নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

বিদেশি ম্যাম


বিদেশি ম্যাম

গল্প লিখেছেন : Israt Jahan Sumaiya

ভাই আমার বিয়ে করেছে কিছুদিন হলো,,
আমাদের চাইতে একটু বড় ঘরেই ভাইর বিয়ে দিয়েছে,,
আমরা দুভাই এক বোন,।
বোনই সবার বড়, তারপর ভাই, তারপর আমি,,


আমি সবার ছোট,,আমি #সবুজ
ভাইয়ার নাম #সাইদ
আর
আপুর নাম #সারমিন,,।

কয়েক বছর আগেই আপুর বিয়ে দিয়েছে,,
আর এই কয় মাস হলো ভাইয়াকে বিয়ে দিলো,,

ভাবি আমার সেই লেবেলের ভালো,,
আপন ভাইর মতো দেখে আমায়,,
যাগগে সেসব কথা,,
বর্তমানে আসি,,

রুম থেকে বের হোতেই দেখি খাওয়ার বেস আয়োজন চলছে,,
তাই ভাবির কাছে গেলাম,,
আরো গল্প পড়ুনঃGolpo বাড়িওয়ালার_দুষ্টু_মেয়ে
ভাবি আমায় দেখে বললো,,
কি ব্যাপার,আমার ভাইটার কিছু লাগবে নাকি ,,,
আমি ঃ না,,তা কেউ আসবে নাকি, এত খাবার রান্না করছো,,
ভাবিঃহুম,,
আমিঃকে,
ভাবিঃ তোমান বেয়াইন আসবে,মানি আমার বোন,,
আমিঃকি বলো,,তোমার বোন আছে নাকি,,বিয়েতেও তো তোমার কোনো বোনকে দেখলাম না,,
ভাবিঃআমার বিয়ের সময় ও বিদেশে ছিলো,এই দু সপ্তাহ হলো বিদেশ থেকে এসেছে,,
আমিঃ বিদেশ কি করে,,
ভাবিঃস্টাডি করার জন্য গিয়েছিলো,,এখন শেষ চোলে এসেছে,,
আমিঃও,ভালো,,তা কখন আসবে,,
ভাবি ঃএইতো কিছু ক্ষন পর,,

আমিঃআচ্ছা ভাবি আমি বাহিরে গেলাম,,
ভাবি, ঃকিছু খেয়ে যাও,,
আমিঃএসে খাবো,

বাহিরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরলাম,,

না আগে আমার বেয়াইনকে দেখে আসি,,নিশ্চই পরির মতো দেখতে হবে,,

গেষ্ট রুমের বাহির থেকে উকি মেরে দেখছি রুমের ভেতরটা,,
ব্যাগ, জামা কাপর দেখা যাচ্ছে,,
বেয়াইন কই,,
তখন পিছন থেকে কে যেনো বললো,, উকি মেরে কি দেখা হচ্ছে,,
আমি ঃপিছন না দেখে বললাম, একটা পেত্নি এসেছে বাসায় সেটাকেই দেখছি,,
এবার আমি পিছন ঘুরে দেখি একটা মেয়ে দারিয়ে আছে,,মনে হয় কিছুটা রেগে আছে,,
এর আগে তো এই মেয়ে কে দেখিনি,,
বায়দা ওয়ে,, তুমি কে,, এর আগে তো কখনো আমাদের বাসায় দেখিনি,,
মেয়েটিঃএতক্ষন যাকে দেখার জন্য রুমের বাহির থেকে উকিঝুকি মেরেছেন, আমি সেই পেত্নি,,
আমিঃতুতুমি ভাবির বোন ,,সসরি,,
নিলাঃআমি পেত্নি,,
বেয়াইনঃ সসরি,, বুঝতে পারিনি,,
বেয়াইনঃ ওকি দিয়ে দেখার বেস অভিজ্ঞতা আছে দেখি আপনার,,,(আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,)

তখন ভাবি আসলো,,
ভাবিঃকি কথা হচ্ছে দুজনের,,আচ্ছা পরিচয় করিয়ে দেই,,জনি এহলো আমার বোন নিলা,,আর নিলা এহলো আমার একমাএ আদরের দেবর সবুজ(নাক টেনে বললো)
নিলাঃহইছে আর পরিচয় করাতে হবে না,, যা চিনার চিনে নিয়েছি
ভাবিঃতাহলে তো ভালোই হলো,,আচ্ছা দুজন আসো নাস্তা দেবো,,
নিলাঃ রুমে দিয়ে যাও,,রুমে খাবো,,
ভাবিঃ তাহলে সবুজ তুমি আসো,,
আমিঃএখন নাস্তা করবো না,,এক সাথে লান্স করবো,,
ভাবিঃআচ্ছা,,

এই কথা বলে ভাবি চোলে গেলো,,,আমিও আমার রুমে চোলে আসলাম,,

দুপুরে সবাই একসাথে লান্স করতে বসেছি,,
আমি বসেছি একদম নিলার সোজাসুজি,,
খাবার খাচ্ছি,,হঠাৎ নিলার পায়ে সাথে আমার পা লাগলো,,
আমি নিলার দিকে তাকালাম,ওমা সেকি রাগ,
আরে ভাই রাগেরর কি হলো আমি তো ইচ্ছে করে পা লাগাইনি,,
রাগি ভাবে যখন তাকালি তখন এবার ইচ্ছা করে লাগাবো,,,
নিলা আমার দিক থেকে চোখ সরিয়ে আবার খাবার খেতে লাগলো,,
একটু পর আমার পা দিয়ে ওর পায়ে আলতো করে ছুয়ে দিলাম,,
নিলা কেমন সিহরিত হোয়ে উঠল,,তারপর খাবার রেখে আবার আমার দিকে রাগী চোখে তাকালো,,
আমি ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে ওর পা আবার ছুতে লাগলাম,,
নিলা মুচকি একটা হাসি দিয়েই পায়ে জোরে একটা পারা দিলো,,
আমি উ করে উঠলাম,
ভাবিঃ কি হোয়েছে সবুজ,,
আমিঃকিছুনা ভাবি,,
ভাবি ঃআচ্ছা খাও,,

খাবার খেয়ে রুমে চোলে আসলাম,,
কি বজ্জাত মেয়েরে বাবা,,পুরোই ধানি লংকা,,

বিকালে ছাদে গেলাম,
গিয়ে দেখি নিলা ছাদের এক কর্নার দরে দারিয়ে আছে,,
তাই নিলার পাসে গেলাম,,
আমিঃপায়ে কেউ এভাবে লাথি মারে,
নিলাঃতাহলে অসভ্যের মতো পা ছুয়েছেন কেনো,,
আমি ঃতুমি প্রথম ওমন ভাবে তাকালে কেনো,, তাইতো পা ছুয়েছি,,
আচ্ছা যাক সেসব কথা,, তুমি এত সুন্দর কেনো,,।
নিলাঃপ্লোটিং করছেন আমারা সাথে,,
আমিঃ না সত্যি তুমি খুব সুন্দর,,
নিলাঃআমি সুন্দর তা আমি জানি,, আপনার বলতে হবে না,,
আমিঃতুমি ছোট থেকে বিদেশে পড়ালেখা করেছো,
নিলাঃহুম,, তো,,
আমিঃবিদেশি মেমদের মতো ছোট ছোট জামা কাপর পড়তে, এগুলো কি পড়ছো,,
নিলাঃ কি,!
আমিঃমঝা করলাম,,

নিলাঃহুম।
নিলা মুখটাকে বাকিয়ে সেখান থেকে চোলে গেলো,,
আমার এত বালা লাগতাছে ক্যারে,,,
তারপরের দিন রুমে বসে আছি,, তখন ভাবি সহ নিলা রুমে ঢুকলো,,

ভাবিঃকি ব্যাপার আমার ভাইটার কোনো খোজ খবর নেই, ব্যাপার কি,,
আমিঃভাবি কি যে বলো না,,কিছু বলবে,,
ভাবিঃনিলাকে নিয়ে একটু বাহির থেকে গুরে আয়,,
আমিঃআমি পারবো না,,
ভাবিঃজা না ভাই,,
আমিঃযেতে পারি এক শর্তে,,
ভাবিঃ কি সর্ত?
আমিঃ তোমরা দু বোন আমার দু গালে দুইটা পাপ্পি দিতে হবে,,

পাস থেকে নিলা রেগে গিয়ে বললো,,কিইই,
আমি ভয়ে বললাম, ভাবি ওর লাগবে না,, তুমি দিলেই হবে,,
ভাবি ঃওরে আমার দুষ্ট দেবর রে আয় কাছে আয়,,,
আমি কাছে যেতেই ভাবি গালে একটা চুমু দিলো,, আমি ও ভাবি গালে একটা চুমু দিয়ে নিলাকে বললাম চলো,,
পিছন থেকে ভাবি বললো,,দুষ্ট একটা,, তারাতারি চলে আসিস,,
আমিঃওকে,,

নিলাকে নিয়ে একটা পার্কে গেলাম,
সেখানে অনেক কাপল বসা ছিলো
কেউ কারো কোলে মাথা দিয়ে সুয়ে আছে,,
কেউ আবার চুমু খাচ্ছে,,
নিলা এসব দেখে বললো,,
নিলাঃ আচ্ছা ওরা ওখানে কি করছে,,
আমিঃআকাম করছে,,
নিলাঃ কি আকাম,,
আমিঃ ভালোবাসা করছে,,
নিলাঃ এভাবে ভালোবাসা করে,,
আমিঃহুম,,আচ্ছা চলো,,ওখানে গিয়ে বসি,,

আমরা গিয়ে একটা ব্যান্সে বসলাম,,
আমিঃআচ্ছা কি খাবে,,

নিলাঃআমি বাহিরের কিছু খাই না,,
আমি কাছ থেকে কিছু বাদাম নিলাম,,
কয়টার খোশা ছারিয়ে ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম,
খাও,
নিলাঃআমি বাহিরের এসব খাই না বললাম তো,
আমি ঃ খেয়েই দেখো না,,
নিলাঃ খাবো না,
আমি জোর করে ওকে খাইয়ে দিলাম

আমিঃএবার খাও,,,
নিলা খেয়ে বেস মঝা পেলো,,
ওকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে,

এর পর আমি আর সাধলাম না,,
একা একাই খেতে লাগলাম,
নিলা আমার আর বাদামের দিকে আর চোখে তাকাচ্ছে বারবার,,
আমি খেয়েই যাচ্ছি,,
কিছুক্ষন পর নিলা বললো,,আপনি আচ্ছা বজ্জাত তো,,
আমিঃকি করলাম আবার।
নিলাঃএকা একাই খেয়ে যাচ্ছেন ,,,
আমিঃতুমি তো খাবে না, তাই সাধলাম না আর,,
নিলাঃনা বলেছি বলেকি আর সাধা যাবে না,,দিন আমি খাবো,,
আমিঃসামনেই তো আছে, নিয়ে খাও,,,
নিলাঃআমি খোসা ছারাতে পারি না,, খোসা ছারিয়ে দিন,,
আমিঃওরে বিদেশি মেম সাহেব রে,,আচ্ছা দিচ্ছি,,

আমি খোশা ছারিয়ে দিচ্ছি,, ও খাচ্চে,, কত সুন্দর করে খাচ্ছে,,,কত অপরুপ লাগছে মেয়েটাকে,বিদেশি মেম, আমাকেতো পাগল করে দিলে,,
ওর দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবনায় হারিয়ে গেলাম, কল্পনায় দেখছি,, ও আর আমি পুতুলদের বাসার ছাদে বেলে ড্যান্স করছি,,,
হঠাৎ নিলার কথায় হুস আসলো,,
নিলাঃ কি হলো, ওমন করে কি দেখছেন আমাকে,,, বাদাম দিন,,
আমিঃও কিছু না,,বাদাম নেও,,

বিকালটা ওকে নিয়ে গুরে সন্ধায় বাসায় আসলাম,,

ভাবিঃকি ঘুরতে কেমন লাগলো দুজনের,,
আমি ঃতোমার বোন সাথে থাকলে সারা জীবনই সুন্দর লাগবে,,,
ভাবিঃদুষ্ট একটা,, যা ফ্রেস হোয়ে আয়,,নাস্তা দেবো,,
আমিঃ ওকে,,,

আমি ফ্রেস হোয়ে আসলাম,,

রাতে ডিনার করে সুয়ে সুয়ে ভাবতে লাগলাম,,
যদি এই বিদেশি ম্যাম আমার হতো,, দিলটা খুশ হোয়ে যেতো,,

সকালে ঘুম থেকে উঠে সুনি নিলা এখনো ঘুম থেকে উঠেনি,,
তাই সোজা চোলে গেলাম নিলার রুমে,
ওমা একি অবস্থা,, আমার এত লজ্জা লাগে ক্যারে,,

নিলাকে জাগাতে লাগলাম,,

নিলা হঠাৎ আমার হাতটা জড়িয়ে দরলো,
হায় হায় কি করবো এখন,,
এরপর নিলা কোলবালিস মনে করে আমাকে টেনে জরিয়ে দরলো,,
বাহ খারাফ না,,ঘুমের ঘোরে হলেও বিদেশি ম্যাম কে জড়িয়ে দরতে পারবো,,,

নিলা ঘুমের ঘোরে আমাকে কোলবালিশ মনে করে আস্টেপিষ্টে জড়িয়ে দরলো,,
আমি বাদ থাকবো কেনো, আমিও জড়িয়ে দরি,,
মেয়েদের শরিল এত নরম কেনো,, আমারতো ঘুমই চোলে আসছে,,

কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছি, বুঝতেই পারি নি,,
আহ কি ঘুম রে,,

কিছুক্ষন পর হঠাৎ ব্যাথা পেয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলাম,
তাকিয়ে দেখি আমি নিচে পরে আছি,,
কি ব্যাপার, আমি তো নিলাকে জড়িয়ে ছিলাম,, তাহলে নিচে কি করি,,
উপরে তাকিয়ে দেখি নিলা খাটের উপর বসে রাগে ফুশছে,, ,
আমিঃ কি ব্যাপার,, এই ভাবে তাকিয়ে আছো কেনো,,

নিলাঃ আপনি আমাকে এইভাবে জড়িয়ে দরেছিলেন কেনো,,
আমিঃতোমাকে ডাকতে এসেছিলাম,,আর তখনই তুমি আমাকে টেনে জড়িয়ে দরলে,,তাইতো আমিও,,
নিলাঃলুচ্ছা ব্যাটা কোনহানকার,,,,তাই বলে আমার বুকের মাঝে ঘুমিয়ে যেতে হবে,,
আমিঃতোমার শরিল এত নরম যে আমার ঘুম চোলে এসেছিলো,,
নিলাঃ কি,,,
আমিঃ কই কি,, কিছু না,,,
নিলাঃতবেরে,
এই বলে নিলা আমাকে দৌরাতে লাগলো,,
সারা ঘর দৌরাচ্ছে,,
অবশেষে ভাবির পিছন গিয়ে লুকালাম,,,

নিলাঃআপু তুমি সরো,, আজ ওনার একদিন কি, আমার একদিন,,
ভাবিঃসকাল সকাল তোরা কি শুরু করলি,,,
নিলাঃতুমি সরোতো আপু ওনি সকাল সকাল কি করছে জানো,,
ভাবিঃ কি করেছে,,
নিলাঃওনি আমায়,,, আমি বলতে পারবো না,,তুমি সরোতো,
এই বলে যেই দরতে যাবে, তখন আবার দৌরে পালালাম,,

এ ঘর থেকে ও ঘর,,
অবশেষে আমার রুমে চোলে গেলাম,,
আয়হায় এবার কোথায় যাবো,,
নিলা দৌরে এসে ভার সামলাতে না পেরে আমাকে নিয়ে খাটে পরলো,,
ভাগ্যের কি খেলা,, ও আমার বুকে আর ওর ঠোটদুটো আমার আমার ঠোটের উপর,,

সুযোগ কি আর হাতছারা করা যায়,
ওর হাত দুটো চেপে দরে ঠোটে চুমুক দিয়ে দরলাম,,
নিলা ছোটার জন্য নরাচরা করছে,,
চুমুক দিয়ে দরতেই নিশ্বতব্দ হোয়ে গেছে,,

কিছুক্ষন পর ছেরে দিতেই নিলা আমাকে লাথি থাপ্পর যা পারলো দিলো,,
নিলাঃ লুচ্চা ব্যাটা একটা,
নিলা রুম থেকে দৌরে পালালো,,

কি ত্যাজ রে বাবা হাতে,,
সব জালিয়ে দিলো,,,……..

আমরা নাস্তা করতে বসেছি সবাই,
কেনো জানি ওকে চুমু দেওয়ার পর থেকে পেটের খুদা চোলে গেছে,
তাই খাবার নারা চারা করছি,

ভাবিঃ কি ব্যাপার সবুজ ,, খাচ্ছো না কেনো,,
আমিঃখুদা নেই,,
ভাবিঃকেনো,,
আমিঃসকালে যা খেয়েছি, তাতে আর খুদা থাকবে কি করে,,,

নিলা আমার দিকে রাগী চোখে তাকালো,,

ভাবিঃ কি এমন খেয়েছো যে, খুদা নেই,,
আমিঃবলা যাবে না,, অনেক দামি জিনিস খেয়েছি,,

নিলা আরো রেগে গেলো,,

ভাবিঃআমার ভাইটা কি এমন খেয়েছো যে বলা যাবে না,,,
আমিঃবললাম তো বলা যাবে না,,
ভাবিঃআমার লক্ষি দেবর টা আমায় বলো না,,শুনি,,
আমিঃআচ্ছা শোনো তাহলে,,চুপি চুপি বলি কানটা আগাও,,
আমি যেই ভাবির কানে বলতে যাবো ঠিক তখনই নিলা আমার পায়ে জোরে একটা পারা দিলো,,
আমিঃউ, ভাবি গো,,
ভাবির কানের কাছে চিতকারটা দমিলাম,,
ভাবিঃওরে দুষ্ট এ জন্য কান আগাতে বললি,,
আমিঃ না ভাবি,,
ভাবিঃদুষ্ট মারবো একটা,চুপচাপ খা,,,আমার কানটা গেলো,,

নিলা রেগে রুমে চোলে গেলো,,
ভাবিঃকিরে নিলা,,না খেয়ে চোলে যাচ্ছিস কেনো,,তোর আবার কি হলো,,

নিলা তার রুমে গিয়ে মনে মনে আমাকে ইচ্ছে মতো গালি দিতে লাগলো,,
আমি আড্ডা দিতে বাহিরে চোলে গেলাম,,

বন্ধু সাগর কে কল দিলাম,,
হ্যা তুই কই,,
সাগরঃ মোরের মাথায়,,
আমিঃআচ্ছা থাক, আমি আসছি,,,
সাগরঃআমি আছি তুই আয়,,
আমিঃরোমান আছে,
সাগরঃ হুম সবাই আছে তুই আয়,,
আমিঃআচ্ছা ওয়েট কর আসতেছি,,

ওদের সাথে গিয়ে বেস কিছুক্ষন আড্ডা দিলাম,,

ফেরার পথে ফুচকার দোকান সামনে পরলো,, তখন ই নিলার কথা মনে পরেগেলো,,,
ভাবলাম পাগলিটার জন্য দু প্লেট নিয়ে যাই,,
যেই ভাবা সেই কাজ, নিলার জন্য ফুচকা নিয়ে গেলাম,

ওর রুমে ঢুকে দেখি নিলা সুয়ে সুয়ে বই পরছে,,,
আমিঃ কি করো,,
নিলা কিছুটা রুক্ষ্য ভাষায় বললো,,আপনি দেখেন না কি করি,,
আমি ঃআচ্ছা উঠো,,, দেখো তোমার জন্য কি এনেছি,,

নিলাঃ এখন উঠতে পারবো না,, আপনি যানতো,,

আমি নিলার হাত থেকে বইটা সরিয়ে ওকে টেনে বসালাম,,
ওর দিকে ফুচকার পোটলাটা বারিয়ে দিয়ে বললাম, তোমার জন্য ফুচকা এনেছি,,স্পেসাল ফুচকা,,
নিলা আমার হাত থেকে ফুচকার পোটলাটা নিয়ে আমার মুখে মেরে বললো,,আমি রাস্তার এসব খাই না,, কয়বার বলবো,,যত সব আজাইরা,,

আমার কিছুটা রাগ উঠে গেলো,, তাই পোটলা থেক এক পিজ নিয়ে নিলাকে জোর করে খাইয়ে দিয়ে পোটলাটা নিয়ে চোলে আসলাম,,

আমিঃভাবি, ভাবি,,কোথায় তুমি,,
ভাবিঃকি হোয়েছে,,
আমিঃএদিকে আসোতো,,
ভাবিঃকি বলবা তারাতারি বলো,, রান্না করছি তো,,
আমি ঃ হা করো,
ভাবিঃ কেনো,,
আমিঃআহা করো তো,,
ভাবিঃ আচ্ছা করছি,
আমি একপিজ ফু্চকা ভাবির মুখে পুরে দিলাম,,তারপর ফুচকার পোটলাটা ভাবির হাতে দিলাম,,
ভাবিঃ ওয়াও ফুচকা
আমিঃহুম,,
ভাবি ঃআমার দেবরটা আমায় এত ভালোবাসে,,
আমিঃহুম,,এবার আমাকে খাইয়ে দেও,,
ভাবিঃ আচ্ছা হা করো,,

ভাবি আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে,, আমি ভাবি কে দিচ্ছি,,
ভাবিঃওফ কি মঝা,,
আমিঃস্পেসাল ভাবে বানিয়ে এনেছি,

