নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

নারীর পরকীয়া প্রেম কি


নারীর পরকীয়া প্রেম
বিবাহিত নারীর নিজের স্বামী থাকতেও অপর পুরুষের সাথে প্রেম করা বা যৌনমিলন করাকে মূলত পরকীয়া প্রেম বলা হয়| পরকীয়ায় আসক্তি একজন নারীর জন্যে খুবই ক্ষতিকর হতে পারে| এমনও হতে পারে যে- শেষ পর্যন্ত তার স্বামী বা প্রেমিক, কারও ঘরেই তার আর স্থান হয় না| সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালন, তাদের আদর-ভালোবাসা দেওয়া, তাদের কাছে টেনে রাখা ইত্যাদি থেকেও বঞ্চিত হতে হয় এসকল নারীদের| পরকীয়ায় আসক্ত নারী তার নিজের বাবা-ভাইয়ের যেমন মান সম্মান নষ্ট করে, তেমনি তাকে পরিবার ও সমাজে লাঞ্চিত বঞ্চিত হতে হয়|

পরকীয়া প্রেম থেকে স্বামী-স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-কলহ, খুন-খারাবি, এমনকি নিজের পেটের সন্তানকেও খুন করতে দেখা যায়| আর পরকীয়া নিঃসন্দেহে একটি জঘন্য ও ঘৃন্য পাপের কাজ| স্ত্রী তার স্বামীর সাথে প্রেম করবে, স্বামীর সাথে যৌনমিলন করবে| স্বামী একজন পুরুষ, তাই ঘরে এক পুরুষ থাকতে নারী অন্য পুরুষের কাছে যাবে না| তাছাড়া স্বামী থাকতে অন্য পুরুষের সাথে প্রেম-ভালোবাসা বা যৌনমিলনে কেনোই বা একজন নারী লিপ্ত হবে?

নারীর এ ধরণের পরকীয়া প্রেম একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়| তবে কেনো একজন নারী বিয়ের পরে স্বামী থাকতেও অপর পুরুষের সাথে প্রেম ভালোবাসা করে থাকে? এ প্রশ্নের উত্তরও খোঁজা উচিত| নারীর পরকীয়া প্রেমের যে সকল কারণ রয়েছে তা হলো-

১| স্বামী যদি স্ত্রীর যৌনক্ষুধা চাহিদা মতো দীর্ঘদিন ধরেই মিটাতে না পারে|

২| স্বামীর স্বভাব চরিত্র যদি খুবই খারাপ হয়ে থাকে|

৩| স্বামীর অর্থ সম্পদ যদি না থাকে এবং খাওয়া পরা দিতে যদি ব্যর্থ হয়|

৪| কিছু নারীর চরিত্রে উচ্ছৃঙ্খলতা থাকার কারণে তারা স্বভাবতই পরকীয়া করে|

৫| স্বামী দীর্ঘদিনের জন্যে কাছে না থাকলে|

এই পাঁচটি কারণের কোনো একটি অথবা পৃথক পৃথক ভাবে সবগুলো অথবা একাধিক কারণ কোনো নারীর উপর ক্রিয়াশীল থাকলেই সাধারণত নারিদের পরকীয়ার দিকে ঝুকতে দেখা যায়|

এখন উপরের পাঁচ কারণের যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দিক নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা যাক-

প্রথমত- নারীরা পরকীয়া করে তখন, যখন পুরুষ তার যৌন চাহিদা ক্রমাগত ভাবে মেটাতে ব্যর্থ হয়| তখন নারী তার তীব্র ক্ষুধা অন্য পুরুষকে দিয়ে মেটাতে যায়| হ্যাঁ, যদি কোনো নারীর ক্ষুধা তার স্বামী দ্বারা না মেটে তাহলে তার একটা স্থায়ী সমাধান করা দরকার| স্বামীর যৌন সক্ষমতার উন্নতির জন্যে স্ত্রী সহযোগিতামূলক পরামর্শ দিতে পারে| প্রয়োজনে স্ত্রী তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবে| এ চেষ্টাটুকু স্ত্রী প্রথমে অবশ্যই করবে| তারপর ব্যর্থ হলে স্ত্রী ঐ স্বামীকে তালাক দিয়ে নির্ধারিত সময়ের পর অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে| এতে কোনো দোষ নেই, পাপ নেই, ক্ষতি নেই| কারণ জীবন তো একটাই|

