নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

বিদেশি ম্যাম


বিদেশি ম্যাম

গল্প লিখেছেন : Israt Jahan Sumaiya

ভাই আমার বিয়ে করেছে কিছুদিন হলো,,
আমাদের চাইতে একটু বড় ঘরেই ভাইর বিয়ে দিয়েছে,,
আমরা দুভাই এক বোন,।
বোনই সবার বড়, তারপর ভাই, তারপর আমি,,


আমি সবার ছোট,,আমি #সবুজ
ভাইয়ার নাম #সাইদ
আর
আপুর নাম #সারমিন,,।

কয়েক বছর আগেই আপুর বিয়ে দিয়েছে,,
আর এই কয় মাস হলো ভাইয়াকে বিয়ে দিলো,,

ভাবি আমার সেই লেবেলের ভালো,,
আপন ভাইর মতো দেখে আমায়,,
যাগগে সেসব কথা,,
বর্তমানে আসি,,

রুম থেকে বের হোতেই দেখি খাওয়ার বেস আয়োজন চলছে,,
তাই ভাবির কাছে গেলাম,,
আরো গল্প পড়ুনঃGolpo বাড়িওয়ালার_দুষ্টু_মেয়ে
ভাবি আমায় দেখে বললো,,
কি ব্যাপার,আমার ভাইটার কিছু লাগবে নাকি ,,,
আমি ঃ না,,তা কেউ আসবে নাকি, এত খাবার রান্না করছো,,
ভাবিঃহুম,,
আমিঃকে,
ভাবিঃ তোমান বেয়াইন আসবে,মানি আমার বোন,,
আমিঃকি বলো,,তোমার বোন আছে নাকি,,বিয়েতেও তো তোমার কোনো বোনকে দেখলাম না,,
ভাবিঃআমার বিয়ের সময় ও বিদেশে ছিলো,এই দু সপ্তাহ হলো বিদেশ থেকে এসেছে,,
আমিঃ বিদেশ কি করে,,
ভাবিঃস্টাডি করার জন্য গিয়েছিলো,,এখন শেষ চোলে এসেছে,,
আমিঃও,ভালো,,তা কখন আসবে,,
ভাবি ঃএইতো কিছু ক্ষন পর,,

আমিঃআচ্ছা ভাবি আমি বাহিরে গেলাম,,
ভাবি, ঃকিছু খেয়ে যাও,,
আমিঃএসে খাবো,

বাহিরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরলাম,,

না আগে আমার বেয়াইনকে দেখে আসি,,নিশ্চই পরির মতো দেখতে হবে,,

গেষ্ট রুমের বাহির থেকে উকি মেরে দেখছি রুমের ভেতরটা,,
ব্যাগ, জামা কাপর দেখা যাচ্ছে,,
বেয়াইন কই,,
তখন পিছন থেকে কে যেনো বললো,, উকি মেরে কি দেখা হচ্ছে,,
আমি ঃপিছন না দেখে বললাম, একটা পেত্নি এসেছে বাসায় সেটাকেই দেখছি,,
এবার আমি পিছন ঘুরে দেখি একটা মেয়ে দারিয়ে আছে,,মনে হয় কিছুটা রেগে আছে,,
এর আগে তো এই মেয়ে কে দেখিনি,,
বায়দা ওয়ে,, তুমি কে,, এর আগে তো কখনো আমাদের বাসায় দেখিনি,,
মেয়েটিঃএতক্ষন যাকে দেখার জন্য রুমের বাহির থেকে উকিঝুকি মেরেছেন, আমি সেই পেত্নি,,
আমিঃতুতুমি ভাবির বোন ,,সসরি,,
নিলাঃআমি পেত্নি,,
বেয়াইনঃ সসরি,, বুঝতে পারিনি,,
বেয়াইনঃ ওকি দিয়ে দেখার বেস অভিজ্ঞতা আছে দেখি আপনার,,,(আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,)

তখন ভাবি আসলো,,
ভাবিঃকি কথা হচ্ছে দুজনের,,আচ্ছা পরিচয় করিয়ে দেই,,জনি এহলো আমার বোন নিলা,,আর নিলা এহলো আমার একমাএ আদরের দেবর সবুজ(নাক টেনে বললো)
নিলাঃহইছে আর পরিচয় করাতে হবে না,, যা চিনার চিনে নিয়েছি
ভাবিঃতাহলে তো ভালোই হলো,,আচ্ছা দুজন আসো নাস্তা দেবো,,
নিলাঃ রুমে দিয়ে যাও,,রুমে খাবো,,
ভাবিঃ তাহলে সবুজ তুমি আসো,,
আমিঃএখন নাস্তা করবো না,,এক সাথে লান্স করবো,,
ভাবিঃআচ্ছা,,

এই কথা বলে ভাবি চোলে গেলো,,,আমিও আমার রুমে চোলে আসলাম,,

দুপুরে সবাই একসাথে লান্স করতে বসেছি,,
আমি বসেছি একদম নিলার সোজাসুজি,,
খাবার খাচ্ছি,,হঠাৎ নিলার পায়ে সাথে আমার পা লাগলো,,
আমি নিলার দিকে তাকালাম,ওমা সেকি রাগ,
আরে ভাই রাগেরর কি হলো আমি তো ইচ্ছে করে পা লাগাইনি,,
রাগি ভাবে যখন তাকালি তখন এবার ইচ্ছা করে লাগাবো,,,
নিলা আমার দিক থেকে চোখ সরিয়ে আবার খাবার খেতে লাগলো,,
একটু পর আমার পা দিয়ে ওর পায়ে আলতো করে ছুয়ে দিলাম,,
নিলা কেমন সিহরিত হোয়ে উঠল,,তারপর খাবার রেখে আবার আমার দিকে রাগী চোখে তাকালো,,
আমি ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে ওর পা আবার ছুতে লাগলাম,,
নিলা মুচকি একটা হাসি দিয়েই পায়ে জোরে একটা পারা দিলো,,
আমি উ করে উঠলাম,
ভাবিঃ কি হোয়েছে সবুজ,,
আমিঃকিছুনা ভাবি,,
ভাবি ঃআচ্ছা খাও,,

খাবার খেয়ে রুমে চোলে আসলাম,,
কি বজ্জাত মেয়েরে বাবা,,পুরোই ধানি লংকা,,

বিকালে ছাদে গেলাম,
গিয়ে দেখি নিলা ছাদের এক কর্নার দরে দারিয়ে আছে,,
তাই নিলার পাসে গেলাম,,
আমিঃপায়ে কেউ এভাবে লাথি মারে,
নিলাঃতাহলে অসভ্যের মতো পা ছুয়েছেন কেনো,,
আমি ঃতুমি প্রথম ওমন ভাবে তাকালে কেনো,, তাইতো পা ছুয়েছি,,
আচ্ছা যাক সেসব কথা,, তুমি এত সুন্দর কেনো,,।
নিলাঃপ্লোটিং করছেন আমারা সাথে,,
আমিঃ না সত্যি তুমি খুব সুন্দর,,
নিলাঃআমি সুন্দর তা আমি জানি,, আপনার বলতে হবে না,,
আমিঃতুমি ছোট থেকে বিদেশে পড়ালেখা করেছো,
নিলাঃহুম,, তো,,
আমিঃবিদেশি মেমদের মতো ছোট ছোট জামা কাপর পড়তে, এগুলো কি পড়ছো,,
নিলাঃ কি,!
আমিঃমঝা করলাম,,

নিলাঃহুম।
নিলা মুখটাকে বাকিয়ে সেখান থেকে চোলে গেলো,,
আমার এত বালা লাগতাছে ক্যারে,,,
তারপরের দিন রুমে বসে আছি,, তখন ভাবি সহ নিলা রুমে ঢুকলো,,

ভাবিঃকি ব্যাপার আমার ভাইটার কোনো খোজ খবর নেই, ব্যাপার কি,,
আমিঃভাবি কি যে বলো না,,কিছু বলবে,,
ভাবিঃনিলাকে নিয়ে একটু বাহির থেকে গুরে আয়,,
আমিঃআমি পারবো না,,
ভাবিঃজা না ভাই,,
আমিঃযেতে পারি এক শর্তে,,
ভাবিঃ কি সর্ত?
আমিঃ তোমরা দু বোন আমার দু গালে দুইটা পাপ্পি দিতে হবে,,

পাস থেকে নিলা রেগে গিয়ে বললো,,কিইই,
আমি ভয়ে বললাম, ভাবি ওর লাগবে না,, তুমি দিলেই হবে,,
ভাবি ঃওরে আমার দুষ্ট দেবর রে আয় কাছে আয়,,,
আমি কাছে যেতেই ভাবি গালে একটা চুমু দিলো,, আমি ও ভাবি গালে একটা চুমু দিয়ে নিলাকে বললাম চলো,,
পিছন থেকে ভাবি বললো,,দুষ্ট একটা,, তারাতারি চলে আসিস,,
আমিঃওকে,,

নিলাকে নিয়ে একটা পার্কে গেলাম,
সেখানে অনেক কাপল বসা ছিলো
কেউ কারো কোলে মাথা দিয়ে সুয়ে আছে,,
কেউ আবার চুমু খাচ্ছে,,
নিলা এসব দেখে বললো,,
নিলাঃ আচ্ছা ওরা ওখানে কি করছে,,
আমিঃআকাম করছে,,
নিলাঃ কি আকাম,,
আমিঃ ভালোবাসা করছে,,
নিলাঃ এভাবে ভালোবাসা করে,,
আমিঃহুম,,আচ্ছা চলো,,ওখানে গিয়ে বসি,,

আমরা গিয়ে একটা ব্যান্সে বসলাম,,
আমিঃআচ্ছা কি খাবে,,

নিলাঃআমি বাহিরের কিছু খাই না,,
আমি কাছ থেকে কিছু বাদাম নিলাম,,
কয়টার খোশা ছারিয়ে ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম,
খাও,
নিলাঃআমি বাহিরের এসব খাই না বললাম তো,
আমি ঃ খেয়েই দেখো না,,
নিলাঃ খাবো না,
আমি জোর করে ওকে খাইয়ে দিলাম

আমিঃএবার খাও,,,
নিলা খেয়ে বেস মঝা পেলো,,
ওকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে,

এর পর আমি আর সাধলাম না,,
একা একাই খেতে লাগলাম,
নিলা আমার আর বাদামের দিকে আর চোখে তাকাচ্ছে বারবার,,
আমি খেয়েই যাচ্ছি,,
কিছুক্ষন পর নিলা বললো,,আপনি আচ্ছা বজ্জাত তো,,
আমিঃকি করলাম আবার।
নিলাঃএকা একাই খেয়ে যাচ্ছেন ,,,
আমিঃতুমি তো খাবে না, তাই সাধলাম না আর,,
নিলাঃনা বলেছি বলেকি আর সাধা যাবে না,,দিন আমি খাবো,,
আমিঃসামনেই তো আছে, নিয়ে খাও,,,
নিলাঃআমি খোসা ছারাতে পারি না,, খোসা ছারিয়ে দিন,,
আমিঃওরে বিদেশি মেম সাহেব রে,,আচ্ছা দিচ্ছি,,

আমি খোশা ছারিয়ে দিচ্ছি,, ও খাচ্চে,, কত সুন্দর করে খাচ্ছে,,,কত অপরুপ লাগছে মেয়েটাকে,বিদেশি মেম, আমাকেতো পাগল করে দিলে,,
ওর দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবনায় হারিয়ে গেলাম, কল্পনায় দেখছি,, ও আর আমি পুতুলদের বাসার ছাদে বেলে ড্যান্স করছি,,,
হঠাৎ নিলার কথায় হুস আসলো,,
নিলাঃ কি হলো, ওমন করে কি দেখছেন আমাকে,,, বাদাম দিন,,
আমিঃও কিছু না,,বাদাম নেও,,

বিকালটা ওকে নিয়ে গুরে সন্ধায় বাসায় আসলাম,,

ভাবিঃকি ঘুরতে কেমন লাগলো দুজনের,,
আমি ঃতোমার বোন সাথে থাকলে সারা জীবনই সুন্দর লাগবে,,,
ভাবিঃদুষ্ট একটা,, যা ফ্রেস হোয়ে আয়,,নাস্তা দেবো,,
আমিঃ ওকে,,,

আমি ফ্রেস হোয়ে আসলাম,,

রাতে ডিনার করে সুয়ে সুয়ে ভাবতে লাগলাম,,
যদি এই বিদেশি ম্যাম আমার হতো,, দিলটা খুশ হোয়ে যেতো,,

সকালে ঘুম থেকে উঠে সুনি নিলা এখনো ঘুম থেকে উঠেনি,,
তাই সোজা চোলে গেলাম নিলার রুমে,
ওমা একি অবস্থা,, আমার এত লজ্জা লাগে ক্যারে,,

নিলাকে জাগাতে লাগলাম,,

নিলা হঠাৎ আমার হাতটা জড়িয়ে দরলো,
হায় হায় কি করবো এখন,,
এরপর নিলা কোলবালিস মনে করে আমাকে টেনে জরিয়ে দরলো,,
বাহ খারাফ না,,ঘুমের ঘোরে হলেও বিদেশি ম্যাম কে জড়িয়ে দরতে পারবো,,,

নিলা ঘুমের ঘোরে আমাকে কোলবালিশ মনে করে আস্টেপিষ্টে জড়িয়ে দরলো,,
আমি বাদ থাকবো কেনো, আমিও জড়িয়ে দরি,,
মেয়েদের শরিল এত নরম কেনো,, আমারতো ঘুমই চোলে আসছে,,

কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছি, বুঝতেই পারি নি,,
আহ কি ঘুম রে,,

কিছুক্ষন পর হঠাৎ ব্যাথা পেয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলাম,
তাকিয়ে দেখি আমি নিচে পরে আছি,,
কি ব্যাপার, আমি তো নিলাকে জড়িয়ে ছিলাম,, তাহলে নিচে কি করি,,
উপরে তাকিয়ে দেখি নিলা খাটের উপর বসে রাগে ফুশছে,, ,
আমিঃ কি ব্যাপার,, এই ভাবে তাকিয়ে আছো কেনো,,

নিলাঃ আপনি আমাকে এইভাবে জড়িয়ে দরেছিলেন কেনো,,
আমিঃতোমাকে ডাকতে এসেছিলাম,,আর তখনই তুমি আমাকে টেনে জড়িয়ে দরলে,,তাইতো আমিও,,
নিলাঃলুচ্ছা ব্যাটা কোনহানকার,,,,তাই বলে আমার বুকের মাঝে ঘুমিয়ে যেতে হবে,,
আমিঃতোমার শরিল এত নরম যে আমার ঘুম চোলে এসেছিলো,,
নিলাঃ কি,,,
আমিঃ কই কি,, কিছু না,,,
নিলাঃতবেরে,
এই বলে নিলা আমাকে দৌরাতে লাগলো,,
সারা ঘর দৌরাচ্ছে,,
অবশেষে ভাবির পিছন গিয়ে লুকালাম,,,

নিলাঃআপু তুমি সরো,, আজ ওনার একদিন কি, আমার একদিন,,
ভাবিঃসকাল সকাল তোরা কি শুরু করলি,,,
নিলাঃতুমি সরোতো আপু ওনি সকাল সকাল কি করছে জানো,,
ভাবিঃ কি করেছে,,
নিলাঃওনি আমায়,,, আমি বলতে পারবো না,,তুমি সরোতো,
এই বলে যেই দরতে যাবে, তখন আবার দৌরে পালালাম,,

এ ঘর থেকে ও ঘর,,
অবশেষে আমার রুমে চোলে গেলাম,,
আয়হায় এবার কোথায় যাবো,,
নিলা দৌরে এসে ভার সামলাতে না পেরে আমাকে নিয়ে খাটে পরলো,,
ভাগ্যের কি খেলা,, ও আমার বুকে আর ওর ঠোটদুটো আমার আমার ঠোটের উপর,,

সুযোগ কি আর হাতছারা করা যায়,
ওর হাত দুটো চেপে দরে ঠোটে চুমুক দিয়ে দরলাম,,
নিলা ছোটার জন্য নরাচরা করছে,,
চুমুক দিয়ে দরতেই নিশ্বতব্দ হোয়ে গেছে,,

কিছুক্ষন পর ছেরে দিতেই নিলা আমাকে লাথি থাপ্পর যা পারলো দিলো,,
নিলাঃ লুচ্চা ব্যাটা একটা,
নিলা রুম থেকে দৌরে পালালো,,

কি ত্যাজ রে বাবা হাতে,,
সব জালিয়ে দিলো,,,……..

আমরা নাস্তা করতে বসেছি সবাই,
কেনো জানি ওকে চুমু দেওয়ার পর থেকে পেটের খুদা চোলে গেছে,
তাই খাবার নারা চারা করছি,

ভাবিঃ কি ব্যাপার সবুজ ,, খাচ্ছো না কেনো,,
আমিঃখুদা নেই,,
ভাবিঃকেনো,,
আমিঃসকালে যা খেয়েছি, তাতে আর খুদা থাকবে কি করে,,,

নিলা আমার দিকে রাগী চোখে তাকালো,,

ভাবিঃ কি এমন খেয়েছো যে, খুদা নেই,,
আমিঃবলা যাবে না,, অনেক দামি জিনিস খেয়েছি,,

নিলা আরো রেগে গেলো,,

ভাবিঃআমার ভাইটা কি এমন খেয়েছো যে বলা যাবে না,,,
আমিঃবললাম তো বলা যাবে না,,
ভাবিঃআমার লক্ষি দেবর টা আমায় বলো না,,শুনি,,
আমিঃআচ্ছা শোনো তাহলে,,চুপি চুপি বলি কানটা আগাও,,
আমি যেই ভাবির কানে বলতে যাবো ঠিক তখনই নিলা আমার পায়ে জোরে একটা পারা দিলো,,
আমিঃউ, ভাবি গো,,
ভাবির কানের কাছে চিতকারটা দমিলাম,,
ভাবিঃওরে দুষ্ট এ জন্য কান আগাতে বললি,,
আমিঃ না ভাবি,,
ভাবিঃদুষ্ট মারবো একটা,চুপচাপ খা,,,আমার কানটা গেলো,,

নিলা রেগে রুমে চোলে গেলো,,
ভাবিঃকিরে নিলা,,না খেয়ে চোলে যাচ্ছিস কেনো,,তোর আবার কি হলো,,

নিলা তার রুমে গিয়ে মনে মনে আমাকে ইচ্ছে মতো গালি দিতে লাগলো,,
আমি আড্ডা দিতে বাহিরে চোলে গেলাম,,

বন্ধু সাগর কে কল দিলাম,,
হ্যা তুই কই,,
সাগরঃ মোরের মাথায়,,
আমিঃআচ্ছা থাক, আমি আসছি,,,
সাগরঃআমি আছি তুই আয়,,
আমিঃরোমান আছে,
সাগরঃ হুম সবাই আছে তুই আয়,,
আমিঃআচ্ছা ওয়েট কর আসতেছি,,

ওদের সাথে গিয়ে বেস কিছুক্ষন আড্ডা দিলাম,,

ফেরার পথে ফুচকার দোকান সামনে পরলো,, তখন ই নিলার কথা মনে পরেগেলো,,,
ভাবলাম পাগলিটার জন্য দু প্লেট নিয়ে যাই,,
যেই ভাবা সেই কাজ, নিলার জন্য ফুচকা নিয়ে গেলাম,

ওর রুমে ঢুকে দেখি নিলা সুয়ে সুয়ে বই পরছে,,,
আমিঃ কি করো,,
নিলা কিছুটা রুক্ষ্য ভাষায় বললো,,আপনি দেখেন না কি করি,,
আমি ঃআচ্ছা উঠো,,, দেখো তোমার জন্য কি এনেছি,,

নিলাঃ এখন উঠতে পারবো না,, আপনি যানতো,,

আমি নিলার হাত থেকে বইটা সরিয়ে ওকে টেনে বসালাম,,
ওর দিকে ফুচকার পোটলাটা বারিয়ে দিয়ে বললাম, তোমার জন্য ফুচকা এনেছি,,স্পেসাল ফুচকা,,
নিলা আমার হাত থেকে ফুচকার পোটলাটা নিয়ে আমার মুখে মেরে বললো,,আমি রাস্তার এসব খাই না,, কয়বার বলবো,,যত সব আজাইরা,,

আমার কিছুটা রাগ উঠে গেলো,, তাই পোটলা থেক এক পিজ নিয়ে নিলাকে জোর করে খাইয়ে দিয়ে পোটলাটা নিয়ে চোলে আসলাম,,

আমিঃভাবি, ভাবি,,কোথায় তুমি,,
ভাবিঃকি হোয়েছে,,
আমিঃএদিকে আসোতো,,
ভাবিঃকি বলবা তারাতারি বলো,, রান্না করছি তো,,
আমি ঃ হা করো,
ভাবিঃ কেনো,,
আমিঃআহা করো তো,,
ভাবিঃ আচ্ছা করছি,
আমি একপিজ ফু্চকা ভাবির মুখে পুরে দিলাম,,তারপর ফুচকার পোটলাটা ভাবির হাতে দিলাম,,
ভাবিঃ ওয়াও ফুচকা
আমিঃহুম,,
ভাবি ঃআমার দেবরটা আমায় এত ভালোবাসে,,
আমিঃহুম,,এবার আমাকে খাইয়ে দেও,,
ভাবিঃ আচ্ছা হা করো,,

ভাবি আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে,, আমি ভাবি কে দিচ্ছি,,
ভাবিঃওফ কি মঝা,,
আমিঃস্পেসাল ভাবে বানিয়ে এনেছি,

নিলা একপিজ খেয়ে মনে হয় মঝা পেয়েছে,,তাই বারবার রুম থেকে উকি দিয়ে আমাদের দেখছে,,আর আপছোছ করছে কেনো ফিরয়ে দিলো,,

আমিঃ ভাবি,
ভাবিঃহুম,
আমিঃতোমার বোন কে নিয়ে সাধো,, দেখো খাবে কি না,,
ভাবিঃআচ্ছা,

তারপর আমি আমার রুমে চোলে আসলাম,,
ভাবি ফুচকা নিয়ে নিলার রুমে গেলো,

আমি ফুচকা নিয়ে যেতে পারতাম,,
আমি আবার গেলে হয়তো ইগোর কারনে আমার কাছ থেকে খেতো না,

ভাবি আমার কাছে এসে বললো
ভাবিঃ সবুজ, নিলা ফুচকা খেয়ে বেস তারিফ করলো ফুচকার,,

আমিঃতাই নাকি,,
ভাবিঃহুম,, আরেকদিন এনো তো, তোমার এই এস্পেসাল ফুচকা,,,
আমিঃআচ্ছা আনবো নে,,,