নিলা একপিজ খেয়ে মনে হয় মঝা পেয়েছে,,তাই বারবার রুম থেকে উকি দিয়ে আমাদের দেখছে,,আর আপছোছ করছে কেনো ফিরয়ে দিলো,,

আমিঃ ভাবি,
ভাবিঃহুম,
আমিঃতোমার বোন কে নিয়ে সাধো,, দেখো খাবে কি না,,
ভাবিঃআচ্ছা,

তারপর আমি আমার রুমে চোলে আসলাম,,
ভাবি ফুচকা নিয়ে নিলার রুমে গেলো,

আমি ফুচকা নিয়ে যেতে পারতাম,,
আমি আবার গেলে হয়তো ইগোর কারনে আমার কাছ থেকে খেতো না,

ভাবি আমার কাছে এসে বললো
ভাবিঃ সবুজ, নিলা ফুচকা খেয়ে বেস তারিফ করলো ফুচকার,,

আমিঃতাই নাকি,,
ভাবিঃহুম,, আরেকদিন এনো তো, তোমার এই এস্পেসাল ফুচকা,,,
আমিঃআচ্ছা আনবো নে,,,

দুপুরে লান্স করার সময় ভাবলাম পা দিয়ে একটু আলতো ছুয়ে দেই,,

পা ছুয়ে যাচ্ছি পা দিয়ে,,
কিন্তু নিলার কোনো পরিবর্তন দেখছি না,
ব্যাপার কি,, আরেকটু বেসি পা ছুয়ে দেখি,
এবারো কোনো পরিবর্তন দেখলাম না,,
ভাবির দিকে তাকিয়ে দেখি আমার দিকে তাকিয়ে আছে,
একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,ভুল করে কার পায়ে পা ছোয়াচ্ছো,,,
আমিঃসরি ভাবি,,
ভাবিঃখাওয়ার সময় দুষ্টমি না করলে হয় না,,চুপচাপ খা,,দুষ্ট একটা,,
নিলা মুচকি মুচকি হাসছে,,,
বিকালে দেখি নিলা ছাদের দোলনায় বসে আছে,,
আমি গিয়ে সোজা ওর পাসে বসে পরলাম,,
নিলা দোলনা থেকে উঠে গিয়ে আমার দিকে করা ভাবে তাকিয়ে বললো,,, সমস্যা কি আপনার,,এভাবে কাছে এসে বসলেন কেনো,,,
আমিঃআরে বেয়াইন রেগে যাচ্ছো কেনো,,,
নিলা ঃআমি এসব পছন্দ করি না,,,
আমিঃকিছু কিছু জিনিস পছন্দ না করলেও অন্যের পছন্দের জন্য করতে হয়,,
নিলাঃআপনি কি আমার বি এফ লাগেন নাকি যে আপনার পছন্দের দাম দেবো,,
আমিঃহোলে ক্ষতি আছে নাকি,,
নিলাঃযত সব আজাইরা লোক,,,
এই বলে নিলা চোলে যেতে লাগলো,,,
আমিঃ এই নিলা, সোনো কথা আছে,,,,
নিলা আমার কথা না শুনে চোলে গেলো,,

রাতে বাহির থেকে আড্ডা দিয়ে বাসায় আসলাম,,
ফ্রেস হোয়ে খাটে হ্যালান দিয়ে একটু রেষ্ট নিচ্ছি,,
তখন নিলার কথা মনে পরলো,,
ওর কথা মনে হোতেই আনমনে হেসে দিলাম,,
এই দুদিনই এমন হচ্ছে,,
ভালোবেসে ফেললাম নাকি ওকে,,,
হয়তো,,

নিলাকে দেখার জন্য মন এমন উসখুস করছে কেনো,,
একবার গিয়ে দেখে আসি আমার বিদেশি ম্যাম কি করে,,

ওর রুমে চোলে গেলাম,,
কাজ নেই সারা দিন শুধু বই পড়ে,,
ওর সামনে বসলাম,,
আমিঃ কি করো,,
নিলাঃদেখতেই তো পারছেন,,
আমিঃও,,আমাকেও একটা বই দেও পড়বো,,
নিলা তার পাস থেকে একটা বই বের করে দিলো,,
আমি বইটা মেলে রেখে ওর দিকে পলক হিন ভাবে তাকিয়ে থাকলাম,,
আসলেই মেয়েটা অপরুপা,, তাকিয়ে থাকতেই মন চায়,,
নিলা হঠাৎ ই আমার দিকে তাকালো,,
আমি আবার চোখ বইতে দিলাম,,
দেখে ফেললো নাকি,,
না আবার বই পড়ছে,,

আমি আবার নিলার দিকে তাকিয়ে থাকলাম,,
নিলা আবার তাকালো,,
এইরে এবার দেখে ফেলেছে,,
আমি বইর দিকে তাকিয়ে আছি,,
নিলা আবার মনে হয় বই পড়ছে,,
এবার তাকানো যাক,,,
মাথা উপরে উঠাতেই দেখি নিলা আমার দিকে ভ্রুকুচকে তাকিয়ে আছে,,,
তারপর আমার বইটা হাত দিয়ে সোজা করে দিলো,,

মানে আমার বই এতক্ষন উলটা ছিলো,,
হায়হায় মান সমসম্মান গেলো সব,,বই উলটা ছিলো খেয়াল ই করিনি,

নিলা বইটা ঠিক করে আমার দিকে একই ভাবে ভ্রুকুচকে তাকিয়ে আছে,,
হয়তো জানার চেষ্টা করছে,আমার আসল উদ্দেশ্যটা কি,,
বই পড়া যে আমার উদ্দেশ্য না, সেটা এতক্ষনে বুঝে গেছে,,

আমিঃ সরি বলে একটা বোকা বোকা হাসি দিলাম,,
নিলা এবার চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,
কিছু বলার আগে কেটে পড়তে হবে,,
বইটা পাসে রেখে তরিগরি করে চোলে আসলাম,,,

ওর সবকিছুই আমার ভালোলাগে,, কেনো তা জানি না,,

ওর কথা ভাবলেই মুখে আনমনে হেসে উঠি,,
প্রেমে পরলেই বুঝি এমনি হয়,,

আমিযে নিলার প্রেমে পরেছি ভাবি কিছুটা অনুমান করতে পেরেছে,,

যাই হোক সেদিন বিকালে দেখলাম নিলা সাদে একা মন খারাফ করে বসে আছে,, তাই আমি গিয়ে ওর গা গেসে বসলাম,,
নিলা চুপ করে আমার পাস থেকে উঠে গেলো,,
চোলে যাবে তখন,,
আমিঃপ্রিয়তমা কোথায় যাচ্ছো,,
এইবলে
ওর হাত দরে আবার আমার পাসে বসালাম,,
নিলা এক জটকায় আমার হাত ছারিয়ে
ঠাশ করে একটা চর দিয়ে উঠে দারালো,,
আমি কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
তারপর বলতে লাগলো,,
নিলাঃসমস্যা কি আপনার, আমার হাত দরার সাহস হয় কি করে আপনারা,,,
আমার পাসে বসার মতো জোগ্যতা আছে আপনার,,
আমিঃ???
নিলাঃকি হলো চুপ করে আছেন কেনো,, বিদেশ থেকে পড়ালেখা করে আসছি,,হেংলা মেয়ে পেয়েছেন আমাকে,,যখন ইচ্ছে হাত দরবেন যখন ইচ্ছে ফাজলামো করবেন,,একটা কথা শুনে রাখুন,,এর পর ফাজলামো করলে ভেবে চিন্তে করবেন,, না হয় এর ফল ভালো হবে না,,এ কথা বলেই নিলা কাদতে কাদতে চোলে গেলো,,

আমি ভাবতেও পারিনি নিলা এমন কিছু বলবে,,,
ওর মন ভালো করতে গিয়ে আজ আমার বেহাল দশা,,।
বুঝলাম না,, কান্না করার কথা আমার, সে যায়গায় নিলা কেনো কান্না করলো,,

মুহুর্তেই আমার হাসিখুশি মনটা বেদনায় ভরে গেলো,,,

বেস কিছুক্ষন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলাম,
তারপর নিচে চোলে গেলাম,,

রুমে ঢুকতে যাবো ঠিক তখনই ভাবি আমার সামনে এসে দারালো,,
ভাবির দিকে তাকাতেই দেখলাম বিরক্তির ছাপ মুখে,,
ভাবিঃ সবুজ, কাজ কিন্তু মোটেও ঠিক করিস নি,,
তোর কাছে এসব আশা করিনি আমি,,
আমার ভাবতেও ঘিন্না হয় তুই,
ছি,,
এই বলে ভাবি আমার সামনে থেকে চোলেগেল,,
আমি হাসবো না কাদবো নিজেই ভেবে পাচ্ছি না,,, ভাবি এসব বলে গেলো,,

নিলা, ভাবির কাছে আমার নামে বিচার দিয়েছে,,
এই সামান্য কারনে,,

রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম,,

বেস কান্না পাচ্ছে আমার,,
কিছুক্ষন কাদলাম,,

আসলে আমি সহজে কোনো কথা মনে নেই না,,
যারা মন থেকে কিছু বলে তাদের দারে কাছেও যাই না,,,
কাছের মানুষ দের কাছ থেকে সামান্য বকাও অন্তরে গিয়ে আঘাত করে,,

রাতে ভাবি কয়েক বার খাবার খেতে ডাকলো,,
না বলে দিয়েছি,,
কেনো জানি খেতে ইচ্ছে করছে না,,
বেস কিছুক্ষন পর ভাবি দরজা ধাক্কাচ্ছে,,
ভাবিঃ এই সবুজ দরজা খোল,,
আমিঃকেনো,
ভাবি ঃতোকে দরজা খোলতে বলছি,,

আমি উঠে গিয়ে দরজা খোলতেই দেখি……….
ভাবি ঃতোকে দরজা খোলতে বলছি,,

আমি উঠে গিয়ে দরজা খোলতেই দেখি ভাবি খাবার হাতে দারিয়ে আছে ,,
বিছানায় নিয়ে গিয়ে বসালো আমাকে,,ভাবি ও বসলো পাসে

আমিঃবললাম না খাবো না,, কেনো এনেছো,,
ভাবিঃআমার উপর রেগে আছিস,,
আমিঃরাগবো কেনো,,,তুমি হলে মায়ের মতো,, শাশন করার অধিকার তোমার আছে,,
ভাবিঃআমি যদি মায়ের মতো ই হই তাহলে ভাত খেয়ে নে,

ভাবিঃহা কর,,,

ভাবি আমাকে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে,,
ভাবি আবার বলতে লাগলো,,কেনো নিলার পিছন লাগিস,, নিলা বিদেশ থেকে স্টাডি কম্পিলিট করে এসেছে,,ওর ভাব মুর্তি আলাদা,কেনো বুঝিস না,,
তোকে আমার আপন ভাইর মতো মনে করি,, এই ফেমিলিতে আসার পর থেকে তোকে কখনো তোর মায়ের অভাব বুঝতে দেইনি,,,
তুই যেভাবে খুশি, তোকে সেভাবে রাখার চেষ্টা করেছি,,

ভাবির কথা শুনে কেনো জানি চোখ দিয়ে পানি বের হোয়ে গেলো,,
ভাবি ঃএই পাগল কাদিস কেনো,,
ভাবি আমার চোখের পানি মুছে দিলো,,,
ভাবি ঃশোন ভাই আমার, এমন কিছু করিস না যাতে আমার সম্মান যায়, তোর ভাইর সম্মান যায়,নিলা এসে ছে অল্প কিছুদিনের জন্য, ওকে হাসি মুখে বিদায় দিতে পারলেই হলো,,
আমিঃতোমি নিশ্চিত থাকতে পারো,, তোমাদের সম্মানে আচ পরতে দেবো না,,,
ভাবি ঃএইতো আমার লক্ষি ভাই,, এবার ঘুমা,,
এই বলে ভাবি আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে লাইট বন্ধ করে চোলে গেলো,,

আমি ঘুমের দেশে চোলে গেলাম,,,

সকালে নাস্তা করতে বসেছি,, নিলা নিচের দিকে তাকিয়ে খাচ্ছে,,
আমিও খাচ্ছি,, কেউ কাউর দিকে তাকাচ্ছি না,,,
এর ভিতর ভাবি কিচেনে গেলো,,
আমি নিলাকে বলে উঠলাম সরি,,
নিলা মাথা উঠিয়ে আমার দিকে তাকালো,,
বুঝার চেষ্টা করছে,,আমি বলেছি কি না,,।
আমিঃআসলে কালকের জন্য সরি,,
নিলা কিছুটা নিচু স্বরে বললো,,আমিও সরি,, কাল মন খারাফ ছিলো, তাই কি থেকে কি বলে ফেলেছি,,,
আমিঃইট,স ওকে,,
তার পর নিচের দিকে তাকিয়ে খেতে লাগলাম,,

বাসায় আর ভালো লাগছে না, তাই বাহিরে বন্ধুদের কাছে চোলে গেলাম আড্ডা দিতে,,,
বেস কিছু ক্ষন আড্ডা দিয়ে, বাসায় চোলে আসলাম,,
আসার সময় ভাবির জন্য তেতুলের চাটনি নিয়ে আসলাম,,,

আমিঃভাবি তোমার জন্য,,
চাটনি গুলো এগিয়ে দিলাম,,
ভাবিঃখুব ভালো করেছিস এনে,,
ফ্রেস হোয়ে আয় খাবি,,,

দুপুরে নিচের দিকে তাকিয়ে খেয়ে চোলে আমলাম,,
রাত হোয়ে গেলো,,
নিলার সাথে সারা দিন আর কোনো কথা হয় নি,,,
দেখিনি,,
দেখবো কিভাবে,, বাসায় আসলে থাকিতো রুমের ভিতর,, প্রোয়োজন ছারা বের হই না,,
পরের দিন বিকালে ছাদে গিয়ে দেখি আজো নিলা দোলনায় বই হাতে বোসে আছে,,

একবার ভাবলাম চোলে যাই,আবার ভাবলাম নাহ,ওর মতো থাকুক, আমি আমার মতো,,
তাই ওর বিপরীদ পাসে ছাদের কিনারে চোলে গেলাম,,
নিলা বই থেকে মুখ উঠিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো,,
বেস কিছুক্ষন ছাদে থাকলাম,,
একবারো তাকাই নি নিলার দিকে,,,

রাতে খেতে বসেছি,, তখন হঠাৎ নিলার পায়ের সাথে পা লাগলো,,
ভাবলাম,, অনইচ্ছাকৃত হয়তো পা লেগেছে,,
কিছুক্ষন পর আবার আমার পা ছুয়ে দিলো নিলা,,,
আমি ওর দিকে তাকিয়ে বুজার চেষ্টা করছি,, অনইচ্ছাকৃত লেগে গেলো নাকি,,
না নিলার ভিতর কোনো পরিবর্তন দেখছি না,,

এবার আমি আমার পা পিছনে নিয়ে আসলাম,,

হঠাৎ ভাইয়া পাস থেকে বলে উঠলো,, কিব্যাপর নিলা,, পা দিয়ে আমার পা খোচাচ্ছো কেনো,,
নিলা কিছুটা লজ্জা পেয়ে ভাইয়াকে বললো,,সরি ভাইয়া,,

আমার হাসি পেলো,,
চুপচাপ খাচ্ছি,,।
ভাইয়া বলে উঠলো,, তা সবুজ ,
পড়ালেখা শেষ করলি কবে,,এখনতো আমার সাথে গিয়ে আমাদের কম্পানিতে জয়েন করতে পারিস,,
আমিঃকরবো,,
ভাইয়াঃকবে,,
আমিঃআর কিছুদিন পর,,
ভাইয়া ঃআচ্ছা ওকে,,

আমি রুমে চোলে আসলাম,,

আজ সকাল সকাল ছাদে গেলাম,কতদিন সকালের রোদ্র গায়ে মাখা হয় না,,

যতো মোর জালা,, একটু দোলনাতে গিয়ে বসবো, তাও নিলা সেখানে বসা,,
এই মেয়ে এত সকাল সকাল তো উঠে না,,

ওর থেকে দুরে ছাদের অন্যপাসে চোলে গেলাম,,।

কিছুক্ষন পর আমার পাসে কাউকে অনুভব করলাম,,
পাসে তাকিয়ে দেখি নিলা,

চুপচাপ দারিয়ে রইলাম,,কোনো কথা বললাম না,
তখন নিলাই বললো,,কি করছেন,,
আমিঃকিছু না,,
নিলাঃও,,,

আমি আর না দারিয়ে সেখান থেকে চোলে আসলাম,,
হয়তো আরো কিছু বলতো,,

দুদিন পর,, বিকালে আদসোয়া
হোয়ে খাটে বসে আছি,
তখন রুমে নিলা সহ ভাবি আসলো,,
আমি ঃকিছু বলবে ভাবি,,
ভাবিঃএকটু কাজ করে দেনা,,
আমি ঃ কি কাজ ভাবি,,
ভাবিঃ নিলাকে নিয়ে একটু মার্কেটে যা না,, ও কি কি কিনবে,,
আমিঃভাবি আমার এখন ভালো লাগছে না,,তুমি দারোয়ান চাচা কে বলো,,, সাথে যেতে,,,
নিলা কিছুটা রেগে বললো,,হোয়াট,, আমি দারোয়ান চাচার সাথে যাবো মার্কেট করতে,,, আমি যাবো না,,আমার লাগবে না কিছু কেনা,,,
এই বলে নিলা আমার রুম থেকে বের হোয়ে তার রুমে চোলে গেলো,,
ভাবি ঃ লক্ষি ভাই আমার, যা না,, ওকে একা ছারতে পারবো না ওর কিছু হোয়ে গেলে আমি বাবার কাছে কি জবাব দেবো,,
বড় মুখ করে এনেছি ওকে,,
জা না ভাই আমার,,

আমিঃওানাকে রেডি হোতে বলো,,
ভাবিঃতুই রেডি হোয়ে আয়,,আমি ওকে বলছি,,

আমি রেডি হোয়ে রুম থেকে বাহিরে আসলাম,, ড্রইং রুমে এসে দেখি নিলা ছোপায় বসে আছে,,
কত যে মায়াবি লাগছে মেয়েটাকে বলে বুঝাতে পারবো না,,

না আমার তাকানো যাবে না,,,

আমি ওর কাছে যেতেই নিলা দারিয়ে গেলো,,
আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে,,
আমিঃচুলুন,

বাহিরে রিক্সার জন্য ওয়েট করছি,,, নিলাকে রিক্সায় উঠিয়ে দিলাম,
রিক্সাওয়ালা মামা কে মার্কেটের ঠিকানা বলেদিছি,,
আমি ঃমামা এবার যান আপনি,,
নিলাঃএই দারান দারান,,
আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো,আপনি যাবেন না,,
নিলা কিছুটা সরে গিয়ে বললো,, উঠুন

আমি একটা মুচকি হাসি দিলাম,,
নিলা ঃ কি হলো উঠুন,,উঠতে না পারলে আমার হাত দরে উঠুন,,
নিলা হাত বারিয়ে দিলো আমার দিকে,
আমিঃআপনার পাসে বসার যোগ্যতা এখনো হয়নি, , আপনি যান আমি পরের রিক্সায় আসছি,,
এই কথা বলতেই নিলার মুখে কেমন পরিবর্তন দেখলাম,,,
কিছুটা মলিন ভাব,,

একটা বড় মলের সামনে নামলাম,,
নিলা দারিয়ে আছে,,
আমি নেমে ভাড়া চুকিয়ে নিলাকে নিয়ে ভিতরে গেলাম,,,

কয়েকটা দোকান ঘুরে ঘুরে দেখলো,
তারপর একটা শাড়ির দোকানে ঢুকলো,,

নিলা শাড়ি দেখছে,,

একটা শাড়ি দেখছি আমি,, ব্লু কালারের,,
বেস পছন্দ হোয়েছে আমার,,
আমি তাকিয়ে তাকিয়ে সেটা দেখছি,,
নিলা হয়তো খেয়াল করেছে,,
তাই দোকানদার কে বললো,, আংকেল ওই শাড়িটা দেখান তো,,
নিলা আমার সামনে শাড়িটা দরে বললো,খুব পছন্দ হোয়েছে আপনার,,
আমিঃআমার পছন্দতে আপনার কি আসে যায়,,,।

নিলা আমার চোখের দিকে একটু তাকিয়ে দোকানদার কে বললো, আংকেল এটা প্যাক করে দিন,,

আমি বুঝিনা ওর আবার হঠাৎ কি হলো,,
এরপর আমাকে নিয়ে একটা ছেলেদের দোকানে ঢুকলো,,,
বুঝিনা ছেলেদের দোকানে ওর কি,,,
নিলা পান্জাবি দেখছে,,
ওর শাড়ির সাথে মেসিং করে পান্জাবি নিলো,,,
দেখতেও খুব সুন্দর।
দোকান্দার তখন( আমাকে দেখিয়ে) বললো,,আপনার হাজবেন্টর গায়ে মানাবে খুব,,
নিলা কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো, থ্যাংস,,,

মার্কেট থেকে বের হোতেই
নিলা আমার দিকে পান্জাবির প্যাকটা বারিয়ে দিয়ে বললো,,
আপনার জন্য,,
আমিঃসরি,,আপনার জিনিস আমি নেবো কেনো,,,
আমার কথায় নিলা কিছুটা ভরকে গেলো,,,
নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,,
আমি নিতে বলছি নিবেন,,
আমিঃসরি, আমার যতেষ্ট আছে,, নিতে পারবো না,,,
নিলাঃতো আমি এটাদিয়ে কি করবো এখন,,
আমিঃ আপনি ভালো জানেন আপনি কি করবেন,,