তবে স্বামীকে অগচোরে রেখে, তাকে নামে স্বামীর খাতায় রেখে, কোনো নারী শুধু যৌনক্ষুধা মেটাতে পরপুরুষের সাথে পরকীয়া করতে পারে না| ছেলে-মেয়ে হয়ে যাবার পরেও স্বামীকে তালাক দেন, যদি সে আপনার কাম চাহিদা ভালো করে মেটাতে না পারে, এতে কোনো মান সম্মান যাবে না| বীরের মতো কাজটা করতে পারেন, তবুও অসভ্যতা করতে পারবেন না|

স্বামীর স্বভাব চরিত্র খারাপ হলে যদি মনে করেন একেবারেই তার ঘরে আর আপনার টিকে থাকা সম্ভব নয়, তাহলে তাকে তালাক দিন| এ কাজটা বাচ্চা কাচ্চা হবার আগেই করুন| আর বাচ্চা হবার পরেও অবলীলায় তালাক দিতে পারেন, তবুও খারাপ চরিত্রের পুরুষকে স্বামী রূপে রাখার কি দরকার? তাকে তালাক দিয়ে যান, নিশ্চয়ই অন্য কোনো ভালো চরিত্রের পুরুষ আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে| তবে স্বামীর চরিত্র খারাপ বলে আপনি এই স্বামীর ঘরে থাকবেন, তাকে তালাকও দেবেন না, আবার অন্য পুরুষের ভালো চরিত্র ও ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়ে তার সাথে প্রেম করবেন, এটা তো হতে পারে না|

স্বামীর অর্থ সম্পদ যদি না থাকে, আর যদি যৌন চাহিদা আপনার মেটাতে পারে ও চরিত্র তার ভালো হয়, তাহলে ঐ স্বামীকে আপনি ছেড়ে চলে যাবেন না| তাছাড়া আপনার এমন স্বামীকে ছেড়ে যাওয়া উচিতও হবে না| অনেক মেয়ে যৌনক্ষমতাবান স্বামী পেলে আর কিছু চায় না, এটা বাস্তবতা| অর্থ সম্পদ উপার্জনের জন্যে প্রয়োজনে স্বামীকে সহযোগীতা করুন, তার সাথেই কাজে লেগে যান| দেখবেন একদিন আপনাদের অনেক টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি চলে আসবে|

অর্থ সম্পদ কিছুই না| দাম্পত্য জীবনে যৌনসুখ ও ভালোবাসা থাকলে গাছ তলায় থেকেও মেয়েরা সুখী থাকে| শুধু মাত্র অর্থ না থাকার অজুহাতে অন্য অর্থশালী পুরুষের সাথে প্রেম করা অনুচিত| অনেক নারী আছে বিয়ের পর অন্য ছেলের সাথে প্রেম করে তার থেকে টাকা-পয়সা নেয়| বিয়ের পর অন্য ছেলের কাছে দেহ বিক্রি করা মেয়ের সংখ্যাও নিতান্তই কম নয়| স্বামীর বেশি অর্থ না থাকলে যদি একটু কষ্ট করতে না পারেন, তাহলে তাকে তালাক দিয়ে অন্য কোনো টাকাওয়ালাকে বিয়ে করেন| তবুও গরীব অথচ ভালো চরিত্রের স্বামীটাকে প্রতারিত করবেন না|

আবার কিছু মেয়ে বিয়ের আগেও যেমন খারাপ থাকে, আবার বিয়ের পরেও ঐ হাজারটা প্রেম করা বা প্রেম করে টাকা পয়সা লোটা বা বহু পুরুষের ঘষামাজা না খেলে তাদের ভালো লাগে না| এরকম স্বভাবের মেয়ে কোনো পুরুষের বউ হলে তো ঐ পুরুষের জন্যে তা দূর্ভাগ্যজনক| অন্তত বিয়ের পরে মেয়েদের একটু স্থির হওয়া উচিত|