দুপুরে লান্স করার সময় ভাবলাম পা দিয়ে একটু আলতো ছুয়ে দেই,,

পা ছুয়ে যাচ্ছি পা দিয়ে,,
কিন্তু নিলার কোনো পরিবর্তন দেখছি না,
ব্যাপার কি,, আরেকটু বেসি পা ছুয়ে দেখি,
এবারো কোনো পরিবর্তন দেখলাম না,,
ভাবির দিকে তাকিয়ে দেখি আমার দিকে তাকিয়ে আছে,
একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,ভুল করে কার পায়ে পা ছোয়াচ্ছো,,,
আমিঃসরি ভাবি,,
ভাবিঃখাওয়ার সময় দুষ্টমি না করলে হয় না,,চুপচাপ খা,,দুষ্ট একটা,,
নিলা মুচকি মুচকি হাসছে,,,
বিকালে দেখি নিলা ছাদের দোলনায় বসে আছে,,
আমি গিয়ে সোজা ওর পাসে বসে পরলাম,,
নিলা দোলনা থেকে উঠে গিয়ে আমার দিকে করা ভাবে তাকিয়ে বললো,,, সমস্যা কি আপনার,,এভাবে কাছে এসে বসলেন কেনো,,,
আমিঃআরে বেয়াইন রেগে যাচ্ছো কেনো,,,
নিলা ঃআমি এসব পছন্দ করি না,,,
আমিঃকিছু কিছু জিনিস পছন্দ না করলেও অন্যের পছন্দের জন্য করতে হয়,,
নিলাঃআপনি কি আমার বি এফ লাগেন নাকি যে আপনার পছন্দের দাম দেবো,,
আমিঃহোলে ক্ষতি আছে নাকি,,
নিলাঃযত সব আজাইরা লোক,,,
এই বলে নিলা চোলে যেতে লাগলো,,,
আমিঃ এই নিলা, সোনো কথা আছে,,,,
নিলা আমার কথা না শুনে চোলে গেলো,,

রাতে বাহির থেকে আড্ডা দিয়ে বাসায় আসলাম,,
ফ্রেস হোয়ে খাটে হ্যালান দিয়ে একটু রেষ্ট নিচ্ছি,,
তখন নিলার কথা মনে পরলো,,
ওর কথা মনে হোতেই আনমনে হেসে দিলাম,,
এই দুদিনই এমন হচ্ছে,,
ভালোবেসে ফেললাম নাকি ওকে,,,
হয়তো,,

নিলাকে দেখার জন্য মন এমন উসখুস করছে কেনো,,
একবার গিয়ে দেখে আসি আমার বিদেশি ম্যাম কি করে,,

ওর রুমে চোলে গেলাম,,
কাজ নেই সারা দিন শুধু বই পড়ে,,
ওর সামনে বসলাম,,
আমিঃ কি করো,,
নিলাঃদেখতেই তো পারছেন,,
আমিঃও,,আমাকেও একটা বই দেও পড়বো,,
নিলা তার পাস থেকে একটা বই বের করে দিলো,,
আমি বইটা মেলে রেখে ওর দিকে পলক হিন ভাবে তাকিয়ে থাকলাম,,
আসলেই মেয়েটা অপরুপা,, তাকিয়ে থাকতেই মন চায়,,
নিলা হঠাৎ ই আমার দিকে তাকালো,,
আমি আবার চোখ বইতে দিলাম,,
দেখে ফেললো নাকি,,
না আবার বই পড়ছে,,

আমি আবার নিলার দিকে তাকিয়ে থাকলাম,,
নিলা আবার তাকালো,,
এইরে এবার দেখে ফেলেছে,,
আমি বইর দিকে তাকিয়ে আছি,,
নিলা আবার মনে হয় বই পড়ছে,,
এবার তাকানো যাক,,,
মাথা উপরে উঠাতেই দেখি নিলা আমার দিকে ভ্রুকুচকে তাকিয়ে আছে,,,
তারপর আমার বইটা হাত দিয়ে সোজা করে দিলো,,

মানে আমার বই এতক্ষন উলটা ছিলো,,
হায়হায় মান সমসম্মান গেলো সব,,বই উলটা ছিলো খেয়াল ই করিনি,

নিলা বইটা ঠিক করে আমার দিকে একই ভাবে ভ্রুকুচকে তাকিয়ে আছে,,
হয়তো জানার চেষ্টা করছে,আমার আসল উদ্দেশ্যটা কি,,
বই পড়া যে আমার উদ্দেশ্য না, সেটা এতক্ষনে বুঝে গেছে,,

আমিঃ সরি বলে একটা বোকা বোকা হাসি দিলাম,,
নিলা এবার চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,
কিছু বলার আগে কেটে পড়তে হবে,,
বইটা পাসে রেখে তরিগরি করে চোলে আসলাম,,,

ওর সবকিছুই আমার ভালোলাগে,, কেনো তা জানি না,,

ওর কথা ভাবলেই মুখে আনমনে হেসে উঠি,,
প্রেমে পরলেই বুঝি এমনি হয়,,

আমিযে নিলার প্রেমে পরেছি ভাবি কিছুটা অনুমান করতে পেরেছে,,

যাই হোক সেদিন বিকালে দেখলাম নিলা সাদে একা মন খারাফ করে বসে আছে,, তাই আমি গিয়ে ওর গা গেসে বসলাম,,
নিলা চুপ করে আমার পাস থেকে উঠে গেলো,,
চোলে যাবে তখন,,
আমিঃপ্রিয়তমা কোথায় যাচ্ছো,,
এইবলে
ওর হাত দরে আবার আমার পাসে বসালাম,,
নিলা এক জটকায় আমার হাত ছারিয়ে
ঠাশ করে একটা চর দিয়ে উঠে দারালো,,
আমি কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
তারপর বলতে লাগলো,,
নিলাঃসমস্যা কি আপনার, আমার হাত দরার সাহস হয় কি করে আপনারা,,,
আমার পাসে বসার মতো জোগ্যতা আছে আপনার,,
আমিঃ???
নিলাঃকি হলো চুপ করে আছেন কেনো,, বিদেশ থেকে পড়ালেখা করে আসছি,,হেংলা মেয়ে পেয়েছেন আমাকে,,যখন ইচ্ছে হাত দরবেন যখন ইচ্ছে ফাজলামো করবেন,,একটা কথা শুনে রাখুন,,এর পর ফাজলামো করলে ভেবে চিন্তে করবেন,, না হয় এর ফল ভালো হবে না,,এ কথা বলেই নিলা কাদতে কাদতে চোলে গেলো,,

আমি ভাবতেও পারিনি নিলা এমন কিছু বলবে,,,
ওর মন ভালো করতে গিয়ে আজ আমার বেহাল দশা,,।
বুঝলাম না,, কান্না করার কথা আমার, সে যায়গায় নিলা কেনো কান্না করলো,,

মুহুর্তেই আমার হাসিখুশি মনটা বেদনায় ভরে গেলো,,,

বেস কিছুক্ষন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলাম,
তারপর নিচে চোলে গেলাম,,

রুমে ঢুকতে যাবো ঠিক তখনই ভাবি আমার সামনে এসে দারালো,,
ভাবির দিকে তাকাতেই দেখলাম বিরক্তির ছাপ মুখে,,
ভাবিঃ সবুজ, কাজ কিন্তু মোটেও ঠিক করিস নি,,
তোর কাছে এসব আশা করিনি আমি,,
আমার ভাবতেও ঘিন্না হয় তুই,
ছি,,
এই বলে ভাবি আমার সামনে থেকে চোলেগেল,,
আমি হাসবো না কাদবো নিজেই ভেবে পাচ্ছি না,,, ভাবি এসব বলে গেলো,,

নিলা, ভাবির কাছে আমার নামে বিচার দিয়েছে,,
এই সামান্য কারনে,,

রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম,,

বেস কান্না পাচ্ছে আমার,,
কিছুক্ষন কাদলাম,,

আসলে আমি সহজে কোনো কথা মনে নেই না,,
যারা মন থেকে কিছু বলে তাদের দারে কাছেও যাই না,,,
কাছের মানুষ দের কাছ থেকে সামান্য বকাও অন্তরে গিয়ে আঘাত করে,,

রাতে ভাবি কয়েক বার খাবার খেতে ডাকলো,,
না বলে দিয়েছি,,
কেনো জানি খেতে ইচ্ছে করছে না,,
বেস কিছুক্ষন পর ভাবি দরজা ধাক্কাচ্ছে,,
ভাবিঃ এই সবুজ দরজা খোল,,
আমিঃকেনো,
ভাবি ঃতোকে দরজা খোলতে বলছি,,

আমি উঠে গিয়ে দরজা খোলতেই দেখি……….
ভাবি ঃতোকে দরজা খোলতে বলছি,,

আমি উঠে গিয়ে দরজা খোলতেই দেখি ভাবি খাবার হাতে দারিয়ে আছে ,,
বিছানায় নিয়ে গিয়ে বসালো আমাকে,,ভাবি ও বসলো পাসে

আমিঃবললাম না খাবো না,, কেনো এনেছো,,
ভাবিঃআমার উপর রেগে আছিস,,
আমিঃরাগবো কেনো,,,তুমি হলে মায়ের মতো,, শাশন করার অধিকার তোমার আছে,,
ভাবিঃআমি যদি মায়ের মতো ই হই তাহলে ভাত খেয়ে নে,

ভাবিঃহা কর,,,

ভাবি আমাকে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে,,
ভাবি আবার বলতে লাগলো,,কেনো নিলার পিছন লাগিস,, নিলা বিদেশ থেকে স্টাডি কম্পিলিট করে এসেছে,,ওর ভাব মুর্তি আলাদা,কেনো বুঝিস না,,
তোকে আমার আপন ভাইর মতো মনে করি,, এই ফেমিলিতে আসার পর থেকে তোকে কখনো তোর মায়ের অভাব বুঝতে দেইনি,,,
তুই যেভাবে খুশি, তোকে সেভাবে রাখার চেষ্টা করেছি,,

ভাবির কথা শুনে কেনো জানি চোখ দিয়ে পানি বের হোয়ে গেলো,,
ভাবি ঃএই পাগল কাদিস কেনো,,
ভাবি আমার চোখের পানি মুছে দিলো,,,
ভাবি ঃশোন ভাই আমার, এমন কিছু করিস না যাতে আমার সম্মান যায়, তোর ভাইর সম্মান যায়,নিলা এসে ছে অল্প কিছুদিনের জন্য, ওকে হাসি মুখে বিদায় দিতে পারলেই হলো,,
আমিঃতোমি নিশ্চিত থাকতে পারো,, তোমাদের সম্মানে আচ পরতে দেবো না,,,
ভাবি ঃএইতো আমার লক্ষি ভাই,, এবার ঘুমা,,
এই বলে ভাবি আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে লাইট বন্ধ করে চোলে গেলো,,

আমি ঘুমের দেশে চোলে গেলাম,,,

সকালে নাস্তা করতে বসেছি,, নিলা নিচের দিকে তাকিয়ে খাচ্ছে,,
আমিও খাচ্ছি,, কেউ কাউর দিকে তাকাচ্ছি না,,,
এর ভিতর ভাবি কিচেনে গেলো,,
আমি নিলাকে বলে উঠলাম সরি,,
নিলা মাথা উঠিয়ে আমার দিকে তাকালো,,
বুঝার চেষ্টা করছে,,আমি বলেছি কি না,,।
আমিঃআসলে কালকের জন্য সরি,,
নিলা কিছুটা নিচু স্বরে বললো,,আমিও সরি,, কাল মন খারাফ ছিলো, তাই কি থেকে কি বলে ফেলেছি,,,
আমিঃইট,স ওকে,,
তার পর নিচের দিকে তাকিয়ে খেতে লাগলাম,,

বাসায় আর ভালো লাগছে না, তাই বাহিরে বন্ধুদের কাছে চোলে গেলাম আড্ডা দিতে,,,
বেস কিছু ক্ষন আড্ডা দিয়ে, বাসায় চোলে আসলাম,,
আসার সময় ভাবির জন্য তেতুলের চাটনি নিয়ে আসলাম,,,

আমিঃভাবি তোমার জন্য,,
চাটনি গুলো এগিয়ে দিলাম,,
ভাবিঃখুব ভালো করেছিস এনে,,
ফ্রেস হোয়ে আয় খাবি,,,

দুপুরে নিচের দিকে তাকিয়ে খেয়ে চোলে আমলাম,,
রাত হোয়ে গেলো,,
নিলার সাথে সারা দিন আর কোনো কথা হয় নি,,,
দেখিনি,,
দেখবো কিভাবে,, বাসায় আসলে থাকিতো রুমের ভিতর,, প্রোয়োজন ছারা বের হই না,,
পরের দিন বিকালে ছাদে গিয়ে দেখি আজো নিলা দোলনায় বই হাতে বোসে আছে,,

একবার ভাবলাম চোলে যাই,আবার ভাবলাম নাহ,ওর মতো থাকুক, আমি আমার মতো,,
তাই ওর বিপরীদ পাসে ছাদের কিনারে চোলে গেলাম,,
নিলা বই থেকে মুখ উঠিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো,,
বেস কিছুক্ষন ছাদে থাকলাম,,
একবারো তাকাই নি নিলার দিকে,,,

রাতে খেতে বসেছি,, তখন হঠাৎ নিলার পায়ের সাথে পা লাগলো,,
ভাবলাম,, অনইচ্ছাকৃত হয়তো পা লেগেছে,,
কিছুক্ষন পর আবার আমার পা ছুয়ে দিলো নিলা,,,
আমি ওর দিকে তাকিয়ে বুজার চেষ্টা করছি,, অনইচ্ছাকৃত লেগে গেলো নাকি,,
না নিলার ভিতর কোনো পরিবর্তন দেখছি না,,

এবার আমি আমার পা পিছনে নিয়ে আসলাম,,

হঠাৎ ভাইয়া পাস থেকে বলে উঠলো,, কিব্যাপর নিলা,, পা দিয়ে আমার পা খোচাচ্ছো কেনো,,
নিলা কিছুটা লজ্জা পেয়ে ভাইয়াকে বললো,,সরি ভাইয়া,,

আমার হাসি পেলো,,
চুপচাপ খাচ্ছি,,।
ভাইয়া বলে উঠলো,, তা সবুজ ,
পড়ালেখা শেষ করলি কবে,,এখনতো আমার সাথে গিয়ে আমাদের কম্পানিতে জয়েন করতে পারিস,,
আমিঃকরবো,,
ভাইয়াঃকবে,,
আমিঃআর কিছুদিন পর,,
ভাইয়া ঃআচ্ছা ওকে,,

আমি রুমে চোলে আসলাম,,

আজ সকাল সকাল ছাদে গেলাম,কতদিন সকালের রোদ্র গায়ে মাখা হয় না,,

যতো মোর জালা,, একটু দোলনাতে গিয়ে বসবো, তাও নিলা সেখানে বসা,,
এই মেয়ে এত সকাল সকাল তো উঠে না,,

ওর থেকে দুরে ছাদের অন্যপাসে চোলে গেলাম,,।

কিছুক্ষন পর আমার পাসে কাউকে অনুভব করলাম,,
পাসে তাকিয়ে দেখি নিলা,

চুপচাপ দারিয়ে রইলাম,,কোনো কথা বললাম না,
তখন নিলাই বললো,,কি করছেন,,
আমিঃকিছু না,,
নিলাঃও,,,

আমি আর না দারিয়ে সেখান থেকে চোলে আসলাম,,
হয়তো আরো কিছু বলতো,,

দুদিন পর,, বিকালে আদসোয়া
হোয়ে খাটে বসে আছি,
তখন রুমে নিলা সহ ভাবি আসলো,,
আমি ঃকিছু বলবে ভাবি,,
ভাবিঃএকটু কাজ করে দেনা,,
আমি ঃ কি কাজ ভাবি,,
ভাবিঃ নিলাকে নিয়ে একটু মার্কেটে যা না,, ও কি কি কিনবে,,
আমিঃভাবি আমার এখন ভালো লাগছে না,,তুমি দারোয়ান চাচা কে বলো,,, সাথে যেতে,,,
নিলা কিছুটা রেগে বললো,,হোয়াট,, আমি দারোয়ান চাচার সাথে যাবো মার্কেট করতে,,, আমি যাবো না,,আমার লাগবে না কিছু কেনা,,,
এই বলে নিলা আমার রুম থেকে বের হোয়ে তার রুমে চোলে গেলো,,
ভাবি ঃ লক্ষি ভাই আমার, যা না,, ওকে একা ছারতে পারবো না ওর কিছু হোয়ে গেলে আমি বাবার কাছে কি জবাব দেবো,,
বড় মুখ করে এনেছি ওকে,,
জা না ভাই আমার,,

আমিঃওানাকে রেডি হোতে বলো,,
ভাবিঃতুই রেডি হোয়ে আয়,,আমি ওকে বলছি,,

আমি রেডি হোয়ে রুম থেকে বাহিরে আসলাম,, ড্রইং রুমে এসে দেখি নিলা ছোপায় বসে আছে,,
কত যে মায়াবি লাগছে মেয়েটাকে বলে বুঝাতে পারবো না,,

না আমার তাকানো যাবে না,,,

আমি ওর কাছে যেতেই নিলা দারিয়ে গেলো,,
আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে,,
আমিঃচুলুন,

বাহিরে রিক্সার জন্য ওয়েট করছি,,, নিলাকে রিক্সায় উঠিয়ে দিলাম,
রিক্সাওয়ালা মামা কে মার্কেটের ঠিকানা বলেদিছি,,
আমি ঃমামা এবার যান আপনি,,
নিলাঃএই দারান দারান,,
আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো,আপনি যাবেন না,,
নিলা কিছুটা সরে গিয়ে বললো,, উঠুন

আমি একটা মুচকি হাসি দিলাম,,
নিলা ঃ কি হলো উঠুন,,উঠতে না পারলে আমার হাত দরে উঠুন,,
নিলা হাত বারিয়ে দিলো আমার দিকে,
আমিঃআপনার পাসে বসার যোগ্যতা এখনো হয়নি, , আপনি যান আমি পরের রিক্সায় আসছি,,
এই কথা বলতেই নিলার মুখে কেমন পরিবর্তন দেখলাম,,,
কিছুটা মলিন ভাব,,

একটা বড় মলের সামনে নামলাম,,
নিলা দারিয়ে আছে,,
আমি নেমে ভাড়া চুকিয়ে নিলাকে নিয়ে ভিতরে গেলাম,,,

কয়েকটা দোকান ঘুরে ঘুরে দেখলো,
তারপর একটা শাড়ির দোকানে ঢুকলো,,

নিলা শাড়ি দেখছে,,

একটা শাড়ি দেখছি আমি,, ব্লু কালারের,,
বেস পছন্দ হোয়েছে আমার,,
আমি তাকিয়ে তাকিয়ে সেটা দেখছি,,
নিলা হয়তো খেয়াল করেছে,,
তাই দোকানদার কে বললো,, আংকেল ওই শাড়িটা দেখান তো,,
নিলা আমার সামনে শাড়িটা দরে বললো,খুব পছন্দ হোয়েছে আপনার,,
আমিঃআমার পছন্দতে আপনার কি আসে যায়,,,।

নিলা আমার চোখের দিকে একটু তাকিয়ে দোকানদার কে বললো, আংকেল এটা প্যাক করে দিন,,

আমি বুঝিনা ওর আবার হঠাৎ কি হলো,,
এরপর আমাকে নিয়ে একটা ছেলেদের দোকানে ঢুকলো,,,
বুঝিনা ছেলেদের দোকানে ওর কি,,,
নিলা পান্জাবি দেখছে,,
ওর শাড়ির সাথে মেসিং করে পান্জাবি নিলো,,,
দেখতেও খুব সুন্দর।
দোকান্দার তখন( আমাকে দেখিয়ে) বললো,,আপনার হাজবেন্টর গায়ে মানাবে খুব,,
নিলা কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো, থ্যাংস,,,

মার্কেট থেকে বের হোতেই
নিলা আমার দিকে পান্জাবির প্যাকটা বারিয়ে দিয়ে বললো,,
আপনার জন্য,,
আমিঃসরি,,আপনার জিনিস আমি নেবো কেনো,,,
আমার কথায় নিলা কিছুটা ভরকে গেলো,,,
নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,,
আমি নিতে বলছি নিবেন,,
আমিঃসরি, আমার যতেষ্ট আছে,, নিতে পারবো না,,,
নিলাঃতো আমি এটাদিয়ে কি করবো এখন,,
আমিঃ আপনি ভালো জানেন আপনি কি করবেন,,

নিলার মুখটা মুহুর্তে মলিন হোয়ে গেলো,,

নিলা আর কোনো কথা বলেনি,,,
নিলাকে একটা রিক্সায় উঠিয়ে দিলাম,,
আমি ও একটা রিক্সা নিয়ে চোলে গেলাম, বাসায়,,,

নিলাকে রেখেই আমি বাসার ভিতর চোলে গেলাম,,
ও আমার পিছন পিছন হেটে আসছে,

নিলার চেহারার মলিন ভাব দেখে ভাবি বললো,, কিরে নিলা কি হোয়েছে,,
নিলা চুপ করে থাকলো,,
ভাবিঃমুখটা এমন শুকনো কেনো,, কি হোয়েছে বলবি তো,,
নিলা ভাবির দিকে পান্জাবিটা এগিয়ে দিলো,,
ভাবিঃপান্জাবি কার জন্য,,
নিলাঃতোমার দেবরের জন্য,,আমার কাছ থেকে নেয়নি,,,
ভাবিঃআচ্ছা মন খারাফ করিস না,, আমার কাছে দে, আমি নিয়ে দিচ্ছি,,

ভাবি পান্জাবিটা নিয়ে আমার রুমে আসলো,,
আমার পাসে এসে বসলো,,
আমি ঃকিছু বলবে,,,
ভাবিঃপান্জাবিটা পরতো দেখি কেমন লাগে,,,,
আমিঃআমার এখন ভালো লাগছে না,,
ভাবিঃতো পান্জাবিটা নিচ্ছিস না কেনো,,
আমিঃডয়ারে আমার আরো তিনটা পান্জাবি আছে,,আমার লাগবে না, তুমি নিয়ে যাও,,,
ভাবিঃবুঝিতো,,আমাকে তোর আপন ভাবতে পারিস নি এখনো,,
আমিঃদেখো ব্লাকমেইল করবা না,
ভাবিঃতাহলে নিচ্ছিস না কেনো,,নে,, না হলে বুঝবো তুই আমায় আপন ভাবতে পারিস নি,, তোর বোন ভাবতে পারিস নি,,
আমি ঃতুমিও না, কিসের মধ্যে কি বলোযে,,
দেও,,,
ভাবিঃএবার এটা গায়ে দে,, একটু দেখি আমার ভাইটাকে কেমন দেখায়,,
আমিঃআবার পরাও লাগবে,,
আচ্ছা পরছি,,,

এবার দেখেছো, হোয়েছে,,
ভাবিঃহুম,এবার খেতে আয়,,
আমিঃআচ্ছা খুলে নেই,,
ভাবিঃনা না,, খোলা লাগবে না,,এটা পরেই খেতে আয়,,
আমিঃবুঝিনা, তোমার আবার কি হোয়েছে,,চলো,,