নিলার মুখটা মুহুর্তে মলিন হোয়ে গেলো,,

নিলা আর কোনো কথা বলেনি,,,
নিলাকে একটা রিক্সায় উঠিয়ে দিলাম,,
আমি ও একটা রিক্সা নিয়ে চোলে গেলাম, বাসায়,,,

নিলাকে রেখেই আমি বাসার ভিতর চোলে গেলাম,,
ও আমার পিছন পিছন হেটে আসছে,

নিলার চেহারার মলিন ভাব দেখে ভাবি বললো,, কিরে নিলা কি হোয়েছে,,
নিলা চুপ করে থাকলো,,
ভাবিঃমুখটা এমন শুকনো কেনো,, কি হোয়েছে বলবি তো,,
নিলা ভাবির দিকে পান্জাবিটা এগিয়ে দিলো,,
ভাবিঃপান্জাবি কার জন্য,,
নিলাঃতোমার দেবরের জন্য,,আমার কাছ থেকে নেয়নি,,,
ভাবিঃআচ্ছা মন খারাফ করিস না,, আমার কাছে দে, আমি নিয়ে দিচ্ছি,,

ভাবি পান্জাবিটা নিয়ে আমার রুমে আসলো,,
আমার পাসে এসে বসলো,,
আমি ঃকিছু বলবে,,,
ভাবিঃপান্জাবিটা পরতো দেখি কেমন লাগে,,,,
আমিঃআমার এখন ভালো লাগছে না,,
ভাবিঃতো পান্জাবিটা নিচ্ছিস না কেনো,,
আমিঃডয়ারে আমার আরো তিনটা পান্জাবি আছে,,আমার লাগবে না, তুমি নিয়ে যাও,,,
ভাবিঃবুঝিতো,,আমাকে তোর আপন ভাবতে পারিস নি এখনো,,
আমিঃদেখো ব্লাকমেইল করবা না,
ভাবিঃতাহলে নিচ্ছিস না কেনো,,নে,, না হলে বুঝবো তুই আমায় আপন ভাবতে পারিস নি,, তোর বোন ভাবতে পারিস নি,,
আমি ঃতুমিও না, কিসের মধ্যে কি বলোযে,,
দেও,,,
ভাবিঃএবার এটা গায়ে দে,, একটু দেখি আমার ভাইটাকে কেমন দেখায়,,
আমিঃআবার পরাও লাগবে,,
আচ্ছা পরছি,,,

এবার দেখেছো, হোয়েছে,,
ভাবিঃহুম,এবার খেতে আয়,,
আমিঃআচ্ছা খুলে নেই,,
ভাবিঃনা না,, খোলা লাগবে না,,এটা পরেই খেতে আয়,,
আমিঃবুঝিনা, তোমার আবার কি হোয়েছে,,চলো,,

খেতে বসে একটা জিনিস লক্ষ
করলাম,, নিলা বার বার আর চোখে আমাকে দেখছে,,
হয়তো ওর কিনা পান্জাবি পরেছি বলে,,

রাতের আকাশটা দেখতে মন চাইলো, তাই ছাদে চোলে গেলাম,,
ছাদের এক কোনা গেসে দারিয়ে আকাশ দেখছি,,
রাতের আকাশ দেখতে মজা আলাদা,,

আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা দেখায় বিভোর,

,,,,,খুব এরিয়ে চলছেন আমায় তাই না,,,

হঠাৎ নিলার এমন কথায় বেস চমকে গেলাম আমি,,
পাসে তাকিয়ে দেখি নিলা,,
ও এত রাতে এখানে কি করছে,,
নিলা আবার বলা শুরু করলো,,
নিলাঃছোট কাল থেকেই বেস আদরে বড় হোয়েছি, তাই অবহেলাটা সয্য হয় না,,কারো অবহেলা আমি সয্য করতে পারিনা,,,
কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো,,
বুঝছি না,, কান্না করছে কি না,,
নিলাঃআসলে সেদিন আমার কাছের এক ফ্রেন্ড গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে,,তাই মনটা খারাফ ছিলো,,,আর তখন ই আপনি এসে ফাজলামো শুরু করলেন,,
আমিঃকারো মন ভালো করার চেষ্টা করা বুঝি ফাজলামো,,
নিলাঃসরি তো বুঝতে পারিনি,,
আমি ঃভাবির কাছে বিচার দিয়েছিলেন কেনো,,
নিলাঃআমি,,(কিছুটা অবাক হোয়ে)
আমিঃথাক আর অস্বিকার করা লাগবে না,,জানেন তো, কাছের মানুষদের কাছ থেকে সামন্য কথাও অন্তরে গিয়ে আঘাত করে,,
নিলাঃবিশ্বাষ করুন আমি আপুকে কিছু বলিনি,,
আমিঃআমার বিশ্বাষে কি আসে যায়,,আচ্ছা আমি সব ভুলে গেছি আপনিও ভুলে যান,,
নিলাঃতাহলে আপনি আপনি করে বলছেন কেনো,, আমার কাছে আসেন না কেনো,,
আমিঃসবাইকে তুমি বলা যায় নাকি,, আর আপনার কাছে আসতে যে যোগ্যতার প্রোয়োজন আছে আগে জানতাম না,,
আচ্ছা চলি,,এত রাতে দুজনকে কেউ দেখলে খারাফ ভাববে,,

আমি চলে আসলাম,,
পিছন থেকে নিলা বললো,,শনুন,,
নিলার গলা কেমন দরে আসছে,,

আমি রুমে এসে সুয়ে পরলাম,,

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি….
আমার মামাতো বোন ইরা ড্রইং রুম বোসে আছে,,,

ইরা আমাকে দেখেই জড়িয়ে দরলো,,
আমিঃকিরে কখন আসলি,,
ইরাঃমাএ আসলাম,,রাতে বাসে চরলাম,, সকালে এসে পৌছালাম,,
আমিঃআমাকে বলতি,, পিক করে নিয়ে আসতাম,,
ইরাঃসারপ্রাইজ দিলাম,,
আমিঃভালো তা মামা কোথায়,,?
ইরাঃকোন কাজে যেনো এসেছিলো, সেই কাজে চোলে গেছে,,।
হঠাৎ চোখ গেলো,, কিচেনের দিকে,
নিলা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে,
দেখেতো মনে হয় কিছুটা রেগে আছে,,,
ইরা নিলাকে দেখে বললো,,ভাইয়া উনি কে,,,
আমি ঃবিদেশি ম্যাম,,
ইরাঃকি বলো বুঝিনি,,,।
আমিঃভাবির বোন,,।
ইরাঃদারাও আমি কথা বলে আসি,,
নিলা আমার দিকে কেমন ভাবে যেনো রাগী চোখে তাকালো,,
আমি ছাদে গেলাম,,,
হঠাৎ নিলা পিছন থেকে বললো,,আপনাকে আপু নাস্তা করতে ডাকছে,,
আমি নিচে যেতে লাগলাম,,
তখন নিলা আবার বললো,,মেয়েটা আপনার কি হয়,,
আমি এবার ঘুরে নিলার দিকে তাকালাম,,
নিলা আমার চোখের দিকে নিরলিপ্ত ভাবে তাকিয়ে আছে উওরের আশায়,,
আমিঃআপনার বেয়াইন হয়,,,
নিলাঃআপনার কি হয়,,
নিলা কি বুঝাতে চাচ্ছে আমি তা ভালোভাবেই বুঝেছি,,
আমি আর কিছু না বলে নিচে চোলে আসলাম,,
নাস্তার টেবিলে বসে নাস্তা খাচ্ছি,,
নিলা আমার সামনে বসেছে,ইরা পাসে,,,

খাবার খেয়ে যাচ্ছি,,ইরা টুকটাক কথা বলছে,,
নিলা শুধু আমাদের দুজনের মুখের দিকে তাকাচ্ছে,,

ভাবি ইরাকে বললো,, তা বোন আমার,তোমার খবর কি,,,পড়ালেখা কেমন চলে,,
ইরাঃএতো কোনো রকম চলে ভাবি,,
ভাবিঃকেন,কোনো রকম কেনো,
ইরাঃএমনেই,,

বিকালে ইরা বায়না দরলো,, আমার সাথে ঘুরবে,,
আমিঃআচ্ছা রেডি হোয়ে নে,,,
ইরা ঃতুমি যাষ্ট পাচ মিনিট ওয়েট করো,,, আমি রেডি হোয়ে আসছি,,
আমিঃআচ্ছা তারাতারি আয়,,

আমি ড্রইং রুমে বোসে আছি,,
তখন ভাবি আসলো,,
ভাবিঃ সবুজ কোথায়ও যাচ্ছিস,,
আমিঃহুম, ইরাকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাবো,,
ভাবিঃঘুরতে যখন যাবিই, তখন নিলাকে সাথে নিয়ে যা,
আমিঃআচ্ছা ওনাকে রেডি হোতে বলো,
ভাবির পিছন থেকে নিলা বললো, আমি রেডি,,
আমি নিলার দিকে তাকিয়ে আবারো প্রেমে পরে গেলাম,,
না কি ভাবছি,,, ওর প্রেমে পড়া যাবে না,,
আমি এসব ভাবছি, তখন ইরাও এসে বললো, হোয়ে গেছে আমার চলো,,,,
আমি নিলাকে বললাম চলুন,,

বাহিরে রিক্সা নিতে গিয়ে জামেলা,,,লোক হলাম তিনজন,,,
আমিঃআচ্ছা তোমরা দুজন একরিক্সায় যাও,,আর আমি একা এক রিক্সায় যাচ্ছি,,
ইরাঃআমি তোমার সাথে যাবো,,
আমিঃওনি কি একা যাবে নাকি রিক্সায়,,।
ইরাঃকিচ্ছু হবে না,,

নিলা শুধু আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে,,
দেখছে আমি কি বলি,,

আমি নিলাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,,, আচ্ছা তাহলে আপনি এই রিক্সায় উঠেন,,আমরা দুজন এই রিক্সায় উঠি,,
নিলা কিছু বললো না,,
রিক্সায় উঠে গেলো,
পিছন থেকে দেখলাম নিলা হাত দিয়ে চোখ মুচছে,,,

আমরা গিয়ে একটা পার্কের সামনে নামলাম.

তিনজন হাটছি,আমি মাঝে, ওরা দুজন দু পাসে,,
ইরা ফুচকার দোকান দেখে বললো,,, জনি ভাইয়া আমি ফুচকা খাবো,,
আমিঃআচ্ছা চল,
নিলা কে জিগাসা করলাম,, আপনি খাবেন,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো,,
বুঝলাম খাবে,,

তিনজন গিয়ে ফুচকার দোকানে বসলাম,,
আমি ঃ মামা তিন প্লেট ফুচকা দেন তো,,

তারপর ইরা বললো,
ইরাঃ সবুজ ভাইয়া, আমি তোমাকে আর ভাইয়া বলে ডাকতে পারবো না,, নাম দরে তুমি করে বলবো,,
আমি কিছু বলার আগেই নিলা বলে উঠলো,,কেনো,, তোমার বড় ভাইকে নাম দরে তুমি করে বলবে কেনো,, তাছারা তোমার বড় ভাই হয়তো,
ইরাঃতো কি হোয়েছে,,আমি তুমি করে বলবো,,
আমিঃআচ্ছা তুমি করে বলিস,,
নিলা কিছুটা রেগে বললো,তুমি করে বলবে মানি,, তোমা…..
তখন ফুচকা চোলে আসলো,,তাই নিলাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম,, ফুচকা খান,,
আমরা চুপচাপ ফুচকা খাচ্ছি,,
হঠাৎ ইরা বললো,,সবুজ আমাকে একটা ফুচকা খাইয়ে দেও,হা…
আমিঃনিজে নিয়েই তো খেতে পারিস,,
ইরাঃদেওতো এই হা করলাম,,
আমিঃকি যে পাগলামি করিস,,, নে,,
ইরাকে খাইয়ে দিলাম,,,
ইরার এই ঢং দেখে নিলার গা জলে যাচ্ছে,,তা মুখ দেখেই বুজা যাচ্ছে,,,
ইরা এবার বললো, হা করো,, খাইয়ে দেই,,
আমিঃআচ্ছা দে,,
আমি হা করতেই খাইয়ে দিলো,, তবে ইরা নয় নিলা,,,
ইরা আর আমি অবাক,,,
ইরা ফুচকা হাতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
নিলা কিছুটা রেগে বললো,,বেসি ফুচকা খাওয়ার ইচ্ছা না,, খান,,
এই বলে ফুচকার ফেলেটা ফেলেই চোলে গেলো,,,
এর আবার কি হলো,,
ইরা ঃওনি এমন করলো কেনো, ,
আমিঃতুই বুঝবি না,, ফুচকা খা,,,,,
নিলা সেখান থেকে রাগ করে বাসায় চোলে আসলো,,
নিলার মনে যে কিছু একটা চলছে,,তা বেস ভালো করেই বুঝছি,,,,

আরো কিছুক্ষন গোরাফিরা করে বাসায় চোলে আসলাম,

বাসায় ঢুকতেই দেখলাম নিলা ড্রইং রুমে বসে আছে,,
আমাকে দেখে নিলা চোখ গড়ম করে আমার দিকে তাকালো,,,
তখন ভাবি কিচেন থেকে এসে বললো,,সবুজ, নিলা একা একা চোলে আসলো কেনো,,
আমিঃওনি ই ভালো যানে,,,
আমি রুমে চোলে আসলাম,,

রাতে রুমে বসে ইরা আর আমি গল্প করছি,,,
তখন নিলা কফি হাতে রুমে ঢুকলো,,
আমার দিকে বারিয়ে দিয়ে বললো,, কফি আপনার জন্য,,,
তখন ইরা বললো আপু আমার জন্যও এক মগ কফি আনো,,,
আমি কফিটা নিয়ে ইরাকে দিয়ে দিলাম,,,
ইরাঃতুমি খাবে না,,,
আমিঃনাহ,,
নিলা ফিছন ঘুরে চোলে গেলো,, নিলার চোখের কোনে স্পস্ট পানি দেখতে পেলাম,,,

রাতে ডিনার করার সময় ভাবি বললো,,সবুজ তোর জন্য আজ নিলা নিজের হাতে স্পেসালভাবে কফি বানিয়েছে,,খেয়ে কেমন বুঝলি,,
আমি নিলার দিকে তাকালাম,, নিলা আমার চোখের দিকে এক পলক তাকিয়ে মাথা নিচু করে ভাত নারা চারা করতে লাগলো,,

আমিঃকফিটা ইরা খেয়েছে,,
ভাবিঃবানালো তোর জন্য খেলো ইরা,,
আমিঃসবার সব জিনিস খাওয়ার জন্য যোগ্যতা লাগে,,।
ভাবিঃবুঝলাম না,,
আমিঃ কিছু না, খাওতো,,
নিলা খাবারে আছতে করে পানি ঢেলে রুমে চোলে গেলো,,

রাতে ইরাকে নিলার সাথে ঘুমুতে দেওয়া হলো,,

সকালে ঘুম থেকে উঠতেই কাউকে রুম থেকে বের হোয়ে যেতে দেখলাম,,
ফ্রেস হোয়ে নাস্তা করতে বসলাম,,তখন ইরা বললো,,সবুজ ভাইয়া আজ কিন্তু আমাকে সারাদিন ঘুরাতে হবে,,
আমিঃআমার তো আজ সময় হবে না,,আচ্ছা আমার এক ফ্রেন্ড কে বোলে দিচ্ছি,, ও ই তোকে ঘুরাবে,,,
ইরাঃআচ্ছা,,তারাতারি আসতে বলো,,নিলা আপু তুমি যাবে নাকি,,,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, না জাবো না,,

আমি আমার কাছের ফ্রেন্ড রোমন কে কল করে চোলে আসতে বললাম,,
সে ইরাকে নিয়ে ঘুরতে বের হোয়ে গেলো,,,
আমি আমার কাজে চোলে গেলাম,,,

রাত হোয়ে গেলো এখনো বাসায় ফিরিনি,,,
হঠাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠলো,,ফোন বের করেই দেখি ভাবির ফোন,,
আমিঃহুম ভাবি বলো,,
ভাবিঃকি করছিস এখনো,,
আমিঃএকটু কাজে আছি,,
ভাবি কে পাস থেকে কে যেনো শিখিয়ে দিচ্ছে,, কখন আসবে,,
ভাবিঃকখন আসবি,,
আমিঃআসতে একটু রাত হবে,,
ভাবিঃতারাতারি চোলে আসিস,,
আমিঃহুম,,

বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হোয়ে গেলো,,
কলিং বেল দিতেই নিলা দরজা খুলে দিলো,,,
আমি পাস কাটিয়ে চোলে আসলাম,,
বাকিরা সব ঘুমিয়েছে,,

ফ্রেস হোয়ে ছাদে চোলে গেলাম,,

বেস তো আনন্দেই আছেন দেখছি,,

নিলা কখন যে আমার পাসে এসে দারালো বলতেই পারলাম না,
নিলার কথায় বুঝতে পারলাম,,
নিলা আবার বললো,,,কষ্ট দিতে খুব ভালোই যানেন,,
এবার নিলার দিকে তাকালাম,
ওর চোখে পানি চিক চিক করছে,,
নিলাঃসামান্য একটা কারনে আপনি আমাকে এভাবে এরিয়ে চলছেন,,,
আমিঃকারনটা সামন্য হলেও কথা গুলো সামান্য ছিলো না,,
নিলাঃতার জন্য তো সরি বললাম,,আর কারন ও বলেছি,,
আমিঃতার থেকে বেসি কষ্ট লেগেছে ভাবির বলা কথা গুলো,,, কেনো সেদিন সুধু শুধু ভাবির কাছে বিচার দিলেন,, ইচ্ছা হলে দুটো থাপ্পর দিয়ে দিতেন আমায়,,

নিলা এবার কেদে দিয়ে বললো,,বিশ্বাষ করুন আমি আপুর কাছে বিচার দেইনি,,,আমি বিদেশ থেকে পড়া লেখা করতে পারি কিন্তু এত অহংকারি না,,
সেদিনের কথা গুলো আমি রেগে গিয়ে বলেছি, একটা কথাও মন থেকে বলিনি,,,
আমিঃযে ভাবেই বলেছেন, কথা গুলোতো সত্য,,,,
আরো গল্প পড়ুনঃGolpo বাড়িওয়ালার_দুষ্টু_মেয়ে
হঠাৎ নিলা আমাকে জড়িয়ে দরে বললো,প্লিজ এভাবে বলবেন না খুব কষ্ট হয়,,,খুব ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে প্লিজ,,অনেক ভালোবাসি,,

হঠাৎ নিলা আমাকে জড়িয়ে দরে বললো,প্লিজ এভাবে বলবেন না খুব কষ্ট হয়,,,খুব ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে প্লিজ,,অনেক ভালোবাসি,,

আমিও ওকে জড়িয়ে দরবো ঠিক তখন ভাবির কথা গুলো মনে পড়লো,,
তাই ওকে কাছ থেকে ছারিয়ে নিলাম,,
নিলা আমার দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে,,,
নিলাঃকি হলো,, ভালোবাসবেন না,,
আমি ঃদেখুন,, আপনার যোগ্য কাউকে খুজে নিয়েন,,
আমি চোলে আসবো,,
তখন নিলা আমার হাত চেপে দরে মুখের কাছে মুখ এনে চোখে চোখ রেখে বললো,,
আমি এগুলো শুনতে চাইনি, ভালোবাসেন কি না,,
আমিঃদেখুন,, অনেক রাত হোয়ে গেছে,, কেউ দেখলে সমস্যা হবে,,,
সকালে কথা হবে
এই বলে আমি নিচে চোলে আসলাম,,

সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করার জন্য টেবিলে গেলাম,,
সবাই বসে আছি কিন্তু নিলাকে দেখছি না,,,
তখন ভাবি বললো,,কিরে নিলা কই,,
এই নিলা, নিলা নাস্তা করতে আয়,,
ইরাঃভাবি আমি ডেকে নিয়ে আসছি দারাও,,
ইরা নিলার রুমে গিয়ে নিলাকে ডেকে নিয়ে এলো,,
নিলার চোখ দেখে ভয় করে উঠলো,,,
লাল হোয়ে আছে চোখ জোড়া,,,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে সামনের চেয়ারে বসলো,,
ভাবিঃ কিরে তোর চোখ এমন লাল কেনো,, রাতে ঘুমাস নি,,,
তোকে নিয়ে আর পারি না,, সারা দিন শুধু বই বই আর বই নিয়ে পরে থাকে,,
এই বলে ভাবি কিচেনের দিকে যাচ্ছিলো,,তখন নিলা গম্বির শুরে বললো,,,
নিলাঃদারাও আপু,,,
ভাবি ঘুরে নিলার দিকে তাকালো,,নিলার এমন গম্বির স্বর শুনে ভাবি নিলাকে জিগাসা করলো,,
ভাবিঃকিরে নিলা তোর কি হলো,,, জ্বরটর আসলো নাকি,,
নিলা ঃআপু সেদিন কি আমি তোমার কাছে ওনার নামে কোনো বিচার দিয়েছিলাম,,,,
ভাবিঃনাতো,,
নিলাঃওনার নামে কোনো কিছু বলেছিলাম,,,
ভাবিঃনাতো,,কেনো
নিলা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,,,দেখেছেন আমি সত্যি বলেছিলাম,,
ভাবি আমাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে,,
নিলা ঃতহলে সেদিন ওনাকে শুধু শুধু বকে ছিলে কেনো,, তোমার জন্য আজ আমায় ওনি এরিয়ে চলছে,ঠিক মতো কথা বলছে না,,,
ভাবিঃতুইতো সেদিন কান্না করতে করতে ছাদ থেকে নেমেছিলি,আমি জিগাসা করলে ও তুই তো কিছুই বলিস নি, আর ছাদে দেখলাম সবুজ কে,,
ভাবলাম ও বুঝি তোকে কিছু বলেছে,,,তাইতো ওকে একটু বকা দিলাম,,,
নিলাঃতোমার বকা দেওয়াতে আজ আমার সাথে ওনি ঠিক মতো কথা বলে না,,