বিয়ের আগের উচ্ছৃঙ্খলতাকে ভুলে বিয়ের পরে ভালো হওয়া উচিত| স্বামী- সন্তানকে নিয়ে সুখে থাকার জন্যে মেয়েদের উচিত আপন ঘরে থাকা| হাজারটা প্রেম পিরিতি করা বা পরপরুষের সাথে ছোট বা বড় বড় মেলামেশা করা, এগুলো ভয়াবহ উচ্ছৃঙ্খলতার নামান্তর| বিয়ের আগে তো এটা করা উচিত নয়, তেমনি বিয়ের পরে তো একেবারেই অনুচিত| উচ্ছৃঙ্খল মেয়েরা স্বামীর সব কিছু অর্থাৎ তার দেহ, মন, চরিত্র, সম্পদ থাকতেও পর পুরুষের ঠেলা খাওয়া স্বভাব ছাড়তে পারে না| মেয়েদের এমন উচ্ছৃঙ্খল পরকীয়া করা থেকে বিরত থাকা উচিত, তেমনি এই কোয়ালিটির বউকে ছেলেরা তালাক দিয়ে বিদায় করে দিতে দেরি করবেন না|

স্বামী বিদেশে থাকে বা অন্য কোথাও কাজ করতে যায়, স্ত্রীর থেকে বেশ ব্যাবধানে দূরে থাকতে হয় তাকে, এমন হলে স্ত্রীর করণীয় কি? সে কি তখন পরকীয়া করবে? কোনো স্বামীর উচিত নয় স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে থাকা| বিদেশে থাকলেও প্রতি মাসে একবার আসতে হবে| তা সম্ভব না হলে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলের পাশে নিয়ে যেতে হবে| মেয়ের সীমাহীন কাম চাহিদা প্রতিদিন না মিটলে তারপর তারা পরকীয়ায় ঝুকতে বাধ্য হতে পারে| কারণ দেহের ক্ষুধা বাঁধ মানে না|

স্বামী বিদেশে থাকলে স্ত্রী তাকে দেশে এসে কোনো কাজ করার পরামর্শ দিতে পারে| অথবা একটু ধৈর্য্য ধরে তাকে কয়েক বছর দেশের বাইরে থেকে কিছু টাকা উপার্জন করে আসার সুযোগ দিতে পারে| আর সম্ভব হলে দেশে বা দেশের বাইরে স্বামীর কর্মস্থলের পাশে বাসা নিয়ে স্ত্রী থাকবে| এতে কাম চাহিদা পূরণে এক দিনও বউয়ের মিস যাবে না|

তবে স্বামী দূরে থাকার কারণে সুযোগ পেয়ে স্ত্রী পরকীয়া করতে পারে না| বহু মেয়ে শুধু এই কারণে পরকীয়া করে থাকে| এতে করে তার স্বামীকে যেমন ঠকায়, তেমনি অবশেষে নিজেই ঠকে| আর যদি স্বামী একান্তই দীর্ঘদিন কাছে না আসে তাহলে ঐ স্বামীকে শুধু নামে স্বামী বানিয়ে রাখা উচিত নয়| তাকে কাছে আসতে বলবেন, না আসলে সোজা তালাক মেরে দেন| কারণ প্রতিটি মেয়ের জীবনের স্বাতন্ত্র আছে, আছে মূল্য| এমনটি অনুধাবন করে তাকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করুন|

আবার কিছু নারী আছে স্বামীর বিদেশে থাকা বা অন্য কোথাও তার থেকে দূরে থাকাকে নিজের জন্য অবারিত সুযোগ মনে করে থাকে| এই সুযোগে যতো পারে পরকীয়া করে রাখে, পর পুরুষের সাথে এই সুযোগে মিলনও করে থাকে| এটাকে তারা পাপও ভাবে না, আবার স্বামীকে কাছে আসতে না বলে বরং তাকে যে ঠকানো তার উচিত হচ্ছে না, এটাও ভাবে না কিছু নারী|

তাছাড়া স্ত্রীকে দূরে রাখা বা তার থেকে দূরে থাকা, এ কাজটা পুরুষদের একেবারেই করা উচিত নয়| স্ত্রীর সাথে নিয়মিত সহবাস করা, তার পাশে থেকে তাকে সবরকম সঙ্গ দেওয়া প্রত্যেক পুরুষের উচিত| তা না হলে বউয়ের পরকীয়ার দায় পুরুষের উপরেও কিছুটা পড়বে|