খেতে বসে একটা জিনিস লক্ষ
করলাম,, নিলা বার বার আর চোখে আমাকে দেখছে,,
হয়তো ওর কিনা পান্জাবি পরেছি বলে,,

রাতের আকাশটা দেখতে মন চাইলো, তাই ছাদে চোলে গেলাম,,
ছাদের এক কোনা গেসে দারিয়ে আকাশ দেখছি,,
রাতের আকাশ দেখতে মজা আলাদা,,

আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা দেখায় বিভোর,

,,,,,খুব এরিয়ে চলছেন আমায় তাই না,,,

হঠাৎ নিলার এমন কথায় বেস চমকে গেলাম আমি,,
পাসে তাকিয়ে দেখি নিলা,,
ও এত রাতে এখানে কি করছে,,
নিলা আবার বলা শুরু করলো,,
নিলাঃছোট কাল থেকেই বেস আদরে বড় হোয়েছি, তাই অবহেলাটা সয্য হয় না,,কারো অবহেলা আমি সয্য করতে পারিনা,,,
কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো,,
বুঝছি না,, কান্না করছে কি না,,
নিলাঃআসলে সেদিন আমার কাছের এক ফ্রেন্ড গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে,,তাই মনটা খারাফ ছিলো,,,আর তখন ই আপনি এসে ফাজলামো শুরু করলেন,,
আমিঃকারো মন ভালো করার চেষ্টা করা বুঝি ফাজলামো,,
নিলাঃসরি তো বুঝতে পারিনি,,
আমি ঃভাবির কাছে বিচার দিয়েছিলেন কেনো,,
নিলাঃআমি,,(কিছুটা অবাক হোয়ে)
আমিঃথাক আর অস্বিকার করা লাগবে না,,জানেন তো, কাছের মানুষদের কাছ থেকে সামন্য কথাও অন্তরে গিয়ে আঘাত করে,,
নিলাঃবিশ্বাষ করুন আমি আপুকে কিছু বলিনি,,
আমিঃআমার বিশ্বাষে কি আসে যায়,,আচ্ছা আমি সব ভুলে গেছি আপনিও ভুলে যান,,
নিলাঃতাহলে আপনি আপনি করে বলছেন কেনো,, আমার কাছে আসেন না কেনো,,
আমিঃসবাইকে তুমি বলা যায় নাকি,, আর আপনার কাছে আসতে যে যোগ্যতার প্রোয়োজন আছে আগে জানতাম না,,
আচ্ছা চলি,,এত রাতে দুজনকে কেউ দেখলে খারাফ ভাববে,,

আমি চলে আসলাম,,
পিছন থেকে নিলা বললো,,শনুন,,
নিলার গলা কেমন দরে আসছে,,

আমি রুমে এসে সুয়ে পরলাম,,

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি….
আমার মামাতো বোন ইরা ড্রইং রুম বোসে আছে,,,

ইরা আমাকে দেখেই জড়িয়ে দরলো,,
আমিঃকিরে কখন আসলি,,
ইরাঃমাএ আসলাম,,রাতে বাসে চরলাম,, সকালে এসে পৌছালাম,,
আমিঃআমাকে বলতি,, পিক করে নিয়ে আসতাম,,
ইরাঃসারপ্রাইজ দিলাম,,
আমিঃভালো তা মামা কোথায়,,?
ইরাঃকোন কাজে যেনো এসেছিলো, সেই কাজে চোলে গেছে,,।
হঠাৎ চোখ গেলো,, কিচেনের দিকে,
নিলা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে,
দেখেতো মনে হয় কিছুটা রেগে আছে,,,
ইরা নিলাকে দেখে বললো,,ভাইয়া উনি কে,,,
আমি ঃবিদেশি ম্যাম,,
ইরাঃকি বলো বুঝিনি,,,।
আমিঃভাবির বোন,,।
ইরাঃদারাও আমি কথা বলে আসি,,
নিলা আমার দিকে কেমন ভাবে যেনো রাগী চোখে তাকালো,,
আমি ছাদে গেলাম,,,
হঠাৎ নিলা পিছন থেকে বললো,,আপনাকে আপু নাস্তা করতে ডাকছে,,
আমি নিচে যেতে লাগলাম,,
তখন নিলা আবার বললো,,মেয়েটা আপনার কি হয়,,
আমি এবার ঘুরে নিলার দিকে তাকালাম,,
নিলা আমার চোখের দিকে নিরলিপ্ত ভাবে তাকিয়ে আছে উওরের আশায়,,
আমিঃআপনার বেয়াইন হয়,,,
নিলাঃআপনার কি হয়,,
নিলা কি বুঝাতে চাচ্ছে আমি তা ভালোভাবেই বুঝেছি,,
আমি আর কিছু না বলে নিচে চোলে আসলাম,,
নাস্তার টেবিলে বসে নাস্তা খাচ্ছি,,
নিলা আমার সামনে বসেছে,ইরা পাসে,,,

খাবার খেয়ে যাচ্ছি,,ইরা টুকটাক কথা বলছে,,
নিলা শুধু আমাদের দুজনের মুখের দিকে তাকাচ্ছে,,

ভাবি ইরাকে বললো,, তা বোন আমার,তোমার খবর কি,,,পড়ালেখা কেমন চলে,,
ইরাঃএতো কোনো রকম চলে ভাবি,,
ভাবিঃকেন,কোনো রকম কেনো,
ইরাঃএমনেই,,

বিকালে ইরা বায়না দরলো,, আমার সাথে ঘুরবে,,
আমিঃআচ্ছা রেডি হোয়ে নে,,,
ইরা ঃতুমি যাষ্ট পাচ মিনিট ওয়েট করো,,, আমি রেডি হোয়ে আসছি,,
আমিঃআচ্ছা তারাতারি আয়,,

আমি ড্রইং রুমে বোসে আছি,,
তখন ভাবি আসলো,,
ভাবিঃ সবুজ কোথায়ও যাচ্ছিস,,
আমিঃহুম, ইরাকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাবো,,
ভাবিঃঘুরতে যখন যাবিই, তখন নিলাকে সাথে নিয়ে যা,
আমিঃআচ্ছা ওনাকে রেডি হোতে বলো,
ভাবির পিছন থেকে নিলা বললো, আমি রেডি,,
আমি নিলার দিকে তাকিয়ে আবারো প্রেমে পরে গেলাম,,
না কি ভাবছি,,, ওর প্রেমে পড়া যাবে না,,
আমি এসব ভাবছি, তখন ইরাও এসে বললো, হোয়ে গেছে আমার চলো,,,,
আমি নিলাকে বললাম চলুন,,

বাহিরে রিক্সা নিতে গিয়ে জামেলা,,,লোক হলাম তিনজন,,,
আমিঃআচ্ছা তোমরা দুজন একরিক্সায় যাও,,আর আমি একা এক রিক্সায় যাচ্ছি,,
ইরাঃআমি তোমার সাথে যাবো,,
আমিঃওনি কি একা যাবে নাকি রিক্সায়,,।
ইরাঃকিচ্ছু হবে না,,

নিলা শুধু আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে,,
দেখছে আমি কি বলি,,

আমি নিলাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,,, আচ্ছা তাহলে আপনি এই রিক্সায় উঠেন,,আমরা দুজন এই রিক্সায় উঠি,,
নিলা কিছু বললো না,,
রিক্সায় উঠে গেলো,
পিছন থেকে দেখলাম নিলা হাত দিয়ে চোখ মুচছে,,,

আমরা গিয়ে একটা পার্কের সামনে নামলাম.

তিনজন হাটছি,আমি মাঝে, ওরা দুজন দু পাসে,,
ইরা ফুচকার দোকান দেখে বললো,,, জনি ভাইয়া আমি ফুচকা খাবো,,
আমিঃআচ্ছা চল,
নিলা কে জিগাসা করলাম,, আপনি খাবেন,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো,,
বুঝলাম খাবে,,

তিনজন গিয়ে ফুচকার দোকানে বসলাম,,
আমি ঃ মামা তিন প্লেট ফুচকা দেন তো,,

তারপর ইরা বললো,
ইরাঃ সবুজ ভাইয়া, আমি তোমাকে আর ভাইয়া বলে ডাকতে পারবো না,, নাম দরে তুমি করে বলবো,,
আমি কিছু বলার আগেই নিলা বলে উঠলো,,কেনো,, তোমার বড় ভাইকে নাম দরে তুমি করে বলবে কেনো,, তাছারা তোমার বড় ভাই হয়তো,
ইরাঃতো কি হোয়েছে,,আমি তুমি করে বলবো,,
আমিঃআচ্ছা তুমি করে বলিস,,
নিলা কিছুটা রেগে বললো,তুমি করে বলবে মানি,, তোমা…..
তখন ফুচকা চোলে আসলো,,তাই নিলাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম,, ফুচকা খান,,
আমরা চুপচাপ ফুচকা খাচ্ছি,,
হঠাৎ ইরা বললো,,সবুজ আমাকে একটা ফুচকা খাইয়ে দেও,হা…
আমিঃনিজে নিয়েই তো খেতে পারিস,,
ইরাঃদেওতো এই হা করলাম,,
আমিঃকি যে পাগলামি করিস,,, নে,,
ইরাকে খাইয়ে দিলাম,,,
ইরার এই ঢং দেখে নিলার গা জলে যাচ্ছে,,তা মুখ দেখেই বুজা যাচ্ছে,,,
ইরা এবার বললো, হা করো,, খাইয়ে দেই,,
আমিঃআচ্ছা দে,,
আমি হা করতেই খাইয়ে দিলো,, তবে ইরা নয় নিলা,,,
ইরা আর আমি অবাক,,,
ইরা ফুচকা হাতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
নিলা কিছুটা রেগে বললো,,বেসি ফুচকা খাওয়ার ইচ্ছা না,, খান,,
এই বলে ফুচকার ফেলেটা ফেলেই চোলে গেলো,,,
এর আবার কি হলো,,
ইরা ঃওনি এমন করলো কেনো, ,
আমিঃতুই বুঝবি না,, ফুচকা খা,,,,,
নিলা সেখান থেকে রাগ করে বাসায় চোলে আসলো,,
নিলার মনে যে কিছু একটা চলছে,,তা বেস ভালো করেই বুঝছি,,,,

আরো কিছুক্ষন গোরাফিরা করে বাসায় চোলে আসলাম,

বাসায় ঢুকতেই দেখলাম নিলা ড্রইং রুমে বসে আছে,,
আমাকে দেখে নিলা চোখ গড়ম করে আমার দিকে তাকালো,,,
তখন ভাবি কিচেন থেকে এসে বললো,,সবুজ, নিলা একা একা চোলে আসলো কেনো,,
আমিঃওনি ই ভালো যানে,,,
আমি রুমে চোলে আসলাম,,

রাতে রুমে বসে ইরা আর আমি গল্প করছি,,,
তখন নিলা কফি হাতে রুমে ঢুকলো,,
আমার দিকে বারিয়ে দিয়ে বললো,, কফি আপনার জন্য,,,
তখন ইরা বললো আপু আমার জন্যও এক মগ কফি আনো,,,
আমি কফিটা নিয়ে ইরাকে দিয়ে দিলাম,,,
ইরাঃতুমি খাবে না,,,
আমিঃনাহ,,
নিলা ফিছন ঘুরে চোলে গেলো,, নিলার চোখের কোনে স্পস্ট পানি দেখতে পেলাম,,,

রাতে ডিনার করার সময় ভাবি বললো,,সবুজ তোর জন্য আজ নিলা নিজের হাতে স্পেসালভাবে কফি বানিয়েছে,,খেয়ে কেমন বুঝলি,,
আমি নিলার দিকে তাকালাম,, নিলা আমার চোখের দিকে এক পলক তাকিয়ে মাথা নিচু করে ভাত নারা চারা করতে লাগলো,,

আমিঃকফিটা ইরা খেয়েছে,,
ভাবিঃবানালো তোর জন্য খেলো ইরা,,
আমিঃসবার সব জিনিস খাওয়ার জন্য যোগ্যতা লাগে,,।
ভাবিঃবুঝলাম না,,
আমিঃ কিছু না, খাওতো,,
নিলা খাবারে আছতে করে পানি ঢেলে রুমে চোলে গেলো,,

রাতে ইরাকে নিলার সাথে ঘুমুতে দেওয়া হলো,,

সকালে ঘুম থেকে উঠতেই কাউকে রুম থেকে বের হোয়ে যেতে দেখলাম,,
ফ্রেস হোয়ে নাস্তা করতে বসলাম,,তখন ইরা বললো,,সবুজ ভাইয়া আজ কিন্তু আমাকে সারাদিন ঘুরাতে হবে,,
আমিঃআমার তো আজ সময় হবে না,,আচ্ছা আমার এক ফ্রেন্ড কে বোলে দিচ্ছি,, ও ই তোকে ঘুরাবে,,,
ইরাঃআচ্ছা,,তারাতারি আসতে বলো,,নিলা আপু তুমি যাবে নাকি,,,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, না জাবো না,,

আমি আমার কাছের ফ্রেন্ড রোমন কে কল করে চোলে আসতে বললাম,,
সে ইরাকে নিয়ে ঘুরতে বের হোয়ে গেলো,,,
আমি আমার কাজে চোলে গেলাম,,,

রাত হোয়ে গেলো এখনো বাসায় ফিরিনি,,,
হঠাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠলো,,ফোন বের করেই দেখি ভাবির ফোন,,
আমিঃহুম ভাবি বলো,,
ভাবিঃকি করছিস এখনো,,
আমিঃএকটু কাজে আছি,,
ভাবি কে পাস থেকে কে যেনো শিখিয়ে দিচ্ছে,, কখন আসবে,,
ভাবিঃকখন আসবি,,
আমিঃআসতে একটু রাত হবে,,
ভাবিঃতারাতারি চোলে আসিস,,
আমিঃহুম,,

বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হোয়ে গেলো,,
কলিং বেল দিতেই নিলা দরজা খুলে দিলো,,,
আমি পাস কাটিয়ে চোলে আসলাম,,
বাকিরা সব ঘুমিয়েছে,,

ফ্রেস হোয়ে ছাদে চোলে গেলাম,,

বেস তো আনন্দেই আছেন দেখছি,,

নিলা কখন যে আমার পাসে এসে দারালো বলতেই পারলাম না,
নিলার কথায় বুঝতে পারলাম,,
নিলা আবার বললো,,,কষ্ট দিতে খুব ভালোই যানেন,,
এবার নিলার দিকে তাকালাম,
ওর চোখে পানি চিক চিক করছে,,
নিলাঃসামান্য একটা কারনে আপনি আমাকে এভাবে এরিয়ে চলছেন,,,
আমিঃকারনটা সামন্য হলেও কথা গুলো সামান্য ছিলো না,,
নিলাঃতার জন্য তো সরি বললাম,,আর কারন ও বলেছি,,
আমিঃতার থেকে বেসি কষ্ট লেগেছে ভাবির বলা কথা গুলো,,, কেনো সেদিন সুধু শুধু ভাবির কাছে বিচার দিলেন,, ইচ্ছা হলে দুটো থাপ্পর দিয়ে দিতেন আমায়,,

নিলা এবার কেদে দিয়ে বললো,,বিশ্বাষ করুন আমি আপুর কাছে বিচার দেইনি,,,আমি বিদেশ থেকে পড়া লেখা করতে পারি কিন্তু এত অহংকারি না,,
সেদিনের কথা গুলো আমি রেগে গিয়ে বলেছি, একটা কথাও মন থেকে বলিনি,,,
আমিঃযে ভাবেই বলেছেন, কথা গুলোতো সত্য,,,,
আরো গল্প পড়ুনঃGolpo বাড়িওয়ালার_দুষ্টু_মেয়ে
হঠাৎ নিলা আমাকে জড়িয়ে দরে বললো,প্লিজ এভাবে বলবেন না খুব কষ্ট হয়,,,খুব ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে প্লিজ,,অনেক ভালোবাসি,,

হঠাৎ নিলা আমাকে জড়িয়ে দরে বললো,প্লিজ এভাবে বলবেন না খুব কষ্ট হয়,,,খুব ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে প্লিজ,,অনেক ভালোবাসি,,

আমিও ওকে জড়িয়ে দরবো ঠিক তখন ভাবির কথা গুলো মনে পড়লো,,
তাই ওকে কাছ থেকে ছারিয়ে নিলাম,,
নিলা আমার দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে,,,
নিলাঃকি হলো,, ভালোবাসবেন না,,
আমি ঃদেখুন,, আপনার যোগ্য কাউকে খুজে নিয়েন,,
আমি চোলে আসবো,,
তখন নিলা আমার হাত চেপে দরে মুখের কাছে মুখ এনে চোখে চোখ রেখে বললো,,
আমি এগুলো শুনতে চাইনি, ভালোবাসেন কি না,,
আমিঃদেখুন,, অনেক রাত হোয়ে গেছে,, কেউ দেখলে সমস্যা হবে,,,
সকালে কথা হবে
এই বলে আমি নিচে চোলে আসলাম,,

সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করার জন্য টেবিলে গেলাম,,
সবাই বসে আছি কিন্তু নিলাকে দেখছি না,,,
তখন ভাবি বললো,,কিরে নিলা কই,,
এই নিলা, নিলা নাস্তা করতে আয়,,
ইরাঃভাবি আমি ডেকে নিয়ে আসছি দারাও,,
ইরা নিলার রুমে গিয়ে নিলাকে ডেকে নিয়ে এলো,,
নিলার চোখ দেখে ভয় করে উঠলো,,,
লাল হোয়ে আছে চোখ জোড়া,,,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে সামনের চেয়ারে বসলো,,
ভাবিঃ কিরে তোর চোখ এমন লাল কেনো,, রাতে ঘুমাস নি,,,
তোকে নিয়ে আর পারি না,, সারা দিন শুধু বই বই আর বই নিয়ে পরে থাকে,,
এই বলে ভাবি কিচেনের দিকে যাচ্ছিলো,,তখন নিলা গম্বির শুরে বললো,,,
নিলাঃদারাও আপু,,,
ভাবি ঘুরে নিলার দিকে তাকালো,,নিলার এমন গম্বির স্বর শুনে ভাবি নিলাকে জিগাসা করলো,,
ভাবিঃকিরে নিলা তোর কি হলো,,, জ্বরটর আসলো নাকি,,
নিলা ঃআপু সেদিন কি আমি তোমার কাছে ওনার নামে কোনো বিচার দিয়েছিলাম,,,,
ভাবিঃনাতো,,
নিলাঃওনার নামে কোনো কিছু বলেছিলাম,,,
ভাবিঃনাতো,,কেনো
নিলা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,,,দেখেছেন আমি সত্যি বলেছিলাম,,
ভাবি আমাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে,,
নিলা ঃতহলে সেদিন ওনাকে শুধু শুধু বকে ছিলে কেনো,, তোমার জন্য আজ আমায় ওনি এরিয়ে চলছে,ঠিক মতো কথা বলছে না,,,
ভাবিঃতুইতো সেদিন কান্না করতে করতে ছাদ থেকে নেমেছিলি,আমি জিগাসা করলে ও তুই তো কিছুই বলিস নি, আর ছাদে দেখলাম সবুজ কে,,
ভাবলাম ও বুঝি তোকে কিছু বলেছে,,,তাইতো ওকে একটু বকা দিলাম,,,
নিলাঃতোমার বকা দেওয়াতে আজ আমার সাথে ওনি ঠিক মতো কথা বলে না,,

নিলা নাস্তা না করে,, রুমে রুমে চোলে গেলো,,
ভাবি আমার দিকে তাকিয়ে আছে তাই আমিও চোলে গেলাম,,

বাহিরে বের হওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি তখন ইরা বললো,,বাহিরে যাচ্ছো বুঝি,,
আমিঃহুম,,
ইরাঃআমি বাসায় একা একা বোর হচ্ছি,,একা একা ভালো লাগে না,,
আমিঃআমার সাথে চল,,
ইরাঃনা,,তোমার সাথে বেসি ঘুরা যায় না,, তোমার বন্ধু কে বলো আসতে,, ওনি আমায় অনেক যায়গায় ঘুরায়,,,অনেক কিছু খাওয়ায়,,
আমিঃহোয়েছে,, আর বলতে হবে না,, পানি তো দেখি অন্য দিকে গড়াচ্ছে,,,
ইরা কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো,,ভাইয়া,,
আমিঃআচ্ছা আচ্ছা আমি রোমান কে বোলে দেবো,,

এই বলে আমি বাহিরে বের হোয়ে গেলাম,,,

ভাবি নিলার রুমে গিয়ে দেখে নিলা বালিশে মুখ গুজে কাদছে,,
ভাবি নিলার মাথায় হাত রাখলো,,
তখন নিলা চোখ মুছে উঠে বসলো,,
ভাবি ঃকিরে বোন কি হোয়েছে তোর,,
নিলাঃ???
ভাবিঃআমি যা অনুমান করছি, তা কি সত্যি,,,

নিলা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে,,
ভাবিঃআমার দিকে তাকা ,,,
নিলা ভাবির দিকে তাকালো,,
ভাবিঃতুইকি সবুজ কে ভালোবেসে ফেলেছিস,,
নিলা আবার নিচের দিকে তাকালো,,

ভাবি ঃদেখ বোন আব্বু এটা কখনো মানবে না ,,
নিলাঃকেনো মানবে না,,
ভাবিঃ সবুজ এখনো বেকার,, তাছারা তুই বিদেশ থেকে গ্রেজুয়েশন কম্পিলিট করে এসেছিস,,তুই আরো ভালো ভালো উচু লেবেলের ছেলে পাবি,, ওকে বুলে যা,,,আব্বু মানবে না,,
নিলাঃকখনো না,, আমি উচু লেবেলে ছেলে চাই না,, আমি ওকেই চাই,,, আর আব্বু কে তুমি বললে অবশ্যই মানবে,,,,
ভাবিঃআচ্ছা পরের টা পরে দেখা যাবে,,আচ্ছা তুই ওকে এই কথা বলেছিস,,,
নিলাঃহুম
ভাবিঃতো কি বললো,,
নিলা কিছুটা কাদার স্বরে বললো,,কিছুই না,, সেদিনের ওমন ব্যাবহারের জন্য আমার উপর এখন রেগে আছে,,বাকিটা তোমার বকার জন্য এখন কথাই বলছে না,,
ভাবিঃ সবুজ একরোগা টাইপের ছেলে,, তাই বলছি তুই অন্য কোনো ছেলে দেখ,,
নিলাঃতুমি আমাকে চেনো না,,এই নিলা কি জিনিস সামনে দেখবে,,এখন ওনাকে সরি বলে আসো,,যাও
ভাবিঃআচ্ছা যাচ্ছি,,নাস্তা খেতে আয়,,
নিলাঃএখন ভালো লাগছে না,, পরে খাবো,,, যাও সরি বলে আসো,,,
ভাবি ঃআচ্ছা যাচ্ছি,,,

