আগমন। রক্ষা নেই সারারাত ধরেই কি পর্ব চলবে নাকি বুঝিনা। যাহোক তারা অনেক ব্যাক্তিগত কথা বলিতে শুরু করেছেন যাহা শুনিয়া আমারতো মাথা নিচু হয়ে গেলো, লজ্জায় মনে হচ্ছিলো ঘর থেকে বের হয়ে যাই। কিন্তু এতো টাকা দিয়ে ঢুকে কোনো ব্যাবসায়ী ক্ষতির সম্মূখীন হবেন না আমিও তাই বের হলাম না। হিয়াও দেখলাম মাথা নত ঘোমটা দেয়া, এখনো ওর মুখ দেখিনি পিচ্চি গুলায় ভয় দেখাইছিলো বউ নাকি কালা, আমি কইলাম তোরা সবাই ভালা। আমকে ভয় পাওয়াইতে না পেরে আর আসেনি। ভাবিদের পর্ব শেষে তারাও ঘর প্রস্থান করে যেতেই দরজা দিলাম লাগিয়ে। আর কেউ জানি আসিতে না পারে।
-
-
হিয়া আর আমি ঘরে, এই প্রথম আমার ঘরে কোনো মেয়ে বসে আছে আমার শোবার স্থানে। কি বলবো বুঝলাম না চুপচাপ হুদাই ঘরের ভিতর হাটছিলাম। হঠাৎ দেখলাম সে উঠে দাড়ালো আমার দিকে আসছে দেখে ভয়ে শেষ আমি। এখনো ঘোমটা দেয়া, আর সহ্য হচ্ছে না এভাবে থাকতে, ওর মুখ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিলো খুব। সে এসে আমার পায়ে হাত দিয়ে সালাম দিলো, আমি কি বলবো বুঝলাম না তাও তাকে ধরে উঠিয়ে বললাম থাক থাক উঠুন, দোয়া করি আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক, আমিন। সেও আমিন বলল, এই প্রথম তার কন্ঠ শুনলাম আমি কি মধুর কন্ঠ ছিল তার।
-
-
বিছানায় গিয়ে বসলাম দুজন তারপর,
আমিঃ কেমন আছেন আপনি?(ঠিক প্রশ্ন কিনা জানিনা তবে এটাই মাথায় এলো)
হিয়াঃ আল-হামদুলিল্লাহ। আপনি?
আমিঃ আল-হামদুলিল্লাহ। পুরো নাম কি আপনার?
হিয়াঃ জান্নাতুল ফেরদৌস হিয়া।
আমিঃ খুব ভাল নাম। আমার নাম মোঃ মারুফ ইসলাম হৃদয়।
হিয়াঃ হুম।
আমিঃ আমার নাম ভাল লাগেনি?
হিয়াঃ লাগবে না কেনো? এই নাম দিয়েই হয়তো বিধাতা আমার নাম রেখেছে।
আমিঃ মানে আপনিও এটা বের করেছেন?
হিয়াঃ আমিও মানে আপনিও?
আমিঃ হ্যা। (দুজন মুচকি হাসলাম।) কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি?
হিয়াঃ জ্বী অবশ্যই।
আমিঃ আমি কারো সামনে থেকে মুখ না দেখে কথা বলতে পারি কিন্তু নিজের বউয়ের মুখ ঢাকা থাকায় কিছুটা বিচলিত লাগছে।
হিয়াঃ বুঝতে পারি কিন্তু কি করবো বলুন এটা(ঘোমটা) সড়িয়ে নেয়া যে আপনারই দায়িত্ব।(অনেক জরতা আর লজ্জা নিয়ে বলল ও)
আমিঃ (কথাটা শুনেই কেমন যেনো লাগলো, কাপা কাপা হাতে সড়িয়ে নিলাম তার মুখের পর্দা। চোখ নিচু করে আছে লজ্জায় গাল দুটি লাল আভা ধারণ করলো তার। অপরূপ লাগছে তাকে, চোখের কাজলের মায়ায় যেন হারিয়ে যাচ্ছি আমি। সম্মহিত হয়ে গেলাম যেনো। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘোর কাটলো আমার। মোমবাতি জালিয়ে নিলাম, মোমের লাল আলয় আরও আলোকিত লাগছিলো তাকে। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকুরিয়া আদায় করে নিলাম। তার থুতনি স্পর্শ করে) আমার দিকে তাকাবেন না?
হিয়াঃ (১মিনিট স্থির হয়ে, কয়েকবার চোখে পলক পড়লো তার, এক পলক তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করে রইলো, হয়তো লজ্জায় তাকাতে পারছে না।) হুম।
আমিঃ ভাল লাগেনি আমায়?
হিয়াঃ কিছুই বলল না!
আমিঃ মৌনতা সম্মতির লক্ষণ কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমাকে আপনার ভাল লাগেনি,
হিয়াঃ লেগেছে!
আমিঃ জ্বী কিছু বললেন?
হিয়াঃ বলছি লেগেছে।
আমিঃ কি লেগেছে?
হিয়াঃ (লজ্জিত কন্ঠে) কিছু নাহ।
-
বুঝলাম সে লজ্জা কাটিয়ে উঠতে পারছে না তাই তাকে সময় দিলাম।
-
-
 আমি এখন কি বলবো কি করবো কিছুই বুঝিনা, শুরু করলাম পরিবার নিয়ে কথা বলতে। কাকে কিভবে খুশি করতে হবে সব বললাম ওরে। আর আজ সকালে আব্বু-আম্মু আর আপু কি বললেন তাও সব বললাম। শুনে সেও খুব খুশি হলো। তার পরিবার সম্পর্কে বলল। কথা বলতে বলতে রাত অনেক হয়ে গেলো, বিদ্যুৎ মাঝেই এসেছিলো।  তারপর দুজন শুয়ে পরলাম, সারাদিনের ক্লান্ত শরীর এখন অনেক সবল মনে হচ্ছে। জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত পার করতেছি ঘুমের কোনো অবকাশ কারো চোখেই নেই।।। শুরু হলো জীবনের নতুন অধ্যায় নতুন সঙ্গী নিয়ে নতুন পথা চলা।
-
-
বি দ্রঃ ভূল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ, ভাক থাকবেন।
-
-
লিখাঃ Md Maruf Islam (খান সাহেব)
Share:

অপ্রকাশিত_ভালোবাসার গল্প পর্ব:৩

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
#পর্ব:৩
#লেখক:অনিকেত প্রান্তর
এটা কি তাহলে কোনো মানুষ নাকি তাসফিয়ার বলা সে কোনো অদৃশ্য ছায়া ,,,,।চিন্তা করে কোনো সমীকরন দাড়া করাতে ই পারছি না ।আমার সাথে খারাপ কিছু হলেই সে এভাবে মরে যাচ্ছে কেনো ?আর কেনো ই বা এসব হচ্ছে ?
সারা রাত পুলিশ এর টহল ছিলো ।কোনো কিছু ই ঘটেনি কিন্তু ঘটলো এর পরের দিন ।যখন সকাল হলো সবে মাত্র ঘুম থেকে উঠেছি নাস্তা করবো এমন সময় দরজায় কলিংবেল ।আমি ভাবছি কে এলো এ সময় ?পুলিশ ই বা আসতে দিলো কি করে,,।দরজা খুলতে দেখলাম তাসফিয়ার আম্মু ।আমি অবাক হয়েছি কিন্তু তাসফিয়া একটুও অবাক হয়নি মনে হয় ও জানতো যে এমন কিছু একটা ঘটবে ।আমি কোনো কথা বলিনি এবং তাসফিয়াও না।তাসফিয়ার মা এসেই কান্না শুরু করলো ।তাসফিয়াও কান্না করছে অনবরত ।আমি এসব না ভেবে তাসফিয়ার মা কে প্রশ্ন করলাম,,,
--আপনি না হারিয়ে গিয়েছিলেন ?কোথায় ?আর ফিরে এলেন কিভাবে ?
--সে একটা কাহিনী ,,,তার আগে আমার একটু বিশ্রা্ম লাগবে ।
 আমি খাবার এর সব ব্যবস্থা ই করে রেখেছি ।এভাবেই দুপুর হলো ।আমি এই কাহিনীর সবটা ই জানতে চাই তা না হলে কোনো কিছু ই করা সম্ভব না ।তিনি বলতে শুরু করলেন,,,
--যেদিন আমার বিয়ে সেদিন তুমি তাসফিয়াকে নিয়ে গিয়েছিলে ।তারপর যখন আমার ফোন আনতে রুম এ আসি ঠিক তখন ই সারা ঘর এর লাইট বন্ধ হয়ে যায় ।আমি কিছু বলার আগেই কোনো কিছুর গন্ধে মাটিতে পরে যাই ।তারপর মনে হলো ঘুমিয়ে পড়ছি ।যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখি চারদিক অন্ধকার কেউ নেই ।একজন মানুষ এর ছায়া দেখলাম দেয়ালে কিন্তু তাকে দেখা যাচ্ছে না ।তিনি বলতে শুরু করলেন তাসফিয়াকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করা ঠিক না ।যদি করিও তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে ।আমি চুপ ছিলাম একদম ।যখন তাসফিয়ার কান্না দেখলাম এবং ও যে অসুস্থ হলো তা সব দেখে আমার মন মানুষিকতা পাল্টে গেলো ।কিন্তু কিছু ই বলতে পারছিলাম না ।এক সময় ছায়ার মতো কেউ একজন বলে উঠলো সন্তান যখন পথের কাটা তাহলে তাসফিয়াকে মেরে ফেলি ?তখন চিৎকার করে বললাম না ,?ওই একদিন সারাটা সময় কান্না করেছি ।এরপর আর কথা হয়নি ছায়ার মানুষের সাথে আমি ভেবেছি হয়তো তাসফিয়াকে মেরে ফেলেছে ।কালকে রাতে ওই এক ই বিকট গন্ধ ছড়ানো হয় আমি আবার ঘুমিয়ে পড়ি উঠে দেখি বাসায় ।হাতে তোমার বাসার ঠিকানা লিখা যে তাসফিয়া এখানেই আছে ।আমি উঠে এক দৌড়ে আসলাম ভাবলাম যে তাসফিয়া আর নেই ,,।কিন্তু আমি আমার মেয়েকে খুজে পেয়েছি ।
--বুঝলেন তো মেয়েটা কত ভালোবাসে আপনাকে ?
--হ্যা,তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ।আমার মেয়েটাকে অনেক দেখে রেখেছো ।না হয় কোনো না কোনো খারাপ মানুষ এর হাতেও পড়তে পারতো ।আল্লাহ রক্ষা করেছে ।তা তুমি কে ?
--আমি যে ই হই আপনার মেয়েকে নিয়ে যান,,
আমার কিছু ই ভালো লাগছে না ।কে এই মানুষ যে এমন কাজ করছে ।আমার জীবন টা একদম শেষ করে ফেলছে ।আমি আর পেরে উঠতে পারছি না ।তাসফিয়া তার আম্মুর সাথে চলে গেছে ।আমি একা ই এই হোটেল এ থাকছি ।পুলিশ চারদিকে টহল দিচ্ছে ,আমি শুধু এই সব কিছুর সমাধান চাচ্ছি কারন আমার জন্যই হয়তো এই মানুষ গুলোর প্রান গিয়েছে ।এটার সমাধান আমাকেই বের করতে হবে ।পুলিশ কে আমার সব কথা খুলে বললাম কিন্তু অফিসার আমার কোনো কথা ই বিশ্বাস করতে রাজি না ।তারা এটা নিয়ে হাসা হাসি করে
 ।তারপর প্রমান সহ হাতে নাতে ধরবো বলে তাদের কে বললাম ।প্লেন ও ঠিক করে ফেললাম ।কোথায় কি করতে হবে সব বলে দিলো পুলিশ ।সেদিন রাতে এক পুলিশ ছদ্য বেশ এ রুম এ আসে ।তার সাথে ছোট্ট একটা পয়েন্ট নিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে ফেলি ।এখন আমি নিশ্চিত যে এই লোক আর বাচঁবেনা কারন আমার সাথে যে ই খারাপ করে সে ই মারা যায়।ভেবেছিলাম এতে হয়তো কাজ হবে ।সারা রাত ভাবলাম কে হতে পারে ।কিন্তু পরের দিন যখন পুলিশের কিছু ই হলো না তখন বুঝলাম আসলে এসব কিছু ই না ।পুলিশ আমার কথা কে একদম হাসি দিয়ে উরিয়ে দিয়েছে ।তারা এক প্রকার পাগলও বলছে আমাকে ।এই হোটেল পাল্টে রিসোর্ট এ উঠবো ভাবছি কিন্তু এই পুলিশ রা নানা রকম সমস্যা করছে আমাকে ।অনেক কষ্টে সিলভার কেসেল রিসোর্ট এ চলে এলাম ।এর পাশেই পুলিশ এর থানা ।ভালো ই হলো আমার ।আমি এখন অন্য কিছু ভাবছি কারন আমার সাথে খারাপ কিছু করলে সে তো মরে যাওয়ার কথা মরলো না কেনো ? সমাধান আমাকেই বের করতে হবে ।এসব চিন্তা করছি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখছি তাকিয়ে ।দুপুর এ গোসল করে কাপর বারান্দায় শোকাতে দিয়েছিলাম ।যখন বারান্দায় গেলাম তখন ই ঘরে একটা শব্দ হলো ।ফ্লোরে একটা কলম পড়ে আছে ।কলম টা হাতে নিয়ে তুললাম ,তার ভিতর থেকে বড় একটা কাগজ পেলাম মুচরানো ।আমি ভেবেছিলাম এটা কোনো পিচ্চি হয়তো ফেলে গেছে ।কিন্তু কাগজ খুলে যা লিখা ছিলো তা আমাকে অবাক এর শেষ প্রান্তে নিয়ে গেলো।লিখা ছিলো,,
--তুমি চাইলে ওই পুলিশকেও মেরে দিতে পারি ।কিন্তু পুলিশ এর ১ মাস এর একটা বাচ্চা আছে তাই কিছু ই করিনি ।তবে তুমি মনে করলে শেষ করে দিবো ।আর উরনা ছাড়া বারান্দায় যেয়ো না ।তোমার খারাপ হবে ।
 এবার সত্যি ই অনেক ভয় পেলাম ।সে রাতে সব কিছু লাগিয়ে ঘুমিয়েছি ।সকাল এ তাসফিয়ার আম্মু আর তাসফিয়াকে আসতে বলেছি ।কারন এখানে আমার কেউ নেই ।সারাদিন তাসফিয়াকে নিয়ে ঘুরলাম ।তার আম্মুকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি ।রাতে বসে আছি আমি আর তাসফিয়া ।তাসফিয়াকে ঘরে রেখে রান্না ঘরে যাবো এমন সময় একটা কি যেনো অতিদ্রুত চলে গেলো মনে হলো ।কি যে চলে গেলো বুঝতেই পারলাম না এটা কি ছিলো ?এভাবেই দশ দিন পার হয়ে যায় ।আমি আগের মতো ই স্বাভাবিক হয়ে উঠি ।বিকেল এ যখন একা একা পার্কে গেলাম নৌকায় ঘুরতে ।তখন ই কিছু বখাটে ছেলেরা বাজে কথা বলছিলো ।কথার উওর দিতেই বলা শুরু করলো,,
--চিনোস আমি কেডা ?এই এলাকার এমপির চাচাতো ভাই ।ভাব কম দেখাবি বুঝছস ?একদম চিরে খেয়ে ফেলবো ?
আমি কিছুই বলিনি জানি এর পরিনাম খারাপ হবে ।এরপর দিন আর বাসা থেকে বের হয়নি ।রিসোর্ট এর কেয়ার টেকার এর কাছে শুনেছি ওই এমপির চাচাতো ভাই নাকি খুন হয়েছে ।সাথে ওই চেলা পেলা গুলোও ।আমি জানি এসব এর পিছনে শুধু আমার রাগ থাকার কারন ।এখানের স্থানীয় পুলিশ অফিসার আমাকে নানা রকম কথা শুনিয়েছে ।কারন এই সব মৃত্যুর জন্য নাকি আমি ই দায়ী ।কিন্তু কেউ আমাকে থানা পর্যন্ত নিতে পারছে না কারন কেউ একজন এর মাধ্যমে তারা জেনেছে আমাকে কিছু করলেই তাদের নানা রকম সমস্যায় পড়তে হবে ।এভাবেই দিন কাটতে থাকলো আমার ।চারদিকে পুলিশের সিকিউরিটি থাকতো আমার। একদিন পার্কে বসে ছিলাম হঠাৎ একটা ছেলে এসে আমাকে এক গুচ্ছ ফুল দিয়ে কোনো কিছু না বলে চলে গেলো ।এতো ডাকলাম শুনলো ই না ।আমি ভাবলাম হয়তো এই ছেলেটাও শেষ হবে কিন্তু না তার কিছু ই হলো না ।এভাবে তিন দিন হলো ছেলেটা রোজ ফুল দিয়ে কোনো কথা না বলে চলে যেতো ।আমি এই তিন দিন মনে অনেক সাহস পেয়েছি কারন এর আগে যে ই আমাকে কটু কথা বলেছে সে ই শেষ ।এক সময় ছেলেটার সাথে একদিন কথা বললাম ।এর পর দীর্ঘ দুই মাস পর ছেলেটা আমাকে প্রপোজ করলো ।আমিও না করিনি কারন একমাত্র এই ছেলে ছাড়া়া আমার আর কেউ ই নাই ।
 এভাবেই এলো পহেলা বৈশাখ ।সেদিন ই ফারদিন এর সাথে দেখা করতে যাবো তার হাত ধরে আজ ই প্রথম হাটবো ।সুন্দর করে সাজলাম যখন বের হবো ঠিক তখন ই আমার ঘাড়ে কিছু একটা গেথে গেলো মনে হলো ।সেটা খুলে সামনে আনতেই দেখলাম কলম এর কালি থাকে যে পাইপ এ সেই পাইপ এর মাথায় সুই এর মতো চুকা যা আমার ঘাড়ে গিথে ছিলো ।এই পাইপে কিছু একটা তরল পদার্থ ছিলো ।কিন্তু কিছু বলার আগে ই আমি ঙ্গান হারাই ।আমি যখন জেগে উঠি সামনে তাকাতেই দেখি একটা বিশাল বড় ছায়া ।তখন ই শুনতে পেলাম,,,
--কত গুলো খুন করেছি জানি না ।তবে সবার শেষ এ তো আমাকে যেতে ই হবে ।আর পাচঁ মিনিট পরে জানতে পারবে আমি কে ,,,,।আমি সব কিছুর সমাধান দিয়েই আমি চলে যাবো ।
 চলবে,,,
Share:

Bangla Golpo 2020

কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে একজন মেয়ে বলতে গেলে আমার থেকে
৪/৫ বছরের বড় হবে৷আমাকে ডাক দিয়ে বললো-
-- এই ছেলে?,এদিকে এসো তো(মেয়ে)
-- জ্বি আপু, আমাকে বলতেছেন?(আমি)
-- আজ্ঞে হ্যা জ্বি জনাব, আপনাকেই বলতেছি।
-- ও আচ্ছা,,,,আমি কিভাবে আপনার উপকারে আসতে পারি আপু?
-- কানের নিচে এমন তবলা বাজাবো না আপু ডাক সারাজীবনের জন্য ভুলে
যাবি। আপু আপু শুরু করেছে, যেনো উনি আমার মায়ের পেটের আপন ছোট
ভাই।
-- sorry ভুল হয়ে গেছে আপু
__তুই আবার আপু বললি কেন?(রেগে আগুন)
---আপনি আমার থেকে ৪-৫বছরের বড়৷তো .কি বলব?
--আবার আপু বললে খুন করে ফেলব(অনেক রেগে)
---আচ্ছা ভুল হইছে, ডাক দেওয়ার কারনটা জানতে পারি কি? ( কি গুন্ডী
মেয়ে রে বাবা)
-- হুম বলতেছি। তার আগে বলো আমি তোমার কি হই? মানে হলো আমি
তোমার কাছে কে?
-- আপু বললে মাইর দিবেন,,, তবে আন্টিও বলা যাবে না কারন এতো অল্প
বয়সে আপনাকে আন্টি মানাবে না। আর বান্ধবীও হবে না কারন আমরা
সমবয়সী না।
-- ঐ ইয়ার্কি মার্তেছিস তাই না? ঘুসি মেরে নাক ফাটিয়ে দিলে সব তোর
মাথায় এসে যাবে যে আমি কি হই।
-- এই না,,, আম্মুর আর ছোট বোন ছাড়া কারো হাতে আজ অবধি মাইর খাই
নাই,,টিচারও মারে না আমাকে। আপনি মারলে মানসম্মান থাকবে না
আমার। ( কার খপ্পরে পড়লাম এসে?? কথায় কথায় তেড়ে আসে মারার জন্য।)
-- আহারে কচি খোকা রে,,,,আর হ্যা শোনো আমি তোমার বউ হই। এখনও হইনি
অবশ্য তবে হবু-বউ হই তোমার।
-- আপনার মাথা ঠিক আছে??? কি সব আবোল তাবোল বলতেছেন আপু? গরমে
মনে হয় আপনার মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে।আর দুদিন ধরে যে গরম পড়ছে
মাথা নষ্ট হবারই কথা
-- এই শেষবারের মতো বলতেছি আপু বলবি না আমাকে। বউ বলে ডাকবি আর
না হয় জান, বাবু, এইসব বলে।
-- আচ্ছা ঠিক আছে, তবে আপনার নাম কি আপু? আর এসব যে বলতেছেন তার
মূল কারন বা উদ্দেশ্যটা কি? ( এই যাহ! মুখ ফসকে আবারো আপু বলে
ফেলেছি।)
-- ঠাসসসসসস..........আবারো আপু বললি কেনো? ( মুখ ফসকাতে দেরি হলেও
হাত ফসকাতে দেরি হলো না ওনার।)
-- আরে আপুই তো বলেছি এতে মাইর দেওয়ার কি আছে?
--- অনেক কিছু আছে। তোমার আর আমার বিয়ে ঠিক করেছে তোমার বাসার
লোক আর আমার বাসার লোক। তাই এখন থেকে আর যেনো আপু বলবা না।
আর আমার নাম নিলা।
-- এ বললেই হল নাকি?আমার মত এমন ছোট্ট পোলার সাথে আপনার মত গুন্ডি
নানির সাথে আমার বিয়ে???হো হো হো হাসি পাইল
---ঠাস ঠাস ঠাস
--ওই মারেন কেন?
---আমি নানি?হুম?আমার সাথেই তোর বিয়ে(রেগে)
---আপনাকে এসব কথা কে বলেছে? আর আমার বাসার লোক এমন কাজ করবে
না আমাকে না জানিয়ে।
--- তোমার মা-বাবার কাছে আজ আমার মা-বাবা গিয়েছিলো বিয়ের
প্রস্তাব নিয়ে। আর তারা সবাই যখন রাজি তখন কি করবে আর তুমি পাজি?
-- না আ আ আ আ আ আ৷এটা হতে পারে না। আমি রাজি না এই বিয়েতে।
-- মেরে চামড়া ছিলিয়ে লবণ আর গুরা মরিচ লাগিয়ে দিবো যদি বিয়ে
নিয়ে কোনো উলটা পালটা কাজ করেছিস তো।
--- যেই মেয়ে শুধু মারতে আসে কথায় কথায় আর তুই তুকারি করে তাকে বিয়ে
করা Future Impossible
--- তুই তো বিয়ে করবি তোর বাআআ....থুক্কু শশুর মশাইয়ের কথা বলতেছি
কেনো। তোকে বিয়ে করতেই হবে তা না হলে তুলে নিয়ে আসবো তোকে।
-- বালতির থুক্কু মগের মুল্লুক নাকি? আপনি বলবেন আর আমি বিয়ে করবো
আপনাকে।
--- সব কিছুরই মুল্লুক আমার বর।
-- আমি আপনার বর না আর আপনিও আমার বউ না।
-- উফ!! হাত মাইর দেওয়ার জন্য জ্বলতেছে রে। যাক এখন ছেড়ে দিলাম।
Love you বর, পরে কথা হবে। বিয়ের জন্য কেনাকাটা করতে যাবো। bye..
--- Good bye forever..
আপনাদের তো পরিচয়টা ই দিলাম না৷আমি তন্ময় হাসান৷সহজ,সরল ভদ্র
পোলা৷আর গূন্ডির নাম তো জানলেনই ৷নিলা ওর নাম৷আমি ভদ্র পোলা কিন্তু
বাবা মায়ের এই কাজের জন্য আর ভদ্র থাকতে পারলাম না৷বাসায় আসার
সাথে সাথে আম্মুর কাছে গেলাম। আর আম্মুকে সবকিছু জিজ্ঞাস করায়
আম্মু যা বললো তাতে পুরাই টাসকি খাইয়া গেলাম। আম্মু বললো -
-- নিলার সাথে তোর বিয়ে ঠিক করেছি তার কারন হচ্ছে মেয়েটা তোকে