নিলা নাস্তা না করে,, রুমে রুমে চোলে গেলো,,
ভাবি আমার দিকে তাকিয়ে আছে তাই আমিও চোলে গেলাম,,

বাহিরে বের হওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি তখন ইরা বললো,,বাহিরে যাচ্ছো বুঝি,,
আমিঃহুম,,
ইরাঃআমি বাসায় একা একা বোর হচ্ছি,,একা একা ভালো লাগে না,,
আমিঃআমার সাথে চল,,
ইরাঃনা,,তোমার সাথে বেসি ঘুরা যায় না,, তোমার বন্ধু কে বলো আসতে,, ওনি আমায় অনেক যায়গায় ঘুরায়,,,অনেক কিছু খাওয়ায়,,
আমিঃহোয়েছে,, আর বলতে হবে না,, পানি তো দেখি অন্য দিকে গড়াচ্ছে,,,
ইরা কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো,,ভাইয়া,,
আমিঃআচ্ছা আচ্ছা আমি রোমান কে বোলে দেবো,,

এই বলে আমি বাহিরে বের হোয়ে গেলাম,,,

ভাবি নিলার রুমে গিয়ে দেখে নিলা বালিশে মুখ গুজে কাদছে,,
ভাবি নিলার মাথায় হাত রাখলো,,
তখন নিলা চোখ মুছে উঠে বসলো,,
ভাবি ঃকিরে বোন কি হোয়েছে তোর,,
নিলাঃ???
ভাবিঃআমি যা অনুমান করছি, তা কি সত্যি,,,

নিলা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে,,
ভাবিঃআমার দিকে তাকা ,,,
নিলা ভাবির দিকে তাকালো,,
ভাবিঃতুইকি সবুজ কে ভালোবেসে ফেলেছিস,,
নিলা আবার নিচের দিকে তাকালো,,

ভাবি ঃদেখ বোন আব্বু এটা কখনো মানবে না ,,
নিলাঃকেনো মানবে না,,
ভাবিঃ সবুজ এখনো বেকার,, তাছারা তুই বিদেশ থেকে গ্রেজুয়েশন কম্পিলিট করে এসেছিস,,তুই আরো ভালো ভালো উচু লেবেলের ছেলে পাবি,, ওকে বুলে যা,,,আব্বু মানবে না,,
নিলাঃকখনো না,, আমি উচু লেবেলে ছেলে চাই না,, আমি ওকেই চাই,,, আর আব্বু কে তুমি বললে অবশ্যই মানবে,,,,
ভাবিঃআচ্ছা পরের টা পরে দেখা যাবে,,আচ্ছা তুই ওকে এই কথা বলেছিস,,,
নিলাঃহুম
ভাবিঃতো কি বললো,,
নিলা কিছুটা কাদার স্বরে বললো,,কিছুই না,, সেদিনের ওমন ব্যাবহারের জন্য আমার উপর এখন রেগে আছে,,বাকিটা তোমার বকার জন্য এখন কথাই বলছে না,,
ভাবিঃ সবুজ একরোগা টাইপের ছেলে,, তাই বলছি তুই অন্য কোনো ছেলে দেখ,,
নিলাঃতুমি আমাকে চেনো না,,এই নিলা কি জিনিস সামনে দেখবে,,এখন ওনাকে সরি বলে আসো,,যাও
ভাবিঃআচ্ছা যাচ্ছি,,নাস্তা খেতে আয়,,
নিলাঃএখন ভালো লাগছে না,, পরে খাবো,,, যাও সরি বলে আসো,,,
ভাবি ঃআচ্ছা যাচ্ছি,,,

অন্য দিকে রোমান ইরা কে নিয়ে ঘুরে বাসার সামনে নামিয়ে দিলো,,
ইরাঃথ্যাংক,স
রোমানঃআচ্ছা একটা কথা জিগাসা করি,,
ইরা ঃকরেন,,
রোমান ঃআপনি কি কারো সাথে রিলেশন করেন,,
ইরাঃনা,,
রোমানঃসত্যি তো,,
ইরাঃজি,,,
রোমানঃআমার বিশ্বাষ হচ্ছে না,,সত্যি করেন নাতো,,
ইরাঃ না,, না,সত্যি করি না,,
রোমানঃও,,
এবার ইরা একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,
ইরাঃকেনো বলুন তো,
রোমান কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো,,কিছুনা, আমি যাচ্ছি,,,,,

রোমান কিছুদুর যেতেই ইরা রোমান কে পিছন থেকে ডাক দিল,,
রোমান ইরার ডাক শুনে বাইক জোরে ব্রেক করলো,,আর সাথে সাথে স্লিপ কেটে পরে গেলো,,
হাত কিছুটা ছিলে গেছে
ইরা দৌরে গিয়ে হাত টেনে উঠালো,,
ইরাঃপাগল হলেন নাকি,, এই ভাবে কেউ ব্রেক করে,,, যদি কিছু হোয়ে যেতো,, দেখেন কতটা ছিলে গেছে,রক্ত বের হচ্ছে,,,
রোমান ঃকিছু হবেনা,,
ইরাঃ ওনাকে বলেছে কিছু
হবে না, হাত দেন,,,
ইরা সাইড ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে বেদে দিতে লাগলো,,আর বকতে লাগলো,,
ইরাঃউল্লুক কোথাকার,,, বাইকও চালাতে পারে না,,
হোয়েছে,,
রোমান চোলে যেতে লাগলো,,
ইরাঃএই আপনাকে যেতে বলেছি,,
রোমানঃনা,,
ইরাঃতাহলে যান কেনো,,
রোমান ঃআচ্ছা যাবো না,,কি বলবেন বলেন,,
ইরাঃআপনার নাম্বার দিয়ে যান,,
রোমানঃকি করবেন,,
ইরাঃ আপনার মাথা করবো, দেন,,
রোমানঃনেন,, 017894972……
ইরাঃসাবধানে যাবেন।পরে কথা হবে,,
ইরা বাসায় যাওয়া দরলেই
পিছন থেকে রোমান আবার বললো,আপনি সত্যিই রিলেশন করেন নাতো,,
ইরা মুচকি হেসে বললো,পাগল একটা , যানতো,,,

রাতে রুমে বোসে আছি,ইরা পাসে বসে বসে ,, সারাদিন কোথায় কোথায় ঘুরলো,,তা বলছে,
তখন নিলা কফি নিয়ে রুমে ঢুকলো,,
আমার দিকে কফির মগটা বারিয়ে দিয়ে বললো,,
নিলাঃ নিন খান,,
আমি নিলার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম,,
নিলাঃ কি হলো নিন খান,,
আমি হাতে নিতেই ইরা আমার কাছ থেকে কফির মগটা নিয়ে গেলো,,
ইরাঃআমি খেয়ে টেষ্ট করে নেই,,
নিলা ইরার হাত থেকে কফির মগটা ছো মেরে নিয়ে বললো,,এটা তোমার জন্য না, ওনার জন্য,,নিন,
আমি কফির মগটা হাতে নিয়ে ইরার দিকে তাকি মুচকি হাসি দিলাম,
নিলাঃতোমার জন্য আনছি দারাও,,আপু আপু, একমগ কফি দিয়ে যাওতো,,
ভাবি কফির মগ হাতে নিয়ে রুমে ঢুকলো,
নিলাঃইরাকে দেও কফিটা,

ভাবি ইরাকে কফির মগটা দিয়ে আমার পাসে এসে বসলো,,
ভাবিঃভাই আমার, ক্ষমা করে দে আমায়,, সেদিন না বুৃঝে কত কি বলেছি,,
আমিঃকি যে বলো,,মা থাকলে হয়তো এমনই শাষন করতো,,তুমি মায়ের মতো আমাকে বকতেই পারো,,
ভাবিঃআচ্ছা তোরা কথা বল,,আমি কিচেনে গেলাম,,,

ভাবি কিচেনে চোলে গেলো,,

নিলা বসে বসে আমার কফি খাওয়া দেখছে,,
কফি অর্ধেক শেষ হোতেই নিলা আমার কাছ থেকে কফির মগটা নিয়ে গিয়ে বললো,,আর খেতে হবে না, দেন,,
আমিঃশেষ করি,,
নিলাঃখেতে হবে না, বাকিটা আমি খাবো,,

পাগল টাগল হলো কিনা কে জানে,,,

এভাবেই একসপ্তাহ কেটে গেলো,,

সকাল সকাল ড্রইং রুমে বসে টিবি দেখছি, তখন নিলা সহ ভাবি আসলো,,,
আমি ঃকিছু বলবে ভাবি,,
ভাবিঃএকটু নিলার সাথে এয়ারপোর্ট যাতো,,
আমি ঃকেনো,,
ভাবিঃবিদেশ থেকে আমার ফুফাতো বোন আসবে,,নিলা যাদের বাসায় থেকে স্টাডি করেছে,,
আমিঃতুমি সাথে গেলেইতো পারো,,
ভাবিঃআমার হাতে কাজ আছে,, আমি যেতে পারবো না,,তুই যানা,,আব্বু গাড়ি পাঠিয়েছে,,
আমিঃআচ্ছা যাচ্ছি,,

নিলা আর আমি নিচে গেলাম,,
গাড়িটার সামনে গিয়ে দারালাম,,
ভাবলাম একা একা গিয়ে কি বোর হবো নাকি, তাই আমার কাছের ফ্রেন্ড #সাগরকে আসতে বললাম,,
পিছন থেকে নিলা বললো,,আমাদের মাঝে আবার আপনার বন্ধুকে টানছেন কেনো,,
আমিঃএকা একা বোর হবো নাকি,,
নিলা আর কিছুই বললো না,,

সাগর আসলে ওকে নিলার সাথে পিছন বসতে বললাম,তখন নিলা বলো,
নিলাঃ না ভাইয়া আপনি সামনে বসেন,,
কি আর করার,, সাগর সামনে বসলো আর আমি নিলার সাথে পিছন বসলাম,,

গাড়ি চলছে আপন গতিতে এয়ারপোর্টের দিকে,,

আর আমি চুপচাপ বসে আছি,,
নিলা হঠাৎ আমার হাতের আঙুল গুলো ওর হাতের আঙুল দিয়ে পেচিয়ে দরলো,,
আমিঃএই কি করছেন,,ছারেন,,সাগর দেখবে,,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অন্যহাত দিয়েও আমার হাত চেপে দরলো,,

আমি হাত ছারাতে না পেরে চুপ করে থাকলাম,,
নিলা আমার এক হাত ওর দুহাতের মাঝে চেপে দরে আছে,,
আমার অবস্থা দেখে নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিলো,,
সামনে থেকে সাগর আমাদের কাহীনি দেখে হাসছে,,
নিলা আমার হাতটায় হঠাৎ একটা চুমু দিলো,
আমি সিহরিত হোয়ে গেলাম ওর আলতো ছোয়ায়….

ওর দিকে রাগী চোখে তাকালাম,,সামনে ওরা বসে আছে তাই কিছু বলতে ও পারছি না,,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে
মুখ চেপে হাসছে,,,

কিছুক্ষন পর এয়ারপোর্টে এসে নামলাম,,
প্লেন ল্যান্ড করতে এখনো, এ ঘন্টা বাকি,, তাই কিছু চিপস জুস নিয়ে নিলাম সাথে,,,
নিলা পাসে তাই পর্মালিটির জন্য নিলাকে বললাম,, কিছু খাবেন আপনি ,,,
নিলা ঃআপনার আদ খাওয়া জুস দিলেই হবে,,
আমিঃকি!
নিলাঃ যেটা শুনেছেন সেটাই,,
আমিঃআমি কাউকে ভাগ দিতে পারবো না,, আপনার যা খেতে ইচ্ছে হয় এখান থেকে নিয়ে নিন,,
নিলা,আমার যা খেতে ইচ্ছে হয় তাতো এই কেন্টিনে নেই,
আমি ঃতাহলে কোথায় আছে,,
নিলাঃ দুষ্ট একটা হাসি দিয়ে বললো,,আপনার কাছে আছে,,
আমি ঃকি পাগলামো কথাবার্তা,, আমি গেলাম,,

সাগর পাসের মোরে সুখ টান দিতে গিয়েছে..
এয়ারপোর্টের ভিতর গিয়ে কাউন্টারে বসলাম,,,
নিলা ও এসে আমার পাসে বসলো,,,
আমি জুসের বোতলের কাকটা খুলে মুখ লাগিয়ে খাচ্ছি,,
নিলা আমার খাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,,
অর্ধেক শেষ হোতেই নিলা টান মেরে জুসের বোতলটা নিয়ে মুখে লাগিয়ে চুমুক দিয়ে জুস খেতে লাগলো,,
আমি ঃএটা কেমন অসভ্যতামি,,,

নিলা তৃপ্তির একটা হাসি দিয়ে বললো,,অসভ্যতামি না,,এটা ভালোবাসা,,
আমি কিছু না বলে চুপ করে থাকলাম,,
এবার চিপস খাবো তখন ভাবলাম আবার থাবা দিতে পারে তাই,, নিলাকে জিগাসা করলাম,, চিপস খাবেন,,আরেকটা আছে,,,আমারটা থাবা দিবেন না,,
নিলা ঃদেন,, থাবা দেওয়ার কোনো কারন নেই,,চিপস এ আপনার ঠোটের কেনো ছোয়া পাওয়া যাবে না,,

আমিঃ(কি মেয়েরে বাবা কোনো লজ্জা সরম নেই,কি বলে,,,)নিন,,
নিলাঃএত লজ্জা পাচ্ছেন কেনো,,

দুর কি জালায় পরলাম,, সাগর হারামি টায় যে কোথায় গেলো,,,

কিছুক্ষন পর প্লেন এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করলো,,
আমরা ভিতরে গেলাম,,
গিয়ে তো দেখি আরেক কান্ড,,,
সাগর হারামীটা কোন একটা মেয়ের সাথে সমানে জগরা করছে,,

মেয়েটাকে পিছন থেকে দেখা যাচ্ছে না,,,
ওর কাছে গেলাম,,সাথে নিলা আছে,,

আমিঃকিরে কি হোয়েছে?
সাগর ঃআর বলিস না,,এই পেত্নিটা কোথা থেকে যেনো এসে গায়ে পরলো,, আর এখন বলছে নাকি আমার দোষ,,

মেয়েটা পিছন ঘুরতেই নিলা এবং মেয়ে দুজন দুজন কে জড়িয়ে দরলো,,
নিলাঃকেমন আছিস,,
মেয়েটা ঃভালো আর থাকতে পারলাম কোথায়,কাউন্টার থেকে বের হোতেই এই দামরা ছেলেটা এসে আমার গায়ে পড়লো,,
নিলাঃআচ্ছা হোয়েছে,,পরিচিত হোয়ে নে,,ওনি হলেন সবুজ , আপুর দেবর,,আর যার সাথে ধাক্কা লাগলো ওনি হলেন সাগর ভাইয়া, ওনার বন্ধু,,
এবার মেয়েটাকে দেখিয়ে দিয়ে নিলা বললো,,এ হলো আমার ফুফাতো বোন মিম,,,।
মিম হায় বলে আমার দিকে হাত বারিয়ে দিলো,, আমি যেই হাত বারাতে যাবো তখন নিলা মিমের হাত সরিয়ে দিয়ে বললো,,হোয়েছে সাগর ভাইয়ার সাথে পরিচিত হোয়ে নে,
মিম ঃওনার মতো বতজ্জাতের সাথে পরিচিত হতে আমার ভোয়েই গেছে,, চল,,

আমরা গাড়ির কাছে গেলাম,,,
গাড়ির পেছনে সিট আছে চার টা,,তাই আমি একদম পিছনের এক সিটে গিয়ে বসলাম,,
মিম আমার পাসে যেই বসতে যাবে তখন নিলা বললো, এই কি করছিস,, তুই ওখানে গিয়ে বস,,,
মিম ঃ আমি ওই বজ্জাতের সাথে বসতে পারবো না,, ,, আমি এখানেই বসবো,,,
এই বলে মিম আমার পাসে বসে পরলো,,
নিলা ভালোই যব্দ হোয়েছে,,,

নিলা সাগরে পাসে বসে পরলো,,
আমি নিলার মুখের এক্সপেশন দেখে হেসে দিলাম,,
নিলা পিছন ঘুরে আমার দিকে তাকিয়ে কিছুটা রেগে বললো,, মেরে মুখ বেঙ্গে দেবো হাসলে,,,
আমি বাহিরের দিকে তাকিয়ে হাসি চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করছি,,
নিলা এখনো রাগী ভাবে তাকিয়ে আছে,,

মিমঃতো আপনি কেমন আছেন,,
আমি ঃভালো,,তুমি,,
মিমঃভালো,,,

আমরা দুজন কথায় মসগুল,,নিলা বারবার পিছন ঘুরে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে,আর রাগছে,,

নিলা হঠাৎ আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে বললো,, এই মিম ওনার গায়ের সাথে চেপে বসেছিস কেনো,, সরে বস,,
মিমঃকোথায় চেপে বসলাম,,আপনার দিকে কি চেপে বসেছি আমি,, (আমার দিকে তাকিয়ে বললো),,
আমিঃকই নাতো,,
মিমঃদেখেছিস,,(নিলার দিকে তাকিয়ে বললো)
নিলা আমার দিকে আবার সেই রাগি চোখে তাকিয়ে বললো, ওনার তো বালোই লাগে,,বদ কোথাকার,,,
মিমঃহোয়েছে এবার সামনে তাকা,,,
নিলা এবার সামনে তাকালো,,

মিম আবার আমার সাথে কথায় ব্যাস্থ হোয়ে গেলো,,
গাড়ির জাকুনিতে মিম বারবার আমার উপর এসে পরছে,,
নিলার এটা আর সয্য হলো না,,
সোজা আমাদের মাঝে এসে বসলো,,
দুজনের সিট তো,, তিনজন বসাতে একটু চাপাচাপি হচ্ছে,,
নিলা পুরো আমার গায়ের সাথে যেকে বসেছে,,
মিম আমি অবাক,,
মিমঃকিরে তুই সামনের সিট ছেরে এখানে আসলি কেনো,,
বসতে কষ্ট হচ্ছেতো,,
নিলাঃহলে হউক,,
মিমঃএখনো তো ওনার গায়ের সাথে তুই চেপে বসেচিস,,
নিলাঃবোসেছি তো কি হোয়েছে,চুপচাপ থাক,,
আমি উঠে যেই সামনের সিটে যাবো তখন নিলা হাত দরে টেনে বসিয়ে দিয়ে বললো,,চুপচাপ বসেন ,
আমি একটু ওর কাছ থেকে সরে বসার চেষ্টা করছি,,
কিন্তু যায়গা সল্পতে ওর গায়ের সাথে গা লেগে যাচ্ছে,,
নিলা ঃএখন সরে বসছেন কেনো,,একটু আগে তো,, একজন আরেকজনের উপর পরে ছিলেন,,
আমিঃওটা গাড়ির জাকুনিতে হোয়েছে,,,
নিলাঃএখন আমার উপর পরুন,,
আমিঃকি বলেন এসব,,,
মিমঃ কিরে নিলা কি বলছিস এসব,,আচ্ছা আমি সামনে যাচ্ছি,,
মিম সামনে গেলো,,
মিমঃ এই খবিস একটা সরেন বসবো,,( সাগর কে বললো)
সাগর ঃএত মিষ্টি করে বকা দেন কিভাবে,,
মিমঃপ্লট করছেন আমার সাথে,,মেরে রাস্তায় ফেলে দেবো ,
সাগরঃআপনি অনেক সুন্দর,,
মিমঃআবার প্লটিং করছেন আমার সাথে,,তখন তো বললেন আমি পেত্নি,
সাগরঃআরে তখনতো রেগে বলেছি,,
মিমঃহুম,

দেখতে দেখতে বাসার সামনে চোলে এসেছি,
সবাই গাড়ি থেকে নামলাম,,
সাগর বাদে আমরা সবাই ভিতর যাচ্ছি,,সাগর এখন আমাদের বাসায় যাবে না,বলে দিয়েছে,,

সাগর মিম কে পিছন থেকে ডেকে বললো,,এই যে মিস,,সরি,,
মিমঃইট,স ওকে,,
সাগরঃআপনি সত্যিই কিন্তু সুন্দর,,
মিম একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,আবার প্লটিং,,,
এখন কিছু বলছি না,,,আবার দেখা হলে মেরে দেবো,,,

বাসায় গিয়ে আমি আমার রুমে চোলে গেলাম,,,

দুপুরে সবাই খেতে বসলাম,,

খাবারের মেনু দেখে জিবে পানি এসে গেলো,,
মিম আসবে বলে এত কিছু,,,

আমি গফাগফ খেতে লাগলাম,,
নিলা খাবার খাওয়া রেখে আমার খাওয়া দেখছে,,

মিমঃকিরে কোথায় তাকিয়ে আছিস,,,হা করে তাকিয়ে না থেকে খা,,
নিলা কিছুটা লজ্জা পেলো,,

আমি খেয়ে রুমে চোলে আসলাম,,
কিছুক্ষন পর বারান্দায় গেলাম,,
বারান্দায় গিয়ে দেখি
ইরা ফোনে কথা বলছে,,