অন্য দিকে রোমান ইরা কে নিয়ে ঘুরে বাসার সামনে নামিয়ে দিলো,,
ইরাঃথ্যাংক,স
রোমানঃআচ্ছা একটা কথা জিগাসা করি,,
ইরা ঃকরেন,,
রোমান ঃআপনি কি কারো সাথে রিলেশন করেন,,
ইরাঃনা,,
রোমানঃসত্যি তো,,
ইরাঃজি,,,
রোমানঃআমার বিশ্বাষ হচ্ছে না,,সত্যি করেন নাতো,,
ইরাঃ না,, না,সত্যি করি না,,
রোমানঃও,,
এবার ইরা একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,
ইরাঃকেনো বলুন তো,
রোমান কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো,,কিছুনা, আমি যাচ্ছি,,,,,

রোমান কিছুদুর যেতেই ইরা রোমান কে পিছন থেকে ডাক দিল,,
রোমান ইরার ডাক শুনে বাইক জোরে ব্রেক করলো,,আর সাথে সাথে স্লিপ কেটে পরে গেলো,,
হাত কিছুটা ছিলে গেছে
ইরা দৌরে গিয়ে হাত টেনে উঠালো,,
ইরাঃপাগল হলেন নাকি,, এই ভাবে কেউ ব্রেক করে,,, যদি কিছু হোয়ে যেতো,, দেখেন কতটা ছিলে গেছে,রক্ত বের হচ্ছে,,,
রোমান ঃকিছু হবেনা,,
ইরাঃ ওনাকে বলেছে কিছু
হবে না, হাত দেন,,,
ইরা সাইড ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে বেদে দিতে লাগলো,,আর বকতে লাগলো,,
ইরাঃউল্লুক কোথাকার,,, বাইকও চালাতে পারে না,,
হোয়েছে,,
রোমান চোলে যেতে লাগলো,,
ইরাঃএই আপনাকে যেতে বলেছি,,
রোমানঃনা,,
ইরাঃতাহলে যান কেনো,,
রোমান ঃআচ্ছা যাবো না,,কি বলবেন বলেন,,
ইরাঃআপনার নাম্বার দিয়ে যান,,
রোমানঃকি করবেন,,
ইরাঃ আপনার মাথা করবো, দেন,,
রোমানঃনেন,, 017894972……
ইরাঃসাবধানে যাবেন।পরে কথা হবে,,
ইরা বাসায় যাওয়া দরলেই
পিছন থেকে রোমান আবার বললো,আপনি সত্যিই রিলেশন করেন নাতো,,
ইরা মুচকি হেসে বললো,পাগল একটা , যানতো,,,

রাতে রুমে বোসে আছি,ইরা পাসে বসে বসে ,, সারাদিন কোথায় কোথায় ঘুরলো,,তা বলছে,
তখন নিলা কফি নিয়ে রুমে ঢুকলো,,
আমার দিকে কফির মগটা বারিয়ে দিয়ে বললো,,
নিলাঃ নিন খান,,
আমি নিলার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম,,
নিলাঃ কি হলো নিন খান,,
আমি হাতে নিতেই ইরা আমার কাছ থেকে কফির মগটা নিয়ে গেলো,,
ইরাঃআমি খেয়ে টেষ্ট করে নেই,,
নিলা ইরার হাত থেকে কফির মগটা ছো মেরে নিয়ে বললো,,এটা তোমার জন্য না, ওনার জন্য,,নিন,
আমি কফির মগটা হাতে নিয়ে ইরার দিকে তাকি মুচকি হাসি দিলাম,
নিলাঃতোমার জন্য আনছি দারাও,,আপু আপু, একমগ কফি দিয়ে যাওতো,,
ভাবি কফির মগ হাতে নিয়ে রুমে ঢুকলো,
নিলাঃইরাকে দেও কফিটা,

ভাবি ইরাকে কফির মগটা দিয়ে আমার পাসে এসে বসলো,,
ভাবিঃভাই আমার, ক্ষমা করে দে আমায়,, সেদিন না বুৃঝে কত কি বলেছি,,
আমিঃকি যে বলো,,মা থাকলে হয়তো এমনই শাষন করতো,,তুমি মায়ের মতো আমাকে বকতেই পারো,,
ভাবিঃআচ্ছা তোরা কথা বল,,আমি কিচেনে গেলাম,,,

ভাবি কিচেনে চোলে গেলো,,

নিলা বসে বসে আমার কফি খাওয়া দেখছে,,
কফি অর্ধেক শেষ হোতেই নিলা আমার কাছ থেকে কফির মগটা নিয়ে গিয়ে বললো,,আর খেতে হবে না, দেন,,
আমিঃশেষ করি,,
নিলাঃখেতে হবে না, বাকিটা আমি খাবো,,

পাগল টাগল হলো কিনা কে জানে,,,

এভাবেই একসপ্তাহ কেটে গেলো,,

সকাল সকাল ড্রইং রুমে বসে টিবি দেখছি, তখন নিলা সহ ভাবি আসলো,,,
আমি ঃকিছু বলবে ভাবি,,
ভাবিঃএকটু নিলার সাথে এয়ারপোর্ট যাতো,,
আমি ঃকেনো,,
ভাবিঃবিদেশ থেকে আমার ফুফাতো বোন আসবে,,নিলা যাদের বাসায় থেকে স্টাডি করেছে,,
আমিঃতুমি সাথে গেলেইতো পারো,,
ভাবিঃআমার হাতে কাজ আছে,, আমি যেতে পারবো না,,তুই যানা,,আব্বু গাড়ি পাঠিয়েছে,,
আমিঃআচ্ছা যাচ্ছি,,

নিলা আর আমি নিচে গেলাম,,
গাড়িটার সামনে গিয়ে দারালাম,,
ভাবলাম একা একা গিয়ে কি বোর হবো নাকি, তাই আমার কাছের ফ্রেন্ড #সাগরকে আসতে বললাম,,
পিছন থেকে নিলা বললো,,আমাদের মাঝে আবার আপনার বন্ধুকে টানছেন কেনো,,
আমিঃএকা একা বোর হবো নাকি,,
নিলা আর কিছুই বললো না,,

সাগর আসলে ওকে নিলার সাথে পিছন বসতে বললাম,তখন নিলা বলো,
নিলাঃ না ভাইয়া আপনি সামনে বসেন,,
কি আর করার,, সাগর সামনে বসলো আর আমি নিলার সাথে পিছন বসলাম,,

গাড়ি চলছে আপন গতিতে এয়ারপোর্টের দিকে,,

আর আমি চুপচাপ বসে আছি,,
নিলা হঠাৎ আমার হাতের আঙুল গুলো ওর হাতের আঙুল দিয়ে পেচিয়ে দরলো,,
আমিঃএই কি করছেন,,ছারেন,,সাগর দেখবে,,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অন্যহাত দিয়েও আমার হাত চেপে দরলো,,

আমি হাত ছারাতে না পেরে চুপ করে থাকলাম,,
নিলা আমার এক হাত ওর দুহাতের মাঝে চেপে দরে আছে,,
আমার অবস্থা দেখে নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিলো,,
সামনে থেকে সাগর আমাদের কাহীনি দেখে হাসছে,,
নিলা আমার হাতটায় হঠাৎ একটা চুমু দিলো,
আমি সিহরিত হোয়ে গেলাম ওর আলতো ছোয়ায়….

ওর দিকে রাগী চোখে তাকালাম,,সামনে ওরা বসে আছে তাই কিছু বলতে ও পারছি না,,
নিলা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে
মুখ চেপে হাসছে,,,

কিছুক্ষন পর এয়ারপোর্টে এসে নামলাম,,
প্লেন ল্যান্ড করতে এখনো, এ ঘন্টা বাকি,, তাই কিছু চিপস জুস নিয়ে নিলাম সাথে,,,
নিলা পাসে তাই পর্মালিটির জন্য নিলাকে বললাম,, কিছু খাবেন আপনি ,,,
নিলা ঃআপনার আদ খাওয়া জুস দিলেই হবে,,
আমিঃকি!
নিলাঃ যেটা শুনেছেন সেটাই,,
আমিঃআমি কাউকে ভাগ দিতে পারবো না,, আপনার যা খেতে ইচ্ছে হয় এখান থেকে নিয়ে নিন,,
নিলা,আমার যা খেতে ইচ্ছে হয় তাতো এই কেন্টিনে নেই,
আমি ঃতাহলে কোথায় আছে,,
নিলাঃ দুষ্ট একটা হাসি দিয়ে বললো,,আপনার কাছে আছে,,
আমি ঃকি পাগলামো কথাবার্তা,, আমি গেলাম,,

সাগর পাসের মোরে সুখ টান দিতে গিয়েছে..
এয়ারপোর্টের ভিতর গিয়ে কাউন্টারে বসলাম,,,
নিলা ও এসে আমার পাসে বসলো,,,
আমি জুসের বোতলের কাকটা খুলে মুখ লাগিয়ে খাচ্ছি,,
নিলা আমার খাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,,
অর্ধেক শেষ হোতেই নিলা টান মেরে জুসের বোতলটা নিয়ে মুখে লাগিয়ে চুমুক দিয়ে জুস খেতে লাগলো,,
আমি ঃএটা কেমন অসভ্যতামি,,,

নিলা তৃপ্তির একটা হাসি দিয়ে বললো,,অসভ্যতামি না,,এটা ভালোবাসা,,
আমি কিছু না বলে চুপ করে থাকলাম,,
এবার চিপস খাবো তখন ভাবলাম আবার থাবা দিতে পারে তাই,, নিলাকে জিগাসা করলাম,, চিপস খাবেন,,আরেকটা আছে,,,আমারটা থাবা দিবেন না,,
নিলা ঃদেন,, থাবা দেওয়ার কোনো কারন নেই,,চিপস এ আপনার ঠোটের কেনো ছোয়া পাওয়া যাবে না,,

আমিঃ(কি মেয়েরে বাবা কোনো লজ্জা সরম নেই,কি বলে,,,)নিন,,
নিলাঃএত লজ্জা পাচ্ছেন কেনো,,

দুর কি জালায় পরলাম,, সাগর হারামি টায় যে কোথায় গেলো,,,

কিছুক্ষন পর প্লেন এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করলো,,
আমরা ভিতরে গেলাম,,
গিয়ে তো দেখি আরেক কান্ড,,,
সাগর হারামীটা কোন একটা মেয়ের সাথে সমানে জগরা করছে,,

মেয়েটাকে পিছন থেকে দেখা যাচ্ছে না,,,
ওর কাছে গেলাম,,সাথে নিলা আছে,,

আমিঃকিরে কি হোয়েছে?
সাগর ঃআর বলিস না,,এই পেত্নিটা কোথা থেকে যেনো এসে গায়ে পরলো,, আর এখন বলছে নাকি আমার দোষ,,

মেয়েটা পিছন ঘুরতেই নিলা এবং মেয়ে দুজন দুজন কে জড়িয়ে দরলো,,
নিলাঃকেমন আছিস,,
মেয়েটা ঃভালো আর থাকতে পারলাম কোথায়,কাউন্টার থেকে বের হোতেই এই দামরা ছেলেটা এসে আমার গায়ে পড়লো,,
নিলাঃআচ্ছা হোয়েছে,,পরিচিত হোয়ে নে,,ওনি হলেন সবুজ , আপুর দেবর,,আর যার সাথে ধাক্কা লাগলো ওনি হলেন সাগর ভাইয়া, ওনার বন্ধু,,
এবার মেয়েটাকে দেখিয়ে দিয়ে নিলা বললো,,এ হলো আমার ফুফাতো বোন মিম,,,।
মিম হায় বলে আমার দিকে হাত বারিয়ে দিলো,, আমি যেই হাত বারাতে যাবো তখন নিলা মিমের হাত সরিয়ে দিয়ে বললো,,হোয়েছে সাগর ভাইয়ার সাথে পরিচিত হোয়ে নে,
মিম ঃওনার মতো বতজ্জাতের সাথে পরিচিত হতে আমার ভোয়েই গেছে,, চল,,

আমরা গাড়ির কাছে গেলাম,,,
গাড়ির পেছনে সিট আছে চার টা,,তাই আমি একদম পিছনের এক সিটে গিয়ে বসলাম,,
মিম আমার পাসে যেই বসতে যাবে তখন নিলা বললো, এই কি করছিস,, তুই ওখানে গিয়ে বস,,,
মিম ঃ আমি ওই বজ্জাতের সাথে বসতে পারবো না,, ,, আমি এখানেই বসবো,,,
এই বলে মিম আমার পাসে বসে পরলো,,
নিলা ভালোই যব্দ হোয়েছে,,,

নিলা সাগরে পাসে বসে পরলো,,
আমি নিলার মুখের এক্সপেশন দেখে হেসে দিলাম,,
নিলা পিছন ঘুরে আমার দিকে তাকিয়ে কিছুটা রেগে বললো,, মেরে মুখ বেঙ্গে দেবো হাসলে,,,
আমি বাহিরের দিকে তাকিয়ে হাসি চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করছি,,
নিলা এখনো রাগী ভাবে তাকিয়ে আছে,,

মিমঃতো আপনি কেমন আছেন,,
আমি ঃভালো,,তুমি,,
মিমঃভালো,,,

আমরা দুজন কথায় মসগুল,,নিলা বারবার পিছন ঘুরে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে,আর রাগছে,,

নিলা হঠাৎ আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে বললো,, এই মিম ওনার গায়ের সাথে চেপে বসেছিস কেনো,, সরে বস,,
মিমঃকোথায় চেপে বসলাম,,আপনার দিকে কি চেপে বসেছি আমি,, (আমার দিকে তাকিয়ে বললো),,
আমিঃকই নাতো,,
মিমঃদেখেছিস,,(নিলার দিকে তাকিয়ে বললো)
নিলা আমার দিকে আবার সেই রাগি চোখে তাকিয়ে বললো, ওনার তো বালোই লাগে,,বদ কোথাকার,,,
মিমঃহোয়েছে এবার সামনে তাকা,,,
নিলা এবার সামনে তাকালো,,

মিম আবার আমার সাথে কথায় ব্যাস্থ হোয়ে গেলো,,
গাড়ির জাকুনিতে মিম বারবার আমার উপর এসে পরছে,,
নিলার এটা আর সয্য হলো না,,
সোজা আমাদের মাঝে এসে বসলো,,
দুজনের সিট তো,, তিনজন বসাতে একটু চাপাচাপি হচ্ছে,,
নিলা পুরো আমার গায়ের সাথে যেকে বসেছে,,
মিম আমি অবাক,,
মিমঃকিরে তুই সামনের সিট ছেরে এখানে আসলি কেনো,,
বসতে কষ্ট হচ্ছেতো,,
নিলাঃহলে হউক,,
মিমঃএখনো তো ওনার গায়ের সাথে তুই চেপে বসেচিস,,
নিলাঃবোসেছি তো কি হোয়েছে,চুপচাপ থাক,,
আমি উঠে যেই সামনের সিটে যাবো তখন নিলা হাত দরে টেনে বসিয়ে দিয়ে বললো,,চুপচাপ বসেন ,
আমি একটু ওর কাছ থেকে সরে বসার চেষ্টা করছি,,
কিন্তু যায়গা সল্পতে ওর গায়ের সাথে গা লেগে যাচ্ছে,,
নিলা ঃএখন সরে বসছেন কেনো,,একটু আগে তো,, একজন আরেকজনের উপর পরে ছিলেন,,
আমিঃওটা গাড়ির জাকুনিতে হোয়েছে,,,
নিলাঃএখন আমার উপর পরুন,,
আমিঃকি বলেন এসব,,,
মিমঃ কিরে নিলা কি বলছিস এসব,,আচ্ছা আমি সামনে যাচ্ছি,,
মিম সামনে গেলো,,
মিমঃ এই খবিস একটা সরেন বসবো,,( সাগর কে বললো)
সাগর ঃএত মিষ্টি করে বকা দেন কিভাবে,,
মিমঃপ্লট করছেন আমার সাথে,,মেরে রাস্তায় ফেলে দেবো ,
সাগরঃআপনি অনেক সুন্দর,,
মিমঃআবার প্লটিং করছেন আমার সাথে,,তখন তো বললেন আমি পেত্নি,
সাগরঃআরে তখনতো রেগে বলেছি,,
মিমঃহুম,

দেখতে দেখতে বাসার সামনে চোলে এসেছি,
সবাই গাড়ি থেকে নামলাম,,
সাগর বাদে আমরা সবাই ভিতর যাচ্ছি,,সাগর এখন আমাদের বাসায় যাবে না,বলে দিয়েছে,,

সাগর মিম কে পিছন থেকে ডেকে বললো,,এই যে মিস,,সরি,,
মিমঃইট,স ওকে,,
সাগরঃআপনি সত্যিই কিন্তু সুন্দর,,
মিম একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,আবার প্লটিং,,,
এখন কিছু বলছি না,,,আবার দেখা হলে মেরে দেবো,,,

বাসায় গিয়ে আমি আমার রুমে চোলে গেলাম,,,

দুপুরে সবাই খেতে বসলাম,,

খাবারের মেনু দেখে জিবে পানি এসে গেলো,,
মিম আসবে বলে এত কিছু,,,

আমি গফাগফ খেতে লাগলাম,,
নিলা খাবার খাওয়া রেখে আমার খাওয়া দেখছে,,

মিমঃকিরে কোথায় তাকিয়ে আছিস,,,হা করে তাকিয়ে না থেকে খা,,
নিলা কিছুটা লজ্জা পেলো,,

আমি খেয়ে রুমে চোলে আসলাম,,
কিছুক্ষন পর বারান্দায় গেলাম,,
বারান্দায় গিয়ে দেখি
ইরা ফোনে কথা বলছে,,

আমি কাছে যেতেই ইরা ফোন কেটে দিলো,,
আমি ঃকিরে কার সাথে কথা বলছিস
ইরাঃককই কার সাথে কথা বলি,,
আমিঃআমি তো দেখলাম বললি,,,তা ছেলেটা কে,,
ইরাঃকেউ না,,
আমি ঃনতুন প্রেমে পরলি নাকি,,
ইরাঃতুমি না,,,ইরা লজ্জা পেয়ে চোলে গেলো,,

রাতে আমরা সবাই বসে গল্প করছি,, আর হাসাহাসি তে মেতে আছি,,

বেসি ক্ষন আর ওদের মাঝে না থেকে ছাদে চোলে গেলাম,,

নির্বিক ভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি,, তখন নিলা এসে আমার পাসে দারালো,,
আমি একবার নিলার দিকে তাকিয়ে আবার আকাশের দিকে তাকালাম,,,
নিলা নরম সুরে বললো,,
চোলে আসলেন যে,,,
আমিঃএমনেই,,,
নিলাঃও,,,
নিলা কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো,,
আবার বললো,,
নিলাঃসবার সাথে তো হেসে হেসে কথা বলেন,,,আমার সাথে কেনো বলেন না,,, খুব বেসি অপরাধ করে ফেলেছি তাই না,,

এই অন্ধকারেও নিলার চোখের বিন্দু বিন্দু পানি আমি স্পস্ট দেখতে পাচ্ছি.
এই অন্ধকারেও নিলার চোখের বিন্দু বিন্দু পানি আমি স্পস্ট দেখতে পাচ্ছি,,

নিলাঃকিছু বলছেন না যে,,খুব কি অপরাধ করে ফেলেছি,,,
আমিঃদেখেন,, ভাইয়া ভাবির বিশ্বাষ নষ্ট করতে পারবো না,, আর তাছারা ভাবি এমনেই ওই দিনের পর থেকে বেসি একটা ভালো ভাবে না আমাকে হয়তো,,
নিলাঃওসব আমি মেনেজ করবো,, আপনি শুধু আমাকে কাছে টেনে নেন,, বাকি সব আমি দেখবো,,,
আমিঃদেখুন এটা হবার নয়,ভালো কাউকে খুজে নিয়েন,,,
এই বলে যেই চোলে আসতে যাবো, তখন নিলা আমার হাত দরে দেয়ালের সাথে ঠেসে দরলো,,
রাগী স্বরে বললো,
নিলাঃএটা হবার,, একশ বার হবে,,আমার ভালো কাউকে প্রোয়োজন নেই তোকেই প্রোয়োজন,, কি ভেবেছিস,,শান্ত ভাবে থাকি বলে এতটাও শান্ত না আমি,,,তোকে চাই, তোকে লাগবে তোকে প্রোয়োজন।
আমিঃদেখুন আপনি কিন্তু বে….
উম উমমমমম

নিলা আর কিছু বলতে দিলো না আমায়,,
ওর ঠোট দিয়ে আমার ঠোটের মাঝে চেপে দরলো,,
কিছুক্ষন পর ছেরে দিলো,,
আমি হাপাতে লাগলাম,,
নিলাঃচুপচাপ খেয়ে রুমে গিয়ে ঘুমাবেন,,, ইরা,মিম এদের কারো সাথে যেনো কথা বলতে না দেখি,,আর যদি দেখি,,,তাহলে সবার সামনে কি করবো ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন,,,যান,

আমি নিচে চোলে গেলাম,,

কি মেয়েরে বাবা,,,মুহুর্তেই রং বদলাতে পারে,,,
ওর অগ্নী মুর্তি দেখে আমি আর কিছু বলতে পারলাম না
ভয়ে,,
এই ভাবে কিচ করে কেউ,,,ঠোট যেনো আরেকটু হলে ছিরে যেতো,,,

রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম,

পরের দিন,,সকালে চোখ খুলতেই দেখি একজোরা চোখ আমার মুখের কাছে,,
আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,
আমি লাফ মেরে উঠে বসলাম,,

ভালো করে তাকিয়ে দেখি নিলা,,
নিলাঃ কি হোয়েছে, এভাভে লাফ মেরে উঠলেন কেনো,,
আমিঃতুমি, না মানে আপনি এখানে কেনো,,,
নিলাঃতুমি করে বলেন,,
আমিঃআমি সবাইকে তুমি করে বলি না,,,
নিলাঃতুমি করে বলবেন না,,
আমিঃ না,,
নিলাঃ তাহলে আমি দরজা আটকিয়ে চিৎকার করবো,, তারপর বুঝবেন, কি হবে,
আমিঃদেখুন বেসি বারাবারি করবেন না,,
নিলাঃআবার আপনি করে বলছেন,,,আমি দরজা আটকাচ্ছি,,,
নিলা দরজা আটকাতে যাচ্ছে,
আমি ভয়ে ওর হাত দরে টান দিলাম,,
তারপর যা হবার তাই হলো,,
আমার উপর এসে পরলো,,

নিলা আমার বুকের উপর হাত ভর দিয়ে আমার মুখের কাছে মুখ এনে বললো,,, কি টান দিলেন কেনো, তুমি করে বলবেন তো,,,
আমিঃহুম বলবো,,এবার আমার উপর থেকে সরো,,
নিলা ঃএত তারাতারি সরবো নাকি,,
আমিঃকেউ দেখে ফেলবে,,সরো,,
নিলাঃএক দমই না,,
এই বলে নিলা আমার গালে আলতো করে হাত দিলো,,
আমিঃএই কি করছো,, সরো বলছি,, না হয় ফেলে দেবো,,
নিলাঃপারলে ফেলে দেও,,