পাগলের মতো ভালোবাসে। কখনো আমাদের বাসায় আসে নাই ঠিকই তবে
তোকে প্রতিদিন নাকি রাস্তায় দেখে। বারান্দায় বসে বসে তোর জন্য
অপেক্ষা করে কখন তুই ঐ রাস্তা দিয়ে যাবি।(মা)
-- আমাকে ভালোবাসে? উনি তো আমার থেকে বয়সে বড়। এটা ঠিক না তো।
-- জানি তো। এই কথা ওর বাসার সবাই ওকে এই কথাটাই বুঝানোর অনেক
চেষ্ঠা করেছে কিন্তু ও নাকি তোকেই বিয়ে করবে। এই কারনে খাওয়া-
দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলো আর ২ বার নাকি suicide করতে গিয়েছিলো।
-- বলো কি? এতো খুব সাংঘাতিক মেয়ে।
--- কে সাংঘাতিক মেয়ে? ( আব্বু অফিস থেকে এসেই আমাদের আলোচনার
সাথে যুক্ত হলো।)
-- ঐ যে নিলার বলতেছিলাম।
(মা)
-- দেখো বাবা, আমি আর তোমার মা অনেক ভেবে চিন্তে এই সিদ্ধান্ত
নিয়েছি। তবে তুমি যদি না চাও তাহলে এ বিয়ে হবে না।(আব্বু)
-- না আব্বু, আপনি আর আম্মু যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমার
ব্যাপারে তা কখনো খারাপ হবে আমার বিশ্বাস।
--- তোমার সারাজীবনের ব্যাপার কিন্তু এইটা।
(আম্মু)
-- কোনো সমস্যা নেই। তবে তোমাদের কি মনে হয়না যে মেয়েটা সাইকো
টাইপের।
--- না সাইকো না। তবে তোমার আম্মু আর আমি যা বুঝেছি তাতে মেয়েটা
খুব আবেগময়।(আব্বু)
-- তোমার উপর বিশ্বাস রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তুমি বিশ্বাসের
মর্যাদা রাখিও(আম্মু)
-- আমি আপনাদের বিশ্বাসের অমর্যাদা করবো না কখনো।
ব্যাস ২ মাস পরেই বিবাহ সম্পন্ন হলো। এর মাঝে কতো বার ঝাড়ি আর মাইর
খেয়েছি আপু বলা নিয়ে তার ঠিক নাই।
এখন সবাই মিলে একপ্রকার জোর করেই পাঠাচ্ছে বাঘের খাচায় মানে
বাসর ঘরে। বাসর ঘরে ঢুকে দরজা লক করার পর ঘুরে দাড়াতেই নতুন বউ এসে
পা ছুয়ে সালাম করতে লাগলো -
-- আরে করেন কি? আমি আপনার থেকে বয়সে ছোট।
-- তাতে কি?? নবিজী (স:) তো তার থেকেও ১৫বছরের বড় খাদিজা (রা:) কে
বিয়ে করেছিলেন।
-- কথায় উনি আর কথায় আমি। আমি তো সাধারণ মানুষ আর উনি হলেন শ্রেষ্ঠ
মানব।
-- হুম,, তা ঠিক।
--- আচ্ছা আপনি তো আমার থেকে বয়সে বড়। আপনাকে আমি " কি বলে
ডাকবো,,বড় আপু নাকি বউ?"
-- ঠাসসসসসস,,,, জানোয়ার আজ তোর একদিন আর আমার যতোদিন লাগে।
বলার পর লাইট অফ৷দেখমু কার কতদিন লাগে?
( এবার ইচ্ছা করেই আপু বলেছি,, ভালোবাসার সংসার একটু অন্যরকমভাবে
শুরু না হলে চলে নাকি।)
@ Writer: Md Monour Hossain Monir✌
✌যারা আমার লেখা নিয়মিত পেতে চাও :O
✌তারা রিকুয়েষ্ট দিতে পারো...✅
⭕আর রিকুয়েষ্ট দেওয়ার পর ✅
⭕একটা মেসেজ দিবে...✅
⭕ যাতে আমার পক্ষে রিকুয়েষ্ট ✌
✌এক্সেপ্ট করা সহজ হয় :O
Share:
# Ex এর প্রতিশোধ
পাটঃ১
#লেখকঃ নীরির আব্বু

(জীবনের প্রথম লেখা গল্প। খারাপ হলে বলবেন আর লিখবো না।)

বসে আছি অফিসের বাহিরে। আজকে একটু আগেই আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়েছে। কারন আমার নাকি এই অফিসে কাজ করার যোগ্যতা নাই। আজ প্রায় ৩ বছর থেকে এই অফিসে কাজ করছি। কখনো কেউ আমাকে বলে নি যে আমার কাজের কোনো ত্রুটি আছে। হঠাৎ করেই অফিসের বসের কি হলো। সেই তো বলছিল সে আমার কাজে খুশি হয়েছিল। আজকে সেই বসই নাকি বলেছে যে,, আমার এই অফিসে চাকরি করার যোগ্যতা নাই। তাই পিয়ন এসে আমাকে বরখাস্ত করার চিঠিটা হাতে ধরিয়ে দিলো। কি দোষ ছিল আমার তা জানারও সুযোগ দিলো না।

আমি নীল। ৩ বছর আগেই অনার্স পাশ করে এই অফিসে চাকরি নিয়েছি। আমার পরিবারে মা,আর একটা ছোট বোন আছে।বাবা মারা গেলো আমি যখন অনার্স ২য় বর্ষে পরি। মা আমাকে আমাদের যতটুকু সম্পতি ছিল তা বিক্রি করে আনার্স পাশ করিয়েছে।
পরিবারের অর্থিক অবস্থার ওপর ভিওি করে অনার্সে পাশ করেই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম।

একটু আগেই চাকরিটা চলে গেল। কি করবো এখন আমি। আবার কি অফিসে যাব গিয়ে আ
অফিসের বসের সাথে কথা বলবো। না থাক যেখানে থেকে আমাকে বের করে দিয়েছে সেখানে কোন মুখ নিয়ে যাব। আগের বস তো এমন করেনি।
নতুন একটা কাজ খুজতে হবে। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে বিকাল হয়ে গেছে নিজেও যানি না।

