নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

বর্তমানের সত্য প্রেমের গল্প |||না পড়লে কিন্তু মিস করবেন||| Current story of true love ||| Do not miss but |||

 বর্তমানের  সত্য প্রেমের গল্প |||না পড়লে কিন্তু মিস করবেন|||  Current story of true love ||| Do not miss but |||

প্রীতি এবং অসীম ।

এটি এদের জীবনের ঘটনা । প্রীতি তখন যশোর সরকারী মহিলা কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী । নীলিমা তার খুব ঘনিষ্ট বান্ধবি । তারা একই সাথে হোস্টেলে থাকত ।

যেখানেই যাক না কেন দুজনকে একই সাথে পাওয়া যেত ।


একদিনের ঘটনা । সেদিন তারা যশোর শহরের মধ্যে দিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছিল । হঠাত্‍ পেছন থেকে

কে যেন ডাক দিল ‘এই নীলিমা ।’দুজনেই পেছন ফিরে তাকাল । দেখল এক সুদর্শন যুবক । আরে এতো

নীলিমার দূর সম্পর্কের মাসতুতো দাদা অসীম । যাহোক ঐদিনই অসীমের সাথে পরিচয় হয় প্রীতির।

বেশ কিছুদিন কেটে গেল । প্রীতি কেন যেন মনের কোন একখানে অসীমের প্রতি টান অনুভব করল ।

ওদিকে অসীমেরও একই অবস্থা । অসীম প্রায়ই প্রীতিদের হোষ্টেলে আসতে লাগল প্রীতিকে দেখার

জন্য । কিন্তু মনের কথাটি আরবলা হয় না তাকে । এদিকে প্রীতি এই টান আর সহ্য করতে পারল

না । সেই প্রথম বলল ভালবাসারকথাটি । শুরু হল দুটি জীবনেরএকটি নতুন অধ্যায় ।

ওদিকে নীলিমা সবই জানতে পারল । সে তাদের সবরকম সহযোগিতা করতে লাগল । এভাবেই চলছিল এক

অবুঝ প্রেম । তারা একসাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত । অনেক আনন্দ আর সুখ ছিল সেইদিন

গুলোতে ।

একসময় ওরা সিদ্ধান্ত নিল ওরা বিয়ে করবে । গোপনে করেও ফেলল । দুই ফ্যামিলির কেউ জানল না

। যাহোক এসব খবর বেশি দিন চাপা থাকে না । জেনে গেল দুইফ্যামিলি ।

অসীমরা ছিল

ব্রাক্ষ্মন আর প্রীতি নিচু কুষ্টের মেয়ে । অসীমের বাবা মা এই বিয়ে মেনে নিল না ।


প্রীতির বাড়ি থেকেও প্রায় একই সমস্যা হল । তবুও তারা বিচ্ছিন্ন হল না । তারা যশোরে একটি

বাসা ভাড়া নিল । অসীম তার জমানো টাকা দিয়ে ছোট খাট একটা ব্যবসা ?

??ুরু করল । বেশ সুখে শান্তীতেই চলছিল তাদের দুজনের সংসার ।

কিন্তু হায় ! নিয়তির কি নির্মম পরিহাস । হঠাত্‍ করেই অসীম অসুস্থ হয়ে পড়ল । এরপর

হসপিটাল, মেডিকেল চেকাপ, রিপোর্ট । রিপোর্টে জানা গেল অসীম ক্যান্সার আক্রান্ত । মাথায়

আকাশ ভেঙে পড়ল প্রীতি । একমুহূর্তেই যেন সমস্ত জ্ঞান হারিয়ে ফেলল সে । নিজেকে কোন মতে

সামলে নিল । ডাঃ জানাল ৫০লাখটাকা লাগবে । তাহলেই অসীমকে পূর্ণ সুস্থ করা যাবে ।


প্রীতি সাথে সাথে অসীমের বাবা মার কাছে গেল অসীমকে নিয়ে । অসীমের বাবা জানালেন তিনি কোন

টাকা দিতে পারবে না ।

যদিও তিনি ছিলেন প্রচুর সম্পদের মালিক ।

প্রীতি আর দাড়াল না । অসীম কে নিয়ে চলে এল বাবার বাড়ি ।বাবার ছোট একটা ব্যবসা ছিল ।

তার যা পুঁজি ছিল সবটুকুই দিয়ে দিল অসীমের চিকিত্‍সারজন্য । টাকা ফুরিয়ে গেল কিছুদিনের

মধ্যে । এদিকে অসীমেরও দিন ফুরিয়ে আসছে ।

একদিন সকাল প্রতি ঘুম থেকে উঠে অসীম কে ডাকল । কিন্তু ঐদিন অসীম আর ঘুম থেকে উঠল না।


প্রীতি নির্বাক পাথর হয়ে গেল । তার মুখে কোন কথা নেই ,চোখে নেই অশ্রু । শুধু থেকে থেকে

একটি কথাই বলছিল “আজ তুমি কোথায় গেলে আমাকে ছেড়ে , আমাকে কেন বলে গেলে না যে তুমি চলে

যাচ্ছ ?” অসীম কে চিতার আগুনে দগ্ধ করা হল । তখনো প্রীতির চোখে অশ্রুর ফোটা গড়িয়ে পড়ে নি ।

সে আজ বড় একা । ৫ বছর পার হয়েছে । তবু এখনো ভোলেনি অসীমের কথা । বিধবার সাজে চাপা কষ্ট

নিয়ে আজো ঘুরে বেড়ায় । তবে সে এখন মাঝে মাঝে কাঁদে । সেআজো অসীমের বড় বাঁধানো ছবি

বুকের উপর নিয়ে ঘুমায় ।

যখন সে তার জীবনের এই কাহীনিটা বলছিল তার চোখে জলের ধারা দেখেছি আমি । জানিনা তুমি কোথায় আছ , কেমন আছ ।

আজ তোমাকে বড় বেশি মিস করি । যেখানেই থাকো , ভাল থাকো ।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label