আলোচনা শেষে আর কিছু কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি| বিশেষ করে আমাদের দেশের নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে তারা নানা দিক থেকে অধিকার বঞ্চিত রয়েছে| স্বামী দীর্ঘদিন দূরে থাকার ফলেও মেয়েরা তাকে তালাক দেয় না, কারণ তালাক দিয়ে অন্য স্বামীর ঘরে যাওয়া তাদের জন্যে কঠিন হয়ে পরে| সমাজ একবার বিয়ে হলে সে নারীকে অনেক ক্ষেত্রেই ভালো চোখে গ্রহণ করে না| একটা খোটার মধ্যে নারীদের পড়ে যেতে হয়| এ কারণেই স্বামী অনেক দিন কাছে না আসলেও স্ত্রী তার আসার প্রত্যাশা বুকে রেখে স্বামীগৃহ আকড়ে থাকে|

তবে দেহক্ষুধা ও একাকিত্বের জ্বালা যে কোনোও নারীকেই বেশামাল করে দিতে পারে, তাই-ই তো নারীরা স্বামীর ঘরে থেকেও পরকীয়া করে| তবে নারীদের এই গুরুতর অন্যায় তাদের জীবনকেই ধ্বংস করে দেয়| তাই যে কোনো পরিস্থিতে পরকীয়াকে 'না' বলতে হবে| স্বামীকে তালাক দিয়ে আবার অন্য বিয়ে করা এ সমাজের কাছে কিছুটা খারাপরূপে দৃষ্ট হলেও, তা বৈধ ও পাপের নয়| এমনকি স্বামীর ঘরে অসুখী না থেকে, নারীদের নতুন স্বামী গ্রহণ করা-ই সবচেয়ে উত্তম|

নারীদের মনে রাখতে হবে- তাদের এ জীবন একটাই, তাই আগে নিজের সুখকেই প্রাধান্য দিতে হবে| একই সাথে মনে রাখতে হবে- অবৈধ যৌনতা তথা পরকীয়া সাময়িক সুখের হলেও তা ধীরে ধীরে একজন নারীর যৌনজীবনকে সংকুচিত করে দেয়|

কিছু নারী স্বামীর ঘরে উপরের ঐ পাঁচটি কারণের জন্যে থাকতে না পেরে স্বামীকে তালাক না দিয়েও অন্য পুরুষের সাথে প্রেম করে এবং প্রেমে সফল হলেই তারপর ঐ পরপুরুষের হাত ধরে পালিয়ে যায়| এ রকম কাজে একজন নারী তার স্বামীকে ভয়াবহ রকম প্রতারিত করে| অনেক সময় ঐ পরপুরুষ তার প্রেমকে অস্বীকার করে তাকে বিয়ে করতেও অস্বীকার করতে পারে| তখন বাধ্য হয়ে অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে তাকে স্বামীর ঘর করতে হয়| তাছাড়া স্বামী যদি বউয়ের এ প্রেমের কথা জেনে যায় তাহলে বাঁধে নানা বিপত্তি| তখন সংসার ভেঙে যেতে পারে, নারী তখন একূল-ওকূল সব-ই হারায়|

আবার স্বামীর যৌন অক্ষমতা কম- বেশি থাকলেও অনেক নারী সংসার করে যায়, পাশাপাশি পরকীয়ার মধ্যমেও অবশিষ্ট কাম চাহিদা মিটিয়ে নেয়| স্বামীর চরিত্র খারাপ হলে, তার ধন-সম্পদ না থাকলেও অনেক নারী অনেক সময় চরিত্রবান ও টাকাওয়ালা ছেলেদের প্রতি পরকীয়ায় ঝুকে পড়ে| পরকীয়া করতে থাকে, তবুও ঘরের স্বামীকে তালাক দেয় না| তারা স্বামী থাকতেও পরপুরুষ থেকে একটু বাড়তি সুবিধা আদায় করে নেয়|

আবার অনেক নারীর চরিত্র এতোই খারাপ যে তাদের এক স্বামীতে হয় না, বহু পুরুষের ঠেলা খেলেই তবে জ্বালা মেটে| এক পুরুষ-স্বামী, তার কিছু থাকুক আর না থাকুক, তাকে স্বামীর খাতায় বহাল না রাখলে তালাকা দিয়ে তারপর যা খুশি একজন নারী করুক, তবে স্বামীর ঘরে থেকে এসব নোংড়ামী চলতে পারে না| ধরা পরলে স্বামী কিন্তু অগ্নিমূর্তি হয়ে যাবে, তবুও ঘরের বউয়ের বেশ্যাগিরি মেনে নেবে না|
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label