চলে আসলাম বাসায়। আমি আর আমার কলিগ জয় মিলে এই। বাসা ভাড়া নিয়েছি। কিছুদিন আগেই ওর সাথে পরিচয়।
বাসায় এসে শুয়ে আছি। এমন সময় ছোট বোন ফোন দিলো।কেটে দিয়ে কল বেক করলাম,,,,
আমিঃ হ্যালো রিয়া।(বোনের নাম)
রিয়াঃহুমম ভাইয়া কেমন আছিস।
আমিঃ ভালোরে তুই আর মা কেমন আছিস।
রিয়াঃ ভালো কিন্তু মাযের তো সব ঔষুধ প্রায় শেষের পথে।
আমিঃ আর ক দিন যাবে।
রিয়াঃ এক দিন।
আমিঃ ওওও চিন্তা করিস না। আমি টাকা পাঠিয়ে দিব।
রিয়াঃ আচ্ছা ভাইয়া একটা কথা বলবো।
আমিঃ হুমমম বল।
রিয়াঃ বলছিলাম কি আমি তো কলেজে উঠেছি তাইইই,,,
আমিঃ তাই কি বল।
রিয়াঃ না মানে একটা স্মাট ফোন কিনে দিলে,,,,,
আমিঃ ওওও ফোন নিবি।
রিয়াঃ হুমমম। তোর কাছে টাকা না থাকলে দিতে হবে না।
আমিঃ কিযে বলিস না এই প্রথম কিছু চাইলু আমার কাছে আমি কি না করবো। আচ্ছা কিনে দিবো নি।
রিয়াঃ আচ্ছা রাখছি তাহলে। আর টাকা তারাতারি পাঠাস।
আমিঃ মায়ের খেয়াল রাখিস।

কথা বলে ফোনটা রেখে দিলাম। আজকে প্রথম রিয়া আমার কাছে কোন কিছু চাইলো। রিয়ার বয়স প্রায় ১৬ বছর হবে। এই ১৬ বছরে আমার কাছে আজকে প্রথম কিছু চাইলো কেমনে না করি। কেমনে বলি যে আমার চাকরিটা নাই। এদিকে মাসের শুরুতেই চাকরিটা নাই। কি করে রিয়ার জন্য একটা ফোন কিনবো। চাকরিটা থাকলে সহজেই কিনে দিতে পারতাম। কাছে আছে মাএ ৫৬০০ টাকা। মায়ের ঔষুধ কিনতে লাগবে ২০০০ টাকা।বাজার খাওয়ার জন্য কম করে হলেও ৩০০০ টাকা লাগবে। তাহলে আমার কাছে টাকা থাকবে মাএ ৬০০ টাকা। তাহলে রিয়ার জন্য ফোন কিনবো কি দিয়ে। এসব ভাবছি এমন সময় জয় আসল অফিস থেকে। জয় জানে না আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়েছে।
জয়ঃ কিরে দুপুরের পরে অফিসে দেখলাম না কেন।
আমিঃ আর দেখতে পাবি না রে।
জয়ঃ কেন কি হইছে।
আমিঃ আমাকে বরখাস্ত করেছে। আর বলেছে
আমার নাকি ওই কাজ করার যোগ্যতা নাই।
জয়ঃ কে বলেছে।
আমিঃ বস।
জয়ঃ আরে বস তো অফিসে আসে নি। আজকে তার মেয়ে এসেছিল। আর বস কালকে এসে সবাইকে তার মেয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে।
আমিঃ ওওও। তো আমাকে বরখাস্ত করল কেন।
জয়ঃ যানি না তো। দেখি কালকে স্যারের সাথে কথা বলবো।
আমিঃ আচ্ছা।

রাত ৮ টার দিকে বাসায় ৫০০০ টাকা পাঠিয়ে দিলাম। তারপর রিয়াকে ফোন দিলাম।
আমিঃ হ্যালো টাকা পাঠাইছি আর আমি কিছুদিন পর তোর ফোন কিনে বাড়িতে আসবো
রিয়াঃ আচ্ছা।
আমিঃরাখলাম।
রিয়াঃ ভালো থাকিস।
আমিঃহুমম।

চলে আসলাম বাসা,,,,,,

চলবে....
আমাকে আপনাদের ফ্রেন্ট বানাতে পারেন। আর গল্প পরতে চাইলে রিকু দেন
Share:

.....গ্রামের পিচ্ছি মেয়ে......

.....গ্রামের পিচ্ছি মেয়ে......
-------------------------------------
SHAHINUL AKASH
পর্ব ১৩

:----দাঁরান আমগুলো নিয়ে নেই।

তার পর আমি এবং নিলা বারিতে গেলাম নিলার হাতে আম আম এবং আমার শরীরে ধুলা দেখে নিলার আম্মু জিজ্ঞাস করলো।

:----নিলা তু কি করেছিস আর আকাশ এর শরীরে দুলা কেনো।
:----আমি কিছু করি নাই আমি তো শুধু আম পারার জন্য গাছে উঠেছিলাম।
:----কি তুই আবার গাছে উঠেছিলি তকে কতোবার গাছে উঠতে বারন করেছি।
:----আর এমন হবে না আম্মু।
:----আচ্ছা অকে আর বকতে হবে না নিলা ছোটো মানুষ একটু ভুল করেই ফেলেছে।(এরি মাজে নিলার আব্বু এসে পরে আমি নিলার আব্বুকে বলি)
:----আব্বু আমাদের আজ চলে যেতে হবে।
:----কিন্তু আজি চলে যাবে কেনো।
:----কি করবো কাল থেকে নিলার স্কুল যেতে হবে আর আমিও চাই না বিয়ে হয়েছে বলে নিলা পড়াশোনা না করুক।
:----বাবা তুমার মতো ছেলের কাছে আমার মেয়েকে দিতে পেরে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।(নিলার আব্বু)
:----এমন করে বলছেন কেনো।
:----তা হলে তুমরা রেদি হয়ে নাউ আর আকাশ তুমার শরীরে এমন ধুলা কেনো ।
:----ও কিছু না আমনি একটু ভরেছে।(তার পর আমরা উপরে গেলাম)
:----নিলা তারাতারি তৈরী হয়ে নাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

আমি ফ্রেস হয়ে এসে দেখি নিলা রেডি হতে বসে পরেছে আল্লাহ জানে আজ আবার মহারানী এর সাজতে কতোক্ষন লাগবে।

:----নিলা তারাতারি করো ফিরতে হবে তো।
:----দেখতেছেন না সাজতাছি এতো কথা বলেন কেনো।
:----সে তো দেখতেই পাচ্ছি সেই এক ঘন্টা ধরে আটা ময়দা মুখে দিতাছো।
:----কি আমি মুখে আটা ময়দা নেই এটা মেকাব বুঝেছেন।
:----জি বুঝেছি এবার একটু জলদি করেন।
:----আমি করছি তো না হলে আপনি পাচ মিনিট বসুন আমি পাচ মিনিটে শেষ করছি।
:----পাচ মিনিট করতে করতে পুরা ত্রিশ মিনিট সময় নিয়েছে।(তার পর আমরা নিচে গেলাম)
:----আব্বু তা হলে আমরা চলি।
:----ঠিক আছে বাবা দেখে সুনে যায়ো আর তুমার মা বাবা কে নিয়ে এসো।
:----ঠিক আছে।
:----শুন নিলা ওখানে গিয়ে একদম দুষ্টুমি করবি না।আর যা বলে তাই শুনবি।
:----ঠিক আছে আম্মু। আর ওখানে আমাকে সবাই অনেক আদর করে আমাকে কেউ কিছু বলে না।
:----আকাশ বাবা নিলা ছোট মানুষ হয়তো অনেক কিছু বুঝে না আর নিলা কে একটু দেখে শুনে রাইখো।
:----আম্মু আমি এখন ছোট না দেখো আমি অনেক বড়ো হয়ে গেছি।
:----সে তো দেখতেই পাচ্ছি তুই কতো বরো হয়ে গেছিস।

আমারা আরো কিছু কথা বলে বিদায় নিলাম রাস্তায় দেখলাম নিলা মন খারাপ করে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে

:----দেখো বাড়ির জন্য মন খারাপ করো না আমরা আবার কিছু দিন পরে আসবো।
:----বেটা বজ্জাত হুনুমান আমি কি কখোনও বলেছি যে আমি বাড়ির জন্য মন খারাপ করেছি।
:----তা হলে।
:----আরে আমি যে আম গুলো পারলাম না সেই আর গুলো আনতে ভুলে গেছি।
:----কি এই মেয়ে বলে কি বাড়ির জন্য মন খারাপ না করে আমের জন্য মন খারাপ কেউ করে।মন খারাপ করো না আমি তুমাকে চকলেট আর আইচক্রিম কিনে দিবো।
:----সত্যি।
:----হা সত্যি এখন আর মন খারাপ করে থেকো না এবার একটু হাসো