আমি কাছে যেতেই ইরা ফোন কেটে দিলো,,
আমি ঃকিরে কার সাথে কথা বলছিস
ইরাঃককই কার সাথে কথা বলি,,
আমিঃআমি তো দেখলাম বললি,,,তা ছেলেটা কে,,
ইরাঃকেউ না,,
আমি ঃনতুন প্রেমে পরলি নাকি,,
ইরাঃতুমি না,,,ইরা লজ্জা পেয়ে চোলে গেলো,,

রাতে আমরা সবাই বসে গল্প করছি,, আর হাসাহাসি তে মেতে আছি,,

বেসি ক্ষন আর ওদের মাঝে না থেকে ছাদে চোলে গেলাম,,

নির্বিক ভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি,, তখন নিলা এসে আমার পাসে দারালো,,
আমি একবার নিলার দিকে তাকিয়ে আবার আকাশের দিকে তাকালাম,,,
নিলা নরম সুরে বললো,,
চোলে আসলেন যে,,,
আমিঃএমনেই,,,
নিলাঃও,,,
নিলা কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো,,
আবার বললো,,
নিলাঃসবার সাথে তো হেসে হেসে কথা বলেন,,,আমার সাথে কেনো বলেন না,,, খুব বেসি অপরাধ করে ফেলেছি তাই না,,

এই অন্ধকারেও নিলার চোখের বিন্দু বিন্দু পানি আমি স্পস্ট দেখতে পাচ্ছি.
এই অন্ধকারেও নিলার চোখের বিন্দু বিন্দু পানি আমি স্পস্ট দেখতে পাচ্ছি,,

নিলাঃকিছু বলছেন না যে,,খুব কি অপরাধ করে ফেলেছি,,,
আমিঃদেখেন,, ভাইয়া ভাবির বিশ্বাষ নষ্ট করতে পারবো না,, আর তাছারা ভাবি এমনেই ওই দিনের পর থেকে বেসি একটা ভালো ভাবে না আমাকে হয়তো,,
নিলাঃওসব আমি মেনেজ করবো,, আপনি শুধু আমাকে কাছে টেনে নেন,, বাকি সব আমি দেখবো,,,
আমিঃদেখুন এটা হবার নয়,ভালো কাউকে খুজে নিয়েন,,,
এই বলে যেই চোলে আসতে যাবো, তখন নিলা আমার হাত দরে দেয়ালের সাথে ঠেসে দরলো,,
রাগী স্বরে বললো,
নিলাঃএটা হবার,, একশ বার হবে,,আমার ভালো কাউকে প্রোয়োজন নেই তোকেই প্রোয়োজন,, কি ভেবেছিস,,শান্ত ভাবে থাকি বলে এতটাও শান্ত না আমি,,,তোকে চাই, তোকে লাগবে তোকে প্রোয়োজন।
আমিঃদেখুন আপনি কিন্তু বে….
উম উমমমমম

নিলা আর কিছু বলতে দিলো না আমায়,,
ওর ঠোট দিয়ে আমার ঠোটের মাঝে চেপে দরলো,,
কিছুক্ষন পর ছেরে দিলো,,
আমি হাপাতে লাগলাম,,
নিলাঃচুপচাপ খেয়ে রুমে গিয়ে ঘুমাবেন,,, ইরা,মিম এদের কারো সাথে যেনো কথা বলতে না দেখি,,আর যদি দেখি,,,তাহলে সবার সামনে কি করবো ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন,,,যান,

আমি নিচে চোলে গেলাম,,

কি মেয়েরে বাবা,,,মুহুর্তেই রং বদলাতে পারে,,,
ওর অগ্নী মুর্তি দেখে আমি আর কিছু বলতে পারলাম না
ভয়ে,,
এই ভাবে কিচ করে কেউ,,,ঠোট যেনো আরেকটু হলে ছিরে যেতো,,,

রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম,

পরের দিন,,সকালে চোখ খুলতেই দেখি একজোরা চোখ আমার মুখের কাছে,,
আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,
আমি লাফ মেরে উঠে বসলাম,,

ভালো করে তাকিয়ে দেখি নিলা,,
নিলাঃ কি হোয়েছে, এভাভে লাফ মেরে উঠলেন কেনো,,
আমিঃতুমি, না মানে আপনি এখানে কেনো,,,
নিলাঃতুমি করে বলেন,,
আমিঃআমি সবাইকে তুমি করে বলি না,,,
নিলাঃতুমি করে বলবেন না,,
আমিঃ না,,
নিলাঃ তাহলে আমি দরজা আটকিয়ে চিৎকার করবো,, তারপর বুঝবেন, কি হবে,
আমিঃদেখুন বেসি বারাবারি করবেন না,,
নিলাঃআবার আপনি করে বলছেন,,,আমি দরজা আটকাচ্ছি,,,
নিলা দরজা আটকাতে যাচ্ছে,
আমি ভয়ে ওর হাত দরে টান দিলাম,,
তারপর যা হবার তাই হলো,,
আমার উপর এসে পরলো,,

নিলা আমার বুকের উপর হাত ভর দিয়ে আমার মুখের কাছে মুখ এনে বললো,,, কি টান দিলেন কেনো, তুমি করে বলবেন তো,,,
আমিঃহুম বলবো,,এবার আমার উপর থেকে সরো,,
নিলা ঃএত তারাতারি সরবো নাকি,,
আমিঃকেউ দেখে ফেলবে,,সরো,,
নিলাঃএক দমই না,,
এই বলে নিলা আমার গালে আলতো করে হাত দিলো,,
আমিঃএই কি করছো,, সরো বলছি,, না হয় ফেলে দেবো,,
নিলাঃপারলে ফেলে দেও,,

উফ কি জামেলায় পরলাম,,,

হঠাৎ সে সময় মিম রুমে ঢুকলো,,
রুমে আমাদের দেখে মুখে হাত দিয়ে চেয়ে থাকলো,,
আমি তরিগরি করে ওকে জোর করে পাসে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে রুম থেকে বের হোয়ে গেলাম,,,,

লাজ লজ্জা সব গেছে মেয়েটার,,

নিলা মিম কে বললো,,,তুই আর আসার সময় পেলি না,,,
মিমঃবেস তো রোমান্স করছিস দেখছি,,
নিলাঃরোমান্স আর হলো কোথায়,,তুই সবকিছুতে পানি ঢেলে দিলি,
মিমঃতা কবে থেকে সবুজ ভাইয়ার সাথে রিলেশন করলি,,
নিলাঃএখানে আসার পর থেকে,,
মিমঃধুর আমি আরো চেয়েছিলাম,সবুজ ভাইয়ার সাথে আমি মনের লেনদেন করবো,, আর তুই
নিলাঃখবরদার,,যা বলেছিস বলেছিস,, এর পর যেনো আর না বলিস,,ওনার দারে কাছেও যেনো তোকে না দেখি,,
মিমঃবাব্বা,,ওনি একে বারে প্রেমে লাইলি হোয়ে গেছে,,,

নিলাঃমাইর দেবো একটা,,চল,,

আমি ফ্রেস হোয়ে নাস্তা খেতে টেবিলে বসলাম,,,
আমিঃভাবি নাস্তা দিয়ে যাও,,
ভাবিঃবসে থাক দিচ্ছি,,

একটু পর ভাবি নাস্তা নিয়ে আসলো,,
নিলা সহ সবাই আসলো নাস্তা
খেতে,,
নিলা বরাবরের মতো আমার সমনে বসলো,,
বসে আছে ঠিক আছে,, কিন্তু একটু পরই ওর পা দিয়ে আমার পায়ে স্লাইড করছে,,,

ওফ খাওয়ার সময়ও ফাজলামো,,
ভাবিঃকিরে সবুজ বিবরবির করে কি বলিস
আমিঃকিছু না,,

নিলা সুন্দর তার দু পা দিয়ে আমার একপা পেচিয়ে দরে নাস্তা খাচ্ছে,,, সবার সামনে কিছু বলতেও পারছি না,

আপু ফোন করেছিলো আপুর কাছে যেতে,,
আমি বিকালে আসবো বলেছি,,,

দুপুরে খাওয়ার সময় নিলা একই ভাবে পা দিয়ে দুষ্টমি করছে,,
ভাবলাম,,ভাবি কে যাওয়ার কথাটা
বলি,,
আমিঃভাবি, আমি বিকালে আপুর বাসায় যাচ্ছি,,, আপু যেতে বলেছে,,

এ কথা সুনে নিলার সব দুষ্টমি বন্ধ হোয়ে গেছে,,পা দিয়ে গুত দেওয়া,, স্লাইড করা সব বন্ধ হোয়ে গেলো,,
হাসি মুখটা মলিন হোয়ে গেলো,,
খাওয়া বন্ধ করে আমার দিকে ঘোর লাগা চোখে তাকিয়ে আছে,,
ভাবিঃকদিন থাকবি,,
আমিঃদু সপ্তাহর মতো,,
ভাবিঃও,,তোর ভাইকে বলে যাস,,
আমিঃওকে,,

আমি খেয়ে রুমে এসে একটু রেষ্ট নিচ্ছি,,
চোখটা একটু বন্ধ করেছি,,
হঠাৎ দরজা আটকানোর শব্দে চোখ খুললাম,,
তাকিয়ে দেখি নিলা দরজা আটকিয়েছে,,
আমিঃএই কি করছো,, দরজা খুলে দেও,,সবাই কি ভাববে,,
নিলা ঘোর লাগা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে এক পা এক
পা করে আগাতে লাগলো,,
আমিঃদরজারটা খুলে চোলে যাও,,কেউ দেখলে খারাফ ভাববে,,

নিলা আমার কাছে এসে ধাক্কা মেরে খাটে ফেলে দিয়ে আমার উপর ওর গা এলিয়ে দিলো,,

আমার মুখের কাছে মুখ এনে নিলা বললো,,আমার কারনে চোলে যাচ্ছেন,, তাই না,,
আমিঃতোমার কারনে যাবো কেনো,,
নিলা ঃআমি আপনাদের বাসায় থেকে খুব সমস্যা করছি তাইনা,,

নিলা কাদছে,, ওর চোখের পানি আমার মুখে ফোটা ফোটা আকারে পরছে,,
নিলাঃচোলে যাবো আপনাদের বাসা থেকে,,
এই পৃথিবী ছেরেই চোলে যাবো,,
আমিঃপাগলটাগল হলে নাকি, কি বলছো,,

নিলা হঠাৎই আমার বুকের ভিতর ওর মুখটা ঘুজে দিলো,,
তারপর কাদতে কাদতে বললো,,সত্যি মরে যাবো,,আপনাকে ছারা,,বাচবো না,,খুব ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে,,,,,জানি না কেনো এতো ভালোবেসেছি আপনাকে,, শুধু এটা জানি, আপনাকে ছারা থাকতে পারবো না,,
নিলা আমার বুকের ভিতর ঢুকরে ঢুকরে কাদছে,,

মুহুর্তেই ভাবির বলা কথা ভুলে গেলাম,,
তোমাদের সম্মান দিয়ে কি হবে যদি আমি ই না বাচি,আমার প্রান না বাচে

আমি নিলার মাথায় হাতভুলাতে লাগলাম,,

নিলা কান্না বন্ধ করে মাথা উঠিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালো,,
বুঝার চেষ্টা করছে,,
আমি ওর মাথায় হাত ভুলিয়েছি কি না,,

নিলা জিগাসু দিষ্টিতে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে,,
আমি ওর মাথা টা টেনে কপালে একটা চুমু দিলাম,,
নিলা এবার শক্ত করে জড়িয়ে দরে বুকের ভিতর মুখ ঘুজে দিয়ে কাদতে লাগলো,,
কেনো জানি আমার চোখের কোন বেয়ে পানি পরতে লাগলো,,,,
কিছুক্ষন পর হঠাই দরজাটা কে যেনো নক করতে লাগলো,,,
কিছুক্ষন পর হঠাৎই দরজাটা কে যেনো নক করতে লাগলো,,
আমি ভয় পেয়ে গেলাম,, ভাবি দেখলে কি হবে,,

নিলা আমার ভয় পাওয়া দেখে মুখের দিকে তাকিয়ে আমার দুগালে আলতো করে দু হাত দিয়ে আদুরের গলায় বললো ,, এত ভয় পাচ্ছেন কেনো, আমি আছি না,, আমি থাকতে কেউ আপনাকে কিছু বলতে পারবে না,, সুয়ে থাকেন,, আমি দেখছি কে আসছে,,

নিলা দরজা খোলার জন্য যাচ্ছে,, ভয়ে আমার হার্ডবিট বেরে গেছে,,

নিলা দরজা খুলতেই মিমের গলার আওয়াজ পেলাম,,, তাহলে কি মিম,,
উপ বড় বাচা বেচে গেলাম,,,

মিমঃকি আপনাদের রোমান্স শেষ হলো,,
নিলাঃমারবো একটা,,বের হ রুম থেকে,,
মিম ঃকি আবার রোমান্স করবি নাকি,,
নিলাঃজাবি তুই,,
মিমঃআরে বাবা যাচ্ছি,,,
মিম রুম থেকে বের হোতে যেয়ে আবার ফিরে এলো,,

মিমঃও যেকারোনে আসা,, আপনিতো বিকালে চোলেই জাবেন,,আমি ঘুরবো কার সাথে,,, আমাদের মহারানির তো সময় হবে না আমাকে নিয়ে ঘুরার,,আপনারাতো আপনাদের রোমান্স করছে,,এখন আমার রোমান্স করার জন্য একজন ঠিক করে দিয়ে যান,
আমিঃতোমার যোগ্য কাউকেইতো দেখছি না,,
মিমঃআবাদত আপনার ওই বজ্জাত বন্ধুটাকে বলে যান,,
নিলাঃএত ঘুরিয়ে পেচিয়ে না বলে সোজাই তো বলতে পারতি,,,
যা রুম থেকে,,
আমিঃআচ্ছা আমি বলে দেবো,,,,
মিম রুম থেকে বের হোয়ে গেলো,,

নিলা আবার আমার কাছে আসলো,,
আমার বুকের কাছে ভর দিয়ে মুখের কাছে মুখ এনে বললো,,
আপনি সত্যি কি বড় আপুর কাছে চোলে যাবেন,,
আমিঃহুম,,
নিলাঃ নাগেলে হয় না,,,
আমিঃআপু অসুস্থ, যেতেই হবে,,আর এত টেনশন করছো কেনো,,দুসপ্তাহর জন্যইতো যাচ্ছি,, আবার চোলে আসবো,,

নিলা আমাকে জড়িয়ে দরে বুকের ভিতর মুখ গুজে দিয়ে বললো,,
নিলাঃআমি আপনাকে ছারা থাকতে পারবো না,ভালো লাগেনা আপনাকে ছারা,,
আমিঃপাগলি একটা,,,চোলে আসবো তারাতারি,,
নিলাঃহু

হঠাৎ ই ভাবি, সবুজ সবুজ বলতে বলতে রুমের ভিতর ঢুকে গেলো,
এসেই আমাদের দুজন কে একসাথে
দেখে,,হা হোয়ে গেলো,,

আমি তো ভয়ে শেষ,,
ভাবিঃবা বা,,ভালোই এগিয়ে ছো দুজন,,

নিলা কিছুটা আদুরি গলায় বললো,,আপু….
ভাবিঃথাক থাক,, এতো লজ্জা পেতে হবে না,,
দেবর তো দেখি আমার বোন কে পাগল করে ছারলো,,
বিয়ে তো দেখি খুব তারাতারি দিতে হবে,,

ভাবিঃআচ্ছা থাকো তোমরা,,
ভাবি চোলে গেলো,,

নিলার মুখের কোনে হাসি লেগে আছে,, ভাবির বলা কথা শুনে,

নিলাঃআপনি রেষ্ট নেন,,আমি আপনার জামা কাপর ঘুছিয়ে দিচ্ছি,,,
এই বলে নিলা আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে জামা কাপর গোছাতে চোলে গেলো,,,,

চোখ বন্ধ করে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলাম,,,,

বিকালে চোলে যাচ্ছি,,

নিলা মুখ গোমরা করে দারিয়ে আছে,,
নিলার চোখের কোনে পানি দেখতে পেলাম,, নিলাকে বললাম,,
আমিঃএদিকে আসো,,

নিলা গুরি গুরি পায়ে আমার সামনে এসে মাথা নিচু করে দারালো,,
ওর মুখ দরে উপরে উঠালাম,,
মিম দেখি একটু দুরে দারিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে,,
আমিঃসালিকা, চোখ বন্ধ করো,,
মিমঃহুম করছি,,

আমি নিলার কপালে আলতো করে একটা চুমু দিলাম,,
নিলা সাথে সাথে আমাকে জড়িয়ে দরে কেদে দিলো,
আমিঃআরে পাগলি,, এমন করছো যেনো দুবছরে জন্য যাচ্ছি,,
নিলাঃআমার কাছে দুসপ্তাহ দু বছরের মতো,,,
আমিঃআচ্ছা আমি তারাতারি চোলে আসার চেষ্টা করবো,,
ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে কাপালে আরেকটা চুমু দিয়ে মিমের কাছে গেলাম,,

আমিঃহোয়েছে আর চোখ বন্ধ করে থাকতে হবে না,, আমি সাগর কে বলে দিয়েছি,, ও এসে তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে,,,

আমি বাসে চরে আপুর বাসায় চোলে আসলাম,,
অন্যদিকে সাগর মিম কে পিক করতে এসেছে বাসায়,,

মিম বাসার সামনে আসলো,,
সাগরঃতা মিস আপনি কি বাইকে যাবেন নাকি রিক্সায়,,

মিমঃরিক্সায় যাবো,
সিগরঃচলেন তাহলে,,,

সাগর আর মিম রিক্সায় বসে আছে,,

সাগরঃএই আপনার হাতে কি,,
মিমঃকোথায়,,
সাগরঃওই যে আপার হাতে, দেখি দেখি,
সাগর যে মিমের হাত দরতে এইসব বলেছে,,মিম তা বুঝতে পেরে হাত ছারিয়ে সাগরের কাদে দুটো থাপ্পর মেরে বললো,,বজ্জাত একটা হাত দরার ধান্দা,,,
সাগরঃহাহাহা,,সুন্দরি মেয়েদের হাত না দরে কি পারি,,
মিমঃমারবো একটা, ফাজিল কোথাকার,,
সাগর চুপ করে থাকলো,,
মিমঃকয়টা মেয়েকে পটিয়েছো,,
সাগরঃএকটাও না,,তুমিই প্রথম,,
মিমঃকি,, আমাকে পটাচ্ছো,,
সাগরঃসরি সরি, ভুলে মুখ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে,,
মিমঃহুম,,
সাগর কিছু টা মন খারাফ করলো,,চেয়েছিলো ওকে পটাবে, কিন্তু যেই মেয়ে পটানোর কথা শুনেই রেগে গেলো,,

মিম সাগরের চুপ থাকা দেখে সাগরের সামনে হাত বারিয়ে দিলো,,
সাগরঃকি
মিমঃদরো
সাগরঃশুধু শুধু হাত কেনো দরবো,,
মিমঃআর বাহানা করা লাগবে না,,তুমি যে আমার হাত দরতে চাও সেটা আমি বুঝি,,
সাগর মিমের হাত দরলো,,
মিমঃহাতে কি শক্তি নেই শক্ত করে দরো,,
সাগরঃহুম,,
মিমঃবিয়ের পর আমরা কিন্তু বিদেশে চোলে যাবো,, আমার বাসায়,

মিমের কথা শুনে সাগর যেনো শক খেলো,,
সাগরঃকি ইই.
মিমঃযেটা শুনেছো সেটাই, তুমি যে আমার প্রথম দেখায়ই প্রেমে পরেছো সেটা আমি ভালোভাবে বুঝেছি,,
সাগরঃতুমি কি দেখে আমার প্রেমে পরলে,,
মিমঃতোমার প্লোটিং দেখে,,
সাগর ঃহাহাহাহা,,
মিমঃতবে এই প্লোটিং যদি আমার সাথে ছারা অন্যকারো সাথে করেছো,,তাহলে বুঝবে এই মিম কি জিনিস,,
সাগরঃতাহলে একটা চুমু দেও,,
মিমঃকি,, প্রেম শুরু হোতে না হোতেই চুমু,,
সাগরঃ থাক লাগবে না,,
মিমঃহোয়েছে আর রাগ করা লাগবে না এদিকে আসো,,
মিম সাগরে গালে একটা চুমু দিলো,,
সাগল তার ঠোট দেখিয়ে বললো,,ওই খানে না এই খানে,,
মিমঃবদ একটা,, লজ্জা নেই,,চোখ বন্ধ করো,,,দিচ্ছি,,।

আজ দুসপ্তাহর কাছাকাছি হোতে
চললো আমি আপুর বাসায়,।

ভাবি হঠাৎ আমার কাছে ফোন দিলো,,
আমিঃহ্যা ভাবি বলো,,কেমন আছো
ভাবিঃআমি ভালোই আছি,, তোমার নিলা ভালোনেই,,
আমিঃকেনো কি হোয়েছে,,
ভাবিঃআজ দুসপ্তাহ হোতে চললো,,মেয়েটার কোনো খোজ নিয়েছো,,তোমার টেনশনে মেয়েটা খাওয়া দাওয়া করছে না,,
আমিঃনিলাকে বইলো আজ বাসায় আসছি,,
ভাবিঃবাসায় যাওয়ার দরকার নেই,, আমাদের বাসায় চোলে আসো,,সাথে আপু দুলাভাইকে নিয়ে আসো,,,,
আমিঃআচ্ছা,,তোমরা তোমাদের বাসায় গেলে কবে,,
ভাবিঃচারদিন হলো,,
আমিঃও
ভাবিঃতারাতারি চোলে এসো,, তোমার পেয়সি তোমার জন্য ছটপট করছে,,
আমিঃআর লজ্জা দিও নাতো, আসছি,,,