উফ কি জামেলায় পরলাম,,,

হঠাৎ সে সময় মিম রুমে ঢুকলো,,
রুমে আমাদের দেখে মুখে হাত দিয়ে চেয়ে থাকলো,,
আমি তরিগরি করে ওকে জোর করে পাসে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে রুম থেকে বের হোয়ে গেলাম,,,,

লাজ লজ্জা সব গেছে মেয়েটার,,

নিলা মিম কে বললো,,,তুই আর আসার সময় পেলি না,,,
মিমঃবেস তো রোমান্স করছিস দেখছি,,
নিলাঃরোমান্স আর হলো কোথায়,,তুই সবকিছুতে পানি ঢেলে দিলি,
মিমঃতা কবে থেকে সবুজ ভাইয়ার সাথে রিলেশন করলি,,
নিলাঃএখানে আসার পর থেকে,,
মিমঃধুর আমি আরো চেয়েছিলাম,সবুজ ভাইয়ার সাথে আমি মনের লেনদেন করবো,, আর তুই
নিলাঃখবরদার,,যা বলেছিস বলেছিস,, এর পর যেনো আর না বলিস,,ওনার দারে কাছেও যেনো তোকে না দেখি,,
মিমঃবাব্বা,,ওনি একে বারে প্রেমে লাইলি হোয়ে গেছে,,,

নিলাঃমাইর দেবো একটা,,চল,,

আমি ফ্রেস হোয়ে নাস্তা খেতে টেবিলে বসলাম,,,
আমিঃভাবি নাস্তা দিয়ে যাও,,
ভাবিঃবসে থাক দিচ্ছি,,

একটু পর ভাবি নাস্তা নিয়ে আসলো,,
নিলা সহ সবাই আসলো নাস্তা
খেতে,,
নিলা বরাবরের মতো আমার সমনে বসলো,,
বসে আছে ঠিক আছে,, কিন্তু একটু পরই ওর পা দিয়ে আমার পায়ে স্লাইড করছে,,,

ওফ খাওয়ার সময়ও ফাজলামো,,
ভাবিঃকিরে সবুজ বিবরবির করে কি বলিস
আমিঃকিছু না,,

নিলা সুন্দর তার দু পা দিয়ে আমার একপা পেচিয়ে দরে নাস্তা খাচ্ছে,,, সবার সামনে কিছু বলতেও পারছি না,

আপু ফোন করেছিলো আপুর কাছে যেতে,,
আমি বিকালে আসবো বলেছি,,,

দুপুরে খাওয়ার সময় নিলা একই ভাবে পা দিয়ে দুষ্টমি করছে,,
ভাবলাম,,ভাবি কে যাওয়ার কথাটা
বলি,,
আমিঃভাবি, আমি বিকালে আপুর বাসায় যাচ্ছি,,, আপু যেতে বলেছে,,

এ কথা সুনে নিলার সব দুষ্টমি বন্ধ হোয়ে গেছে,,পা দিয়ে গুত দেওয়া,, স্লাইড করা সব বন্ধ হোয়ে গেলো,,
হাসি মুখটা মলিন হোয়ে গেলো,,
খাওয়া বন্ধ করে আমার দিকে ঘোর লাগা চোখে তাকিয়ে আছে,,
ভাবিঃকদিন থাকবি,,
আমিঃদু সপ্তাহর মতো,,
ভাবিঃও,,তোর ভাইকে বলে যাস,,
আমিঃওকে,,

আমি খেয়ে রুমে এসে একটু রেষ্ট নিচ্ছি,,
চোখটা একটু বন্ধ করেছি,,
হঠাৎ দরজা আটকানোর শব্দে চোখ খুললাম,,
তাকিয়ে দেখি নিলা দরজা আটকিয়েছে,,
আমিঃএই কি করছো,, দরজা খুলে দেও,,সবাই কি ভাববে,,
নিলা ঘোর লাগা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে এক পা এক
পা করে আগাতে লাগলো,,
আমিঃদরজারটা খুলে চোলে যাও,,কেউ দেখলে খারাফ ভাববে,,

নিলা আমার কাছে এসে ধাক্কা মেরে খাটে ফেলে দিয়ে আমার উপর ওর গা এলিয়ে দিলো,,

আমার মুখের কাছে মুখ এনে নিলা বললো,,আমার কারনে চোলে যাচ্ছেন,, তাই না,,
আমিঃতোমার কারনে যাবো কেনো,,
নিলা ঃআমি আপনাদের বাসায় থেকে খুব সমস্যা করছি তাইনা,,

নিলা কাদছে,, ওর চোখের পানি আমার মুখে ফোটা ফোটা আকারে পরছে,,
নিলাঃচোলে যাবো আপনাদের বাসা থেকে,,
এই পৃথিবী ছেরেই চোলে যাবো,,
আমিঃপাগলটাগল হলে নাকি, কি বলছো,,

নিলা হঠাৎই আমার বুকের ভিতর ওর মুখটা ঘুজে দিলো,,
তারপর কাদতে কাদতে বললো,,সত্যি মরে যাবো,,আপনাকে ছারা,,বাচবো না,,খুব ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে,,,,,জানি না কেনো এতো ভালোবেসেছি আপনাকে,, শুধু এটা জানি, আপনাকে ছারা থাকতে পারবো না,,
নিলা আমার বুকের ভিতর ঢুকরে ঢুকরে কাদছে,,

মুহুর্তেই ভাবির বলা কথা ভুলে গেলাম,,
তোমাদের সম্মান দিয়ে কি হবে যদি আমি ই না বাচি,আমার প্রান না বাচে

আমি নিলার মাথায় হাতভুলাতে লাগলাম,,

নিলা কান্না বন্ধ করে মাথা উঠিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালো,,
বুঝার চেষ্টা করছে,,
আমি ওর মাথায় হাত ভুলিয়েছি কি না,,

নিলা জিগাসু দিষ্টিতে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে,,
আমি ওর মাথা টা টেনে কপালে একটা চুমু দিলাম,,
নিলা এবার শক্ত করে জড়িয়ে দরে বুকের ভিতর মুখ ঘুজে দিয়ে কাদতে লাগলো,,
কেনো জানি আমার চোখের কোন বেয়ে পানি পরতে লাগলো,,,,
কিছুক্ষন পর হঠাই দরজাটা কে যেনো নক করতে লাগলো,,,
কিছুক্ষন পর হঠাৎই দরজাটা কে যেনো নক করতে লাগলো,,
আমি ভয় পেয়ে গেলাম,, ভাবি দেখলে কি হবে,,

নিলা আমার ভয় পাওয়া দেখে মুখের দিকে তাকিয়ে আমার দুগালে আলতো করে দু হাত দিয়ে আদুরের গলায় বললো ,, এত ভয় পাচ্ছেন কেনো, আমি আছি না,, আমি থাকতে কেউ আপনাকে কিছু বলতে পারবে না,, সুয়ে থাকেন,, আমি দেখছি কে আসছে,,

নিলা দরজা খোলার জন্য যাচ্ছে,, ভয়ে আমার হার্ডবিট বেরে গেছে,,

নিলা দরজা খুলতেই মিমের গলার আওয়াজ পেলাম,,, তাহলে কি মিম,,
উপ বড় বাচা বেচে গেলাম,,,

মিমঃকি আপনাদের রোমান্স শেষ হলো,,
নিলাঃমারবো একটা,,বের হ রুম থেকে,,
মিম ঃকি আবার রোমান্স করবি নাকি,,
নিলাঃজাবি তুই,,
মিমঃআরে বাবা যাচ্ছি,,,
মিম রুম থেকে বের হোতে যেয়ে আবার ফিরে এলো,,

মিমঃও যেকারোনে আসা,, আপনিতো বিকালে চোলেই জাবেন,,আমি ঘুরবো কার সাথে,,, আমাদের মহারানির তো সময় হবে না আমাকে নিয়ে ঘুরার,,আপনারাতো আপনাদের রোমান্স করছে,,এখন আমার রোমান্স করার জন্য একজন ঠিক করে দিয়ে যান,
আমিঃতোমার যোগ্য কাউকেইতো দেখছি না,,
মিমঃআবাদত আপনার ওই বজ্জাত বন্ধুটাকে বলে যান,,
নিলাঃএত ঘুরিয়ে পেচিয়ে না বলে সোজাই তো বলতে পারতি,,,
যা রুম থেকে,,
আমিঃআচ্ছা আমি বলে দেবো,,,,
মিম রুম থেকে বের হোয়ে গেলো,,

নিলা আবার আমার কাছে আসলো,,
আমার বুকের কাছে ভর দিয়ে মুখের কাছে মুখ এনে বললো,,
আপনি সত্যি কি বড় আপুর কাছে চোলে যাবেন,,
আমিঃহুম,,
নিলাঃ নাগেলে হয় না,,,
আমিঃআপু অসুস্থ, যেতেই হবে,,আর এত টেনশন করছো কেনো,,দুসপ্তাহর জন্যইতো যাচ্ছি,, আবার চোলে আসবো,,

নিলা আমাকে জড়িয়ে দরে বুকের ভিতর মুখ গুজে দিয়ে বললো,,
নিলাঃআমি আপনাকে ছারা থাকতে পারবো না,ভালো লাগেনা আপনাকে ছারা,,
আমিঃপাগলি একটা,,,চোলে আসবো তারাতারি,,
নিলাঃহু

হঠাৎ ই ভাবি, সবুজ সবুজ বলতে বলতে রুমের ভিতর ঢুকে গেলো,
এসেই আমাদের দুজন কে একসাথে
দেখে,,হা হোয়ে গেলো,,

আমি তো ভয়ে শেষ,,
ভাবিঃবা বা,,ভালোই এগিয়ে ছো দুজন,,

নিলা কিছুটা আদুরি গলায় বললো,,আপু….
ভাবিঃথাক থাক,, এতো লজ্জা পেতে হবে না,,
দেবর তো দেখি আমার বোন কে পাগল করে ছারলো,,
বিয়ে তো দেখি খুব তারাতারি দিতে হবে,,

ভাবিঃআচ্ছা থাকো তোমরা,,
ভাবি চোলে গেলো,,

নিলার মুখের কোনে হাসি লেগে আছে,, ভাবির বলা কথা শুনে,

নিলাঃআপনি রেষ্ট নেন,,আমি আপনার জামা কাপর ঘুছিয়ে দিচ্ছি,,,
এই বলে নিলা আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে জামা কাপর গোছাতে চোলে গেলো,,,,

চোখ বন্ধ করে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলাম,,,,

বিকালে চোলে যাচ্ছি,,

নিলা মুখ গোমরা করে দারিয়ে আছে,,
নিলার চোখের কোনে পানি দেখতে পেলাম,, নিলাকে বললাম,,
আমিঃএদিকে আসো,,

নিলা গুরি গুরি পায়ে আমার সামনে এসে মাথা নিচু করে দারালো,,
ওর মুখ দরে উপরে উঠালাম,,
মিম দেখি একটু দুরে দারিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে,,
আমিঃসালিকা, চোখ বন্ধ করো,,
মিমঃহুম করছি,,

আমি নিলার কপালে আলতো করে একটা চুমু দিলাম,,
নিলা সাথে সাথে আমাকে জড়িয়ে দরে কেদে দিলো,
আমিঃআরে পাগলি,, এমন করছো যেনো দুবছরে জন্য যাচ্ছি,,
নিলাঃআমার কাছে দুসপ্তাহ দু বছরের মতো,,,
আমিঃআচ্ছা আমি তারাতারি চোলে আসার চেষ্টা করবো,,
ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে কাপালে আরেকটা চুমু দিয়ে মিমের কাছে গেলাম,,

আমিঃহোয়েছে আর চোখ বন্ধ করে থাকতে হবে না,, আমি সাগর কে বলে দিয়েছি,, ও এসে তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে,,,

আমি বাসে চরে আপুর বাসায় চোলে আসলাম,,
অন্যদিকে সাগর মিম কে পিক করতে এসেছে বাসায়,,

মিম বাসার সামনে আসলো,,
সাগরঃতা মিস আপনি কি বাইকে যাবেন নাকি রিক্সায়,,

মিমঃরিক্সায় যাবো,
সিগরঃচলেন তাহলে,,,

সাগর আর মিম রিক্সায় বসে আছে,,

সাগরঃএই আপনার হাতে কি,,
মিমঃকোথায়,,
সাগরঃওই যে আপার হাতে, দেখি দেখি,
সাগর যে মিমের হাত দরতে এইসব বলেছে,,মিম তা বুঝতে পেরে হাত ছারিয়ে সাগরের কাদে দুটো থাপ্পর মেরে বললো,,বজ্জাত একটা হাত দরার ধান্দা,,,
সাগরঃহাহাহা,,সুন্দরি মেয়েদের হাত না দরে কি পারি,,
মিমঃমারবো একটা, ফাজিল কোথাকার,,
সাগর চুপ করে থাকলো,,
মিমঃকয়টা মেয়েকে পটিয়েছো,,
সাগরঃএকটাও না,,তুমিই প্রথম,,
মিমঃকি,, আমাকে পটাচ্ছো,,
সাগরঃসরি সরি, ভুলে মুখ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে,,
মিমঃহুম,,
সাগর কিছু টা মন খারাফ করলো,,চেয়েছিলো ওকে পটাবে, কিন্তু যেই মেয়ে পটানোর কথা শুনেই রেগে গেলো,,

মিম সাগরের চুপ থাকা দেখে সাগরের সামনে হাত বারিয়ে দিলো,,
সাগরঃকি
মিমঃদরো
সাগরঃশুধু শুধু হাত কেনো দরবো,,
মিমঃআর বাহানা করা লাগবে না,,তুমি যে আমার হাত দরতে চাও সেটা আমি বুঝি,,
সাগর মিমের হাত দরলো,,
মিমঃহাতে কি শক্তি নেই শক্ত করে দরো,,
সাগরঃহুম,,
মিমঃবিয়ের পর আমরা কিন্তু বিদেশে চোলে যাবো,, আমার বাসায়,

মিমের কথা শুনে সাগর যেনো শক খেলো,,
সাগরঃকি ইই.
মিমঃযেটা শুনেছো সেটাই, তুমি যে আমার প্রথম দেখায়ই প্রেমে পরেছো সেটা আমি ভালোভাবে বুঝেছি,,
সাগরঃতুমি কি দেখে আমার প্রেমে পরলে,,
মিমঃতোমার প্লোটিং দেখে,,
সাগর ঃহাহাহাহা,,
মিমঃতবে এই প্লোটিং যদি আমার সাথে ছারা অন্যকারো সাথে করেছো,,তাহলে বুঝবে এই মিম কি জিনিস,,
সাগরঃতাহলে একটা চুমু দেও,,
মিমঃকি,, প্রেম শুরু হোতে না হোতেই চুমু,,
সাগরঃ থাক লাগবে না,,
মিমঃহোয়েছে আর রাগ করা লাগবে না এদিকে আসো,,
মিম সাগরে গালে একটা চুমু দিলো,,
সাগল তার ঠোট দেখিয়ে বললো,,ওই খানে না এই খানে,,
মিমঃবদ একটা,, লজ্জা নেই,,চোখ বন্ধ করো,,,দিচ্ছি,,।

আজ দুসপ্তাহর কাছাকাছি হোতে
চললো আমি আপুর বাসায়,।

ভাবি হঠাৎ আমার কাছে ফোন দিলো,,
আমিঃহ্যা ভাবি বলো,,কেমন আছো
ভাবিঃআমি ভালোই আছি,, তোমার নিলা ভালোনেই,,
আমিঃকেনো কি হোয়েছে,,
ভাবিঃআজ দুসপ্তাহ হোতে চললো,,মেয়েটার কোনো খোজ নিয়েছো,,তোমার টেনশনে মেয়েটা খাওয়া দাওয়া করছে না,,
আমিঃনিলাকে বইলো আজ বাসায় আসছি,,
ভাবিঃবাসায় যাওয়ার দরকার নেই,, আমাদের বাসায় চোলে আসো,,সাথে আপু দুলাভাইকে নিয়ে আসো,,,,
আমিঃআচ্ছা,,তোমরা তোমাদের বাসায় গেলে কবে,,
ভাবিঃচারদিন হলো,,
আমিঃও
ভাবিঃতারাতারি চোলে এসো,, তোমার পেয়সি তোমার জন্য ছটপট করছে,,
আমিঃআর লজ্জা দিও নাতো, আসছি,,,

আপু কে নিয়ে বিকালেই নিলাদের বাসায় গেলাম,,

বাসার ভিতর ঢুকতেই নিলা কোথা থেকে যেনো দৌরে এসে আমার বুকে জাপিয়ে পরলো,,
আমি ও আমার প্রানকে পরম আদরে জড়িয়ে নিলাম,,ওকে পেয়ে যেনো সব ভুলে গেছি,,

হঠাৎ ই চারো দিকে চোখ যেতেই দেখি নিলার বাবা,,আমার আব্বু, ভাইয়,,আরো কিছু রিলেটিব আমাদের চার পাসে ছোফায় বোসে আছে,,,
আমরা সবার মাঝখানে দুজন দুজনকে জড়িয়ে দরে দারিয়ে আছি,,
সবাই মুচকি মুচকি হাসছে,,আমি নিলাকে ছারানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু এতজোরেই জড়িয়ে দরেছে যে ছারাতে পারছি না,,,
আমি নিলাকে আছতে আছতে বললাম,,
আমিঃএই সবাই দেখছে,ছারো,,
নিলা বুক থেকে মাথা উঠিয়ে যেই দেখলো সবাই তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে
তখন নিলা লজ্জা পেয়ে ভিতরে দৌরে পালালো,,

আমি মাথা নিচু করে দারিয়ে থাকলাম,
কেউ কিছুই বললো আমায়,
নিলার বাবা বললো,,
এই নওরিন(ভাবির নাম)সবুজ বাবাজিকে ভিতরে নিয়ে যা,,

ভাবি এসে আমাকে ভিতরে নিলার রুমে নিয়ে গেলো,,
ভাবিঃদেবরজি আজ থেকে এটাই তোমার রুম,,,
আমিঃমানি,বুঝলাম না,
ভাবিঃপরে বুঝবে,,

ভাবি রুম থেকে চোলে গেলো,,

বাহ নিলার রুমটা তো বেস সাজানো গোছানো,,,

একটু রেষ্ট নেওয়ার জন্য নিলার খাটে সুলাম,,
চোখ বন্ধ করে আছি,,
হঠাৎ কারো আলতো ছোয়া অনুভব করলাম,
চোখ খুলে দেখি নিলা,,
নিলা আমার বুকে সুয়ে পরলো,,
আমিঃআমার পাগলিটার কি হোয়েছে,,ঠিক মতো খাওনি,,চেহারা এমন শুকালো কেনো,,
নিলাঃআপনি দুরে ছিলেন তাই তো কিছু খেতে ভালোলাগেনি,,
নিলা আদুরের গলায় অভিমান করে বললো,,আপনি দুসপ্তাহ কিভাবে থাকতে পারলেন, জানেন আমার কত কষ্ট হোয়েছে,,।
আমিঃপাগলি এই যে চোলে আসছি না,,আর কষ্ট পেতে হবে না,,
নিলাঃহু,,
আমিঃআচ্ছা সবাইকে দেখলাম এখানে,, কোনো আয়োজন আছে নাকি,,
নিলা মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললো,,,
নিলাঃ বলবো না,,
আমিঃবলোনা,,
নিলাঃবলবো,,আগে দুটো পাপ্পি দিতে হবে,
আমিঃআচ্চা কাছে আসো দিচ্ছি,,
উমা উমা,,,—এবার বলো,,
নিলাঃআপনার আর আমার বিয়ে,,
আমিঃকিইইই,
খুশিতে নিলাকে জড়িয়ে দরলাম,,

সন্ধায় ভাবি আমাকে পান্জাবি দিয়ে গেলো পড়ার জন্য,,
রোমান ইরা, মিম সাগর আমাদের দেখতে আসলো রুমে,,
নিলাকে ইরা আর মিম সাজাচ্ছে,
আমি নিলাকে দেখার জন্য ওর রুমে গেলাম,,
ইরা আর মিম পথ আটকি য়ে দারালো আমার,
মিমঃনা ভাইয়া,,বিয়ের আগে বৌউ দেখতে দেবো না,,
কি আর করার, সাগর আর রোমানকে আসতে বললাম,,
ওরা এসে ওদের সরিয়ে দিলো,,
আমি নিলার কাছে গেলাম,,
নিলাকে বধু বেসে কি সুন্দর লাগছে,,
আমিঃকি সুন্দর তুমি,,
নিলাঃআপনি কি কম সুন্দর নাকি,, জানেন ওরা আমায় আপনার কাছে যেতে দেয়নি,,
আমিঃআমি বুঝতে পেরেইতো তোমার কাছে চোলে এসেছি,,
নিলাঃহুম,,
নিলাঃবিয়ে কখন হবে,,
আমিঃএকটু পর,,
নিলাঃআমার আর তর সইছে না,,
আমিঃপাগলি একটা,,

কিছুক্ষন পর বাসায় কাজি এনে আমিদের বিয়ে পড়িয়ে গেলো,,
অন্যদিকে সাগর-মিম,রোমান-ইরা, নিলার রুমে আমাদের বাসর ঘর সাজিয়েছে,,,

সবার সাথে কথা বলে বাসর ঘরে যেই ঢুকতে যাবো,, তখন ইরা মিম সাগর রোমান পথ আটকিয়ে দরলো,,
সাগরঃমামা ভিতরে তো এত তারাতারি ঢুকতে দেবো না,
আমিঃকেনো?
রোমানঃছারতে পারি এক শর্তে,,আমাদের একটা কথা দিতে হবে,,
আমিঃকি শর্ত তারাতারি বল,,ভিতরে আমার জান টা আমার জন্য অপেক্ষা করছে,,
রোমানঃআমাদেরকে এক করতে হবে তোমায়,
আমিঃআচ্ছা ইরার টা আমি দেখবো,,মিমের টা নিলা দেখবে,,এখন সর,,
আমি ভিতরে ঢুকে দরজা আটকিয়ে দিলাম,,
নিলা এসে আমার পা ছুয়ে সালাম করলো,

খাটে এসে বসলাম দুজন,
হঠাৎই নিলা খাট থেকে বালিশ একটা ছুরে ফেলে দিলো,,
আমিঃআহা কি করছো,,বালিশ ফেলছো কেনো,, তুমি সুবে কোথায়,,।
নিলাঃআপনার বুক আছে কি করতে, আজ থেকে এটাই আমার বালিশ,,,।
(নিলা আমার বুকে সুয়ে বললো)
আমিঃপাগলি একটা,,
নিলাঃহুম আপনার পাগলি,,সারা জীবন আপনার পাগলি হোয়েই থাকতে চাই।
আমিঃআমার পাগলি,,
নিলাঃহোয়েছে,এবার চোখটা বন্ধ করেন তো,,
আমিঃকেনো,,?
নিলাঃবন্ধ করেন না,,
আমিঃআচ্ছা করছি,,এই করলাম,,
হঠাৎই নিলা আমার মাথা দরে ওর ঠোট দুটো আমার ঠোটের মাঝে ডুবিয়ে দিলো,,

ওর ঠোটের ছোয়া পেয়ে আমার সারা শরিল সিহরিত হোয়ে গেলো,,
নিলা ওর ঠোট দিয়ে আমার ঠোটে চুমুক দিয়ে দরেছে,,
আমি ও তার ডাকে সারা দিলাম ,
ডুবে গেলাম ভালোবাসার অন্তহীন এক মুহুর্তে। আগামি পথ চলার এক নতুন অঙ্গিকার নিয়ে।
আরো গল্প পড়ুনঃGolpo বাড়িওয়ালার_দুষ্টু_মেয়ে
Share:

পাশের বাড়ির মেয়ে

পাশের বাড়ির মেয়ে


----সকালে বুকের উপর ভারী কোন কিছুর

চাপে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।

চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি কেউ

একজন আমার বুকের উপর শুয়ে আছে।

আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি এটা

বাস্তব? কে হতে পারে?