তার পর আমরা বাড়ি চলে আসলাম বাড়িতে গিয়ে কলিং বেল দিলাম আম্মু দরজা খুলে দিলো আমরা ভিতরে গেলাম আব্বু দেখি টিভিতে নিউজ দেখতাছে।

:----কিরে নিলা মা আমাদের তো দেখি বাড়িতে গিয়ে ভুলেই গেছো।(আম্মু)
:----কি যে বলো না আম্মু তমাদের কি ভুলতে পারি।(নিলা)
:----তা রিয়া মা কেমন কাটলো।(আব্বু)
:----ভালো আব্বু। জানো আব্বু তুমার ছেলে না আস্ত একটা বজ্জাত।(নিলা)
:----কেনো রে মা আকাশ আবার কি করলো।(আমিও মনে মনে বলছি আমি আবার কি করলাম)
:----আমি এতো কষ্ট করে আম পেরেছিলাম কিন্তু তমার ছেলের জন্য আনতে পারলাম না।(নিলা)
:----আমি কি তুমাকে আনতে মানা করেছিলাম নাকি।(আমি)
:----কেনো আপনি একটু মনে করিয়ে দিলেই তো হতো।(নিলা)
:----এ্যা এই মেয়ে বলে কি আম আনতে পারে নাই সেটা ও নাকি আমার দষ। আল্লাহ এ আমি কাকে বিয়ে করলাম এব্বুর কাছে নিশ্চিত বকা খাওয়াবে।
:----ঠিক আছে মা আকাশকে বিকে দিবো। এখন তুরা উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নে এতো দূর থেকে জারনি করে এসেছিস।
:----ঠিক আছে আব্বু।(নিলা)

তার পর আমি ও নিলা রুমে গেলাম রুমে গিয়ে আমি ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় একটু মাত্র শুয়েছি।

:----এখন আপনি শুতে পারবেন না।(নিলা)
:----কেনো কি হয়েছে।আম)
:----আপনি না বললেন আমার জন্য চকলেট আর আইচক্রিম আনবেন।
:----হা বলেছি।
:----এখনি নিয়ে আসেন।
:----দেখো নিলা আমি এতো দূর থেকে জারনি করে এসেছি আমি এখন যেতে পারবো না একটু পরে এনে দিবো।
:----আমার এখনি লাগবে।
:----নিলা একটু বুঝার চেষ্টা করো।
:----আমি কিছুই জানি না আপনি জুদি এখন না আনেন তা  হলে আমি আব্বু কে বলে দিবো আপনি আমাকে বকেছেন।
:----কি আমি তুমাকে কখন বকা দিলাম।
:----দেন নি সেটা তো আমি জানি আব্বু তো জানে না।
:----তুমি জা পারো করো আমি এখন যেতে পারবো না।
:----ঠিক আছে আব্বু আব।(আমি গিয়ে নিলার মুখ চেপে ধরলাম)
:----এই কি করছো আব্বু কে ডাক্তে হবে না আমি যাচ্ছি।(কি আর করার নিলার জন্য চকলেট আর আইচক্রিম আনতে বের হলাম)

বেটা বজ্জাত হুনুমান নাইজীরিয়ান এনাকন্ডা টিকটিকি শয়তানের ছুটো ভাই আমাকে বিয়ে করা সখ মিটিয়ে দিবো। মাত্রতো শুরু দেখে যাও আরো কি কি সামনে অপেক্ষা করছে।

কোন হালায় যে বিয়ে করতে কইছিলো না কেউ তো কয় নি আমি তো নিজেই করেছি। এই মেয়ে পিচ্ছি মেয়েকে বিয়ে করে আমার জীবনটাকে তেঁজপাতা বানিয়ে দিলো আল্লাহ তুমার কাছে বিচার দিলাম।এই অত্যচার আল্লাহ সজ্য করবে না।

(চলবে.......)
ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন
Share:

ভাই বোনের গল্প

ভাইয়া আমি কাধলে তুই না সইতে পারছ না

এই ভাইয়া। আর কতো ঘুমাবি?
উঠ তাড়াতাড়ি।
কিরে ইডিয়ট, সকাল সকাল এতো
চিল্লাচিল্লি করছিস কেনো? 😡😡😡
আমার টাকা দে।
কিসের টাকা? 😱😱😱
ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করছস যে
সেই টাকা। 🔫🔫🔫
☛কার ব্যাগ থেকে কে চুরি করলো? 😒😒😒
আমার ব্যাগ থেকে তুই চুরি করছস। 😁😁😁
মাইর না খাইতে সর এখান থেকে।
সকাল সকাল মেজাজটা দিলি তো
খারাপ করে। ☕☕☕
রাখ তোর মেজাজ, আমার টাকা দে।
তাড়াতাড়ি.আমার ক্লাসের দেরি
হয়ে যাচ্ছে। ✈✈✈
☛তোর টাকা কে নিয়েছে? 😒😒😒
উল্টাপাল্টা কথা বললে মাইর খাবি।🔫🔫🔫
এর আগেও অনেকবার টাকা নিয়ে
ধরা খেয়েছিস তোর মনে নেই? 😂😂😂
তুইও তো আমার পকেট থেকে টাকা
নিয়েছিলি।
সেটা তো তোর জামা ধুতে গিয়ে
পাইছি। 😹😹😹
☛ও, তাই তো বলি তুই শুধু আমার প্যান্ট
ধুতে রাজি হস কিসের জন্য। 😜😜😜😜
এখন আমার টাকা দে জলদি, নয়তো
আজকে ক্লাসে যেতে পারবোনা।
হইসে হইসে, পকেটে দেখ পঞ্চাশ
টাকা আছে। এখন সেটা নিয়েই
ক্লাসে যা.পরে দিয়ে দিস।
আমার লক্ষী ভাইয়া। 💋💋💋
☛আসিফ তার ছোট বোন আয়েশার
চেয়ে দুই বছরের বড় হলেও বন্ধুর মতোই আচরণ
করে দুজন।আয়েশা hsc প্রথম বর্ষে আর আসিফ
এইবার hsc শেষ করলো। প্রতিদিন ঝগড়া
করেই সকালটা কে বরণ করে। আসিফের
হাতে টাকা না থাকলে সে
আয়েশার ব্যাগ থেকে টাকা নেয়।
তবে আয়েশা কখনো ব্যাগে টাকা না
রাখলেও আসিফের হাতে টাকা না
থাকার সময় ঠিকই রাখে যেনো ভাই
টা টাকার জন্য অন্য কিছু না করে বসে।
যদিও আয়েশা জানে যে আসিফের
মতো ভাই পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
কারণ আসিফের কোনো ধরনের বাজে
অভ্যেস নেই। আয়েশার হাতে টাকা
না থাকলেও আসিফ বুঝতে পারে এবং
প্যান্ট ধোয়ার জন্য দিয়ে বলে পকেট
ভালোভাবে চেক করিস। অতঃপর কিছু
না কিছু থাকেই। যখন যাই থাকে,
সেটা শুধু বোনের জন্যই। একবার তো
পছন্দের কানের দুল কিনতে না পারায়
খুব মন খারাপ করেছিলো আয়েশা।
আসিফ সেটা কিনে এনে
দিয়েছিলো। তবে কখনো সরাসরি
দিতোনা। লুকিয়ে লুকিয়ে দেয়ার
আনন্দটা ই বেশি। তাই হয়তো দুজনই
লুকিয়ে দিতেই পছন্দ করে। যদি কখনো
আয়েশা ক্লাস শেষ করে বাসায়
ফিরতে একটু দেরি করে, তাহলে
পাগলের মতো হয়ে যায় আসিফ। আবার
আসিফ রাতে বাসায় ফিরতে দেরি
করলেও চটপট শুরু হয়ে যায় আয়েশার।
☛সেদিন আয়েশা ক্লাসে গিয়ে
বিকেল পর্যন্তও বাসায় ফিরছিলোনা,
তাই আসিফ পাগলের মতো হয়ে
গেছিলো। ফোনটাও সুইচ অফ করা। একটু
পরে বাসায় ফিরতেই অনেক টা
রেগেমেগে আসিফের
জিজ্ঞাসা…….
কোথায় ছিলি এতক্ষণ?
ক্লাস শেষ
করে কোথায় গেছস?
কোথায় গেছি সেটা তুই জেনে কি
করবি? 😷😷😷
–তোকে ছাড়া কখনো আমি খাই 🐓🐓🐓
–তার মানে তুই এখনো খাসনি? 🍴🍴🍴
–না, কিন্তু তুই কই গেছস বলবিনা?
–আগে খাইতে আয়, পরে বলছি।
–এখন বল কোথায় ছিলি?
–তোর ইরার বাসায়।
–আমার ইরা মানে?
–মানে দুই বছর ধরে তোকে যে লাইন
মারতেছে। 😂😂😂
–মাইর খাইছস? 😭😭😭
–না, ভাত খাচ্ছি। তাছাড়া আমার
কি দোষ, আমার সব ফ্রেন্ডই ইরাকে
আসিফের বউ বলে আর আমাকে বলে ও
নাকি আমার ভাবী। 😁😁😁
–হইছে হইছে, এখন ভাত খা।
–ভাইয়া একটা কথা বলি?
–হ্যাঁ বল
–ইরা তোকে সত্যি অনেক লাভ করে।
তবুও কেনো মেয়েটা কে বুঝিস না?
সে তো ক্লাস নাইন থেকেই তোর
ভালবাসায় মগ্ন, অন্য কারো
প্রোপোজও গ্রহণ করেনা।
–তোকে বারন করছি না এই ব্যাপারে
আমাকে কিছু না বলতে?
–তাইতো চুপ করে আছি। তোর জায়গায়
অন্য কেউ হলে শার্টের কলার ধরে
ইরার
সামনে গিয়ে হাজির করতাম।
–চুপ ইডিয়ট। আজকাল ছেলে-
মেয়েদের
কাছে বেশিরভাগই প্রেম ভালবাসা
মানে অন্য চাহিদা। মনের তৃপ্তি না
খুঁজে অন্য তৃপ্তিতে মগ্ন হয়। আমি চাইনা
আমার কলিজার টুকরা বোনটা এইরকম
কারো প্রেমে পড়ুক।
–আমার প্রেমে পড়া আর ইরার সাথে
তোর প্রেম হওয়ার মাঝে সম্পর্কটা
কোথায়?
–আমি জানিনা ইরা তোর কতটুকু বেষ্ট
ফ্রেন্ড। কিন্তু এটাতো জানি আমি
তোর সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আমি ইরার
সাথে প্রেম করলে হয়তো তোরও অন্য
কারো সাথে প্রেম করতে ইচ্ছে
করবে।
☛আর আজকাল এই প্রেমের বেশিরভাগই
অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। এছাড়াও
প্রতারনা তো আছেই। আর একটা
প্রতারণা যেকারো জীবন নষ্ট করে
দিতে পারে। তাই আমি চাইনা আমার
কলিজার টুকরা বোন টা এইসব কিছুর
মুখোমুখি হোক।
–খুব তো বোনের উপর দরদ, তাহলে
সবসময়
একটু ভালো ব্যবহার করলে কি হয়?
–ইহ, তুই কখনো ভালো ব্যবহার করিস?
–তুই ভালো ব্যবহার পাওয়ার যোগ্য?
–নাহ, তুই খুব যোগ্য।
–যাহ, আর খাবোই না।
–খাওয়া শেষ তো, তাই উঠে যাচ্ছিস।
☛অতঃপর আরো একটা ঝগড়াময় বিকেল
কাটলো আসিফ আয়েশার। দুজন প্রায়
সারাক্ষণই ঝগড়ায় মত্ত থাকে। কিন্তু
একে অন্যকে কিছুক্ষণ না দেখলে কেমন
চটপট শুরু হয়ে যায়। রাতে আসিফ বাসায়
ফেরার পর আগে আয়েশার রুমে উঁকি
দিয়ে যায়। একে অন্যকে ছাড়া কখনো
খেতেও বসেনা। অথচ ঝগড়াটা
সারাদিন থাকে। কেউ দেখলে
ভাবতেও পারবেনা তাদের ভাই
বোনের সম্পর্ক টা এমন। প্রতিদিন ঝগড়া
করলেও ভাই-বোনের মধুর সম্পর্কটা
বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো নয়। আসিফের hsc
রেজাল্ট দিলো। ভালো রেজাল্ট
করলো আসিফ। অতঃপর অনার্স করার
জন্য
শহরে একটা পাবলিক ভার্সিটিতে
এডমিশন টেস্ট দিয়ে চান্স পেয়ে যায়।
বাবা-মা আর বোনের স্বপ্ন পূরন হওয়ার
পথে। ঠিক এমন সময়েই পাগলামী শুরু
করে আসিফ…….
–আমি যাবোনা বাসা ছেড়ে, এই
গ্রাম ছেড়ে।
–কেনরে? কেনো যাবি না?
–বাবা-মা আর তোকে ছেড়ে আমি
কিভাবে থাকবো?
–ভাল কিছু করতে হলে এইসব কিছু
ছাড়তে হবেই।
–দরকার নেই আমার ভালো কিছু। তোর
সাথে ঝগড়া করতে না পারলে আমি
কোথাও থাকতে পারবোনা।
–প্লিজ ভাইয়া, এমন করিস না। তুই তো
সবসময় আমাকে বলতি ভালো কিছু
করতে হলে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়।
–সেটা অনেক কিছু, কিন্তু তোকে
তো নয়। তাছাড়া আমি গ্রামের একটা
কলেজে অনার্স করলে কি ভালো কিছু
করতে পারবোনা?
–এতো কিছু বুঝি না, তুই যাবি। তুই না
গেলে বাবা-মা কষ্ট পাবে।
–আমি কিভাবে থাকবো আমার
কলিজার টুকরা টা কে ছেড়ে?
থাকতে না পারলে কিন্তু দৌড়ে চলে আসবো,
তখন কিছু বললে মাইর খাবি।
☛আসিফের চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে
অনেক্ষন ধরে। আয়েশার চোখও টলমল