আপু কে নিয়ে বিকালেই নিলাদের বাসায় গেলাম,,

বাসার ভিতর ঢুকতেই নিলা কোথা থেকে যেনো দৌরে এসে আমার বুকে জাপিয়ে পরলো,,
আমি ও আমার প্রানকে পরম আদরে জড়িয়ে নিলাম,,ওকে পেয়ে যেনো সব ভুলে গেছি,,

হঠাৎ ই চারো দিকে চোখ যেতেই দেখি নিলার বাবা,,আমার আব্বু, ভাইয়,,আরো কিছু রিলেটিব আমাদের চার পাসে ছোফায় বোসে আছে,,,
আমরা সবার মাঝখানে দুজন দুজনকে জড়িয়ে দরে দারিয়ে আছি,,
সবাই মুচকি মুচকি হাসছে,,আমি নিলাকে ছারানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু এতজোরেই জড়িয়ে দরেছে যে ছারাতে পারছি না,,,
আমি নিলাকে আছতে আছতে বললাম,,
আমিঃএই সবাই দেখছে,ছারো,,
নিলা বুক থেকে মাথা উঠিয়ে যেই দেখলো সবাই তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে
তখন নিলা লজ্জা পেয়ে ভিতরে দৌরে পালালো,,

আমি মাথা নিচু করে দারিয়ে থাকলাম,
কেউ কিছুই বললো আমায়,
নিলার বাবা বললো,,
এই নওরিন(ভাবির নাম)সবুজ বাবাজিকে ভিতরে নিয়ে যা,,

ভাবি এসে আমাকে ভিতরে নিলার রুমে নিয়ে গেলো,,
ভাবিঃদেবরজি আজ থেকে এটাই তোমার রুম,,,
আমিঃমানি,বুঝলাম না,
ভাবিঃপরে বুঝবে,,

ভাবি রুম থেকে চোলে গেলো,,

বাহ নিলার রুমটা তো বেস সাজানো গোছানো,,,

একটু রেষ্ট নেওয়ার জন্য নিলার খাটে সুলাম,,
চোখ বন্ধ করে আছি,,
হঠাৎ কারো আলতো ছোয়া অনুভব করলাম,
চোখ খুলে দেখি নিলা,,
নিলা আমার বুকে সুয়ে পরলো,,
আমিঃআমার পাগলিটার কি হোয়েছে,,ঠিক মতো খাওনি,,চেহারা এমন শুকালো কেনো,,
নিলাঃআপনি দুরে ছিলেন তাই তো কিছু খেতে ভালোলাগেনি,,
নিলা আদুরের গলায় অভিমান করে বললো,,আপনি দুসপ্তাহ কিভাবে থাকতে পারলেন, জানেন আমার কত কষ্ট হোয়েছে,,।
আমিঃপাগলি এই যে চোলে আসছি না,,আর কষ্ট পেতে হবে না,,
নিলাঃহু,,
আমিঃআচ্ছা সবাইকে দেখলাম এখানে,, কোনো আয়োজন আছে নাকি,,
নিলা মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললো,,,
নিলাঃ বলবো না,,
আমিঃবলোনা,,
নিলাঃবলবো,,আগে দুটো পাপ্পি দিতে হবে,
আমিঃআচ্চা কাছে আসো দিচ্ছি,,
উমা উমা,,,—এবার বলো,,
নিলাঃআপনার আর আমার বিয়ে,,
আমিঃকিইইই,
খুশিতে নিলাকে জড়িয়ে দরলাম,,

সন্ধায় ভাবি আমাকে পান্জাবি দিয়ে গেলো পড়ার জন্য,,
রোমান ইরা, মিম সাগর আমাদের দেখতে আসলো রুমে,,
নিলাকে ইরা আর মিম সাজাচ্ছে,
আমি নিলাকে দেখার জন্য ওর রুমে গেলাম,,
ইরা আর মিম পথ আটকি য়ে দারালো আমার,
মিমঃনা ভাইয়া,,বিয়ের আগে বৌউ দেখতে দেবো না,,
কি আর করার, সাগর আর রোমানকে আসতে বললাম,,
ওরা এসে ওদের সরিয়ে দিলো,,
আমি নিলার কাছে গেলাম,,
নিলাকে বধু বেসে কি সুন্দর লাগছে,,
আমিঃকি সুন্দর তুমি,,
নিলাঃআপনি কি কম সুন্দর নাকি,, জানেন ওরা আমায় আপনার কাছে যেতে দেয়নি,,
আমিঃআমি বুঝতে পেরেইতো তোমার কাছে চোলে এসেছি,,
নিলাঃহুম,,
নিলাঃবিয়ে কখন হবে,,
আমিঃএকটু পর,,
নিলাঃআমার আর তর সইছে না,,
আমিঃপাগলি একটা,,

কিছুক্ষন পর বাসায় কাজি এনে আমিদের বিয়ে পড়িয়ে গেলো,,
অন্যদিকে সাগর-মিম,রোমান-ইরা, নিলার রুমে আমাদের বাসর ঘর সাজিয়েছে,,,

সবার সাথে কথা বলে বাসর ঘরে যেই ঢুকতে যাবো,, তখন ইরা মিম সাগর রোমান পথ আটকিয়ে দরলো,,
সাগরঃমামা ভিতরে তো এত তারাতারি ঢুকতে দেবো না,
আমিঃকেনো?
রোমানঃছারতে পারি এক শর্তে,,আমাদের একটা কথা দিতে হবে,,
আমিঃকি শর্ত তারাতারি বল,,ভিতরে আমার জান টা আমার জন্য অপেক্ষা করছে,,
রোমানঃআমাদেরকে এক করতে হবে তোমায়,
আমিঃআচ্ছা ইরার টা আমি দেখবো,,মিমের টা নিলা দেখবে,,এখন সর,,
আমি ভিতরে ঢুকে দরজা আটকিয়ে দিলাম,,
নিলা এসে আমার পা ছুয়ে সালাম করলো,

খাটে এসে বসলাম দুজন,
হঠাৎই নিলা খাট থেকে বালিশ একটা ছুরে ফেলে দিলো,,
আমিঃআহা কি করছো,,বালিশ ফেলছো কেনো,, তুমি সুবে কোথায়,,।
নিলাঃআপনার বুক আছে কি করতে, আজ থেকে এটাই আমার বালিশ,,,।
(নিলা আমার বুকে সুয়ে বললো)
আমিঃপাগলি একটা,,
নিলাঃহুম আপনার পাগলি,,সারা জীবন আপনার পাগলি হোয়েই থাকতে চাই।
আমিঃআমার পাগলি,,
নিলাঃহোয়েছে,এবার চোখটা বন্ধ করেন তো,,
আমিঃকেনো,,?
নিলাঃবন্ধ করেন না,,
আমিঃআচ্ছা করছি,,এই করলাম,,
হঠাৎই নিলা আমার মাথা দরে ওর ঠোট দুটো আমার ঠোটের মাঝে ডুবিয়ে দিলো,,

ওর ঠোটের ছোয়া পেয়ে আমার সারা শরিল সিহরিত হোয়ে গেলো,,
নিলা ওর ঠোট দিয়ে আমার ঠোটে চুমুক দিয়ে দরেছে,,
আমি ও তার ডাকে সারা দিলাম ,
ডুবে গেলাম ভালোবাসার অন্তহীন এক মুহুর্তে। আগামি পথ চলার এক নতুন অঙ্গিকার নিয়ে।
আরো গল্প পড়ুনঃGolpo বাড়িওয়ালার_দুষ্টু_মেয়ে
Share:

পাশের বাড়ির মেয়ে

পাশের বাড়ির মেয়ে


----সকালে বুকের উপর ভারী কোন কিছুর

চাপে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।

চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি কেউ

একজন আমার বুকের উপর শুয়ে আছে।

আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি এটা

বাস্তব? কে হতে পারে?

ভূত নয় তো আবার!!!

না না ভূত না পেত্নী হবে,,

ভূত তো ছেলে হয়।

কিন্তু যে আমার বুকের

উপর শুয়ে আছে সেটা তো একটা

মেয়ে।

মেয়ে বুঝতে পারছি এই কারণে যে

তার লম্বা চুলে তার মুখটা ডাকা।----

তারপর আমি ভালো করে চেয়ে দেখি

রুপন্তী আমার বুকের উপর শুয়ে আছে।

কিন্তু ও এখানে?

আরো গল্প পড়ুন:গল্প বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে Balobasar Golpo Bariwalar Ragi meye
ওর তো এখানে থাকার কথা না।

ও ত তার বাপের বাড়িতে থাকার কথা।

এখানে কিভাবে আসলো?

আসছে যখন ভালোই হয়েছে।

কি সুন্দর করে আমার বুকের উপর মাথা রেখে

ঘুমুচ্ছে,আমি একটুও নড়তে পারছি

না,নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে

আমার।

Share:

Bangabandhu BPL Live 2019. Comilla Vs Rangpur live

Bpl live
Share:

Full match columbus crew vs fc Cincinnati live football live match

Share:

Fc barcelona vs real madrid live reply match hd

Share:

ফেসবুক থেকে ভিডিও ডাউনলোড করুন

Share:

বাংলালিংক সিমে প্রতিদিন ফ্রি mb নিন Banglalink Sim per day free mb 100% live proof

বাংলালিংক সিমে প্রতিদিন ফ্রি mb নিন Banglalink Sim per day free mb 100% live proof
Share:

সিনিয়র বউ

সিনিয়র বউ


পর্ব_০৫

লেখক-নাঈম আহাম্মেদ হৃদয়

ছেলেটার সামনে গিয়েই ওর শার্টের কলার ছেপে ধরে ঠাসস ঠাসস ২ টা চড় বসিয়ে দেয়, ছেলেটা রাগি দৃষ্টিতে তামান্নার দিকে তাকায়, তামান্না বলতে থাকে?

তামান্নাঃ ছিহ! তোর লজ্জা করে না আমার সাথে রিলেশন করে এখন অন্য মেয়ের সাথে টাংকি মারতে?

ছেলেঃ তুমি যা ভাবছো তা নয়, আমার কথাটা একটু শুনো....

তামান্নাঃ কি শুনবো তোর কথা যা দেখার তা তো নিজের চোখেই দেখলাম।

তামান্নার কথা শুনে ছেলেটার পাশে থাকা মেয়েটা রেগে যায় তারপর সেও ছেলেটা একটা চড় দিয়ে চলে যায়। আমি আর ফাহাদ বসে বসে হাসতেছি। শালা প্লে বয় এবার ঠ্যালা সামলা,,,

মেয়েটা চলে যাওয়ার পর ছেলেটা তামান্নার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়। সাথে সাথে আমার মাথা খারাপ হয়ে গেলো, ইচ্ছা করছিলো ছেলেটাকে মেরে পুতে ফেলি।

কিন্তু না, তামান্নাও আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, এবার বুঝুক ভালোবাসার মানুষ কষ্ট দিলে কেমন লাগে, বেশি আলগা পিরিত দেখালে এমনটাই হয়।

ছেলেটা তামান্নাকে বলতে লাগলো....

ছেলেঃ এই তুই আমাকে ফারিয়ার (মেয়েটা) সামনে অপমান করলি কেন?

তামান্নাঃ বেশ করেছি, তুই আমার সাথে রিলেশনে থেকে আবার অন্য মেয়ের সাথে কি?

ছেলেঃ কিহ! তোর সাথে রিলেশন? হা হা হা,,, কি করে ভাবলি আমি তোর সাথে প্রেম করতেছি?

তামান্নাঃ মানে?

ছেলেঃ মানে আমি তোর সাথে কোনো রিলেশন করিনি, যা ছিলো সেটা হচ্ছে টাইমপাস। আর তোর মতো মেয়েকে আমি আমার স্ত্রী বানাবো সেটা ভাবলি কি করে?

তামান্নাঃ কেন আমি কি করছি? পারবি না কেন?

ছেলেঃ যে মেয়ে বাসায় স্বামীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে, বিয়ের পরও অন্য ছেলের সাথে রিলেশন করে তাকে আমার বউ বানাবো, এটা জীবনেও সম্ভব নয়।

তামান্নাঃ প্রপোজ করার সময় এটা মনে ছিলো না?

ছেলেঃ সব ছিলো, তোর সাথে জাস্ট টাইমপাস করেছি, টাকা নেওয়ার জন্য আর তোর শরীর ভোগ করার জন্য, টাকা তো খেয়েছি কিন্তু শরীরটা এখনো বাকী আছে। আর আমি বিয়ে করবো ফারিয়াকে। ওর বাবার অনেক টাকা। তোর বাবার কি আছে,,,

তামান্না সাথে সাথেই ছেলেটাকে আরো একটা চড় মারে, তারপর কান্না করতে করতে বলে...

তামান্নাঃ তোর মতো বাটপার আমি কখনো দেখিনি, তোর জন্য আমি জুয়েলকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। আজ থেকে তোর আর আমার সম্পর্ক এখানেই শেষ। আর কখনো আমার সামনে আসবি না।

এ কথা গুলো বলে তামান্না কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়, ছেলেটা গালে হাত দিয়ে আবুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।

তামান্নার কথা ভেবে খারাপ লাগছে, বেচারি সত্যিই অনেক ভালোবাসতো ছেকেটাকে। আবার অনেক আনন্দও লাগছে যে ফকিন্নি আমার সাথে অনেক বাজে বিহেভ করেছে। এবার ঠ্যালা বুঝ। আর কিছুদিন আমিও তোরে ডিভোর্স দিবো। তখন বুঝবি তোর জীবনে এই জুয়েলের গুরুত্ব কি পরিমাণ ছিলো।

যাইহোক ফাহাদকে একটা ধন্যবাদ দিলাম, সে ছেলেটাকে না দেখলে হয়তো ছেলেটা তামান্নার সাথে শারীরিক রিলেশনও করে ফেলতো। আল্লাহ বাঁচাইছে।

আমি মোবাইলটা বের করে আমাদের বন্ধুদের মেসেঞ্জার গ্রুপে একটা মেসেজ লিখলাম,, " দুপুরে সবাই সিজলার রেস্টুরেন্ট এ আসিস, আমি ট্রিট দিবো"

মেসেজ পেয়ে সবাই লেজ উঠিয়ে ট্রাংক রোড় চলে আসলো, সবাই সেখান থেকে সিজলারে গেলাম। আমি, সানি, আয়মান, হাকিম আর ফাহাদ। সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করলাম।

আয়মান আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "হঠ্যাৎ ট্রিট কেন? আমি সব ঘটনা খুলে বললাম। সবাই মোটামুটি খুশি। সানিকে জিজ্ঞেস করলাম ডিভোর্স লেটার ঠিক হতে আর কয়দিন লাগবে সে বললো আর কিছু দিনের মধ্যে হয়ে যাবে।

বিকালে আর বাসায় গেলাম না। সবাই মিলে আড্ডা দিলাম, রাতে বাসায় গেলাম।

আম্মুঃ কিরে সারা দিন কই ছিলি?

আমিঃ এইতো বন্ধুদের সাথে।

আম্মুঃ এই অসুস্থ শরীর নিয়ে বন্ধুদের সাথে কি? এই তোর সাথে কি তামান্নার কিছু হইছে?

আমিঃ না, কেন?

আম্মুঃ দুপুরে এসে না খেয়ে শুয়ে আছে, অনেকবার ডেকেছি, খাবে না বলেছে, রুম থেকে বের হচ্ছে না।

আমিঃ আমি কিছু জানি না (যদিও সব জানি তবুও কিছু বললাম না)

আম্মুঃ দেখতো বাবা! মেয়েটা কিছু খাচ্ছে না। এভাবে না খেয়ে থাকলে তো অসুস্থ হয়ে যাবে। (নিজের ছেলে যে না খেয়ে আছে সেদিকে খেয়াল নেই)

আমিঃ আচ্ছা দেখতেছি।

আম্মুঃ হুম, যা ডেকে নিয়ে আয়। দুজনে একসাথে খেতে আয়।

তারপর রুমে গেলাম, দেখি তামান্না উলটো হয়ে শুয়ে আছে, আমাকে দেখেই উঠে বসলো। আমি কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে গেলাম, ফ্রেশ হয়ে এসে বললাম...

আমিঃ আম্মু খাওয়ার জন্য ডেকেছে, খেতে চলেন।

তামান্নাঃ আমি খাবো না, তুমি খেয়ে নাও।

আমি তো অবাক হয়ে গেলাম, যে মেয়ে আমাকে তুই ছাড়া কথা বলতো না আর সেই আমাকে তুমি করে ডাকছে।

আমিঃ খাবেন না কেন? দুপুরেও তো কিছু খাননি, আম্মু বললো। আপনার মুখে এগুলো কিসের দাগ? (যদিও সব জানি)

তামান্নাঃ কিছু মশা মারতে গিয়ে।

আমিঃ খেতে আসেন, সবাই বসে আছে,,,

আর কিছু না বলে খেতে চলে গেলাম, খাওয়া শুরু করে দিলাম কিন্তু সে আসছে না।

আমিঃ কিরে তামান্না আসছে না?

আমিঃ না।

আম্মুঃ কেন, কিছু হইছে?

আমিঃ শরীর খারাপ মনে হয়।

আম্মুঃ ও আল্লাহ! কি বলিস। ডাক্তারকে কল দে।

আমিঃ আরে ধুর তেমন অসুস্থ না, ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে।

আমি আর আম্মু খেয়ে নিলাম, চলে যাওয়ার সময় আম্মু বললো...

আম্মুঃ জুয়েল!

আমিঃ কিছু বলবে?

আম্মুঃ বলছিলাম কি, তুই খাওয়ারটা রুমে নিয়ে যা, ওর খিদা লাগলে খেয়ে নিবে। প্লিজ বাবা না করিস না।

কি আর করা ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও খাওয়ার গুলো রুমে নিয়ে গেলাম।

খাওয়ার গুলো টেবিলের উপর রাখলাম, তামান্নাকে বললাম...

আমিঃ ভাত নিয়ে আসছি। খেয়ে নিন।

তামান্নাঃ খাবো না, খিদা নেই।

আমিঃ না খেলে শরীর খারাপ করবে, খেয়ে নিন।

আর কিছু না বলে বালিশটা নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লাম, তামান্না কিছু একটা বলতে গিয়েও বললো না।

রাতের বেলা হঠ্যাৎ কিছু একটার শব্দ শুনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো, তাকিয়ে দেখি তামান্না পাগলের মতো খাওয়ার গুলো খাচ্ছে। আমি মুছকি হেসে মনে মনে বললাম "গরিবের কথা বাসি হলেও মিষ্টি হয়" আমি না জাগার ভান ধরে শুয়ে আছি। তামান্না একবার খাওয়ারের দিকে তাকায় আরেকবার আমার দিকে তাকায়।

তারপর ঘুমিয়ে পড়লাম, ঘুম থেকে উঠে দেখি তামান্না নিজের কম্বল টা আমার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে কোথায় যেন চলে গেছে।

উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম, খাওয়ার টেবিলে গিয়ে দেখি পছন্দের সব খাবার, ঘটনা কি, আজকে তো বিশেষ কোনো দিন না, আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম আজকে এগুলো কেন? আম্মু হেসে বললো তামান্না নাকি আমার জন্য নিজের হাতে বানিয়েছে। আসলেই মেয়েদের মন বোঝা জীবনেও সম্ভব নয়, এরা কখন কি করে নিজেও জানে না।

কিছু না বলে খেয়ে নিলাম, তারপর রেড়ি হয়ে বাইরে চলে গেলাম, আজকে আড্ডা দেওয়ার জন্য যাচ্ছি না, একটা চাকরীর জন্য ইন্টার্ভিউ দিতে যাচ্ছি। বসে বসে তো অনেক খাইলাম এবার ফ্যামিলির পাশে দাঁড়ানো উচিত।

ইন্টার্ভিউ দিয়ে বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে রাতে বাসায় আসলাম। সবাই একসাথে খেয়ে নিলাম।

রুমে গিয়ে শুয়ে শুয়ে মোবাইল টিপতেছি এমন সময় তামান্না রুমে আসলো, আমি উঠে ছাদে চলে গেলাম, কিছুক্ষণ সেখানে বসে বসে গান শুমলাম।।

তারপর রুমে এসে দেখলাম তামান্না এখনো বসে আছে,,,,

আমিঃ কি ব্যাপার আপনি এখনো ঘুমান নি?

তামান্নাঃ ঘুমাবো পরে। একটা কথা বলতাম,,,,

আমিঃ হুম বলেন।

তামান্নাঃ আমাকে আর আপনি করে বলবে না।

আমিঃ তো কি বলবো?

তামান্নাঃ তুমি করে বলিও।

আমিঃ No Thanks (একটা হাসি দিয়ে)

তারপর খাট থেকে বালিশটা নিয়ে সোফায় ঘুমাতে যাবো, এমন সময় তামান্না আবারও বললো...

তামান্নাঃ সোফায় না ঘুমালে হয় না?

আমিঃ তো কোথায় ঘুমাবো?

তামান্নাঃ তুই এবার থেকে খাটে ঘুমাবে।

আমিঃ কেন আপনার চড় খাওয়ার জন্য নাকি অপমানিত হওয়ার জন্য? দেখেন আমারও একটা পার্সোনালিটি আছে।

তামান্নাঃ আগের সব কিছুর জন্য সরি।

আমি কিছু না বলে সোফায় ঘুমিয়ে পড়লাম, তুই কি ভাবছিস তোর নরম কথায় আমি পটে যাবো? তুই এখনো জুয়েলকে ছিনিস নি, আমিও তোকে অনেক ভালোবাসতাম কিন্তু যখনই তোর কাছে যেতাম অপমান ছাড়া আর কিছুই পাইনি?