ভূত নয় তো আবার!!!

না না ভূত না পেত্নী হবে,,

ভূত তো ছেলে হয়।

কিন্তু যে আমার বুকের

উপর শুয়ে আছে সেটা তো একটা

মেয়ে।

মেয়ে বুঝতে পারছি এই কারণে যে

তার লম্বা চুলে তার মুখটা ডাকা।----

তারপর আমি ভালো করে চেয়ে দেখি

রুপন্তী আমার বুকের উপর শুয়ে আছে।

কিন্তু ও এখানে?

আরো গল্প পড়ুন:গল্প বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে Balobasar Golpo Bariwalar Ragi meye
ওর তো এখানে থাকার কথা না।

ও ত তার বাপের বাড়িতে থাকার কথা।

এখানে কিভাবে আসলো?

আসছে যখন ভালোই হয়েছে।

কি সুন্দর করে আমার বুকের উপর মাথা রেখে

ঘুমুচ্ছে,আমি একটুও নড়তে পারছি

না,নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে

আমার।

Share:

বাংলার সেরা গল্প কিশোরী বউ। Bangla Golpo KISHORI bou

......কিশোরী বউ......
------------------------------
S A Shahinul Akash

ভাইয়া আমার না তুমাকে অনেক ভালো লাগে তুমি আমাকে বিয়ে করবে..
বলে কি এই মেয়ে মাত্র ক্লাস এইটে পড়ে আর এই মেয়ে আমাকে বলে কিনা ভাইয়া আমাকে বিয়ে করবে  আল্লহ আমাকে তুইলা নাউ না কেনোকি কি জিনিস তুমি জানো  আমার এতো জানতে হবে না এই পিচ্চি মেয়ের কথা শুনে আমার হার্ট অ্যাটাক করার অবস্থা
আগে আমার পরিচয় টা দিয়ে নেই আমি আকাশ আব্বু আম্মুর একমাত্র ছেলে। আমি পড়াশুনা শেষ করে আব্বুর ব্যবসা দেখা শুনা করছিআর জার সাথে কথা বলছিলাম অর নার প্রিয়া আমাদের পাসের বাসায় থাকেএবার ক্লাস এইটে পড়ে আমার আম্মু প্রিয়া অনেক আদর করে তার জন্য আমি কিছু বললেই আম্মুর কাছে বলে দিবে তার জন্য কিছু বলতেও পারি না প্রিয়া দেখতে অনেক কিউট একদম পরির মতো জেনো একটা পরির বাচ্চা।।

প্রিয়াঃকি হলো বলো না ভাইয়া আমাকে বিয়ে করবে না......
আমিঃ দেখ প্রিয়া তুই আগে বড়ো হয়ে নে তার পর ভাববো
প্রিয়াঃনা আমার এখনি উত্তর চাই
আল্লাহ রসি ফালাও আমি উপরে উঠে যাই। কি যুগ  আসলো এই পিচ্চি পিচ্চি বাচ্চা কাচ্ছা পুলাপান ও এসে বলছে ভাইয়া আমাকে বিয়ে করবা..
প্রিয়াঃকি হলো ভাইয়া বলছো না কেনো
আমিঃ কি বলবো...
প্রিয়াঃএই যে তুমি আমাকে বিয়ে করবা নাকি না
আমিঃআপু আমি তো তুমাকে বিয়ে করতে পারবো না
প্রিয়াঃকেনো ভাইয়া তুমার গার্ল ফ্রেন্ড আছে নাকি
আমিঃ এই তুই গার্লফ্রেন্ড এর কি বুজিস
প্রিয়াঃসবি বুঝি এখন বলো কি কারনে আমাকে বিয়ে করবে না
আমিঃআসলে তুই এখনো ছোট তো তাই বিয়ে করতে পারবো না।
প্রিয়া কান্না করছে। কি রে তুই কান্না করছিস কেনো
প্রিয়াঃতুমি আমাকে বিয়ে করবা না তাই তো হ্যা!!
প্রিয়াঃআমি এখনি আন্টির কাছে গিয়ে বলে দিবো। আমার আম্মুর কথা বলছে আচ্ছা জা বল।
প্রিয়া চলে গেছে  আর আমি শুয়ে আছি
প্রিয়া কান্না করতে করতে আম্মুর কাছে চলে গেলো আম্মুঃকি হয়েছে আমার প্রিয়া মা কেউ কি বকেছে?

প্রিয়াঃনা
আম্মুঃতা হলে আমার মা টা কান্না করছে কেনো
প্রিয়াঃতুমার ছেলের নামে বিচার আছে
আম্মুঃকি বিচার আকাশ কি করেছে
প্রিয়াঃআগে আমাকে বলো তো আমি কি ছোট নাকি
আম্মুঃনা আমার আমার প্রিয়া মা অনেক বড়ো। কেনো মা আকাশ কি তকে কিছু বলেছে নাকি
প্রিয়াঃআমি তুমার ছেলেকে বলছি ভাইয়া তোমাকে আমার অনেক ভালো লাগে আমাকে বিয়ে করবে
আম্মু প্রিয়ার কথা শুনে হেসে গরাগুরিখাউয়ার অবস্থা
প্রিয়াঃআন্টি তুমি হাসছো কেনো।আমি কি কিছু ভূল বলেছি নাকি
আম্মুঃনা তো মা তুই তো ভুল বলিস নি। তা আকাশ কি বললো
প্রিয়াঃতুমার ছেলে বলে কিনা তুই তো এখনো পিচ্চি আমি তর মতো পিচ্চি কে বিয়ে করতে পারবো না
আম্মুঃআচ্ছা আমি আকাশ কে বলে দিবো
প্রিয়াঃনা তুমি আমার সাথে এসে তুমার ছেলেকে বলবে
আচ্ছা ঠিক আছে চল
আমি শুয়ে আসি এমন সময় আম্মু আর প্রিয়া আমার রুমে আসলো
কি ব্যাপার আম্মু তুমি আমার রুমে কিছু লাগবে
আম্মুঃনা কিছু লাগবে না তুই প্রিয়া কে কি বলেছিস
কই আমি তো প্রিয়া কে কিছুই বলি নি।
আম্মুঃতুই প্রিয়া কে বলেছিস প্রিয়া পিচ্ছি,, প্রিয়া কে বিয়ে করতে পারবি না
আমিঃ হ্যা বলেছি
আম্মুঃকেনো বলেছিস
কেনো আম্মু আমি কি এই পিচ্চিটাকে বিয়ে করবো নাকি
প্রিয়াঃদেখেছো আন্টি তুমার ছেলে আমাকে আবারো পিচ্চি বললো
পিচ্চি কে তো পিচ্চিই বলবো
আম্মুঃতকে প্রিয়া কেই বিয়ে করতে হবে
কিন্তু আম্মু
আম্মুঃএখানে কোনো কিন্তু নেই।আমি যা বলছি এটাই শেষ কথা।
প্রিয়া মা এবার হয়েছে
প্রিয়াঃহ্যা হয়েছে আমি তা হলে এখন বাসায় যাই
আম্মুঃচলে যাবি
প্রিয়াঃএকটু পর আবার আসবো
আম্মুঃআচ্ছা ঠিক আছে যা
প্রিয়া চলে গেছে
আম্মু আমি এই পিচ্চি কে বিয়ে করবো
আম্মুঃহ্যা
কিন্তু
আম্মুঃতকে একটা কথাটা আমার আগেই জানানো উচিত ছিলো
কি কথা আম্মু
আম্মুঃআগে বল আমার কথা তুই রাখবি
আচ্ছা আম্মু রাখবো এখন বলো কথাটা কি
তর আর প্রিয়ার বিয়ে অনেক আগে থেকেই ঠিক করা ছিলো
কি বলো আম্মু
হ্যা আমি ঠিকি বলছি
কিন্তু আমি এই পিচ্চি মেয়েকে বিয়ে করতে পারবো না
দেখ বাবা আমার মান সম্মার টা তো রাখ
আচ্ছা আম্মু ঠিক আছে তুমি যখন বলছো তা হলে আমি প্রিয়া কে বিয়ে করবো।কিন্তু আরো এক বছর পর
আম্মুঃআচ্ছা ঠিক আছে করিস আমি জানতাম আমার আকাশ আমার কথা কোনো দিনি ফেলতে পারবে না।।

(চলবে.........)
Share:

What's on your mind?গল্পঃ*মাইশা* লেখকঃRaj KhAn (পর্বঃ০৫)

What's on your mind?গল্পঃ*মাইশা*
লেখকঃRaj KhAn
(পর্বঃ০৫)
৪র্থ পর্বের পরে থেকে শুরু...
সারা রাত ভেবেও কোনো কুল-কিনারা পেলাম না।
আমার কি এটা করা সত্যিই উচিত হয়েছে?
এই সময় নিজেকে খুব অসহায় লাগছে।
ভালো লাগছে না কিছুই।
ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে।
দরজা খুলে বাহিরে চলে গেলাম একটু মন খুলে কাঁদবো বলে।
নিজের মধ্যে এসব যন্ত্রণা আর ধরে রাখতে পারছি না।
হাটতে হাটতে ছোট্ট পুকুরের ঘাটে এসে বসলাম।
আজকের চাঁদটায় কোনো উজ্জ্বল আলো নেই,
ক্ষীণ আলোতে সব কিছু আরো অন্ধকার লাগছে।
মেঘের সাথে কাটানো দিন গুলোর স্মৃতি মনে পড়ছে।
কত তাড়াতাড়ি আপন হয়ে গিয়ে ছিলো ও,
আবার কত দ্রুতই না দূরে চলে গেলো।
হঠাৎ পুকুরের অপর পাড় থেকে কারো পানিতে নামার শব্দ পেলাম।
পদ্ম ফুলের কলি আর পাতা গুলো কেমন জানি নড়ে উঠলো,
মাছ গুলো খুব তড়পাচ্ছে মনে হলো।
ধ্যান ভঙ্গ করে চিৎকার করে উঠলাম,
-- কে ওখানে?
সাথে সাথে শব্দ থেমে গেলো।
কেউ পিছন থেকে আমার গলাটা শক্ত করে চেঁপে ধরলো।
আমি বারবার ছাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম,
আর চিৎকার করছিলাম।
হঠাৎ কানে ফিসফিস আওয়াজ এলো মিনমিনে গলার,
-- একদম শব্দ করবি না।
তাহলে কিন্তু ছাড়নো না।
-- কে আপনি?
এত রাতে এখানে কি করছেন?
এত বড় সাহস হয় কি করে আপনার?
কথা গুলো শুনে খ্যাক খ্যাক করে একটা বিশ্রী হাসি দিলো ওটা।
-- আমি আসবো নাতো কে আসবে?
আহ,তোর চুলের আর শরীরের ঘ্রাণ আমায় বড্ড টানে।
তোর এতটা কাছে আসার কত চেষ্টাই না করেছি আমি।
আজ তুই নিজেই আমাকে সেই সুযোগ করে দিলি।
-- আপনি আমাকে ছাড়ুন বলছি,
নাহলে আমি চিৎকার করবো।
আমার বোন তানিশা যদি জানে,
আপনি কিছুতেই রেহাই পাবেন না।
নিজের ভালো চান তো,
আমাকে ছেড়ে দিন।
এইবারও সে তার বিশ্রী হাসিটা হাসলো।
তার গায়ে থেকে প্রচন্ড আশটে গন্ধ আসছে,
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে তার হাতের চাঁপে।
-- কেউ আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। কেউ না.....
-- ছাড়ুন বলছি।
তানি...?
বুড়ি মা...?
এত জোরে জোরে চিৎকার করছি,
কিন্তু কেউ মনে হয় শুনতেই পাচ্ছে না।
এমন সময় হাতটা নিজে থেকে আমার গলা ছেড়ে দিলো,
ছায়া মানবটা ছুঁড়ে পড়লো পুকুরে।
দেখে আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
মেঘ ফিরে এসেছে!
মেঘ এক দৃষ্টিতে পুকুরের দিকে তাঁকিয়ে আছে।
খুব জোরে শ্বাস নিচ্ছে,
মনে হচ্ছে প্রচন্ড রেগে আছে সে।
পুকুর থেকে সে ছায়া মানবটা এক লাফে উঠে আসলো আবার।
আর খুব বিশ্রী ভাবে হাসতে লাগলো।
মেঘ হাতে কিছুটা মাটি নিয়ে কি জানি পড়ে,
তার দিকে ছুঁড়ে মারলো।
সাথে সাথে ছায়া মানবটা আর্তনাদ করে গায়েব হয়ে গেলো।
মেঘ এসে আমার সামনে দাঁড়ালো,
জানি না কিসের বশে আমি ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-- মেঘ?
আমি আপনার সাথে যেতে চাই।
দয়া করে আমাকে নিয়ে চলুন।
আমি আপনার সব শর্তে রাজি,
সব মেনে চলবো।
তাও আপনি আমাকে একা করে যাবেন না।
নিয়ে চলুন আপনার সাথে।
মেঘ শুধু একটা কথাই বললো,
-- কথার নড়চড় করবেন না।
আর হ্যা,
ওই জগত আপনার জন্য মোটেও সহজ হবে না।
খুব কঠিন হবে ওখানে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে আপনার।
-- সব পারবো আমি,
ইনশা'আল্লাহ।
শুধু আপনি আমার পাশে থাকবেন।
-- ঠিক আছে,
কাল রাতে আমি আপনাকে এসে নিয়ে যাবো।
তৈরী থাকবেন।
এখন বাসায় যান,
এখানে আপনার থাকাটা নিরাপদ নয়।
মেঘের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রুমে চলে এলাম।
এখন শুধু ভাবছি কিভাবে জ্বীন জগতে নিজেকে টিকিয়ে রাখবো।
এটা একদমই সহজ হবে না আমার জন্য,
সেটা বুঝতে পারছি।
সারাদিন নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলাম।
কোনো রকম উদ্বেগ বা অস্বাভাবিক দুশ্চিন্তা করতে চাইলাম না,
তানিশার চোখকে ফাঁকি দেওয়া বড্ড কঠিন।
ও যদি একবার বুঝে ফেলে মেঘকে তো হারাবোই,
সেই সাথে আমার বিয়ের দিন এগিয়ে আসবে।
তানিশাকে চা দিয়ে আসার সময় সে আমাকে ডাকলো।
-- কিছু বলবি তানি?
-- হুম বলবো।
তুই কি কোনো ভাবে আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিস?
সকাল থেকে লক্ষ করলাম,
তুই আমার সামনে খুব একটা আসছিস না,
দুই-তিন বার ডাকলে তবে একবার আসিস।
কি হয়েছে তোর?
-- কই তেমন কিছুই না।
-- শোন?
এসব রাগ-অভিমান যতই করিস।
তোর বিয়েটা আমি দেবোই।
অতএব, নিজেকে তৈরী কর।
সব মেনে নিতে শিখ,
আমি তো তোকে নদীতে ভাসিয়ে দিচ্ছি না।
আর মেরেও ফেলছি না।
বুড়ি মা?
আপনি তো একটু বুঝাতে পারেন।
সংসার জীবনে সবারই যেতে হয়,
আজীবন এভাবে থাকবে কি করে ও?
দয়া করে ওকে আপনি একটু ভালো করে বলে দিন,
আমি যা করছি মুশুর ভালোর জন্যই।
বলে তানিশা বাহিরে চলে গেলো।
বুড়ি মা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে,
আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
-- আমি তোকে এসব নিয়ে কিছু বলতে চাই না।
আমি জানি তুই আজীবন তোর বোনের মতকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছিস।
সেটা তোর জন্য কতটা ভালো হয়েছে,
সেটা তুইই ভালো জানিস।
শুধু এই টুকুই বলবো,
এইবার নিজের মনের কথা শোন।
যেটা তোর মনে আছে সেটাকে চেঁপে রেখে,
সব কিছু মেনে নিস না।
অনেক হয়েছে মুশু,
এবার অন্তত নিজের ভালোটা নিজে বুঝতে শিখ।
নিজের জীবনে অন্য কারো হস্তক্ষেপ আর কত বল?
যা করবি ভেবে চিনতেই করিস।
আল্লাহ তোর সহায় হোক।
বুড়ি মার কথা শুনে অনেকটা জোর পেলাম।
মনে হচ্ছিলো আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি,
সেটা ভুল নয়।
এবার মন যেটা বলে সেটাই শুনবো।
বারবার ঘড়ির দিকে তাঁকাচ্ছিলাম,
১২টার উপরে বাজতে চললো।
এখনো মেঘ এলো না,
তবে কি উনি আজ আসবেন না?
নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে গেলো নাতো উনি?
ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখ লেগে গেলো,
টেরই পেলাম না।
উনি আমাকে ডাকলেন,
-- মাইশা...???
আমি ধড়পড়িয়ে উঠে চারিদিকে তাঁকালাম,
কিন্তু কোথাও উনি নেই।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-- কোথায় আপনি?
আপনাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না কেনো?
-- আমি আয়নার ভিতরেই আছি।
-- আয়নার ভিতরে?
আপনি বেরিয়ে আসছেন না কেনো?
আমাকে আপনার সাথে নিবেন কি করে তাহলে?
-- আপনি আমার সাথে আসতে পারবেন না।
আপনাকে একাই জ্বীন জগতে আসতে হবে।
-- আমি একা চিনবো কি করে?
আর জ্বীনরাজ্যে আমাকে ঢুকতেই দিবে বা কেনো?
-- আমি আপনাকে যেভাবে বলছি সেভাবে আসুন।
এটা আপনার জন্য ১ম এবং কঠিন এক পরীক্ষা।
জ্বীনরাজ্যে যদি একবার ঢুকতে পারেন,
কেউ আপনাকে কিচ্ছু বলতে পারবে না।
-- কিন্তু আমি কি করে যাবো?
-- একটু বাদেই আয়নায় একটা তীক্ষ্ণ রেখা ফুঁটে উঠবে,
সেটায় বিসমিল্লাহ বলে আঙ্গুল রাখার সাথে সাথে,
আপনি আয়না জগতে প্রবেশ করতে পারবেন।
এর জন্য আপনাকে সময় দেওয়া হবে মাত্র ১২ সেকেন্ড।
এর মধ্যে না পারলে আর কখনোই আপনি ঢুকতে পারবেন না।
তারপরের গুলো আপনাকে আমি সময় করে বলে দেবো।
আর একটা কথা,
যতই যা হোক, পিছনে ফিরে তাঁকাবেন না।
মেঘের কথা শেষ হতেই,
আমার দরজায় কেউ কড়া নাড়লো।
বাহিরে থেকে বোনের গলা শুনলাম,
-- মুশু?
দরজাটা খোল।
তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আয়নার দিকে তাঁকিয়ে দেখলাম,
লাল রঙ্গের রেখা ফুঁটে উঠেছে।
এদিকে তানিশাও খুব জোরে জোরে কড়া নাড়ছে,
ওর হয়তো খুব বেশী জরুরী আমার সাথে কথা বলাটা।
দরজা খুলবো নাকি রেখায় হাত রাখবো বুঝতে পারছিলাম না।
তানিশা এত জোরে ধাক্কাচ্ছে,
যে মনে হচ্ছে দরজাটাই ভেঙ্গে ফেলবে।
হাতে সময়ও বেশী নেই,
এক্ষুনি রেখাটায় আঙ্গুল না রাখতে না পারলে,
আমি আর আয়না জগতে প্রবেশ করতে পারবো না।
তানিশা বাহির থেকে চিৎকার করছে,
-- মুশু?
কোথায় তুই?
এত জোরে ধাক্কাচ্ছি,
শুনতে পাচ্ছিস না?
তুই দরজা খুলবি?
নাকি আমি দরজাটা ভাঙ্গবো?
আমাকে যদি দরজা ভাঙ্গতে হয়,
তাহলে তোর কপালে অনেক দুঃখ আছে।
কয়েক বার জোরে ধাক্কা দেওয়ার সাথে সাথে,
দরজাটার ছিটকানিটা ভেঙ্গে গেলো।
তানিশা সাথে সাথে আমার রুমে ঢুকে পড়লো।
এদিকে আঙ্গুল রাখার সাথে সাথে,
কি যেনো আমাকে টেনে আয়নার ভিতরের দিকে নিয়ে গেলো,
তখন মনে হচ্ছিলো আয়নাটা এক ধরণের পাতলা পর্দা।
যাই হোক,
ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে,
তীব্র আলোর ঝলকানি আমার চোখে লাগলো।
আমি তাঁকাতেই পারছিলাম না।
একটু বাদে আস্তে আস্তে আলো ক্ষীণ হয়ে উঠলো।
ভালো করে চারপাশটা তাঁকিয়ে দেখলাম,
চারদিকে ছোট-বড় আয়না দেয়ালে গেথে আছে।
মেঝেটা পর্যন্ত স্বচ্ছ আয়না।
মনে হচ্ছে এটা কোনো আয়না ঘর।
এখন আমি কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না।
মেঘের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করবো?
নাকি নিজেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবো?
পরক্ষণেই ভাবলাম,
না উনার নির্দেশ ছাড়া এক পাও এগোনো ঠিক হবে না।
উনি আমাকে যেহেতু বারবার সর্তক করেছেন,
সেহেতু এখানে কোনো না কোনো বিপদ ঠিক-ই আছে।
এমন সময় মেঘের ক্ষীণ কন্ঠ শুনতে পেলাম,
কথা গুলো এত অস্পষ্ট ভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো,
যে আমার বুঝতে কষ্ট হচ্ছে।
তাও মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম।
অস্পষ্ট ভাবে যা শুনতে পেলাম তা হচ্ছে,
-- খুব সাবধানে বুঝে শুনে পা ফেলবেন।
এখানের শেষ সীমানায় দুটো দরজা দেখবেন,
বুদ্ধি-বিবেচনা করে বেছে নিবেন সঠিক দরজাটা।
এরপর আর উনার কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম না।
আল্লাহর নাম নিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালাম।
তার আগে গায়ের ওড়না দিয়ে চোখ-মুখ ভালো করে ঢেকে নিলাম।
যত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি,
ততই ক্ষীণ আলো প্রখর হচ্ছে।
চোখ ঝলসে যাওয়ার মত অবস্থা।
আগে থেকে চোখ ঢেকে ভালোই করেছি,
নতুবা চোখ ঝলসে যেত।
যদিও হাটতে একটু কষ্ট হচ্ছে।
অনেকটা আসার পর আলোর ঝলকানি কমে এলো।
দেখা গেলো দুটি দরজা।
একটা খুবই সুন্দর এবং পরিষ্কার ,
আরেকটা খুবই জীর্ণ,
জায়গায় জায়গায় দাগ এবং শ্যাওলায় ভর্তি।
দুটোর উপরেই আরবিতে লেখা আছে,
এখানে প্রবেশ করো।
কনফিউজড হয়ে গেলাম কোনটায় ঢুকবো?
বাহিরে থেকে বোঝার উপায় নেই কোনটা কেমন।
একবার ভাবলাম,
জ্বীনরাজ্য হয়ত অনেক সুন্দর হবে,
অতএব সুন্দর দরজাটার পিছনেই,
জ্বীনরাজ্যে যাওয়ার পথ থাকতে পারে।
এই ভেবেই যেই দরজা খুলতে যাবো,
অন্য একটা চিন্তা মাথায় এলো।
উপরের আরবি লেখাটার দিকে তাঁকালাম।
দুটো মিলানোর চেষ্টা করলাম,
সুন্দর দরজাটার উপরের লেখাটায় ভুল রয়েছে।
আর বুঝতে বাকি রইলো না,
কোনটায় প্রবেশ করা ঠিক হবে আমার পক্ষে।
আল্লাহর নামে দরজাটা খুলে প্রবেশ করতেই,
ঝাকে ঝাকে বাদুর এসে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো।
ক্রমান্বয়ে খামচি দিতে লাগলো আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে।
ওড়নাটা ঝেড়ে ঝেড়ে তাড়াতে চেষ্টা করলাম,
কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
একটাকে তাড়ালে আরো তিনটা এসে ঘিরে ধরছে।
উপায়ান্তর না দেখে সামনের দিকে ছুটতে লাগলাম।
এরা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না,
ছুটতে ছুটতে খোলা প্রান্তরে চলে এলাম।
এখানে ঘাসের ডগায় ডগায়,
বড় বড় জোঁকের দল আস্তানা গেড়ে আছে।
কি এক উভয় সংকটে পড়লাম?
পিছনে বাদুর আর সামনে জোঁক।
আমি কি ভুল দরজায় প্রবেশ করেছি?
কিন্তু সেটা কি করে হয়?
আল্লাহ আপনি আমার সহায় হোন।
বাদুর গুলো তেড়ে আসছে।
দুটো রাস্তা আমার জন্য খোলা আছে।
হয়ত পিছু হটে বাদুরের সাথে লড়াই করা,
নতুবা জোঁক ভর্তি খোলা মাঠে নেমে যাওয়া।
কোনোটাতেই বাঁচার উপায় নেই।
বাদুরের ঝাক যেভাবে তেড়ে আসছে,
আমি কিছুতেই এদের সাথে পারবো না।
জোঁকে ধরলেও সেটাকে পড়ে ছাড়ানো যাবে হয়তবা।
আর দেরী না করে খোলা মাঠে নেমে গেলাম।
জোঁক গুলো যেনো আমার নামার অপেক্ষা করছিলো।
চারদিক থেকে ঘিরে ধরে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।
পিছনে তাঁকিয়ে দেখলাম,
বাদুর গুলো সব এক লাইনে বসে আছে আমার অপেক্ষায়।
কি করবো মাথায় ধরছে না!
-- নাহ থামলে চলবে না,
হয়ত জানে বাঁচবো,
নয়ত এদের হাতেই মরবো।
যা থাকে কপালে,
আল্লাহ রক্ষা করুন।
সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি,
জোঁক গুলোকে পা দিয়ে সরাতে সরাতে। দু-একটা কামড় ইতিমধ্যে পায়ে পড়ে গেছে,
এত যন্ত্রণা হচ্ছে।
তাও থামছি না,
জোরে জোরে পা চালিয়ে খোলা প্রান্তর পেরিয়ে,
উচু ঢালুতে উঠে বসলাম।
পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে,
দু-একটা জোঁক এখনো কামড়ে ধরে আছে।
ব্যথায় দাঁতে দাঁত চেঁপে আছি।
চারিদিকে তাঁকিয়ে দেখি,
এখানে অসংখ্য কাঁটাগাছ রয়েছে।
কয়েকটা ভাঙ্গা ডাল জড়ো করে নিয়ে,
জোকের পেটের ধরে সজোড়ে টান দিলাম।
মূহুর্তে দ্বিখন্ডিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো জোঁক গুলো।
রক্ত পড়া জায়গা গুলোতে মাটি লাগিয়ে,
ওড়নার টুকরো দিয়ে বেঁধে নিলাম।
এখানেই লক্ষ্যে পৌছার লড়াই শেষ হয়নি বলে ধারণা করছি।
এবার কোন দিকে যাবো বুঝতে পারছি না,
এটাও নিশ্চিত হতে পারছি না যে,
আদৌ আমি সঠিক পথে এসেছি নাকি?
এতক্ষণে মেঘের সাথে আমার একবারো যোগাযোগ হয়নি,
উনি কি আমার অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন?
তবে কি আমার জ্বীনরাজ্যে যাওয়া হবে না?
এসব ভাবতে ভাবতে হেটে চলেছি,
কাঁটা গাছ গুলো কোনো রকমে সরিয়ে।
নিজের পুরো শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত লাশ মনে হচ্ছে।
ব্যথায় হাটার জোরও পাচ্ছি না,
গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
অদূরে একটা ঝর্ণা দেখতে পেয়ে বেশ খুশিই হলাম।
ঝর্ণার কাছে এসে যেই এর পানি পান করতে গেলাম,
প্রচন্ড তান্ডবে সব কিছু কাঁপতে লাগলো।
বেশ ভয় পেয়ে গেলাম,
আবার কোন বিপদ ডেকে আনলাম আমি?
ঝর্ণার পানির ভিতর থেকে বেশ বড় বড় পা ফেলে,
এক থুড়থুড়ে অদ্ভুত চেহারার বুড়ি আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।
এর গায়ে সাদা কাপড় এলোমেলো ভাবে পেঁচানো।
চেহারায় বেশ রাগ রাগ ভাব,
শরীর এতটাই পাতলা যে বাতাসের সাথে মিশে যেতে পারবে।
রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
-- তুই কে?
এত বড় সাহস তোর কি করে হয়,
যে তুই আমার পানি স্পর্শ করিস?
-- ভুল মার্জনা করবেন বুড়ি মা।
আমি ইচ্ছে করে করিনি,
তেষ্টায় বড্ড কাহিল হয়ে এসে ছিলাম।
নিষেধাজ্ঞা আছে জানলে আমি স্পর্শ করতাম না।
বুড়ি আমার দিকে ভালো করে তাঁকিয়ে বললো,
-- তুই কে?
এখানে কিভাবে এলি?
-- আমি একজন মনুষ্য কন্যা,
নাম মাইশা।
আমি জ্বীনরাজ্যের উদ্দেশ্যে এসেছি।
বুড়ি বিকট শব্দে হেসে উঠে বললো,
-- মানুষ হয়ে জ্বীনরাজ্যে যেতে চাস?
নিজের মৃত্যু ডেকে আনার খুব শখ হয়েছে?
জানিস এর ফল কি হতে পারে?
-- জানি বুড়ি মা।
কিন্তু নিজের ভালোবাসার জন্য সব করতে রাজি আমি।
-- জ্বীন আর মানুষের মিলন কখনোই সম্ভব না জেনেও এখানে এসেছিস?
এক ধাপে না হয় বেঁচে গেলি,
কিন্তু কয়বার বেঁচে ফিরবি এভাবে?
-- জীবন-মরণ আল্লাহর হাতে।
তার ভরসায় আমার এতদূর আসা।
আপনি আমাকে বলতে পারবেন,
আমি সঠিক রাস্তায় এসেছি কি না?
বুড়ি একটু নরম হয়ে বললো,
-- হুম,
সঠিক রাস্তায়ই এসেছিস।
তোর মনের জোর অনেক বেশী বটে।
-- আমি বুঝতে পারছি না আমি কোনদিকে কিভাবে এগোবো?
অসহায় হয়ে পড়েছি বড্ড।
-- আমি তোকে জ্বীনরাজ্যে পৌছানোর পথ দেখিয়ে দিতে পারি।
-- সত্যিই দেখাবেন বুড়ি মা?
-- হুম,
তবে এর বিনিময়ে আমার কিছু প্রাপ্য রয়েছে।
-- কি প্রাপ্য চান আপনি?
আমার কাছে তো কিছুই নেই,
তবে আমার সাধ্যের মধ্যে থাকলে অবশ্যই দেবো।
-- ঠিক আছে।
আমি সময়মত ঠিক চেয়ে নেবো।
নিজের অঙ্গীকার ভুলে যাস না কিন্তু।
-- না বুড়ি মা।
কথা দিচ্ছি আপনাকে,
আপনি যা চান আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো,
আপনাকে সেটা দেওয়ার।
বুড়ি মা তার হাসি প্রসারিত করে পথ দেখিয়ে দিলেন।
বুড়ি মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার হাটতে লাগলাম।
হাটতে হাটতে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সংকীর্ণ গুহাতে ঢুকে পড়লাম।
কোনো রকম হাতড়ে হাতড়ে পথ চলছি,
এমন সময় পিছন থেকে তানিশার গলায় ডাক এলো,
-- "মুশু"
জবাব দিয়ে যেই পিছনে ফিরতে যাবো,
তখনই মেঘের সর্তকবাণী মনে পড়ে গেলো।
-- নাহ,
কোনো ভাবেই পিছনে তাঁকানো যাবে না।
মনে হচ্ছে কেউ আমার পিছু পিছু আসছে,
চারপাশ থেকে বিশ্রী গন্ধ আর হাড় চিবানোর শব্দ আসছে।
ভয় লাগছে খুব,
খুব ভয়ংকর গলায় আমার নাম ধরে ডাকছে কেউ।
দেয়ালে হাতড়ে হাতড়ে হাটতে হাটতে,
হঠাৎ কিছু একটা হাতে উঠে এলো।
স্বল্প আলোয় দেখলাম এটা একটা কাঁটা মাথা,
যার চোখ গুলো ঠেলে বের হয়ে এসেছে,
সাথে জিহবা ঝুলে পড়েছে।
চিৎকার দিয়ে সেটা ফেলে দৌড়াতে লাগলাম।
ভয়ে প্রায় আধমরা হয়ে গেছি,
পদে পদে হোচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছি।
তাও উঠে ছুটে চলেছি।
ভয়ংকর শব্দ গুলো আমার পিছু পিছু আসছে।
অনেকটা দৌড়ে একটা আলোকিত জায়গায় এলাম।
এখানে চারিদিকে মশাল জ্বলছে,
সামনে বিশাল একটা দরজা।
তাতে চোখ ধাঁধানো সজ্জা।
সম্ভবত এটাই জ্বীনরাজ্যের প্রবেশদ্বার।
উপরে আরবিতে কিছু লেখা আছে।
যার অর্থ আমার ঠিক জানা নেই।
কিন্তু আমি এই দরজা দিয়ে ঢুকবো কি করে?
কয়েক বার ধাক্কা দিলাম দরজায়।
কিন্তু কোনো ভাবেই খুললো না।
বিকট হাসির শব্দ শুনে পিছনে তাঁকালাম,
অনেক গুলো ভয়ংকর কাটা মাথা,
লাফাতে লাফাতে আমার দিকে তেড়ে আসছে।
একটা আরেকটার চেয়েও বিভৎস দেখতে।
এখন দরজা না খুললে আমি এদের হাতেই মারা পড়বো।
আরো কয়েকবার দরজা ধাক্কালাম,
কিন্তু কোনো লাভ হলো না।
উপায়ান্তর না দেখে আল্লাহর নাম জপতে লাগলাম।
হঠাৎ বুড়ি মার বলা একটা কথা মনে পড়ে গেলো।
সেখানে ঢুকতে হলে সেখানকার সম্পর্কিত আয়াত তোকে জানা লাগবে।
কিন্তু কোনো আয়াত বা কি?
সেটা আমাকে বিস্তারিত বলেননি।
এখন আমি কি করবো?
কোনো সূরা বা কোন আয়াত পড়বো?
কিছুটা সময় ভেবেও কিছু মনে করতে পারলাম না।
হঠাৎ আল্লাহর রহমতে আমার মাথায় একটা ধারণা এলো,
এটা যেহেতু জ্বীনরাজ্য,
জ্বীনের জগৎ,
তাহলে এটার সম্পর্কিত কেবল সূরা জ্বীনই আছে।
ঝটপট সূরা জ্বীন এর প্রথম কয়েকটি আয়াত পড়তেই,
হাট করে দ্বার খুলে গেলো।
চারিদিক থেকে সূরা তিলওয়াত কানে আসতে লাগলো,
যা শুনে কাটা মাথা গুলো পালিয়ে গেলো।
আল্লাহর নাম নিয়ে নির্বিঘ্নে দ্বারের ভিতর প্রবেশ করলাম।
অবশেষে আমি সক্ষম হলাম জ্বীনরাজ্যে ঢুকতে।
কিন্তু মেঘ কোথায় আছেন?
.
(চলবে)
গল্পটা কেমন লাগছে সবাই না জানালে,
গল্পই আর লিখবো না...
Share:

রহস্যময়_গ্রহ (Mysterious Plannet) পর্ব - ৫ (পাচ)

#রহস্যময়_গ্রহ (Mysterious Plannet)
 পর্ব - ৫ (পাচ)
লেখা : A R Shipon

আরাধ্য কাঠ হয়ে পাশে সুয়ে আছে। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। হাত পা নাড়াতে পারছে না। ঠিক এমন সময় পেছন থেকে ঘরে ঢুকে নুবহা। নুবহা এলিয়েনটিকে দেখে চিৎকার দেয়, সেই সাথে পাশে থাকা একটি লোহার খুনতি দিয়ে এলিয়েনটির মাথায় বাড়ি দেয়। এলিয়েনটি জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে।
নুবহাঃ আরাধ্য, এই এলিয়েন টি তো তোর কোন ক্ষতি করে নাই?
আরাধ্য ধিরে ধিরে স্বাভাবিক হয়ে উঠে। দীর্ঘ নিঃস্বাস নেয়। তারপর নুবহার প্রশ্নের উত্তর দেয়।
আরাধ্যঃ তুই মারলি কেনো? এ আমার কোন ক্ষতিই করেনি। আমার পাশে সুয়ে ছিলো। দেখে ভয়ে চিৎকার করি। তখন বলে
নুবহাঃ কি বলে?
আরাধ্যঃ এই যে সে আমাদের কোন ক্ষতি করবো না, আমাদের সাহায্য দরকার তাদের। বন্ধু হতে চায়। এই বলে অনুরোধ করে।
নুবহাঃ তাহলে তো মারা ঠিক হয়নি।
নুবহা এলিয়েন এর বুকের উপর কান রেখে বেচে আছে কিনা শব্দ শুনতে চায়। কিন্তু কোন শব্দ বা নাড়াচাড়া নেই।
নুবহাঃ দোস্ত। নিস্তেজ। মরে গেছে মনে হয়।
আরাদ্যঃ দেখ মাথার পেছনের দিকে গোল একটা অংশে আলো জ্বলছে হলুদ রং এর।
নুবহা তাকিয়ে দেখে। ওয়াশরুম থেকে পানি এনে মাথায় ঢালে। কিন্তু কোন কাজ হয় না। হলুদ রং ধিরে ধিরে লাল হয়ে যাচ্ছে।
নুবহাঃ দোস্ত এটা মনে হয় মারা যাচ্ছে।
আরাধ্যঃ মুভিতে দেখেছিলাম সূর্যের আলোয় ওরা শক্তি সঞ্চার করে।
নুবহা দ্রুত গিয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়। জানালা দিয়ে সূর্যের আলো এলিয়েন এর মাথার উপর পরে। মিনিট পাচেক পর এলিয়েন টি চোখ খুলে। আবার চোখ বন্ধ করে। আরাধ্য এলিয়েন এর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। এলিয়েনটি নিজের হাত তার মাথার রাখা আরাধ্যের হাতের উপর রাখে। চোখ খুলে।
এলিয়েনঃ ধন্যবাদ।
নুবহাঃ আমি দূঃক্ষিত। আমি বুঝতে পারি নাই।
এলিয়েনটি উঠে বসে।
এলিয়েনঃ ইট'স ওকে।
নুবহাঃ বাহ, এলিয়েন বাংলা, ইংরেজি বলতে পারে।
এলিয়েনঃ হাহাহাহাহহাহা। এলিয়েন আবার আমাকে বলে এলিয়েন। আমরা ডেয়ার্থ আর তোমরা এলিয়েন, মানে তোমরা এলিয়েন।
নুবহাঃ হাহাহা। আমরা মানুষ আর তোমতা ভিনগ্রহের প্রানী এলিয়েন।
আরাধ্যঃ আচ্ছা হয়েছে। আসলে আমরা একে অপরের কাছে এলিয়েন। আমরা আমাদের মানুষ বলি আর তোমরা ডেয়ার্থ বলো। এই আর কি। আমি আরাধ্য, তুমি?
এলিয়েন ঃ আমার নাম পিলু। আমি সাইন্সটিস্ট। তোমাদের এই প্ল্যানেট থেকে আমাদের ডাকা হয়েছে।
নুবহাঃ আমি নুবহা। আচ্ছা তোমাদের প্ল্যানেট এর নাম কি?
পিলুঃ Mysterious Plannet বা রহস্যময় গ্রহ। আমরা সহজ করে ডোয়ার্থ বলি। আর ডোয়ার্থের বাসিন্দাদের ডেয়ার্থ বলি।
আরাধ্যঃ Mysterious Plannet কেন তোমাদের গ্রহ?
পিলুঃ সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ আমাদের। সম্পর্ন গ্রহটাই ইউরোনিয়াম দিয়ে তৈরি।
নুবহাঃ ইউরোনিয়াম তো অনেক মূল্যবান।
পিলুঃ আগে জানাছিলো না। এখানে এসে জেনেছি। ইউরোনিয়াম তোমাদের কাছে অনেক মূল্যবান। কিন্তু আমাদের কাছে না। আর এই ইউরোনিয়ামই এখন আমাদের কাল হয়ে দারিয়েছে।
আরাধ্যঃ মানে?
পিলুঃ তোমাদের পৃথিবীর একজন সাইন্সটিস্ট স্পেসে ছিলো। তখন সে আমাদের এই Mysterious Plannet  আবিস্কার করে। সেখানে গিয়ে গবেষণা করে। আরো আবিস্কার করে যে সেখানে তোমাদের মত এলিয়েনদের বসবাসযোগ্য।
নুবহাঃ বাহ ভালো তো। আমাদের পৃথিবীর জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আমরা তোমাদের ঐখানে গিয়ে থাকতে পারবো।
পিলুঃ তুমিও তার মত কথা বলছো। আমাদের ধংশ করে ডোয়ার্থ করতে চাইছো? এটা কি ঠিক?
আরাধ্যঃ মোটেও ঠিক না। যার যার জায়গায় সে সে থাকবে।
পিলুঃ কিন্তু আমাদের ধংশ করা হচ্ছে। এরপর সে আমাদের আলোচনার জন্য ডেকে নিয়ে আসে। আমাদের সাথে আসে আমাদের মোহাম এর কন্যা। কিন্তু সে আমাদের সবাইকে আটক করে। আমি কোন রকম পালিয়ে আসি।
নুবহাঃ মোহাম কে?
পিলুঃ তোমদের যেমন দেশের প্রধান আছে। ঠিক আমাদের ও আছে। তোমরা প্রধানমন্ত্রী বলো, আমরা মোহাম বলি।
আরাধ্যঃ আচ্ছা সেটাকে?  যে তোমাদের সাথে এই রকম করছে?
পিলু উঠে ছাদের দরজার কাছে এসে হাত দিয়ে ঈশারায় নাওয়াল দের ছাদের চিলেকোঠা দেখিয়ে দেয়। আরাধ্য আর নুবহার বুঝতে বাকি থাকে না যে পিলু কার কথা বলছে। ওর দুজন এসেও পিলুর পাসে এসে দাড়ায়। তখন নুবহা এর ফোন বেজে উঠে। নাওয়াল এর কল। সে কল রিসিভ করে। নাওয়াল নুবহাকে বলে আরাধ্যকে নিয়ে দ্রুত তাদের বাড়িতে আসতে, আরেকটা অঘটন ঘটেছে।
আরাধ্য আর নুবহা পিলুকে সেফ একটা জায়গায় রেখে ঘড় তালা দিয়ে নাওয়াল দের বাসায় উপস্থিত হয়। বাসার নিচে পুলিশ। স্কেচে করে একটা লাশ নিয়ে গেলো। লাশটা এই বাড়ির ড্রাইভারের।
দুজন ভিতরে ঢুকে।
নুবহাঃ কিভাবে মারা গেলো ড্রাইভার?
নাওয়ালঃ জামানের মত ছাদ থেকে লাফ।
আরাধ্যঃ এখানেক কোন রহস্য আছে।
নাওয়ালঃ রহস্য তো আছেই। আর সে রহস্য  ড্রাইভার জেনে ফেলায় তাকে খুন করা হয়।
আরাধ্যঃ নিশ্চয় খুনটা ঐ এরিক করে। কি ঠিক বলছি না?
নাওয়ালঃ হুম। তবে নিজেকেক দোষী মনে হচ্ছে। ও আমাকে প্রথমে বলার পর কেনো আমি যে ওকে আবার পাঠালাম।
ছাদের বাগানে প্রতিদিন সকাল আর সন্ধ্যের আগে গাছে পানি দেয় ড্রাইভার। প্রতিদিনের মত গত সন্ধ্যেতেও গাছে পানি দিতে গিয়ে খেয়াল করে রক্তের দাগ। দাগ এর চিহ্ন দেখে দেখে চিলেকোঠার জানালার সামনে গিয়ে থ হয়ে যায় ড্রাইভার। এরিক একটা মৃত মানুষের শরীর থেকে পাইপের মাধ্যমে রক্ত নিয়ে সাদা কিছু রোবটের মধ্যে ঢোকাচ্ছে। এরিকের কাজ শেষ হয়ে গেলে সে লাশটা একটা লাগেজে করে নিয়ে বের হয়। ড্রাইভার তার আগেই নিচে নেমে আসে। সব খুলে বলে নাওয়াল কে। আর নাওয়াল ড্রাইভার কে বলে এরিকের দিকে খেয়াল রাখতে। কি হয় না হয় সব খবর দিতে। সেই অনুসারে রাতে এরিকের ঘরে উকি মারতে গিয়ে ধরা পরে ড্রাইভার। প্রমান লোপাট করতে আর এরিকের তৈরি রোবট আকৃতির জেনেটিক প্রানির খাদ্যের সঞ্চার করতে এরিক খুন করে ড্রাইভারকে। তারপর রক্ত নিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।
নাওয়ালঃ ড্রাইভারের মৃত্যুর জন্য সব দোষ আমার। আমি না বললে ওর হয়তো মরতে হতো না।
আরাধ্যঃ বিষয়টি দিনকে দিন জটিল হয়ে যাচ্ছে। এই বাসা সহ আসে পাসের সবাই বিপদে আছে। এমনকি তোমরাও। তোমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে। আর এরিকের একটা ব্যাবস্থা করতে হবে।
নুবহাঃ বদের হাড্ডিটা আরেকটা গ্রহ দখলের জন্য এই সব কাজ করছে।
নাওয়ালঃ মানে?  কোন গ্রহ?
নুবহাঃ ডোয়ার্থ নামে একটা রহস্যময় গ্রহ আছে। সেটা।
নাওয়ালঃ তোমরা জানলে কিভাবে?
আরাধ্যঃ আমার বাসায় চলো। সব খুলে বলছি।
এরপর তিনজন মিলে আরাধ্যের বাসায় আসে। সেখানে নাওয়ালকে পিলুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। প্রথমে পিলুকে দেখে নাওয়াল অনেক ভয় পেয়ে যায়। ধিরে ধিরে সেও আরাধ্য আর নুবহার মত স্বাভাবিক হয়ে উঠে পিলুর সাথে। তারপর প্ল্যান করে যে আজ রাতে এরিকের কর্মকাণ্ড ভিডিও করে প্রমান নিয়ে পুলিশের কাছে যাবে এবং তাকে ধরিয়ে দিবে।
প্ল্যানের মাঝখানে উপস্থিত হয় প্রিয়ন্তি।
প্রিয়ন্তিঃ আমি কি মাঝখানে এসে তোমাদের  ডিস্টার্ব করলাম?
কথা শেষ করার পরপরই প্রিয়ন্তির চোখ পরে পিলুর দিকে। ঠাটিয়ে একটা চিৎকার, অতঃপর জ্ঞ্যান হারানো।
সবাই মিলে মাথায় পানি ঢালে। কিন্তু সহজে তার আর জ্ঞ্যান ফিরছে না। তখন পিলু এসে প্রিয়ন্তির মাথায় হাত রাখে। এরপর জ্ঞ্যান ফিরে পিলুকে দেখে আবার চিৎকার দিয়ে আরাধ্যকে জরিয়ে ধরে।
আরাধ্য প্রিয়ন্তিকে শান্ত করে সব খুলে বলে, খুলে বলে রাতের প্ল্যানের কথা। প্রিয়ন্তি রাতে ওদের সাথে থাকতে চায়। কিন্তু আরাধ্য রাখতে নারাজ। খালাখালু এমনিতেই ওকে সহ্য করতে পারে না। কখনই প্রিয়ন্তিকে রাতে আরাধ্যের সাথে থাকতে দিবে না।।
এখন অপেক্ষা রাত হবার। রাত হওয়ার আগ পর্যন্ত ওরা সবাই আরাধ্যের বাসাই থাকবে। সবার জন্য রান্না করে প্রিয়ন্তী আর নাওয়াল। আর পিলু? পিলু কি খাবে?
পিলু সুধু ডিম খায়। নুবহা নিচ থেকে পিলুর জন্য ডিম নিয়ে আসে। আর নিয়ে আসে ৩টি জাতীয় পত্রিকা। যার প্রতিটির হেড লাইনে " ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তশূণ্য লাগেজে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার"