করছে। বাবা-মাও কাঁদছে সন্তানকে
দূরে পাঠিয়ে দিচ্ছে বলে। আসিফ
চোখের জল লুকানোর জন্য বিছানায়
শুয়ে কাঁথা দিয়ে চোখ ঢেকে
রেখেছে। পাশেই বসে কাঁদছে
আয়েশাও। ঝগড়া করার সঙ্গীটা কে
ছেড়ে থাকতে যে হবেই৷ বাবা-মা
আসিফের জামা-কাপড় গুছিয়ে
রেখেছে। একটু পরেই বেরিয়ে পড়তে
হবে শহরের উদ্দেশ্যে। আয়েশা
নিজেকে কিছুটা শক্ত করে নিয়েছে।
আসিফের ব্যাগটা হাতে নিয়ে
বড়দের
মতো আসিফকে বুঝাতে বুঝাতে
হাঁটতে থাকলো…….!
☛শোন, তোর যখন ইচ্ছা হবে বাসায়
চলে
আসবি। পনেরো দিন পরপরই বাসায়
আসবি, বাবা-মা কিছু বললে আমিতো
আছি.
–ওকে কলিজার টুকরাটা।
–আর শুন, কোনো খারাপ কাজে
জড়াবিনা। এখন যেমন আছিস, ঠিক
তেমনই থাকবি।
–আইচ্ছা, ঠিক আছে।
–একটা কথা ছিলো, প্রমিজ কর
রাখবি?
–ওকে বল, তবে আমারো একটা কথা
রাখতে হবে।
–কি কথা? বল তো শুনি?
–না, আগে তুই বল?
–উঁহু, তুই বল আগে?
–Hsc শেষ করার আগে কখনো অন্য
কিছুতে মন দিবিনা, কারো সাথে
রিলেশনে জড়াবিনা।
–তোর কলিজার টুকরা বোনটা তোর
এই
সিম্পল কথাটা রাখবে।
–এইবার তোরটা কি বল?
–যদি কখনো কারো সাথে রিলেশন
করিস, তাহলে ইরার সাথেই করিস.ইরা
তোকে সত্যি অনেক ভালোবাসে।
–জানি, কিন্তু আমি ইরার সাথে
রিলেশনে জড়াইনি যাতে তুইও কখনো
রিলেশনে না যাস।
–সত্যি? আমি কথা দিচ্ছি hsc শেষ
করার আগে এইসব কিছু করবোনা,
বিনিময়ে শুধু ইরার কথা টা মনে
রাখিস।
–ওকে, ভালোভাবে পড়াশুনা করবি।
কেমন?
–হুম, তুইও করিস। যা ভাগ এখন, নাকি
ইরার জন্য ওয়েট করছিস?
–আমার তো খেয়েদেয়ে কাজ নেই
তোর ঐ মাথামোটা বান্ধবীর জন্য
ওয়েট করবো।
–ওই চুপ.আমার ভাবী কে মাথামোটা
বললে কিন্তু তোর সাথে কথাই
বলবোনা।
–ওরে বাবা, ভাইকে সমর্থন না করে
অসচ্ছ ভবিষ্যতের ভাবীকে সমর্থন
করছিস? যাহ আমি আর কখনো তোর
সাথে কথাও বলবো না, বাড়িতেও
আসবোনা।
–ওকে, তুই আমার সাথে কথা বলতে
হবেনা, বাড়িতেও আসতে হবেনা।
–ওকে, ভালো থাকিসরে…….
☛চোখের জল মুছতে মুছতেই অনিচ্ছা
সত্ত্বেও সবাইকে ছেড়ে যেতে হচ্ছে
আসিফের। গাড়িতে উঠেও পিছনে
ফিরে তাকিয়েছে বহুবার। বাবা
মায়ের সাথে আয়েশাও চোখের
পানি মুছতে মুছতেই ফিরছে ঘরে।
কেমন
যেনো নীরবতা ছেয়ে গেছে
বাড়িটাকে। ফাঁকা ফাঁকা লাগছে
ঘরটা। আয়েশা বিছানায় শুয়ে শুয়ে
কাঁদছে আর কার সাথে ঝগড়া করবে এই
ভেবে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে
গেলো, কিন্তু তখনও খায়নি। আসিফ কল
করে ধমকি দেয়ার পর সন্ধ্যা হওয়ার
ঠিক
আগ মুহূর্তে খাওয়া সম্পন্ন করে আয়েশা।
সন্ধ্যায় আসিফ কল করে বললো আর
কিছুক্ষণ পরেই পৌঁছাবে। আয়েশা মন
খারাপ করে বসে আছে পড়ার
টেবিলের সামনে। মন বসছেনা পড়ায়।
বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়লো আর আয়েশা
তখনও জেগে। রাত খুব বেশি না হলেও
আসিফ না থাকায় বাবা-মা
তাড়াতাড়িই শুয়ে পড়লো। হঠাত করেই
ফোন টা বেজে উঠলো আয়েশার। কল
এসেছে আসিফের নাম্বার থেকে।
উত্কণ্ঠা হয়ে কল রিসিভ করার পরই
বুঝতে পারলো অন্য কেউ কথা বলছে
আসিফের বদলে। কি যেনো হল,
কথাটা
শুনার পরই একটা চিত্কার দিয়ে উঠলো
আয়েশা, ফোনটা হাত থেকে পড়ে
গেলো মাটিতে। এক মিনিটের মতো
নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকার পর
আয়েশাও লুটিয়ে পড়লো মাটিতে।
বাবা-মা এসে এই অবস্থা দেখে
ভাবলো আয়েশার কিছু হয়েছে।
আয়েশা কে খাটে তুলে চোখে মুখে
পানি দিলো ওর মা। চোখ মেলে
তাকিয়ে আছে কিন্তু কিছু বলতে
পারছেনা আয়েশা।
😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥
এভাবে প্রায়
দুঘন্টা আয়েশার সেবা যত্নে মগ্ন
ছিলো ওর মা। ডাক্তার এসে
চিকিত্সা করলো এবং জানালো বড়
কোনো ধাক্কা খেয়েছে সে, যা
সইতে না পেরে এই অবস্থা। ঠিক হয়ে
যাবে কিছুক্ষণের মধ্যে। অনেক রাত
হয়ে গেলো, বাবা-মা মেয়েটার
কাছেই বসে আছে নির্ঘুম। মেয়েটা
আস্তে আস্তে কথা বলতে শুরু করছে,
কিন্তু চেষ্টা করেও বুঝাতে
পারছেনা। অনেক্ষন চেষ্টা করার পর
বলতে সক্ষম হলো…….
–ভাইয়ার বাস নাকি এক্সিডেন্ট
করেছে, আর ভাইয়া……
কথাটা বলতে অনেক কষ্ট হয়েছিলো
আয়েশার। শেষ হওয়ার আগেই হাউমাউ
কান্না। ওর বাবা পরবর্তীতে
আসিফের
নাম্বারে কল করে এবং বুঝতে
পারলো
যে আসিফ পৃথিবীর বুকে তার কলিজার
টুকরাটাকে একা রেখেই চলে গেছে।
মধ্যরাতেই তিনজনের কান্নায় পুরো
এলাকা এসে দাড়ায় তাদের সামনে।
বাবা-মায়ের আদরের সন্তান আসিফ,
যাকে শহরে যেতে দিতেই চোখের
জলে ভাসতে হয়েছিলো তাদের।
তাহলে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে
এমন হাউমাউ কান্নাটা তো
স্বাভাবিক। পুরো এলাকার
উপস্থিতিতে পাগলের মতো কান্না
করছে আয়েশা। এমন ভাবে কান্না
করছে যেনো সে সত্যিই রাস্তার
কোনো পাগলির ভূমিকা ধারণ
করেছে। কারো শান্তনাই দমিয়ে
রাখতে পারছেনা আয়েশাকে।
আয়েশার হাউমাউ কান্না প্রায় সবার
চোখেই জল এনে দিলো। আয়েশা
কান্নার সুরে উচ্চশব্দে বলতে
লাগলো……
–খুব তো বলেছিলি আমাকে ছেড়ে
থাকতে পারবিনা, তাহলে আমাকে
একলা করে রেখে গেলি কেনো?
আমি নাকি তোর কলিজার টুকরা,
তাহলে কলিজার টুকরা টা কে
এভাবে
একা করে গেলি কেনো? স্বার্থপর, তুই
আর কোনো দিন আমার সাথে কথা
বলবিনা। ও হ্যাঁ, এখন তো আর কথা
বলবিই না। আমাকে তো পর করেই চলে
গেলি। সবসময় তো বলতি আমি তোর
কলিজার টুকরা, কিন্তু তুই কি জানিস
তুই
আমার পুরো কলিজা টাই ছিলি। ওই
আমি ঝগড়া করবো কার সাথে রে?
কাকে ইচ্ছামতো রাগাবো? আমার
ব্যাগে কার জন্য টাকা রাখবো?
আমার
ব্যাগ থেকে টাকা নিবে কে চুরি
করে? তোর প্যান্ট ধুয়ে দিয়ে দিতে
গিয়ে আর কখনো তোর সারপ্রাইজটা
পাবো? আমাকে একা রেখে কেন চলেগেলি তোকে খুব ভালবাসি ভাইয়া,,এই ভাইয়া একবার চলে আইনা
আর তকে আমি বলব না শহরে পররতে জেতে
আমার সাথে আর অবি মান করে থাকিসনা। আমি জে আর সইতে পারছিনা তর সাথে কথা না বলে।
এই মা তুই বলনা ভাইয়াকে কথা বলতে আমি আর তার সাথে ঝগরা কররনা,এই বাইয়া আইনা একবার ফিরে। আমি কাধলে না তুই সইতে পারছ না,দেখ আমি কাধতেছি,এই বাইয়া একবার কথা বলনা।
আমিজে তকে একটু বেশি ভাল বাসিরে।
।।আমি পারবনা থাকতে তকেছারা,,তুই কেন বুজছনা।ভাইয়া ভাইয়ারে,,😧😧😧😧😧😧😥😥😥😥

#কলিজার_টুকরো_বোন

অভিমানী ছেলে নজরুল

আমার আর কিছু বলার নাই....... 😥😥
Share:

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label