যাক এতো কিছু ভেবে লাভ নেই, ঘুমিয়ে পড়ি। রাতের বেলা কারো গোঙ্গানির শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো, ড্রিম লাইটের আলোয় রুমের সব কিছু হালকা ভাবে দেখা যাচ্ছে।

দেখলাম তামান্না শুয়ে শুয়ে কান্না করতেছে, কাঁদুক তাতে আমার কি? কানের মধ্যে কাঁথা চাপ দিয়ে আবারও ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকালবেলা কারো নরম হাতের স্পর্শে ঘুম ভাঙ্গলো, হালকা চোখ খুলে দেখি তামান্না আমার মাথায় হাত বুলাচ্ছে, আমিও না জানার ভান করে শুয়ে আছি।

একটু পর সে উঠে গোসল করতে চলে গেলো, গোসল করে এসে আমাকে ডাকতে লাগলো, উঠে আমিও ফ্রেশ হয়ে নিলাম।

সকালবেলা নাস্তা করে শুয়ে শুয়ে ফেসবুকিং করছি এমন সময় আয়মান কল দিয়ে বললো, আমার চাকরিটা হয়ে গেছে। আমিও মহা খুশি। যাক অবশেষে পরিবারের হাল ধরতে পারবো।

আম্মুকে খবরটা দিলাম, আম্মুও অনেক খুশি, তামান্নাকে কিছু বললাম না। সেদিন রাতে সানি আর আয়মানের সাথে আড্ডা দিয়ে রাতে বাসায় আসলাম, তামান্না আমাকে বললো...

তামান্নাঃ Congratulation.

আমিঃ Thanks but why???

তামান্নাঃ নতুন চাকরি পাওয়ার জন্য।

আমিঃ ও আচ্ছা।

পরেরদিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলাম, রেড়ি হয়ে অফিসে চলে গেলাম। প্রথমদিন ভালোই লাগলো,,

এভাবে আরো ১০ দিনের মতো চলে গেলো, তামান্না আমার কাছে আসতে চায় বাট আমি তেমন একটা কথা বলি না। কারণ আগের দিন গুলোর কথা আমি এখনো ভুলি নি। তামান্নার জন্য আমি এখন প্রায় কলেজে যায় না বললেই চলে। সেদিন সবার সামনে অপমার করার পর থেকে কারো সামনে যাই না। শুধু পরীক্ষাটা দিয়ে আসি।

পরের দিন অফিসে যাচ্ছি এমন সময় আম্মু এসে বললো...

আম্মুঃ অফিসে যাচ্ছিস?

আমিঃ হুম, কিছু বলবে?

আম্মুঃ বলছিলাম কি তামান্নার আম্মু কল দিছে, সে নাকি অসুস্থ। তামান্নাকে যেতে বলেছে।

আমিঃ তো যাক।

আম্মুঃ না মানে তুই যদি দিয়ে আসতি!

তারপরেই....

চলবে....
Share:

story---সিনিয়র_আপু Writer---পিচ্চি_পণ্ডিত

story---সিনিয়র_আপু
Writer---পিচ্চি_পণ্ডিত

Part--- 02





{আমি এবার এক ছুট দিয়ে বাসায় পৌছে গেলাম, না জানি আর কিছুক্ষন থাকলে ওর ফ্রেন্ডের স্যান্ডেল গুলাও আমার দিকে ছুঁড়ে মারতো, পুরাই ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যেতো আরো, কিন্তু ১৪৩ এর মানেটা কি? 😱😱 কিছুই তো বুঝতে পারছিনা। আমি রুমে এসে আমার এক ফ্রেন্ডকে কল দিয়ে....}
-- এই রিয়া একটা শব্দ জিজ্ঞাসা করছি সেটার মানে কি তুই জানিস?(আমি)
{রিয়া হলো আমার এক ফ্রেন্ডের নাম}
-- কি বল? (রিয়া)
-- না মানে ১৪৩ এর মানে কি?(আমি)
-- তুই জানিস না নাকি যে আমাকে জিজ্ঞাসা করছিস।(রিয়া)
-- না জানিনা বলেই তো তোকে জিজ্ঞাসা করছি।(আমি)
-- ১৪৩ এর মানে হলো I love you বুঝলি।(রিয়া)
-- হিহিহি ভাভা গো বিরাট ব্যাপার দেখছি যে।(আমি)
-- মানে?(রিয়া)
-- না না কিছু না।(আমি)
-
-
-
(ভাইরে আমার মনে তো এখন লাড্ডু ফুটছে। উফ আল্লাহ মেয়েটা আমাকে আই লাভ ইউ বললো, কি যে খুশি লাগছে বলে বোঝাতে পারবো না। 😍😍😍)
-- ওহ আচ্ছা।
-- এখন রাখি বুঝলি পেত্নি।
-- এই সিয়াম ভালো হবে না বলছি।
-- আমি আকাশ না যে তোকে ভয় পাবো।(আমি)
-- তোর থেকে আমার আকাশ অনেক ভালো। রাখ বাই।(রিয়া)
-- তা তো হবেই উনি তো তোমার হবু ইয়ে।(আমি)
-- এই চুপ কর সিয়াম তোর পাঠক ভাইয়া কি মনে করবে শুনি?(রিয়া)
-- হিহিহি, আচ্ছা বাদ দে কাল কলেজ যাবি তো।(আমি)
-- জ্বি, তুই(রিয়া)
-- হুম যাবো আর আকাশ যাই কিনা একটু জিজ্ঞাসা করে টেক্সট করে দিবি বুঝলি।
-- কেন তোর তো বেস্টফ্রেন্ড, তুই জিজ্ঞাসা কর।
-- আচ্ছা করবানে এখন রাখি।
-- আচ্ছা বাই।
[এবার ফোন রেখে দিলাম।
মানে রিয়া আকাশের গফ, আমরা সবাই এক ইয়ারেই পড়ি। মেয়েটা ছেলেটাকে অনেক ভালোবাসে আর ছেলেটাও।]
-
-
(এবার বই নিয়ে পড়ার টেবিলে এলাম, বইটাও খুললাম দেখি সেই জান্মাত আমার সিনিয়র ক্রাশের ছবি বই এর পাতায় ভাসছে, আমি চুপটি করে গালে হাত দিয়ে হা করে বসে রইলাম, এবার রাতে ডিনার সেরে ঘুমাতে গেলাম। এবার আমি আমার ঘুমের রাজ্যে রাজত্ব করতে চলে গেলাম, দেখি সেখানে সব ঠিকঠাক আছে)
-
-
(তাই আমি আবার আমার আব্বুর রাজ্যে ফিরে এলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার রেডি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
এবার কলেজে ঢুকে সেই গাছের নীচে গিয়ে বসলাম যেখানে আমার সব কুত্তা ফ্রেন্ডরা বসে আছে, আমাকে দেখে সবাই হাসছে, কি ব্যাপার রে ভাই কিছুই তো বুঝে উঠতে পারছিনা। এবার আমি সাগরের কাছে গিয়ে ওর মাথায় এক চাপড় দিয়ে....)

.
-- ওই আমাকে কি দেখে সার্কাসের জোকার মনে হয়?(আমি)
(আকাশ হেসে হেসে.....)
-- তা কেন মনে হবে শুনি?  আর মনে করার কি আছে তুই তো এমনিতেই জোকার। (আকাশ)
-- আকাশের বাচ্চা😡😡😡😡😡(আমি)
-- আচ্ছা আচ্ছা চুপ করলাম।(আকাশ)
-- এবার বল তোরা হাসছিলিস কেন?(আমি)
-- তাহলে দেখতে চাস কেন হাসছিলাম।(আকাশ)
-- জ্বি।
-- ওই দেখ কে দাঁড়িয়ে বলতো?
.............
(এবার আকাশের আঙুল তুলে যেদিকে দেখালো, সেটা দেখেই তো আমি পুরাই অবাক আর সঙ্গে সঙ্গে আকাশকে জড়িয়ে ধরলাম। উরিবাবা এতো আমার সিনিয়র ক্রাস😍😍😍, কাল আই লাভ ইউ বলেছিলো তাই মনে হয় প্রপোজ করতে এসেছে।
উফ আল্লাহ আমি তো পুরাই লজ্জায় রাঙা হয়ে গেছি।)
..........
(কিছু খুঁজে না পেয়ে আকাশের ব্যাগে হাত ভরে দিলাম কারন আকাশ প্রতিদিন রিশার জন্য গোলাপফুল নিয়ে আসে। এবার আমি ব্যাগ থেকে বের করতেই আকাশ  বলে উঠলো....)
.
-- কি ব্যাপার মাম্মা?(আকাশ)
(আমি হেসে হেসে....)
-- আরে কিছু না মামা।(আমি)
-- হুম কিছু তো আছে বল।
-- না মানে আকাশ ইয়ে ওই যে মেয়েটাকে দেখালি তাকে প্রপোজ করবো।
-- তাহলে দেরি করছিস কেন?
-- না মানে দোস্ত খুব ভয় করছে তো।
-- আরে ভাই প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া।(আকাশ)
-- তাও ঠিক, মামা আমি পারবো না মনে হয় তুই আমার সাথে চল না।
-- আচ্ছা যাইতে পারি তবে ট্রিট লাগবো, দিবা।
-- আচ্ছা দিবানে।
-- চল।


(এবার আমি হাতে গোলাপটা নিয়ে আস্তে আস্তে জান্নাতের সামনে যাচ্ছি, দেখি জান্নাত একভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর কি যেন ফুসুরফাসুর করে ওর ফ্রেন্ডকে বলছে। আমার হাতটা এবার কাঁপাকাঁপি শুরু করে দিলো আমার কপালে খুব ঘাম দিচ্ছে, অবশেষে গোলাপটা সামনে হাতে রেখেই নিয়ে যাচ্ছি, এবার জান্নাতের কিছুটা কাছে আসতেই আকাশ.....)


-- মামা বাঁশ খাওয়ার জন্য তৈরি থাকো।(আকাশ)
(এটা শোনা মাত্রই আমি হাতে থাকা গোলাপটা পিছনে করে নিলাম।
আমি এবার কপালে ঘাম টিস্যুপেপার দিয়ে মুছে....)

-- দোস্ত কেন ভয় দেখাচ্ছিস।
-- কই না তো।
-- তাহলে ওসব কেন বললি?
-- কই কি বললাম।
-- তাহলে হয়তো আমি শুনতে ভুল করেছি।
-- হবে হয়তো।
.....
(এবার আমি জান্নাতোর সামনে গেলাম পিছনে গোলাপ নিয়ে...  খুব লজ্জা পাচ্ছে জান্নাতের সামনে দাঁড়াতে তাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে...)
.
-- আপনি যেই প্রস্তাবটা রেখেছিলেন তাতে আমি মঞ্জুর। (আমি)
-- মানে?(জান্নাত)
-- না মানে কাল যেটা বলেছিলেন?
-- কি বলেছিলাম।
-- ওহ আচ্ছা আপনি লজ্জা পাচ্ছেন।
-- আরে কি বলেছিলাম যে লজ্জা পাবো।
-- আরে আমিও যে বলবো আমারো তো খুব লজ্জা পাচ্ছে হিহিহি😁
-- বেশি না বকে কি বল।
-- না মানে কাল আমায় ১৪৩ বলেছিলেন তাই না।
-- তো কি হয়েছে। ( একটু হেসেহেসে)
-- তো মানে এই নিন।
এবার আমি গোলাপ ফুলটা মিমের সামনে ধরে.....
-- I lv u jannat... আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।(ami)
-- থাবড়ারাইয়া বত্রিশটা দাঁত ফালাই দিমু।(jannat)

-- কেন?
-
(যাহ শালা কি হলো, কথাটা শুনেও কিছুটা কষ্ট হলো....)
-- কেন না আমি তোকে কাল ওসব বলিনি। ১৪৩ এর মানে হলো I ht u( জান্নাত)
-- I lv uও তো হয়য়।(আমি)
-- সেটা তোর কাছে হতে পারে কিন্তু আমার কাছে না।
এতোসব শোনার পর আমার চোখে কিছুটা পানী চলে এলো।
-- জান্নাত তোমাকে আমি সত্যি করে বলছি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
-- ভুলে যাসনা তুই আমার থেকে জুনিয়র।
-- হুম জানি জুনিয়র, আর এটাও জানি যে তুমি আমাকে ভালোবাসো তাই এখানে এসেছো।
--  এটা কি তোর একার কলেজ নাকি যে তুই শুধু আসবি।(কঠরভাবে বললো)
-- তারমানে তুমিও এই কলেজেই পড়ো। তাহলে তো আরো ভালো হয়, এক কলেজে দুইজনে প্রেম করতে পারবো।(আমি)

-- ওই ফাজিল পোলা চুপ।
-- জ্বি ফাজিল হতে পারি কিন্তু এই (পোলাডা খুব ভালো, দেখে নিও তোমার খুব কেয়ার করবে। প্লিজ আমাকে একটু ভালোবাসতে দাও।)
-- দেখ বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে।
আমি এবার ওর হাতটা ধরতেই...
আমার গালে একটা কষে ঠাসসসস করে থাপ্পড় মেরে....(জান্নাত)
-- তোর সাহস কি করে হয় যে তুই। আমার হাত ধরছিস?

(আমি এবার গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম, জ্বি আমি খারাপ কাজইই করেছি কারোর পারমিশন না নিয়ে কারোর হাতে হাত রেখেছি।)

-- সরি
-- সরি। এরপর থেকে আমার চোখের সামনে আসবি না। ছি ছি একটা লম্পট চরিত্রহীন পোলা, যে সারাদিন রাস্তার মাইয়াদের লগে টাংকি মারে সে আবার আমার সাথে রিলেশনশিপ এ আসবে। যা ভাগ।(জান্নাত)

(এটা বলে জান্নাত চলে গেল আমার সামনে থেকে চলে গেলো, সঙ্গে সঙ্গে আমি হাটমুড়ে বসে পড়লাম, বসতেই আমার মাথা ঘুরতে লাগলো খুব কষ্ট হচ্ছে, আমার বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠছে  আমার চোখ দিয়ে পানী টপটপ করে পড়তে থাকলো। এবার আমার কাছে আকাশ এসে আমাকে তুলে বুকে জড়িয়ে নিয়ে....)
-- ভাই এটা সম্ভব না, দেখ ও তোর থেকে সিনিয়র। কোনোভাবেই রিলেশন হবে না। (আকাশ)
(আমি এবার কেঁদেকেঁদে...)
..
-- আকাশ আমি ওকে খুব ভালোবেসে ফেলেছিরে এই একদিনের দেখাতে।
-- দেখ ভাই ওটা ভালোবাসা ছিলো না ওটা এক তরফা ভালো লাগা ছিলো।
-- আকাশ আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না।
-- ছাড়।

(এবার আমাকে সাগর আর রিয়ার  কাছে নিয়ে এলো, আমার এমন অবস্থা দেখে সাগর আর রিয়া হো হো করে হাসতে লাগলো। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে আর এদের আনন্দ হচ্ছে, আজ বুঝলাম কিছু কিছু কুত্তা ফ্রেন্ড আছে তারা দুঃখের সময়েতেই হাসাহাসি করে মনে হয় এই কুত্তাগুলো এজন্যই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমি ওদের এমন কান্ড দেখে রেখে আমি সোজা বাসায় চলে এলাম।)
......
(বাসায় এসে সোজা বিছানায় শুয়ে পড়লাম, বালিশে মুখ গুঁজে। চোখ দিয়ে পানী অনবরত ভিজে যাচ্ছে। আমি প্রতিজ্ঞা করলাম এবার যে, জান্নাতের সামনে আমি আর কোনোদিন যাবো না প্রমিস। কারন আমার ভালোবাসার মানুষটা যদি এতে খুশি থাকে তাহলে আমিও থাকবো।)
.....
(এভাবে কিছুক্ষন শুয়ে থাকার পর আমার প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইলটা যেন এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠলো তাই আমি মোবাইলটা বের করলাম আর স্ক্রিন অন করতেই দেখি একটা আননোন নাম্বার থেকে ম্যাসেজে লিখেছে.....)
-- এই ফাজিল পোলা রাগ করেছিস, খুব কষ্ট পাচ্ছিস তাই না।

(কার নাম্বার আমি বুঝে উঠতে পারছিনা তাই আমি কল দিলাম দেখি কল রিসিভ করছে না আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম যে এটা কার নাম্বার।
আবার একটু পর....)

-- এই কুত্তা 😡😡😡😡😡 রিপ্লাই দে বলছি।
আমি এবার....
-- আপনি কে যে আপনাকে রিপ্লাই দিতে হবে চিনিনা জানিনা।
-- যা বলছি তার জবাব দে।
-- আমি কারোর গোলাম না যে আপনি যা বলবেন তার সব জবাব দেবো।
-- দেখ খুব খারাপ হয়ে যাবে।
-- হোক, অসুবিধা নেই।
-- এই ১৪৩।
(ভাই আবার এটা? আমি তো বুঝে উঠতে পারছিনা আমার সাথে কেন এরকম হচ্ছে😡😡😭😭😭😭)
#waiting _for_next
নতুন আইডি তাই গল্প প্রেমিক প্রেমিকারা অ্যাড দিতে পারেন।
আগামী পর্ব আসার আগে পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ সবাই ভালো থাকবেন.......
Share:

ব্ল্যাক ডায়মন্ড black daimond bangla golpo

ব্ল্যাক ডায়মন্ড 

"জান্নাতুল
তুই এটা কি রঙয়ের শাড়ি পরেছিস ? তুই এমনিতেও কালো এই নীল রঙের শাড়িতে তোকে আরও কালো দেখাচ্ছে । বাসা থেকে বের হবার আগে আয়না দেখিসনি?

- তুই না কাল বলেছিলি নীল রং তোর প্রিয়?

- হুম বলেছিলাম তো ,কিন্তু আমি কি তোকে নীল রঙের শাড়ি পরতে বলেছি?

আমি অন্য দিকে ফিরে গেলাম আমার চোখের কোনে জল জমেছে এই জল আমি আবিরকে দেখাতে চাইনা ।

- যা তুই বাসায় চলে যা ,ভেবেছিলাম তোকে আজ হাতিরঝিল দেখাতে নিয়ে যাবো ,কিন্তু তুই এমন সাজ দিয়ে এসেছিস

- আমি কান্নাটা গিলে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম যাবো না তোর সাথে হাতিরঝিলে, তোর সাথে যেতে আমার বয়েই গেছে । বলেই আমি উঠে বাসায় চলে এলাম । বাসায় ঢুকেই মাকে বললাম এই শাড়িটা আমেনা খালাকে দিয়ে দিয়ো । মা আমার দিকে আশ্চায হয়ে তাকিয়ে বললেন - কালকেই না তুই শাড়িটা কিনলি? আমি তো তোকে বারবার ঐ গোলাপি শাড়িটা দেখালাম তুই বললি না এইটাই তোর পছন্দ । একদিনেই পছন্দ শেষ?

- উফ মা এতো কথা কেন বলছ? এমনেতেই আমার মাথা ধরেছে যাও তো আমাকে ঘুমাতে দেও।

- এখন ঘুমাবি কিরে! ভাত খেয়ে ঘুমা আর শুন মা তুই রাগ করিসনা আজ বিকেলে আমাদের বাসার সামনের কফিশপে তোকে একটু যেতে হবে ।

- মা তুমি আবার আমার জন্য ছেলে ঠিক করেছো? এই পর্যন্ত ৪ জন গেলো, কেউ আমাকে পছন্দ করেছে? এই জীবনে আমার বিয়ে হবেনা মা । আমার মত কালো মেয়েকে কেউ বিয়ে করবে না ।

- তুই এতো কালো কই মা , একটু শ্যামলা এই যা আর তুই এবার নিষেধ করেছিস বাসায় কাউকে আনতে না তাই কফিশপে আসতে বলেছি । এইবার যা মা,ছেলেটা খুব ভাল ,এইবার না হলে তোকে আর বলবনা ।

- মা আমি তোমার মেয়ে বলে তোমার এমন মনে হয় । অন্যদের এমন মনে হয় না । আর শুন এই কিন্তু শেষ।

বিকালে মায়ের পছন্দ করা শাড়ি পরে নিচে নেমে গেট দিয়ে বের হবার সময়ই দেখি আবির আমাদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে!

- কিরে ব্ল্যাক ডায়মন্ড কার সাথে হাতিরঝিলে যাবার জন্য এতো সেজেগুজে বের হয়েছিস?

- শুন আবির সবসময় আমাকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড বলে ডাকবি না । আর তুই আমার বাসার সামনে কি করিস?

- আমি এইখানে কি করি সেটা বড় কথা না, বড় কথা হল তুই কি আজ আবার দেখা-দেখির কাজে যাচ্ছিস নাকি?

- আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি পাঁচটা বেজে গেছে, পাঁচটায় ছেলেটির আসার কথা, মনে হয় চলে এসেছে । এই ফাজিলের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না । আমি কোন কথা না বলে হাঁটতে শুরু করলাম আবিরটা এতো ফাজিল আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল এই দাঁড়া দাঁড়া , কই যাস বলে যা

- ঐ সামনের কফিশপটাতে, মা বলেছে একটি ভাল ছেলের সাথে দেখা করতে , তোর মত ফাজিল না ছেলেটি ।

- বাব্বাহ এখন থেকেই এতো সুনাম! এই দেখ দেখ ঐযে লম্বা ফর্সা মত ছেলেটি নয়ত?