চলবে.....
দয়াকরে যারা গল্পটি পরবেন তারা ভালো বা খারাপ লাগা কমেন্টস করে জানাবেন। শেয়ার করা মত হলে শেয়ার করবেন। আর ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।
Share:

গল্পঃ পুনরাবৃত্তি! ,

গল্পঃ পুনরাবৃত্তি!
,
লেখকঃ রঙ্গন কানন!
,
**সংসার জীবন সুখের জীবন,
যদি না হয় প্রেমের ও মরণ!**
,
কথাটা আমার মুখে শোনা মাত্রই বন্ধু বলে উঠলো, রঙ্গন নতুন বিয়ে করেছিস বেশিদিন হয় নি!! এখন এসব কথা মুখে থাকবেই! কিছুদিন যাক যখন সংসারে অশান্তি শুরু হবে, শুরু হবে শশুড়-শাশুড়ি আর বৌমার মধ্যে যুদ্ধ! যখন না পরবি মা-বাবা কে সামলাতে আর না পারবি বউকে কিছু বুঝাইতে তখন বুঝবা চান্দু সুখ কারে কয়!! বন্ধুর কথাটা হেসে উড়িয়ে দিলাম! চলে আসলাম বাসার উদ্দেশ্যে!
বাড়িতে বাবা-মা, বড় ভাই-ভাবি, আর আমরা নতুন বিয়ে করা স্বামী-স্ত্রী এবং ছোট্টো মিষ্টি ভাতিজি মিলেই আমাদের দুই ভাইয়ের পরিবার!!
আব্বুর ছোট-খাটো একটা ব্যাবসা আছে!! সেটার হাল দুই ভাই মিলে ধরেছি!! সামান্য আয় আর অফুরন্ত ভালোবাসার মাঝে অভাবে টানা পোড়ানো দিনগুলো কোনরকমে কেটে যাচ্ছে!! দুবেলা দুমুঠো খেয়ে দিন পার করতেছি এতেই আল্লাহ্ র কাছে অসংখ্য শুকরিয়া জানাই! আমার স্ত্রীর নাম ইরা!
পুরো নাম ইরা মনি! পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী সাত মাস পূর্বে আমাদের বিয়ে হয়! তারপর থেকে এ পর্যন্ত সবার সাথে ভালোই আছি!! ভাই, ভাবি ও তাদের ছোট্টো মেয়েকে নিয়ে তাদের মতো এবং আমি আর আমার স্ত্রী আমাদের মতো করে নিজেদের সংসার সাজাচ্ছি!!
আর আমাদের দুই ভাইয়ের পরিবারের সাথে বাবা-মা এখনো ছায়ার মতো সঙ্গী হয়ে আছে!! আমাদের কোন বোন নেই তাই আব্বু-আম্মু বলতো  দুটি বউ না তোরা দুজনে মিলে দুটি মেয়ে এনে দিস!!  তাদেরকে বউ হিসাবে নয় মেয়ে হিসাবে ভালোবেসে যাবো!! কিছু  না থাকলেই হয়তো মানুষ তাদের কদর একটু বেশি করে!
কিন্তু সব শশুড়-শাশুড়ি যদি পুত্রবধুকে মেয়ের চোখে দেখতো তাহলে হয়তো সংসারে নারী নির্যাতন অনেকাংশে কমে যেতো!! কিন্তু আফসোস বাংলাদেশের আজকের এই আধুনিক জীবনেও সেই মানসিকতা মানুষের মাঝে গড়ে উঠে নি!! তারা আপন-পর প্রভেদ করা বাদ দিতে পারে নি! যার জন্য এখনো মানুষ সংসারে পরিপূর্ণ শান্তি লাভ করতে সক্ষম হয় নি! আব্বু ছোট বেলায় বলতো কাউকে সুখি করতে না পারিস কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে এতটুকুও কষ্ট দিও না!!
বিয়ের পূর্বে আম্মু অামাদের দুই ভাইকেই এই একই কথা বলেছে যে, স্ত্রীকে কষ্ট দিয়ে, তার প্রতি অন্যায় করে কোনদিন কোন স্বামী সুখি হতে পারে না! বরং একজন আরেকজনকে খুশি রাখার চেষ্টাই পারে শত কষ্টের মাঝেও সুখি জীবন লাভ করার!
হয়তো কখনো একজন ভুল করতে পারে নতুবা ভুল পথে যেতে পারে কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে বুঝিয়ে তাকে সঠিক পথে চালনা করা স্বামী-স্ত্রীর দুজনেরই সমান দায়িত্ব ও কর্তব্য! ভুল পথ থেকে সঠিক পথে আনার জন্য কখনো একজন আরেকজনের উপর জুলুম করিও না!
যাই হোক আমার আব্বু-আম্মুর চিন্তাধারা ও মন-মানসিকতাকে আমি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই!!
আব্বু আম্মুর সেই শিক্ষায় আমাদের দুই ভাইয়ের সংসার জীবন সুখেই যাচ্ছে!! আমাদের দুই ভাইয়ের দুটি পরিবার হলেও একসাথে থাকার জন্য একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে পারি!! এতে আমাদের মানসিক শক্তি অনেকটা বেড়ে গেছে যার ফলে বাস্তবের কঠিন সত্যের মুখেও আমরা এখনো ঠিকে আছি!!
"একতাই বল" কথাটি হয়তো সেজন্যই প্রযোজ্য!
আর সবথেকে ভালো দিক হলো যদিও আমাদের দুই ভাইয়ের দুটি পরিবার কিন্তু আব্বু-আম্মু আমাদের দুটি পরিবারকে একটি পরিবার মনে করেই থাকে! তাদের জন্য কোন ধরা-বাধা নিয়ম আমি আর ভাই তৈরি করি নি!! কারণ সন্তান আমরা দুজন হলেও আমাদের বাবা-মা একজন!
পৃথিবীর সব সন্তানেররই তার পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসা থাকা দরকার! পিতা-মাতা যেমন তার একাধিক সন্তানকে সমানভাবে ভালোবাসে ঠিক তেমনি প্রতিটি সন্তানের উচিত তার ভালোবাসার কমতি না রাখা! বাবা- মা যেমন প্রতিটা দিন তার সন্তানের খাওয়া-দাওয়া, সুস্থতা সবকিছুর যত্ন সব সন্তানের প্রতি সমানভাবে নেয় ঠিক তেমনি একই বাবা-মায়ের ও একাধিক সন্তানকে আলাদা ভাবে নেওয়া উচিত! উদাহরণস্বরুপঃ যেমন ধরো কোন বাবা-মায়ের একাধিক সন্তানকে যেমন বন্টন করে বলে নাই যে, মাসের এই কয়দিন তোকে খাওয়াবো,এই কয়দিন আরেকজনকে খাওয়বো ঠিক তেমনি সন্তানদেরও উচিত নয় বাবা-মায়ের লালন- পালন বন্টন করার!! ভেবে দেখো সমস্ত সন্তানেরা যদি সেদিন তোমাদের মতো শিশুকালে লালন- পালনের দিন বন্টন করতো তবে তোমাদের কি অবস্থা হতো! তাহলে তোমরা কেনো তাদের বৃদ্ধাবস্থায় একে অপরে মিলে বন্টন করো!!
এটা কি উচিত???
আমার কাছে নিশ্চই না!!
শিশুকালে যেমন প্রতিটি বাবা মা তার প্রত্যেক সন্তানের দেখাশুনা করে ঠিক তেমনি তাদের বৃদ্ধাকালে আমাদেরও উচিত তাদের প্রত্যেকদিনের যত্ন ও দেখাশুনা এবং খোজ নেওয়া প্রতিটা সন্তানের দায়িত্ব!
,
এসবের বাহিরে আমি আর ইরা নিজেদের সংসার খুব যত্ন করে তিল তিল করে গড়ে তুলার চেষ্টা করতেছি!! সল্প আয়ের মধ্যেই নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য একটি সুখের নীড় গড়ে তুলছি দুজনের ভালোবাসায়!
আমাদের সংসার জীবন আস্তে আস্তে পুরোনো হতে থাকলো সাথে বাহ্যিক আচরণও! এখন ইরা আমাকে যথেষ্ট শাসন করে, কি করবো কি করবো না সব ইরা নিজের মতো করে আমাকে দিয়ে করাতে চায়! যার জন্য আমাদের মধ্যে ছোট-খাটো তর্ক, ঝগড়ি, অভিমান প্রায়ই হয়! কিন্তু এতে আমি কখনই এমনটা মনে করি না যে ইরা আমাকে ভালোবাসে না!
কারণ মানুষ যাকে যতটা বেশি আপন করে নেয় তার উপর ততটাই নিজের প্রভাব ফেলতে চায় এটাই স্বাভাবিক! আর এসব কিছু আপনজনের উপরই করা হয়! যেমন বাবা-মা সন্তানের উপর শাসন, যত্ন, বাধা-নিষেধ, শাস্তি সবকিছু এজন্যই প্রয়োগ করে যাতে সন্তানের মঙ্গল হয়! আর এটা ভালোবাসার ই আরেক বহিঃপ্রকাশ! এতে যদি কেউ মনে করে যে ভালোবাসা আগের মতো নেই বা কম-বেশি তাহলে তার মতো নির্বোধ দুনিয়াতে দুটি নেই!!
ইদানিং আব্বু-আম্মুর সাথেও ইরার সামান্য কাটাকাটি হয়! কিন্তু ভেবে দেখবেন নিজের বাবা-মায়ের সাথেও কিন্তু মেয়েদের এরকম সমস্যা হয়েই থাকে! কিন্তু আজকাল মেয়েরা শশুড়-শাশুড়ি কে নিজের বাবা-মায়ের চোখে আর শশুড়-শাশুড়িরা পুত্রবধুকে নিজের মেয়ের চোখে দেখে না বলেই এই সামান্য বিষয়টা জঠিল আকার ধারণ করে!
যাই হোক আমার বাবা-মা আর ইরার মধ্যকার এ সমস্যা আমি সবসময় দূরে সরিয়ে দেই যাতে সংসারে অশান্তি না হয়! আফসোস আজকের সমাজের ছেলেরা তা না করে হয় বাবা-মায়ের কথায় স্ত্রীকে নতুবা স্ত্রীর কথায় বাবা-মায়ের উপর একতরফা বিচার করে কষ্ট দেয়!
অথচ দু দিকের মানুষগুলোর সমস্যা দূর করে দিয়ে তাদের নিয়ে একসাথে শান্তিতে থাকার কথা ভাবে না! যার ফলেই আজকে মানুষ পূর্ণ সুখ লাভ করতে পারে না! কারণ একজন আপন মানুষকে কষ্ট দিয়ে কখনই আরেকজন আপন মানুষকে নিয়ে সুখে থাকা যায় না!
ইরাও এসব সামান্য বিষয়কে তুচ্ছজ্ঞান করে কারণ বিনিময়ে তার জন্য রয়েছে আমার অকৃত্রিম ভালোবাসা! আমার আব্বু-আম্মু ও ইরার ছোট-খাটো ভুল মেনে নেয় ইরাকে নিজের মেয়ে হিসেবে ভেবে! প্রতিটা পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যদি এরকম করে ভাবতো তাহলে হয়তো পৃথিবীর কোন বাবা-মা তার সন্তান ও ছেলের বউয়ের থেকে কোন কষ্ট পেতো না আর কোন মেয়েকেই তার শশুড় -শাশুড়ির নির্যাতন ভোগ করতে হতো না!
,
আজকে অনেক গরম লাগতেছে তাই ভাবলাম দুপুরে বাসায় গিয়ে গোসল করে তারপর খাবো! তাই কাজগুলা তারাতারি করে শেষ করে দুপুরে বাসায় চলে আসলাম! গোসল করে খেতে বসবো দেখি ইরা তার প্রিয় চিনা মাঠির বাসন গুলো ধুয়ে পরিষ্কার করতেছে ময়লা জমে যাওয়াতে! 
আমি খেতে দিতে তাড়া দিলে বলে আমার হয়ে গেছে কিছুক্ষনের মধ্যে খাবার দিচ্ছি অপেক্ষা করো!
অপেক্ষা করতেছি আর ভাবতেছি মেয়েরা চাইলেই কত সুন্দর করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে সংসার সাজাতে পারে! এমন সময় আম্মু আমাকে বসে থাকতে দেখে ইরাকে বলে তুমি রঙ্গন কে খাবার দাও আমি বাসনগুলো যথাস্থানে রেখে দেই! ইরা বললো মা বেশিক্ষন লাগবে না আমি পারবো কিন্তু মা জোর করায় আমাকে খাবার পরিবেশন করে দিতে লাগলো! এমন সময় হঠাৎ ভাঙ্গার একটা বিকট শব্দ পেলাম! ইরা আর আমি লক্ষ্য করে দেখলাম মা বাসনগুলো রাখতে গিয়ে দূর্ঘটনা বশত বাসনগুলো ভেঙ্গে ফেলেছে!
ফলে ইরা আম্মুর উপর প্রচন্ড রেগে গেছে কিন্তু কিছুই বলতেছে না! আমি মায়ের কাছে গেলাম এবং মাকে সেখান থেকে খাবারের টেবিলে নিয়ে আসলাম!
জিজ্ঞাস করলাম খাইছে কিনা!!
না সূচক মাথা নাড়ানোর ফলে মাকে আমার পাশে বসিয়ে মাকে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করে দিলাম! বাসন গুলো মা'র দ্বারা ভেঙ্গে গেছে কিন্তু তবুও মাকে কিছু বলতেছি না দেখে ইরা রাগ দেখিয়ে নিজে না খেতে বসেই চলে যায়! ইরা চলে যাবার পর মা নিচু স্বরে আমাকে বললো বাবা বৌমা বোধ হয় খুব রাগ করেছে আমার উপর কিন্তু আমি.....
আমি মাকে চুপ করিয়ে দিয়ে বললাম থাক মা বাদ দাও! তুমিতো ইচ্ছে করে করো নি! অসাবধানতা বশত হয়ে গেছে! মাগো তুমিতো মা আর ইরা তো তোমার মেয়েরই মতো! সন্তান না বুঝে মায়ের উপর রাগ করতেই পারে কিন্তু তাই বলে মা কি পারে সন্তান কে দূরে সরিয়ে দিতে! তুমি  ওর ব্যাবহারে কষ্ট পেও না! আর নিজেকেও দোষী মনে করবে না! এরকম ছোট-খাটো দূর্গটনা জীবনে অনেকই হয় কিন্তু সেসব ধরে রাখলে কি চলে! মা ইরাকে নিজের সন্তানের মতো মনে করে সবসময় আপন করে রেখো! মা খাওয়া শেষ করে চলে যায় আর বলে যায় বৌমাকে একটু বুঝিয়ে বলিস! মাকে বুঝিয়ে রুমে ইরার কাছে গেলাম! মুখটা গুমরা করে বসে আছে! ইরার পাশে বসার সাথে সাথে ইরা উঠে বেরিয়ে আসবে তখন জোর করে ইরা কে আমার সামনে দাড় করালাম! ইরার হাত দুটি ধরে বললাম সামান্য বিষয়ে তুমি রাগ না করলেও পারতে! কথাটা বলা মাত্রই ইরা রাগে বললো তুমি সামান্য বলছো?? আমি কি মাকে বলেছিলাম বাসনগুলো রাখতে! আমিতো বলেছিলাম আমি করে নেবো! আর এখন কি বাসনগুলো ফিরে আসবে আর ফিরে আসলেও টাকা?? টাকাগুলো তো নষ্ট হলো! এমনিতেই আয়-রোজগার কম তোমার! সহজে পারবো আবার জিনসগুলো কিনতে???
ইরার কথা শুনে একটু হাসলাম!
তারপর ওকে কাছে টেনে বললাম তাহলে শুনো তোমাকে কিছু ঘটনা বলি! কাল্পনিক বা উদাহরণ নয়! একেবারে বাস্তব ঘটনা!
ছোটবেলা আমাদের অবস্থা ততটাও ভালো ছিলো না! পুরো সংসারটা চালাতে বাবার অনেক কষ্ট হতো! মা খুব হিসাব করে সংসারে খরচ করতো সেই দিনগুলোতে আমি আর আমার ভাই এরকম অনেক দূর্ঘটনা জাতীয় ঘটনা অনেক ঘটাইছি! বিশ্বাস করো ইরা আব্বু-আম্মু একটুও বকা দেয় নি মারবে তো দূরের কথা! শুধু সাবধান হতে বলেছে!! ওসব বাদ দাও! আচ্ছা তুমি ভেবে দেখো তো যখন তুমি ছোট ছিলে তখন এরকম হাজারো দূর্ঘটনা, হাজারো ক্ষতি,টাকা নষ্ট তোমার দ্বারা হইছে কি না?? তখন কি তোমার বাবা-মা শাসন করেছে আর করে থাকলেও সবক্ষেত্রেই কি শাসন করেছে?? নিশ্চই করে নি!! আমাদের ছোটকালে যদি তারা বিষয়টা সহজভাবে নিতে পারে, স্নেহ করে মাফ করে দিতে পারে, ভালোবেসে শাস্তি না দিতে পারে তবে তাদের বৃদ্ধাকালে কেনো আমরা পারবো না তাদের কে সেই দিনগুলির কথা মনে করে, তাদের সম্মান,শ্রদ্ধা করে বিষয়গুলো তুচ্ছ মনে করতে!!
আরেকটা কথা মানুষ কিন্তু টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ, দ্রব্য-সামগ্রী ব্যাবহার করে নিজেদের আপন মানুষগুলোকে নিয়ে সুখে থাকতে!
কিন্তু সেই আপন মানুষগুলো দ্বারা যদি উক্ত টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ, দ্রব্য-সামগ্রীর ক্ষতি সাধিত হয় তবে তাদের প্রতি কঠোর হওয়া নির্বোধ পশুর ন্যায় আচরণ করার সমতুল্য ছাড়া আর কিছুই না!!
ইরাকে বললাম এসব কথাও বাদ দাও! ইরার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম যদি আল্লাহ্ মেহেরবানী করে সামনে তুমি মা হও আর আমি বাবা......
বলতেই ইরা লজ্জায় বুকে মাথা গুজলো! ইরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললাম যখন আমরা বাবা-মা হবো তখন আমাদের সন্তান যদি ছোট ছোট ক্ষতি করে তবে তাদের উপর যেমন আমরা কঠোর হবো না ঠিক তেমনি আমাদের বৃদ্ধাকালে ও তো আমরা চাইবো যেনো এরকম ঘটনায় তারা আমাদের প্রতি রাগ না হয়! কি এটাই আশা করো তো! ইরা হ্যা সূচক মাথা নাড়লো! ইরার কপালে ভালোবাসার চুম্বন পরশ একেঁ বললাম, তোমার আর আমার প্রেমের ফলে গড়ে উঠবে আমাদের আজকের সুখি জীবন!
আমাদের প্রতি আমাদের সন্তানের প্রেমে গড়ে উঠবে আমাদের ভবিষ্যত সুখি জীবন যেমনটা এখন আমাদের বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসায় তারা সুখি জীবন ভোগ করতে পারবে!!
যুগ-যুগান্তর এভাবেই বারবার চক্রাকারে ঘুড়বে মানব জীবন!
আর সে জীবনটা সুখি করার জন্য দরকার একে অপরের প্রেম ভালোবাসা!!
কেনোনা,
*সংসার জীবন সুখের জীবন,
যদি না হয় প্রেমেরও মরণ!!*
,
তাই চলো সবার প্রেম দিয়ে যুগের পর যুগ,শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে করি অকৃত্রিম ভালোবাসার পুনরাবৃত্তি!!
Share:

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label