আমি সামনে তাকিয়ে দেখি কফিশপটার সামনে সবুজ গেঞ্জি পরা সুন্দর একটি ছেলে বার বার ঘড়ি দেখছে । বুঝতে পারলাম এটাই মায়ের ভাল ছেলে কারন মা বলে দিয়েছে ছেলেটি সবুজ রং পরে আসবে । আমি বললাম মনে হয় উনি । এই কথা শুনেই আবির এতো জোরে হো হো করে হেসে উঠল যে রাস্তার মানুষ ওর দিকে তাকিয়ে থাকল । ওর হাসি আর থামেইনা, আমি খুব বিব্রত হয়ে পড়লাম । বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কি হল এতো হাসির কি দেখলি যে তোর হাসি আর থামেই না?

- এই শুন এই ছেলের সাথে তোকে একদম মানাবে নারে একদম না , ছেলের গায়ের রং দেখছিস কেমন ফর্সা ! বলেই আবার হাসতে লাগলো । আমি এইবার সত্যি সত্যি কেঁদে ফেললাম, অপমানে আমার সারা শরীর কাঁপতে লাগলো আবির আমাকে সব সময় এমন করে বলে কিন্তু এতটা খারাপ আমার আগে কখনো লাগেনি । আমি আমার শরীরের সব শক্তি দিয়ে আবিরকে কষে চড় লাগালাম । তারপর কাঁদতে কাঁদতে কফিশপের দিকে না গিয়ে বাসায় চলে আসলাম । বাসায় এসে দরজা বন্ধ করে আমি হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম । হ্যাঁ আমি কালো তাই বলে কি আমি মানুষ না? আমি কি নিজে আমার শরীরের রং দিয়েছি? আমাদের ক্লাসে আমি সবচেয়ে কালো মেয়ে,আবির ফর্সা দেখতে হ্যান্ডসাম । কিন্তু কোন এক অজানা কারনে ক্লাসের প্রথম দিন থেকে আবির আর আমার মাঝে খুব বন্ধুত্ব হয়ে গেছে । অন্য মেয়েরা আবিরের সাথে মিশতে চাইলেও ও তেমন একটা পাত্তা দিতো না । একদিন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম আবির আমিতো কালো তুই এতো সুন্দর সুন্দর মেয়ে রেখে আমার সাথে ঘুরিস কেন? ও বলল এইটা কেমন কথা বললি বন্ধুত্ব হল মিলের ব্যাপার তোর সাথে আমার মিল হয়েছে তাই বন্ধুত্ব হয়েছে । সাদা আর কালো দেখে কি বন্ধু হয় ? আর তুই সব সময় শাড়ি পরে থাকিস আমার কাছে ভাললাগে । গত তিন বছর থেকে আমি আর আবির বন্ধু, আমার সব কিছুতে ও আমার পাশে আর ওর সব কিছুতে আমি ওর পাশে । ও সব সময় আমাকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড বলে ডাকে আমার কাছে এই ডাকটা খুব পছন্দ। কিন্তু যে দিন থেকে আমার বিয়ের কথা হচ্ছে সেইদিন থেকে আমি বুঝতে পারলাম আমি আবিরকে ভালবেসে ফেলেছি । এই সেই ভালবাসা না একেবারে উথাল-পাতাল ভালবাসা। সাথে সাথে এইটাও বুঝলাম আবির যদি এই কথা বুঝতে পারে তাহলে আমাদের সব সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। আবির কি আর আমার মত কালো মেয়েকে ভালবাসবে? তাই মায়ের কথা মত বিয়ের জন্য রাজি হয়ে গেলাম কিন্তু আমি রাজি হলে তো হবে না অন্য পক্ষ ওত রাজি হতে হবে ।ভালবাসি বুঝতে পারার পর থেকেই আবির আমাকে কালো বললেই আমার চোখ ফেটে কান্না আসে। আবিরকে চড় মারাটা উচিত হয়নি, ওত সত্যি কথাই বলেছিল ঐ ছেলে আমাকে কখনো পছন্দ করতনা।কিন্তু আবির হাসাতে কেন যে আমার মাথা গরম হয়ে গিয়েছিলো , মা কয়েক বার এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে ডেকে গেছে আমি কোন জবাব দেইনি । আমি উঠে ফ্রেস হয়ে ফোনটা হাতে নিলাম আবির কে স্যরি বলার জন্য, ফোন হাতে নেয়ার সাথে সাথে আবিরের কল ! আমি রিসিভ করে চুপ করে রইলাম ওপাশ থেকে আবির বলল কিরে ঘুমাস নি?

-ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি এগারোটা বাজে, বললাম হুম ঘুমিয়েছি

-ঘুমালে তোর রুমের লাইট অন কেন?

- আমার রুমের লাইট অন তুই কিভাবে জানিস? কোথায় তুই?

- আমি তোর বাসার সামনে তাড়াতাড়ি নীচে আয় তোর সাথে মানাবে এমন একটা ছেলেকে ধরে নিয়ে এসেছি তুই যদি এখন বলিস আসবি না তাহলে কিন্তু আমি ছেলেটিকে নিয়ে তোর বাসায় চলে আসবো

- দাঁড়া তুই আমি আসছি বলেই আমি এক দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসতেই দেখি আবির দাঁড়িয়ে আছে ।

আমি নামতেই ও হাঁটতে লাগলো আমি বললাম কই যাস?

- আয় আমার সাথে তোর জন্য যে ছেলেকে নিয়ে এসেছি ওকে ঐ কফিশপের সামনে রেখে এসেছি

-লাগবেনা আমার কোন ছেলে তুই শুন আবির তোর সাথে আমার কথা আছে

- সব কথা পরে হবে আগে তুই দেখ ছেলেটিকে তোর পছন্দ হয় কিনা । কপিশফের সামনে এসে দেখি বন্ধ। আমি বললাম এখানেতো কেউ নেই! আবির আমার পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধ কাঁচের দরজার দিকে তাকিয়ে বলল কেন এই আয়নায় তোর পাশে যাকে দেখা যায় তাকে তোর সাথে মানায় না?

আমি আবিরের কথা শুনে কেঁপে উঠলাম তাহলে কি আবিরও আমাকে ভালবাসে? আমার দু চোখ দিয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো আমি অভিমানে মুখ ভার করে বলি কেন আমি তো ব্ল্যাক ডায়মন্ড, নীল শাড়িতে আমাকে আরও কালো লাগে ,ফর্সা ছেলের সাথে কি আমাকে মানায়? তুই তো ফর্সা বলেই আমি মুখ ডেকে কাঁদতে লাগলাম ।

আবির আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বলে তুই তো আমার ব্ল্যাক ডায়মন্ডই , পৃথিবীর সবচেয়ে দামি হিরা । তুই আমাকে সব সময় বলতি ছেলেরা ফর্সা হলে মেয়ে মেয়ে লাগে , একটু শ্যামলা ছেলে তোর পছন্দ । তাইত তিনটি বছর আমি আমার ভালবাসার কথা তোকে বলতে পারিনি । যতো বার বলতে গেছি মনে হয়েছে তুই যদি আমাকে ফিরিয়ে দিস? তুই জানিস তোর ঐ দুই চোখে কতো মায়া । এই জন্যই তোর বাবা-মা তোর নাম রেখেছে মায়া । তুই জানিস এই তিন বছরে আমি কতো হাজারবার তোর প্রেমে পড়েছি, আমি তোর হাসির প্রেমে পড়েছি আমি তোর মায়া ভরা দুই চোখের প্রেমে পড়েছি তুই যাই করতি আমি প্রতিবার নতুন করে তোর প্রেমে পড়েছি, এইযে তুই শাড়ি পরিস আমি তোর শাড়ির প্রেমেও পড়েছি মায়া । আজ সকালে তুই যখন নীল শাড়িটা পরে এসেছিলি তোকে ঠিক পরীদের মত লাগছিল , আমার ইচ্ছে করছিল তোকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরি। আমি ভয় পেয়ে গেলাম যদি আমি উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলি তাই তোকে অমন করে বলেছি যাতে তুই চলে আসিস। কিন্তু তুই যখন যেতে যেতে চোখের পানি মুছলি সেই সময় আমি বুঝতে পারলাম তুইও আমাকে ভালবাসিস । ঠিক করলাম আজ তোকে সব বলে দিবো এসে দেখি আমার ব্ল্যাক ডায়মণ্ড অন্য কারো সাথে দেখা করতে যাচ্ছে , আর কি মেজাজ ঠিক থাকে বল?তাই অমন করে তোকে বললাম যাতে তুই ঐ ছেলেটির সাথে দেখা করতে না যাস।

আমি চোখের পানি মুছতে মুছতে বললাম এমন করে সারা জীবন আমাকে বুকের মাঝে ধরে রাখবি তো?

আবির আমাকে আরও জোরে বুকের সাথে চেপে ধরে বলল ব্ল্যাক ডায়মন্ড কি সবাই পায় ? যে পায় সেকি হারাতে চায়?

# ব্ল্যাক ডায়মন্ড #

"জান্নাতুল
Share:

story:- #সিনিয়র আপু।

(নতুন একটা গল্প দিচ্ছি আসাকরি ভালো লাগবে)
#story:- #সিনিয়র আপু।
part:- 01
writee: লাল সীমানা লাল
*
*
প্রথমেই আমার পরিচয় দিয়ে দেই, আমি মনির অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র, লেখাপড়ায় খুব ভালো না হলেও ততোটা খারপো না তবে একদিক দিয়ে আমি ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট। আমার চেয়ে বেশি শয়তানি আর কেউ করতে পারবে না। বাপ মায়ের ছোট সন্তানতো তাই আদরটাও বেশি পাই আর বাদরও হয়েছি সেই হিসেবেই। আরে এটা কি করছি আমার খারাপ দিক আমি নিজেই বলছি, আপনারা আবার বিশ্বাস কইরেন না আমি ঢপ মারলাম। এখন গল্পে আসি।
'
অনেক উত্তেজনার একটা দিন আজ আমার কাছে কারন আজ আমার ভার্সিটি লাইফের প্রথম দিন, সেই ছোটবেলা থেকেই অনেক স্বপ্ন আমার ভার্সিটিতে জামু একটা প্রেম করমু, গার্ল ফ্রেন্ডরে নিয়ে পার্কে হাত ধরে জামু, আহা,এসব কথা ভাবতেই কেমন যেনো খুশি খুশি লাগতেছে। আমার ভাবনায় শুধু ভার্সিটির সুন্দর সুন্দর ময়দা সুন্দরিরা। আমি এসব ভাবছি এমন সময় মা আমার রুমে আসলো,
'
=> এই শয়তান তুই কি করছিস এখানে?
=> কিছু নাতো আম্মু, এমনি শুয়ে আছি।
=> এতো খুশি খুশি লাগতেছে কেনো তোকে?
=> কোই আম্মু নাতো।
=> জানিতো, যেকোনো শয়তানি বুদ্ধি এখন তোর মাথায় ঘুরতেছে।
=> আম্মু তুমি এটা বলতে পারলা?? আমি তোমার অনেক ভালো ভদ্র ছেলে না?=> হ্যা জানিতো তুই আমার সেই ভদ্র ছেলে। তোর জন্যইতো প্রায় প্রায় মানুষের কথা শুনতে হয় আমাদের।
=> আমিতো কিছু করিনা ওরা ভুল ভেবে আমার নামে নালিশ করে।
=> তোকে আর বলতে হবেনা আমি সেটা ভালো করেই জানি। আর শোন,
=> জ্বি আম্মু বলো।
=> আজ প্রথম ভার্সিটিতে যাচ্ছিস, কোনো রকমের শয়তানি করবি না, সিনিয়রদের সম্মান দিবি।
=> তোমায় বলতে হবে না আম্মু,আমি অনেক ভদ্র হয়ে থাকবো।
=> একই কথা তুই কলেজ লাইফেও বলেছিস আর ,,,,,,,,,,,,,
=> আম্মু তোমার ছেলে কে তুমি এভাবে বলতে পারলা?
=> এই তুই কি আমাদের মান সম্মানের কথা একটু ভাবিস না?
=> কেনো ভাববো না আম্মু অবশ্যই ভাবি।
=> তাহলে এরকম শয়তানি কাজ করিস কেনো।
=> আচ্ছা ঠিক আছে এই বললাম আজ থেকে আর কোনো দুষ্টুমি করবো না, ভদ্র হয়ে থাকবো, এবার ঠিক আছে।
=> যদিও মুখে বলতেছি ঠিক আছে কিন্তু মন থেকে সায় দিচ্ছে না।
=> আম্মু তুমি এভাবে বলতে পারলা,
=> হয়েছে এখন বেশি কথা না বলে খেতে আয় খেয়ে ক্লাশে যা।
=> আচ্ছা তুমি যাও আমি আসতেছি।
'
আম্মু চলে গেলো। আমি বুঝতে পারি না সবাই আমার নামে বাসায় বিচার দেয় কেনো। আচ্ছা ভাই আপনারাই বলেন আমি না হয় কলেজ প্রিন্সিপালের মেয়েকে একটা লাভ লেটার আর একটু হাতটা
ধরছি এটা কি কোনো দোষ হলো? পাশের বাসার রহমত আংকেলের গাছ থেকে না হয় দুইটা গোলাপ নিয়ে গিয়ে ওনার মেয়ে রুমাকে প্রেমের প্রস্তাব করেছিলাম, এটা কি কোনো দোষের কথা আপনারাই বলুন। আমার মতো একটা ডিছেন্ট ছেলের নামে ওরা এই অপবাদ গুলা কিভাবে লাগায়, আসলে আমায় সবাই জেলাস করে এই জন্যই এরকম ছোট কাহিনি নিয়ে ওরা আমার বাসায় বিচার নিয়ে আসে। না আর এভাবে থাকা যাবে না চলেন প্রথম ভার্সিটি আজ একটু তারা তারি যাই। আমি গিয়ে রেডি হয়ে খেয়ে রহনা দিলাম ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। আজ প্রথম দিন তাই একটু ভদ্র হয়েই গেলাম। আমার চেয়ে ভালো আর ভদ্র ছেলে এই ভার্সিটিতে একটাও নেই এমন ভাব নিলাম। ভার্সিটির সামনে গিয়ে নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হচ্ছে। আমি নিজেই নিজেকে সাব্বাস দিলাম। বিসমিল্লাহ বলে ডান পা টা দিলাম কলেজের ভেতর। আহা কি ভালো লাগছে। সব কিছু পূরন হইছে এখন একটা মাইয়া মানুষ পাইলেই হয় কিন্তু ওটা এখন করা জাবে না এখন এমন ভদ্র হয়েই কয়েকদিন থাকতে হবে। আমি ভেতরে যাচ্ছি এমন সময় একটা মেয়ের ডাক শুনলাম।আমি ডানদিকে তাকিয়ে দেখি একদল মেয়ে নামক ছেলে আমায় ডাকছে। মেয়ে নামক ছলে বলতে মানুষটা মেয়ে কিন্তু আচার ব্যবহার দিয়ে মনে হচ্ছে ছেলে। আমি ভয়ে ভয়ে কাছে গেলাম।
'
=> আসসালামু আলাইকুম আপু।
=> ওয়ালাইকুম সালাম, নাম কি?
=> জ্বি আমি মনির।
=> ফাস্ট ইয়ার?
=> জ্বি আপু।
=> আচ্ছা ঠিক আছে যা, আর শোন আমরা তোর সিনিয়র, সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, আমাদের দেখলে সম্মান দিবি।
=> জ্বি আপু।( খারা কয়েকদিন যেতে দে তারপর দেখ কে কাকে সালাম দেয়, মনে মনে বললাম)
'
আমি ওখান থেকে চলে আসলাম। তবে মেয়েকে এরকম হলে কি হবে দেখতে কিন্তু একদম ঝাক্কাস হুরপরী। কিন্তু বড় আপু হয় তাই নজর দেওয়া যাবে না, না হলে আবার সিবালোভা কেমাতো রোগ ধরবে আমায়। আমি আর বেশি কিছু না ভেবে ভেতরের দিকে গেলাম। সোজা ক্লাশে গিয়ে ঢুকলাম। ওরে মামা কি সুন্দর সুন্দর ফুলটুসি বসে আছে। কোনটারে ছাইরা কোনটারে দেখবো, খুশির ঠেলায় আমারতো একদম করুন অবস্থা। না থাক আজকে আমি একদম ভদ্র ছেলে, এগুলার দিকে তাকানো আজকে আমার জন্য হারাম, তোরা থাক কয়েকটা দিন যাক তারপর তোদের হালাল করবো। কিন্তু ভার্সিটিতে আমি একা, তাই আগে ফ্রেন্ড বানাতে হবে। দেখতে পেলাম মাঝে বেঞ্চে একটা ছেলে একাই বসে আছে। যদিও এখনো ফ্রেন্ডশিপ হয়নি তবে মুখ দেখে বুঝতে পারলাম এই শালা আমার মতোই হারামি আছে, কিভাবে যেনো মেয়েদের দিকে তাকাচ্ছে। কিছু না বলে সোজা ওর পাশে বসলাম।
'
=> হাই, আমি মনির।
=> ও হাই আমি মিনহাজ।
=> তো কেমন আছো?
=> ওই আমি কি তোর গার্লফ্রেন্ড হই নাকি তোর........ যে আমায় তুমি করে বলতেছিস, আমরা ফ্রেন্ড সো ডিরেক্ট তুই।
=> বাহ! তোর সাথেই আমার জমবে।
=> ফ্রেন্ড?
=> ফ্রেন্ড মানে? বেস্ট ফ্রেন্ড? তুই আর আমি এক সুতোয় গেথে গেলাম।
'
এমন কথাতে ও আমার দিকে একটু তাকালো, ও মনে হয় বুঝতে পারছে যে ওর থেকে আমিও শয়তানিতে কম যাই না। হয়ে গেলাম বেস্ট ফ্রেন্ড। পরে আরো কয়েকজনের সাথে পরিচয় হলো। যাইহোক ভালোই একটা ফ্রেন্ড সার্কেল হলো।
'
=> এই মনির দেখ সামনের মেয়েটা কি সুন্দর।
=> আজকের দিনে এসব আমার জন্য হারাম, তাই দেখতে ইচ্ছা করলেও দেখতে পারবো না।
=> কেনো?
=> আম্মু বলেছে প্রথম দিন কলেজে যাচ্ছিস তাই একটু ভদ্র হতে তাই আজকে আমি ভদ্র ছেলে।
=> এহ! আসছে কি ভদ্র রে, শয়তানের বাপ তুই।
=> এই এটা তুই কিভাবে বুঝলি।
=> বন্দু রতনে রতন চেনে শুয়রে চেনে কচু, তাই শয়তানে শয়তানরে চেনে।
=> এই এটা কিন্তু তুই একদম ঠিক বলছিস।
=> বাদ দে মেয়ে দেখ আর স্যার আসছে ক্লাশ কর।
'
প্রথম দিনের ক্লাশতো তাই সেইভাবেই হলো। ক্লাশ শেষ করে আমি আর মিনহাজ বাইরে আসলাম।
'
=> এই মিনহাজ আজ আর ক্যাম্পাসে দেরি করবোনা, আজ তারাতারি বাসায় চলে যাবো।
=> কেনো রে প্রথম ভার্সিটি একটু মজা করবি না?
=> না, আজকে আমি ভদ্র পোলা।
=> আচ্ছা ঠিক আছে যা।
=> আচ্ছা বাই, কালকে দেখা হবে।
=> আচ্ছা ঠিক আছে।
'
আমি ওকে বিদায় দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় কলিং বাজাতেই আম্মু দরজা খুলে দিলো।
'
=> আরে আমার লক্ষি ছেলে চলে আসছে, আসো বাবা আসো।
=> হ্যা আম্মু আসছি,
=> তা আজকে কোনো বিচার আসবে না বাসায়?
=> কেনো আম্মু?
=> না তুই যেখানেই যাস সেখান থেকেই নতুন কিছু ঘটনা উৎঘাটন করিস আর আমাদের সেটা পরখ করতে হয় তাই জিজ্ঞাসা করলাম।
=> আম্মু আমি তোমার ভদ্র ছেলে না? তুমি আমার আম্মু হয়ে এভাবে বলছো?
=> ন্যাকামো বাদ দিয়ে যা ফ্রেশ হয়ে আয়।
'
না আজকাল আর একটু কান্না করেও আমার মাকে ব্লাকমেইল করতে পারি না। এখন নতুন কিছু ভাবতে হবে। আমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে খেয়ে রুমে গেলাম। রুমে শুয়ে শুয়ে শুধু ফুল্টুসিদের কথাই ভাবছি। না কাল থেকেই আমার মিশন শুরু করতে হবে। একটু বাইরে গিয়ে ঘুরে সন্ধায় বাসায় আসলাম। বাসায় এসে খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। পরেরদিন সকালে এসে আম্মুর ডাক,
'
=> এই মনির তোর ক্লাশ কয়টায়?
=> দশটায়।
=> তো ক্লাশে যাবি কখন ১১ টায়? সারে নয়টা বাজে।=> কি বলো আম্মু আগে বলবানা।
'
আমি লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে তারাতারি ফ্রেস হয়ে ভার্সিটির দিকে দিলাম দৌড়। ভার্সীটির গেটে গিয়ে ভেতরে ঢুকবো এমন সময় হিট্টিস,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
*
*
*
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,
কেমন হচ্ছে জানাবেন। ভালো লাগলে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ
Share:

Search This Blog

Labels

Recent Posts

Label